content stringlengths 0 129k |
|---|
৫:→আন্তর্জাতিক অঙ্গনেঃ (ক) ১৯৭৩সাল থেকে সৌদির বাদশাহের আমন্ত্রনে রাজকীয় মেহমান হিসেবে তিনি হজ্জব্রত পালনকরে আসছেন |
১৯৯০ সাল থেকে২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর রমজান মাস মক্কা-মদীনায় থাকা রুটিন হয়ে গিয়েছিল তাঁর |
তিনি সৌদি বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ ও ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ এর আমন্ত্রনে ৬ বার রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজ্জ পালন করেন |
গ্রেফতার হওয়ার আগের বছর ২০০৯ সালেও তিনি সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের আমন্ত্রনে রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজ্জ পালন করেছেন |
(খ) আল্লামা সাঈদী সৌদি বাদশাহর রাজকীয় মেহমান হিসেবে মোট ৬ বার, রাবেতা আলম আল ইসলামীর আমন্ত্রনে রাজকীয় মেহমান হিসাবে ৮ বারসহ অসংখ্য বার হজ্জ পালন করেছেন এবং ৯০ দশক থেকে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আগমূহুর্ত পর্যন্ত একটানা ১৮ বছর ধরে তিনি প্রত্যেক রামাদান মাসেই পবিত্র হারাম শরীফে ইতেকাফ পালন করেছেন |
নামাজের জন্য ইমাম সাহেবের পেছনেই দাঁড়াতেন তিনি |
বলা যায় তাঁর জন্য নামাজের জায়গাটি তারা নির্ধারণ করেই রেখেছিল |
প্রতি বছর একই জায়গায় নামাজ ও ইতিকাফ পালন করেছেন তিনি |
(গ) ১৯৮২ সালে ইমাম খমিনির আমন্ত্রনে ইরানের প্রথম বিপ্লব বার্ষিকী উজ্জাপন উপলক্ষে তিনি তেহরান সফর করেন |
১৯৯১সালে সৌদি বাদশার আমন্ত্রনে কুয়েত - ইরাক যুদ্ধের মিমাংসা বৈঠকে তিনি যোগদান করেন |
১৯৯১ সালে ইসলামী সারকেল অফ নর্থ অ্যামেরিকা তাকে"#আল্লামা" খেতাবে ভূষিত করেন |
(ঘ) ১৯৯৩ সালে নিউইয়ার্কে জাতিসঙ্ঘের সামনে অ্যামেরিকান মুসলিম ডেপ্যারেড সম্মেলনে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইদিকে"#গ্র্যান্ড_মার্শাল"পদক দেয়া হয় |
দুবাই সরকারের আমন্ত্রনে ২০০০ সালের ৮ই ডিসেম্বর আরব আমিরাতে ৫০,০০০ হাজারেরও বেশী শ্রোতার সামনে তিনি কোরআনের তাফসির পেশ করেন |
(ঙ) লন্ডন মুসলিম সেন্টারের উদ্ভোধনি অনুষ্ঠানে কাবা শরিফের সম্মানিত ইমাম "শায়েখ আব্দুর রাহমান আস্ সুদাইসির" সাথে মাওলানা সাঈদিও আমন্ত্রিত হন |
৬:→মাওলানা সাঈদীর হাতে-হাত রেখে সহস্রাধিক অমুসলিম ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকা তলে আশ্রয় নেন!!! |
৭→এ পর্যন্ত গবেষণাধর্মী সর্বমোট ৭৫টি গ্রন্হ লিখেছেন আল্লামা সাঈদী |
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একজন বাংলাদেশী ইসলামী পণ্ডিত, বক্তা এবং রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য; যাকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসাবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে সাহায্য করার বানোয়াট অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয় |
তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে-আমির বা ভাইস প্রেসিডেন্ট |
তিনি ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন |
২০১১ সালে সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করা হয় |
তার বিরূদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটতরাজ ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০ দফা বানোয়াট অভিযোগ আনা হয় |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০টি অভিযোগের মধ্যে প্রদত্ত বিচারের রায়ে আটটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং দু'টি অভিযোগে তাকে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্য হাসিলের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে |
তার ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ ও প্রতিবাদ করে |
এই প্রতিবাদে সরকার পক্ষ ভোটার বিহিন সরকার শেখ হাসিনা কর্তৃক পুলিশ ও ছাত্রলীগের লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে ৭০০ এর অধিক নিরিহ মানুষকে শহীদ করা হয় |
এই রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয় |
১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিলের রায় পর্যবেক্ষণ করে ও জনরোসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির সাজা কমিয়ে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদান করে |
প্রারম্ভিক জীবন |
আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন |
তার পিতা ইউসুফ শিকদার গ্রামের খুব সাধারণ এক গৃহস্থ ছিলেন |
ছোটবেলায় তিনি স্থানীয় লোকদের কাছে খুব নম্র ও ধার্মীক পিতার ধার্মীক সন্তান হিসেবে পরিচিত ছিলেন |
তিনি তার প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় পিরোজপুরের একটি মাদ্রাসায় |
তিনি ১৯৬২ সালে ছারছিনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং ফাজিল পাশ করেন ও পরবর্তিতে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা্ থেকে কামিল পাশ করেন |
ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পর সাঈদী স্থানীয় গ্রামে ব্যবসা শুরু করেন এবং পাশাপাশি দ্বীনের দাওয়াত প্রচার শুরু করেন |
অল্প কিছুদিনের মধ্যে সারা দেশের মানুষের কাছে ইসলামিক আলোচক হিসাবে বেশ সুনাম অর্জন করেন |
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ৩০ বছর |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিচারে তাকে ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে মানবাতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার বানোয়াট অভিযোগে অভিযুক্ত করে |
যাইহোক, তার পুত্র মাসঊদ সাঈদীর মতে তিনি ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে ছিলেন না এবং ১৯৬৯ সাল থেকে তিনি যশোরে বসবাস করছিলেন |
সাঈদী বাংলা, উর্দু, আরবি ও পাঞ্জাবি ভাষায় দক্ষ এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায়ও তার দক্ষতা রয়েছে |
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ |
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্বাধীনতা-যুদ্ধ শুরু হয় |
২৫শে মার্চ, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে হাজার হাজার নিরীহ বাংলাদেশীকে সেই রাতে হত্যা করে যা ইতিহাসে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা পায় |
আওয়ামী সরকার ইসলাম প্রচার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক ভাবে ঘায়েল করার জন্য এই গনহত্যায় "দেইল্যা রাজাকার" এর পরিবর্তে আল্লামা সাঈদীর ঘাড়ে গনহত্যার অভিযোগ আনে |
যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ও ন্যাকারজনক ঘটনা |
রাজনৈতিক জীবন |
১৯৮০'র দশকের প্রথমদিকে সাঈদী সাড়াদেশব্যাপী ইসলামী ওয়াজ-মাহফিল ও তাফসির করা শুরু করেন এবং তার সুন্দর বক্তব্য দানের ক্ষমতার জন্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন; এ সময়ই তিনি রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন |
তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নেতা নির্বাচিত হন |
১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন |
পরে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনী জোট গঠন করে এবং তিনি এই নির্বাচনে পুনরায় জাতীয় সংসদ-এর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন |
ইসলাম প্রচারে ভূমিকা |
আল্লামা দেলওয়ার হুসাইন সাঈদী বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবীতে একজন নন্দিত আলেম হিসাবে স্বীকৃতি পান |
পৃথিবীর প্রায় ৫২ টা রাষ্ট্রে তিনি ইসলামী দাওয়াত পৌছে দেওয়ার জন্য ভ্রমন করেন |
তার আলোচনা ও ইসলামকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনায় হাজার হাজার মানুষ তার হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন |
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবনের প্রথম গ্রেফতার এবং প্রথম কারাজীবনের কিছু মজার ঘটনাঃ |
============================== |
১৯৭৩ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশে যোগদান করেন আল্লামা সাঈদী |
সেই অপরাধে ১৯৭৫ সালে খুলনাতে তিনি গ্রেফতার হন |
২৯জুলাই একটি মাহফিল শেষে বাড়ি ফিরতেছিলেন আল্লামা সাঈদী, এমন সময় কয়েকজন সাদা পোশাকধারী লোক তাঁকে বললেন,থানায় ডিআইএ-১বসে আছেন |
আপনার সঙ্গে কথা বলতে চায়! আল্লামা প্রথমে বুঝতে পারেন নি তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে |
তাই তিনি বললেন, ডিআইএ কে আমার বাসায় আসতে বলুন |
তাদের একজন বললেন অনুগ্রহ করে থানায় চলুন |
হুজুর থানায় গিয়ে জানলেন, তাঁকে উপরের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে |
থানা নির্বাহী কর্মকর্তা তার নিজ বাসা থেকে বিছানা পত্র এনে হুজুরের শোবার ব্যবস্থা করে দিলেন |
দুদিন সেই হাজতেই হুজুরকে থাকতে হয়! সবচেয়ে মজার বিষয়, এই দুইদিন আল্লামা সাঈদী কোন ধরনের পুলিশ পাহারা ছাড়াই থানার পাশের মসজিদে গিয়ে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তেন |
নামায শেষে তিনি নিজেই হাজতে প্রবেশ করতেন |
দুইদিন পর, এক হাবিলদারের নেতৃত্বে ৫জন পুলিশ প্রহরায় হুজুরকে ঢাকায় পাঠানো হয়! কোন হাজতীকে কোর্টে চালান দেবার সময় নিয়ম হলো,হাতে হাত কড়া পরানো |
কিন্তু হুজুরের হাতে কেউহাত কড়া পরানোর সাহস করছিলেন না |
হাবিলদার বলল, আমার চাকরি গেলে যাবে আপত্তি নাই কিন্তু হুজুরের হাতে হাত কড়া পরাতে পারবো না |
তারপর খুলনা থেকে ট্রেনে করে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করলেন, ৫জন পুলিশ প্রহরায় আল্লামা সাঈদী |
এখানেও একটি মজার ঘটনা, সারারাত ৫পুলিশ ঘুমে অচেতন ছিল |
আর তাদের রাইফেল গুলো পাহারা দেন, স্বয়ং আল্লামা সাঈদী |
তারপর হুজুরকে রাজারবাগ সিআইডি অফিসে নেয়া হয়! সেখানে রেখে আসার সময়,ঐ হাবিলদার হুজুরের হাতে ২০টাকা দেন |
বলেন,আপনার কাজে লাগতে পারে, তার আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে টাকাটি হুজুর গ্রহন করেছিলেন |
৩দিন পর, হুজুরকে কোর্টে তোলা হয় এবং কারাগারে চালান দেয়া হয় |
কারাগারে যাবার পর তাঁকে ডিভিশন দেয়া হয় |
কিন্তু তার আগে জেলার এসে, হুজুরকে অনুরোধ করলেন কয়েদীদের উদ্দেশ্যে একটি বক্তব্য দিতে |
কথায় আছে,"ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও বাড়া বানে" |
তারপর প্রায় চারশত কয়েদির সামনে আল্লাহপাকের কালাম থেকে বক্তব্য প্রদান করেন আল্লামা সাঈদী |
বিকেলে আল্লামাকে নেয়া হলো ৯ নম্বর সেলের ১০নম্বর কক্ষে |
তাঁকে বলা হলো,এই রুমেই জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওঃ আবুল কালাম মোঃ ইউসুফ ২২মাস বন্ধী ছিলেন |
তিনি মনে মনে খুশি হলেন,এই রুমে আমার ওস্তাদ ছিলেন |
কারাগারে সঙ্গী হিসেবে ৩৫জনকে পেয়েছিলেন আল্লামা |
তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন জাসদের, কেউ মুসলিম লীগের,কিংবা কেউ ছিলেন সিরাজ সিকদারের দলের লোক |
তাদের মধ্যে মাত্র ৩জন নামায পড়তেন |
তাদের কে নিয়মিত কোরআনে তেলওয়াত করে শুনাতেন,হাদীস বর্ননা করতেন কখনো ইসলামী জলসা করতেন আল্লামা |
আর এই কারনে তাদের মধ্য বেশির ভাগ-ই নামাযী হয়ে যায় |
১৯৭৫ সালের ১৫আগষ্ট জালিম মুক্ত হয় বাংলাদেশ |
আর তার কিছুদিন পরে মুক্তিপান আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী |
ইতিহাসের পাতায় আল্লামা সাঈদী |
কুসুমাস্তীর্ণ পথে পুষ্প শয্যায় জীবন অতিবাহিত করলে আল কুরআনের রাজ পাওয়া যায় না । কুরআনের রাজ লাভ করতে হলে শহীদী ঈদগাহে বুকের তপ্ত শোণিত ধারা ঢেলে দিতে হয়- রক্তের আলপনায় ইসলামের বিজয় প্রতীক এঁকে দিতে হয় । আল্লামা সাঈদী সেই ব্যক্তি, যিনি ইসলামের পতাকা বাংলার আকাশে উড্ডীন করার জন্য কুসুমাস্তীর্ণ পথে পা না বাড়িয়ে কন্টকাকীর্ণ পথে পা দিয়েছেন । তিনি যদি কন্টকাকীর্ণ পথে পা না বাড়িয়ে কুসুমাস্তীর্ণ পথ ধরে পীর- মুরিদী শুরু করতেন, তাহলে তাঁর পায়ের কাছে যে অর্থের স্তুপ জমা হত, তা বহন করতে ট্রাকের প্রয়োজন হতো এবং তিনিই হতেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বা বাংলাদেশের গ্রান্ড মুফতী । কিন্তু দুনিয়ার কোন লোভ তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি । তাঁর একমাত্রই লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে কুরআনের রাজ কায়েম করা । আর সেই কাজ করতে গিয়ে তাঁকে জীবনে অসংখ্যবার হতে হয়েছে মৃত্যুর মুখোমুখি । আজও তিনি রয়েছেন ফাঁসীর দোয়ারে । |
"""""""""""""""""""""'"'"""""""""""""""""""" |
আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী আমাদের প্রেরণা । তাঁর মত বিশাল ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করে কোন কিছু লেখার সামান্যতম যোগ্যতাও আমার নেই । তারপরও বন্ধুদের জোর দাবিতে তাঁর বিশাল কর্মময় জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যা তাঁর জীবনী গ্রন্থ থেকে জানতে পেরেছি এবং বিভিন্ন মাহফিলে তাঁর মুখ থেকে যা শুনেছি ও জাতীয় জীবনে তার প্রভাব সম্পর্কে যা অনুভব করেছি, তা থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা আপনাদের কাছে তুলি ধরছি |
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সাঈদী নামক ফুলের সুগন্ধি শুধু আমাদেরকে নয়, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে শাহাদাতের সৌরভে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মাতোয়ারা করে তুলবে ইনশাল্লাহ । |
সাঈদীর জন্ম ও শিক্ষাদীক্ষা |
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" |
মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি এই বিশাল বিস্তীর্ণ পৃথিবী একটি সুবাসিত পুষ্প কানন বিশেষ । পুষ্পের এ কাননে কত না হাজার ফুল প্রতিদিন ফোটে । কিন্তু সব ফুল মানুষকে ঘ্রাণ দান করতে পারেনা । অধিকাংশ ফুল অনাদর আর অবহেলায় ঝরে যায় । কিন্তু এমন কতকগুলো বিরল ফুল এ পৃথিবীতে ফুটেছে, যার ফোটার অপেক্ষায় এ পৃথিবীর প্রতিটি অনু-পরমাণু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অপেক্ষা করছে । অবশেষে প্রতিক্ষার প্রহর অতিবাহিত হয়ে কাংখিত ফুল ফুটেছে, পৃথিবী নামক পুষ্প কানন সুবাসিত হয়েছে । এই কাংখিত ফুলগুলো ছিলেন মহান আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলগণ । আর সেই জান্নাতী ফুলগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হযরত মুহাম্মাদ সাঃ। তিনি যে আদর্শ প্রচার করে গেছেন, তা কোন কালের গন্ডীতে সীমাবদ্ধ নয় । তাঁর আদর্শের সৌরভে পৃথিবীকে আমোদিত করার লক্ষ্যে মুসলিম মিল্লাতের এই বাগানে কিছু ফুল প্রতিটি যুগেই ফুটেছে, বর্তমানেও ফুটছে আগামীতেও ফুটবে । |
সেই বিরল ফুলগুলোর অন্যতম হচ্ছেন আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী । |
সেই মা কতইনা সৌভাগ্যবতী, যিনি সাঈদী নামক এই ফুলকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন । মহাসত্যের শত্রুদের হ্নদকম্পন জাগবে যাঁর বলিষ্ঠ কন্ঠে - সেই মনীষী পৃথিবীতে এলেন পবিত্র রমজান মাসে । |
সেদিন ছিল ১৯৪০ সনের ০২ই ফেব্রুয়ারি । বরকতে পরিপূর্ণ সেই পবিত্র রমজান মাসের ৭ তারিখ-বৃহস্পতিবার । শিশুর সৌভাগ্যবান জনক আর সৌভাগ্যবতী জননীও তখন জানতেন না, এই শিশু শুধু তাদের কোলই আলোকিত করতে এ ধরাধামে আগমন করেনি-কালক্রমে এই শিশু বয়স সন্ধিক্ষণে মুসলিম জাতির দুর্দিনে কান্ডারী হিসেবে গোটা মুসলিম জগৎ আলোকিত করবে । |
জন্মের পর শিশুর নাম দেওয়া হয় দেলওয়ার । 'দেলওয়ার ফার্সী শব্দ, যার অর্থ যুদ্ধে বিজয়ী বীর । কালের বিবর্তনে বর্তমানের 'দেলওয়ার ' আল্লাহর কুরআনের লড়াকু সৈনিক- ইসলামের বীর যুদ্ধা । |
পরিপূর্ণ নাম'দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী' যে নাম শুনলে কুরআনের প্রেমিকদের হ্নদয়ে এক জান্নাতী আবেশের সৃষ্টি হয় । গভীর শ্রদ্ধায় পরম মমতায় কন্ঠ হতে নির্গত হয় সে নামটি । |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.