content stringlengths 0 129k |
|---|
মূর্তিপূজা বিরোধী আন্দোলনঃ |
""""""""""""'"""""""""""""""""""""""""""""""""""""" |
১৯৭৮ সনে রাজধানী ঢাকার জিপিওর সামনে ভাস্করের নামে একটি মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছিল । আল্লাহর ব্যাঘ্র আল্লামা সাঈদী এই মূর্তির বিরুদ্ধে তাওহীদি জনতাকে সাথে নিয়ে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেন । তিনি জনতার বিশাল মিছিল নিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে এই মূর্তি অপসারনের জন্য স্মারক লিপি পেশ করেন । সেই রাতেই সরকার এই অভিশপ্ত মূর্তিটি অপসারনের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয় । |
১৯৮২ সালের ৫ই নভেম্বর হোটেল সোনার গাঁ - এক জংলি রাতে আয়োজন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল । যার নাম দেওয়া হয়েছিল হ্যালোইন নাইট । সে রাতে সেখানে মদ পান করা হবে, জোড়ায় জোড়ায় নাচা হবে, যেনা ব্যভিচার করা হবে । তথাকথিত এই উৎসবের বিরুদ্ধে আল্লামা সাঈদী আদালতে মামলা করেন । আদালত সেই অসভ্য রাতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে । |
ধর্মনিরপেক্ষবাদিরা একবার একটি গান রচনা করলো, ' কোন কিতাবে লেখা আছে গো হারাম বাজনা গান' । আল্লামা সাঈদী এই গানটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন । আদালত এই গানটি নিষিদ্ধ ঘোষনা করে । |
১৯৮৬ সনে বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত সপ্তম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে শাহেদ আলী লিখিত 'জিব্রাইলের ডানা' শীর্ষক একটি ইসলাম বিরোধী ও শির্ক মূলক গল্প পাঠ্য করা হয় । আল্লামা সাঈদী এ ব্যাপারে তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং গল্পটি পাঠ্য পুস্তক থেকে বাতিল করার আবেদন জানিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন । অবশেষে এই গল্পটি বাতিল করা হয় । |
কেন সাঈদীর এত বিরোধীতা? |
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""'""""""""" |
যারা আল্লামা সাঈদীর বিরোধীতা করে,তাঁকে রাজাকার বলে গালি দেয়, তারা অধিকাংশই হলো নাস্তিক মুরতাদ আর ভারতীয় উগ্র ব্রাক্ষণ্যবাদের দোসর । পূর্বে এদের পেটের খোরাকের ব্যবস্থা হতো রাশিয়ার টাকায় । রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র পতনের পর এরা ভারত-আমেরিকাসহ ইসলাম বিরোধী শক্তির হাতে হাত মিলিয়ে পেটের খোরাকের ব্যবস্থা করছে । |
আল্লামা সাঈদী জাতিকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান দান করছেন । ইসলামী জ্ঞানের অলংকারে জাতি সজ্জিত হলে তারা আর মৃত মানুষের কবরে অর্থ দেবে না, দুনিয়া পূজারী পীরদের দরবারে অর্থ ঢালবে না । মাজারে ওরশ হবে না । মানুষ এক আল্লাহর দাসত্ব করবে । ফলে এসব ধর্মব্যাবসায়ীদেরকে কর্মবিমুখ বিলাসী জীবন ত্যাগ করে শ্রম দিয়ে পেটের ভাত যোগাড় করতে হবে । |
নিজেদের মৃত্যুঘন্টা বাজতে দেখে এই ধর্মব্যাবসায়ীরা নাস্তিক, কমিউনিস্ট, ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদদের সাথে হাত মিলিয়ে আল্লামা সাঈদীকে বলছে রাজাকার । আর সাঈদীর ফাঁসীর দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে লাফালাফি করছে । |
যারা সাঈদীকে রাজাকার বলে নিজেকে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করছে, মুলত তাদের চিন্তার জগত বন্ধক দেওয়া রয়েছে ভারতের ত্রিমূর্তি ভবনে । এরা জাতিয় গাদ্দার, এদেশকে এরা ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করার জন্য তৎপর । |
আল্লাহ এদের খপ্পর থেকে দেশ, জাতি ও মুসলমানদের রক্ষা করুন । আমীন |
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক তাফসীর মাহফিল |
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" |
২০০১ সালে চট্টগ্রামে তাফসীর মাহফিলের আয়োজন করে কুরআনের সৈনিকরা । কিন্তু যে প্যারেড ময়দানে তাফসীর হবে, সে ময়দান ধর্মনিরপেক্ষ সন্ত্রাসীরা দখল করে ঘোষণা দেয়, এখানে তাফসীর করতে দেওয়া হবেনা । |
গোটা চট্টগ্রামের পুলিশবাহিনীকে ইসলাম প্রিয় জনতার পিছনে লেলিয়ে দেওয়া হয় । পুলিশ মসজিদে প্রবেশ করে নামাজরত মুসলামানদের ওপর আক্রমণ করে । ফলে অসংখ্য মুসল্লী আহত হয় । কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে । প্রায় শতাধিক মুসল্লীকে গ্রেফতার করা হয় । বিশ্বের মুসলমানগণ প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়ে । চট্টলার বীর জনতা সমুদ্র গর্জনে গর্জে ওঠে । তারাও সরকারকে হুশিয়ার করে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়, কুরআনের মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া নাহলে গোটা চট্টগ্রামকে অচল করে দেওয়া হবে । |
অবশেষে ইসলাম বিরোধী সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে । অতিতের যে কোনো সময়ের তুলনায় ২০০১ সালের তাফসীর মাহফিলে জনসমাগম হয়েছে সবচেয়ে বেশি । দর্শকদের মতে দশ লাখের অধিক জনতা সেই তাফসীরে অংশগ্রহণ করেছিলো । তিনি সেখানে বলিষ্ঠ কন্ঠে মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে তাফসীর পেশ করেছেন । তাঁর হাতে হাতে রেখে এই মাহফিলে আগত ৪০জন অমুসলিম ইসলাম কবুল করে ধন্য হয়েছে । |
শহীদী ইদগাহে জামায়াত ভারী |
"""""""""""""""""""""""""'""""""'""""""""""""""""" |
ইসলামী আন্দোলন ও শাহাদাত-কথাটি একই সূত্রে গাঁথা । আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলবে আর সেখানে কেউ শাহাদাত বরণ করবেনা, এ এক অসম্ভব ব্যাপার । এমন অনেক নবীও রয়েছেন, যাঁরা এপথে শাহাদাত বরণ করেছেন । মহান আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ দান করার মধ্যে যে কি তৃপ্তি! কি যে এর স্বাদ! তা কোন ভাষার তুলিতে প্রকাশ করা যাবেনা । শুধু হ্নদয়ের সুষমা দিয়ে তা উপলব্ধি করা যায় । শাহাদাতের যে অপূর্ব মাধুরী-তা একমাত্র শহীদ ব্যতিত আর কেউ অনুধাবন করতে পারবে না । সাহাবায়ে কেরামের হ্নদয় সর্বদা শাহাদতের উদগ্র কামনায় থেকেছে ব্যাকুল । তাঁদের চিত্ত থেকেছে চঞ্চল । তাঁদের আত্মা অস্থির হয়ে পড়েছে শাহাদাতের অমীয় সঞ্জীবনী সুধা পানের নেশায় । |
মুসলমানদের ভেতরে যতদিন শাহাদাতের এই নেশা বিদ্যমান ছিলো, ততদিন পৃথিবীর নেতৃত্ব তাঁদের পদচুম্বন করছে । যখন মুসলমানেরা মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে ভোগের নেশায় উন্মাদ হয়ে সংগ্রামহীন জীবন-যাপন শুরু করেছে, তখন তাদের হাত থেকে নেতৃত্বের আসন ছিনতাই হয়েগেছে । বাতিল শক্তির করুণার দাস হয়ে লাঞ্ছিত জীবন গ্রহণ করতে তারা বাধ্য হয়েছে । |
★আল্লামা সাঈদী তাফসীর মাহফিলের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে শাহাদাতের সঞ্জীবনী সুধায় উজ্জীবিত করেছেন । ঘুমন্ত মুসলমানদের জাগিয়ে তুলেছেন । তাঁর দাওয়াতের ফলে এদেশে মুসলমানদের এক বিরাট গোষ্ঠী ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন । ইতোমধ্যে অসংখ্য মুসলিম যুবক শাহাদাতের নজরানা পেশ করেছেন । শুধু আল্লামা সাঈদীর ফাঁসীর রায় ঘোষণা হওয়ার পর দুইশতাধিক মুসলমান শাহাদত বরণ করেছেন । কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন । চোখ হারিয়েছেন, হাত হারিয়েছেন, পা হারিয়েছেন শাহাদাতের উত্তপ্ত ময়দানে । |
শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা, শহীদ কামারুজ্জামান, শহীদ মুজাহিদ, শহীদ নিজামী ও শহীদ মীর কাশেম আলী শাহাদতবরণ করে বিশ্ববাসীর কাছে যে উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের শহীদ হওয়ার জন্য মাতোয়ারা করে তুলবে । |
এভাবে মুসলমানদের মধ্যে শাহাদাতের কামনা প্রবল আকারে যখন বৃদ্ধি লাভ করবে, তখন বাতিল শক্তি ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে- প্রতিষ্ঠা লাভ করবে আল কুরআনের রাজ । |
পরিশেষে মহান আল্লাহর দরবারে করজোড়ে মুনাজাত করি, তিনি যেন আমাদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর রাস্তায় সংগ্রাম করে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন । যেন শামিল করে নেন শহীদ আমীর হামজার দলে । |
আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন |
মৃত্যুর মুখোমুখি সংগ্রামী সৈনিকঃ |
"""""""""""""""""""""""""""""""""'"'"""""""""'""""" |
ইসলামী আন্দোলনের পথ ফুলে সজ্জিত নয়, এ রাস্তা কুসুমাস্তীর্ণ নয় । এ পথের দু'ধারে কেউ ফুলের তোড়া নিয়ে স্বাগত জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না । পথের প্রতিটি বাকে বাকে থাকে নির্মম মৃত্যুর বিষাক্ত ছোবল । এসব কিছু পাড়ি দিয়ে আল কুরআনের সৈনিকদের মনজিলের দিকে এগিয়ে যেতে হয় । এ আন্দোলনের ইতিহাসে এমন একজন ব্যক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি নির্যাতনের মুখোমুখি হন নি- তাঁকে মৃত্যুর সামনে দাঁড়াতে হয়নি । কোন নবীর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে । কোন নবীকে করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে । কোন নবীকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে । হযরত হোসাইন রাঃ কেও মস্তক দান করতে হয়েছে । |
হাসানুল বান্নাকে বাতিল শক্তির তপ্ত বুলেট বুক পেতে গ্রহণ করতে হয়েছে , সাইয়েদ কুতুবকে ফাঁসীর রশি কন্ঠে ধারণ করতে হয়েছে । |
আল্লামা মওদূদীকে ফাঁসীর কুঠুরিতে প্রবেশ করতে হয়েছে । |
" আল্লামা সাঈদী আল কুরআনের বিপ্লবী সৈনিক, তিনিও এর ব্যতিক্রম নন । তাঁকেও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে । শেখ মুজিবের অন্ধকার কারাগারে তাঁকে চল্লিশ দিন থাকতে হয়েছে । বর্তমানেও তিনি হাসিনার কারাগারে দিন যাপন করছেন । |
জীবনে তাঁকেও বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে , এই ব্যাপারে আমরা পূর্বে কয়েকটি উল্লেখ করেছি, সামনের পর্বেও আরো কিছু উল্লেখ করা হবে ইনশাল্লাহ । |
শুধু সাঈদী নয়, কিয়ামত পর্যন্ত এই পথের পথিক যারাই হবে তাদেরকে এইসব নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হবে । কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের উপর নির্যাতন করে, তাঁদেরকে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে কাফিররা কোনকালেই জয়ী হয়েছে ,বিশ্বের ইতিহাসে এমন কোন নজির নেই । বরঞ্চ তারাই শেষপর্যন্ত আল কুরআনের সৈনিকদের কাছে শির নত করতে বাধ্য হয়েছে , এইরকম নজির অগনিত । |
মৃত্যুকে সাঈদী ভয় পাইনা, আমি আমার জীবন মহান আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিয়েছিঃ |
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""' |
১৯৮৯ সনে সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এদেশের বাম-রামপন্থীদের সংগঠন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন তখনকার ৮ দল, ৫ দল, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, ভারতপন্থী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ময়দানে নামে । সে সময়ের সরকার প্রধান এরশাদ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আল্লামা সাঈদী ও কুরআন তাফসীর মাহফিলের বিরুদ্বে সরাসরি উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন । আল্লামা সাঈদীকে সে সময় হত্যা করার লক্ষ্যে ইসলামের শত্রুরা গুপ্তঘাতক লেলিয়ে দেয় । দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর মাহফিলে বাধা দেয়া হয় । খুলনার বিশাল মাহফিলে বোমা নিক্ষেপ করা হয় । প্রচন্ড শব্দে সে বোমা বিস্ফোরিত হবার সাথে সাথে আল্লামা সাঈদী ব্রাঘ্র গর্জনে ইসলামের শত্রুদের উদ্দেশ্যে বলেন, ' মৃত্যুকে সাঈদী ভয় পায় না, আমি আমার জীবন মহান আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিয়েছি । আমার শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকা পর্যন্ত ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো । বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চি ভুমিও সমাজতন্ত্রী আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের জন্য ছেড়ে দেবনা ইনশাল্লাহ ।' |
মৃত্যু আমার পায়ের ভৃত্য- শহীদী মৃত্যুকে আমরা খুঁজে বেড়াই । |
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" |
দিনটি ছিল ১৯৯২ সনের ২৭শে সেপ্টেম্বর । বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকার পান্থপথের বিস্তির্ণ অঙ্গনে সীরাতুন্নবী মাহফিলের আয়োজন করে । মাহফিলের প্রধান অতিথি আল্লামা সাঈদী । বাঁধভাঙ্গা স্রোতের মতই কুরআন প্রেমিক অগনিত জনতা মাহফিলের দিকে এগিয়ে আসছে । |
ইসলামের গণজোয়ার দেখে বাতিল শক্তির কলিজায় আগুন লেগে যায় । তাই আল্লামা সাঈদীকে হত্যা করার পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠলো । মাগরিবের নামাজ আদায় করে আল্লামা সাঈদী কুরআন থেকে তাফসীর শুরু করেন । ঠিক সেই মুহুর্তেই বাতিল শক্তি ছুড়ে দিল মৃত্যুবাণ শিশা নির্মিত তপ্ত বুলেট । মাহফিলের মঞ্চের পাশেই ছিল আনোয়ারা হাসপাতাল । এই হাসপাতালের ছাদ থেকে গুপ্তগাতকদের দল ছুড়ে দিল তপ্ত শিশা । বায়ূবেগে গুলী ছুটে এলো আল্লামা সাঈদীর দিকে । আজন্ম লালিত শহীদী তামান্না বুকে নিয়ে তড়িৎ গতিতে দাঁড়িয়ে গেলেন । শাহাদাত আঙুলী উচ্চে তুলে বাতিল শক্তির প্রতি রণহুংকার দিয়ে বলে উঠলেন, ' ― মৃত্যু আমার পায়ের ভৃত্য- শহীদী মৃত্যুকে আমরা খুঁজে বেড়াই । গুলি বোমা ছেড়ে আমাদের কন্ঠকে স্তব্ধ করা যাবেনা ইনশাল্লাহ ।' |
বাতাসে শিশু কেটে সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত শিশার তপ্ত বুলেট একের পর এক ছুটে আসছে আর আল্লাহর পথের নির্ভীক সেনানী আল্লামা সাঈদী মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন । |
মঞ্চে উপবিষ্ট অনেকেই তাঁকে বসার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন । কিন্তু তিনি বসেন নি । তাঁর মত ব্যক্তিত্ব যদি বাতিলের ভয়ে বসে যান তাহলে দাড়িয়ে থাকবে কে? |
ইসলামী আন্দোলনের অগ্নি পুরুষ শতাব্দীর মুজাদ্দীদ আল্লামা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (রহঃ) ও এই পরিস্থিতিতে অবিচল দাঁড়িয়ে ছিলেন । আত্মরক্ষার জন্য তাঁকে বসতে বলা হলে তিনি অকম্পিত কন্ঠে বললেন,' লাখো জনতার মধ্যে আমি যদি বসে যাই তাহলে দাড়িয়ে থাকবে কে? |
এইসব বীর সৈনিকদের কারনেই এই উপমহাদেশে ইসলামের বিস্তৃতি লাভ করেছে । |
আল্লাহ তায়ালা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদীর দ্বীনি খেদমত গুলো কবুল করে তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং আল্লামা সাঈদী সহ ইসলামী আন্দোলনের নেতা- যারা জীবিত আছেন, তাদের ওপর তাঁর খাস রহমত নাযিল করুন- কাফিরদের মোকাবেলায় তাঁদেরকে বিজয়ী করুন । বাতিলের ষড়যন্ত্র থেকে তাঁদেরকে হেফাজত করুন এবং দান করুন সুস্থ সুন্দর সুদীর্ঘ জীবন । আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন |
যতক্ষণ সাঈদীর নাক থেকে নিঃশ্বাস নির্গত হতে থাকবে ততক্ষণ কেউ আমার গতিপথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে নাঃ |
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" |
১৯৮৯ সালের পহেলা জানুয়ারী থেকে সিলেট আলিয়ার ময়দানে তাফসীর মাহফিলের আয়োজন করা হয় । কিন্তু ফ্যাসীবাদী সরকার মাহফিল বানচাল করার লক্ষ্যে সিলেট হরতালের ডাক দেয় । কুরআনের বিপ্লবী সৈনিক আল্লামা সাঈদীও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন,' যতক্ষণ সাঈদীর নাক থেকে নিঃশ্বাস নির্গত হতে থাকবে ততক্ষণ কেউ আমার গতি পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না ইনশাল্লাহ ।' |
নির্দিষ্ট দিনে তিনি প্রিয় বন্ধু আল্লামা কামালউদ্দিন জাফরীকে সাথে নিয়ে বিমান যোগে সিলেট রওয়ানা দেন । সিলেটের আকাশে বিমান প্রবেশ করা মাত্রই স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ওয়্যারলেসের মাধ্যমে আল্লামা সাঈদীকে বিমান থেকে অবতরণ না করার জন্য অনুরোধ জানান । |
বিমান লেন্ড হওয়া মাত্র ডিসি, এসপি ও পুলিশ সুপার বিমানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ইসলামের সিপাহ্সালারকে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন । তিনি তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিমান থেকে অবতরণ করেন । পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাখন তাঁকে বেষ্টন করে আবার বিমানে উঠিয়ে দেয় । ফলে তিনি ঢাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হন । |
এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে সিলেটের জনতা সমুদ্র গর্জনে ফেটে পড়ে । গোটা সিলেট বিক্ষোভের কেন্দ্রভূমিতে পরিনত হয় । |
আল্লামা সাঈদীকে বহনকারী বিমান ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরণ করে । তিনি তৎক্ষনাত সড়কপথে পুনরায় সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন । ইসলামের শত্রু ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের যাবতীয় বাধা অতিক্রম করে তিনি সিলেট মাহফিলে উপস্থিত হন । তাঁকে ঘিরে জনতার সাগরে ঊর্মিমালার সৃষ্টি হয় । তাওহীদি জনতার প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে সে দিনও বাতিল শক্তি কুরআনের সৈনিকদের কাছে পরাজিত হতে বাধ্য হয় । |
কিছু স্মৃতি কিছু কথাঃ |
২০০৩ সালে চট্টগ্রাম তাফসীর মাহফিলের কর্তৃপক্ষ আল্লামা সাঈদীকে অনুরোধ জানান, তিনি যেন অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে তাদের মনজিলে কিছু লিখেন । কর্তৃপক্ষের অনুরোধে চট্টগ্রাম তাফসীর মাহফিল সম্পর্কে আল্লামা সাঈদী 'কিছু স্মৃতি কিছু কথা' নামে মনজিলে তিনি যা লিখেছেন, তা থেকে সংক্ষেপে মাত্র একটি ঘটনা তাঁর ভাষায় আমি এখানে উল্লেখ করছি । |
এরশাদ সরকারের শাসনামলে মাহফিল বন্ধ করার জন্য সরকারীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । মাগরিবের নামাজের পরে গাড়িবহর আমাকে নিয়ে চট্টগ্রাম তাফসীর মাহফিলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে । পথিমধ্যে সংবাদ এলো, পথেই আমাকে গ্রেফতার করা হবে । কর্তৃপক্ষ কৌশল করে পথের মাঝে আমাকে একটি অটোরিক্সায় উঠিয়ে দিয়ে মাওলানা কামালউদ্দীন জাফরী সাহেবকে নিয়ে মাহফিলে উপস্থিত হতেই জনতা আমার নামে স্লোগান দেওয়া শুরু করলো । আমি এসেছি মনে করে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে এসে দেখে আমি নেই । পুলিশ ছুটলো খোঁজে । ইতিমধ্যেই আমি নিঃশব্দে মাহফিলে এসে উপস্থিত হলাম । মাহফিল চলাকালে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করার ঝুঁকি গ্রহণ করলো না । মাহফিল শেষে কর্তৃপক্ষ আমাকে এবং মাওলানা কামালউদ্দীন জাফরীকে মঞ্চের পিছনে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন । কর্তৃপক্ষ জাফরী সাহেবকে বেষ্টন করে গাড়ির দিকে নিয়ে গেলো এবং উপস্থিত জনতা আমার নামে স্লোগান দিলো । আমি তখনো সেই ঘরে, পুলিশ গাড়িবহরের পিছনে ছুটতে থাকলো । এরিমধ্যে কর্তৃপক্ষ আমাকে নিয়ে আমার থাকার স্থানে নিয়ে গেলেন । |
কর্তৃপক্ষের কৌশলের কারনে প্রশাসন আমাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানালো, 'উপরের নির্দেশ, একদিনের জন্য হলেও মাহফিল বন্ধ রাখুন, নইলে আমাদের অসুবিধা হবে ।' কর্তৃপক্ষ জানালেন, 'মাহফিল বন্ধ করলে জনগণ আমাদের ছাড়বে না, আপনারা এ কথাগুলো মাহফিলে আগত জনতাকে বলে দেখুন । ' |
― আওয়ামী শাসনামলেও ১৪৪ ধারা জারী করে মাহফিল বন্ধ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে । বীর চট্টলার ইসলাম প্রিয় তওহীদী জনতা এই অন্যায়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে । শেষপর্যন্ত সরকার নতি স্বীকার করে আউটার স্টেডিয়ামে মাহফিল করার অনুমতি দিয়েছে । সেখানে স্থান সংকুলান হয়নি । গোটা শহর অচল হয়ে গিয়েছে । এ ধরনের অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে চট্টগ্রাম মাহফিল ঘিরে, যা ব্যক্ত করতে গেলে বিশাল আকারে এক গ্রন্থ রচিত হবে । |
বাধার সমস্ত পাহাড় ডিঙিয়ে চট্টগ্রামের মাহফিল বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহত তাফসীর মাহফিলে পরিণত হয়েছে - আলহামদুলিল্লাহ । আল্লাহ তায়ালা কুরআনের এই মাহফিলকে আমাদের সকলের জন্য নাযাতের উসিলা বানিয়ে দিন । আমীন- ইয়া রব্বাল আলামীন । |
~ আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহের একান্ত মুখাপেক্ষী |
২৭/০৯/২০০৩ |
প্রচুর পরিমাণে শেয়ার চাই, যাতে আমার এই কলামটা শাসকগোষ্ঠীর কর্ণকূহোরে পৌছে যায় । |
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" |
আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী - তমসাবৃত গগনে প্রদিপ সূর্যের একটি বিকশিত নাম, যার আলোয় আলোকিত হচ্ছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ । তিনি যুগ যুগ ধরে এদেশে কুরআন ও সুন্নাহর কথা মানুষকে শুনিয়ে আসছেন । পথহারা মানুষদের দেখাচ্ছেন পথের দিশা । |
বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে যদি একটি সমাবেশের আহবান করে, আর সেই সমাবেশে যোগদান করার জন্য মানুষের পিছনে যদি কোনো অর্থ ব্যয় না করা হয় ,তাহলে হাতে গোনা যাবে কয়জন মানুষ এসেছে এই সমাবেশে । |
কিন্তু আল্লামা সাঈদী তাফসীর করবেন - এই ঘোষনা দেওয়ার সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের কষ্টার্জিত উপার্জনের টাকা ব্যয় করে, জীবনের ঝুঁটি নিয়ে মাহফিলে আসে । কোনো একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এতবড় মাহফিল বাংলার ইতিহাসে কখোনো হয়নি, ভবিষ্যতেও হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই । তাঁর এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের অনুসারীরা তাঁকে আজ পাঁচ বৎসর থেকে বন্ধী করে রেখেছে জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে । কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি । আল্লামা সাঈদীর জনপ্রিয়তা দিনদিন বেড়েই চলছে । এখন ১৬ কোটি মানুষের হ্নদয়ে একটিই নাম-আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী । |
এজন্য এই বিশ্বনন্দিত মুফাস্সীর ও খ্যাতিমান ইসলামী চিন্তাবিদকে এদেশের ইসলাম প্রিয় জনগোষ্ঠী এখন আর একজন মুফাস্সীর হিসেবে দেখতে চায় না । তাঁকে পৃথিবীর এই দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ-বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দেখার জন্য তৃষ্ণার্ত চাতকের মতই প্রহরের পর প্রহর অতিবাহিত করেছে । এখন তারা শাসন দন্ড হাতে সাঈদীকে দেখতে চায় । তিনি শাসন দন্ডের মাধ্যমে আল কুরআনের বিধান ও বিশ্বনবীর জীবন ব্যবস্থা এদেশের বুকে বাস্তবায়ন করবেন, বুকভরা এই আশা নিয়ে জাতি চাতকের মতই প্রহর গুনছে । |
~ সুতরাং আল্লামা সাঈদীর উপর থেকে সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকে মুক্তি দিয়ে দেশের শাসনভার জনগনের কাঙ্খিত ব্যক্তি আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর হাতে তুলে দেওয়াই হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশর ১৬ কোটি মানুষের একান্ত দাবি । |
প্রকাশিত গ্রন্থাবলি |
০১. আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহাকাশ ও বিজ্ঞান |
০২. আখিরাতের জীবনচিত্র |
০৩. আল কোরআনের দৃষ্টিতে ইবাদাতের সঠিক অর্থ |
০৪. আল কোরআনের মানদন্ডে সফলতা ও ব্যর্থতা |
০৫. আল্লাহ কোথায় আছেন |
০৬. আল্লাহ মৃতদেহ নিয়ে কি করবেন |
০৭. ঈমানের অগ্নিপরীক্ষা |
০৮. কাদিয়ানীরা কেন মুসলিম নয় |
০৯. খোলা চিঠি |
১০. চরিত্র গঠনে নামাযের অবদান |
১১. জান্নাত লাভের সহজ আমল |
১২. তাফসীরে সাঈদী আমপারা |
১৩. তাফসীরে সাঈদী সূরা আছর |
১৪. তাফসীরে সাঈদী সূরা ফাতিহা |
১৫. তাফসীরে সাঈদী সূরা লোকমান |
১৬. তালিমূল কোরআন |
১৭. দেখে এলাম অবিশ্বাসীদের করুন পরিণতি |
১৮. দ্বীন বিজয়ের আন্দোলনে ধৈর্য |
১৯. ধর্মনিরেপক্ষতা বনাম ধর্মহীনতা |
২০. নীল দরিয়ার দেশে |
২১. ফিক্বহুল হাদিস ১ম খন্ড |
২২. ফিক্বহুল হাদিস ২য় খন্ড |
২৩. বিষয়ভিত্তিক তাফসীরুল কোরআন ১ম খন্ড |
২৪. বিষয়ভিত্তিক তাফসীরুল কোরআন ২য় খন্ড |
২৫. মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাব ১ম খন্ড |
২৬. মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাব ২য় খন্ড |
২৭. মানবতার মুক্তির সনদ আল কোরআন |
২৮. রাসূল (সাঃ) এর মোনাজাত |
২৯. সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলাম |
৩০. সাঈদীর রচনাবলী ১ম |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.