content
stringlengths
0
129k
তাই তো সকলে আমাকে নীলকন্ঠ বলে ডাকে রে
তার সঙ্গে ষষ্ঠী জুড়লো কে বাবা ? নন্দী বললে
তাহলে শোন্‌ বলি: মহাদেব শুরু করলেন
এক বামুন আর বামনীর পাঁচছেলে আর দুটি মেয়ে
( ফ্যামিলি প্ল্যানিং তো আর ছিলনা সে সময়ে )
তারা খুব পুজোআচ্চা করত
কিন্তু এত পুজো, বারব্রত করেও তাদের সব ছেলেমেয়েগুলো একে একে মরে গেল
তখন বামনীর ঠাকুরদেবতায় বিশ্বাস চলে গেল
তাদের আর সেই জায়গায় থাকতেও ভালো লাগল না
বামুন-বামনী ঠিক করল সব ছেড়েছুড়ে তারা মনের দুঃখে কাশীবাসী হল
দশাশ্বমেধ ঘাটে স্নান করে অন্নপূর্ণার পুজো করে মণিকর্ণিকার ঘাটে বসে আছে , এমন সময় মা-ষষ্ঠী বুড়ি এক বামনীর বেশে এসে বললে " কি ভাবছ গো মা?" বামনী বললে " আমার সব ছেলেমেয়েদের হারিয়েছি
এত পুজোআচ্চা সব বিফলে গেল আমাদের
সব অদৃষ্ট
ঠাকুর দেবতা বলে কিছ্ছু নেই
ষষ্ঠীবুড়ি বললেন " বারব্রত নিষ্ফল হয়না মা, ধর্মকর্ম যাই কর ঈশ্বরে বিশ্বাস চাই
তুমি মা-ষষ্ঠীকে মানো? তাঁর পুজো করেছ কখনো? তিনি সন্তানদের পালন করেন
বামনী বললে " আমি এযাবতকাল সব ষষ্ঠী করে আসছি কিন্তু তবুও আমার ছেলেরা র‌ইল না
ষষ্ঠীবুড়ি বললেন্" তুমি নীলষষ্ঠীর পুজো করেছ কখনো? চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন উপোস করে শিবের পুজো করবে
শিবের ঘরে বাতি জ্বেলে জল খাবে
সন্তান্‌দের মঙ্গলকামনা করবে' (স্পিরিচ্যুয়াল গুরুদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের একটা লিমিট থাকে, তখন ছিলনা)
বামনী সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে পুনরায় মাতৃত্ব লাভ করলে
নন্দী সব শুনে বললে" বাবা, এ তো তবে তোমার নিজের ব্র্যান্ড ক্রিয়েট করলে তুমি
আর সব ষষ্ঠীর পুজোয় তো মাষষ্ঠীর পাল্লা ভারী হয়ে যাচ্ছিল তাতে যদি তোমার নামডাকে ভাটা পড়ে তাই বুঝি এমনটি কল্লে তুমি?'
মহাবাবা বললেন " দেখ নন্দী, এখন যা যুগ এয়েচে তাতে নিজের ব্র্যান্ড যে মূল্যেই হোক ক্রিয়েট করতে হবে
নয়ত তুই স্থান পাবিনা জগতে , যা কম্পিটিটিভ মার্কেট এয়েচে! লাখলাখ দেবদেবীর ভিড়ে মহাদেবকে কেউ আর মানবেনা
নন্দী সব শুনে বললে "বাবা, আর সব ষষ্ঠীর পুজোয় তো মা-ষষ্ঠীর ওরফে মা দুর্গার পাল্লাটা একটু বেশী ভারী হয়ে যাচ্ছিল তাতে যদি তোমার নামডাকে ভাটা পড়ে তাই বুঝি এমনটি কল্লে তুমি?'
মহাবাবা বললেন " মেয়েরা তথা দেবীরা যা হুজ্জুতি শুরু করেচে তাতে দেবেরা আর পাত্তা পাবেনা বুঝলি? কোন্‌ দিন বলে বসবে "মাই চ্চয়েস!!!
নন্দী বলল, ঠিক কয়েছ বাবা
সেই দেখে ঊর্বশী-রম্ভা, ওরাও যদি বলে বসে ? "পুজো চাই! মাই চয়েস!!!"
শিব সেই শুনে বললেন, কুদোস নন্দী! এই জন্যে তোর কথায় আমি উঠি আর বসি
তোদের মা তাই বুঝি আমায় জিজ্ঞেস করছিল এতসব
মানে শিব্রাত্তির পরেই কেন আবার নীল... ইত্যাদি, ইত্যাদি
9:22 :
!
, 23, 2017
জগাদা যুগ যুগ জিও!
জগার কেরামতি দেখলাম ভোররাতে
তেনার রথ চলবে বলে অঘোষিত বিষ্টি এল আষাঢ়ী এক ভোরে
নিজের চলার পথ ধুয়ে শুনশান্! কি স্বার্থপর রে বাবা! তারপর আবার যে কে সেই! তুমি ঠুঁটো! তোমার দুপাশের মানুষজনেরা তো স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রপতির মত
তোমার ইচ্ছায় কর্ম তাদের
তুমি না চাইলে চলবেনা, না বললে বলবেওনা
একজন তো সোমরসে চুর! কাঁধের লাঙল কাঁধেই থাকে
কাজের বেলায় তুমি
আরেকজন তো অর্জুনের সাথে পালালো..তাও তোমার প্ররোচনায় ! বাব্বা ! পারেও বটে
হাত নেই তাতেই একাই ১০০ ! হাত থাকলে না জানি কি হত!!!
আমি জগাদার খোদ পাড়ায় গেলে সেখানে তারা ছুঁতেই দেবেনা জগাদার গা! ফেল কড়ি মাখো তেল্! তবে কড়ি ফেললে জগাদার চ্যালারা মহা খুশি
যা চাইবে তাই করতে দেবে
বললে জগাদার সাথে তোমার সিনেমার টিকিটও কেটে দেবে
ঘষ্টে ঘষ্টে জগাদা তোমাকে নিয়ে হলে পৌঁছে যাবে
গায়ে গা ঠেকিয়ে বসবে এসি হলে
মিষ্টি মিষ্টি রসালো কথা ক‌ইবে
পকেটে প্যাঁড়া, নিমকি, খাজা-গজা সব দেখিয়ে বলবে বের করে নিতে
জগাদা বেঁড়ে লোক
চোখে একটু কম দ্যাখে এই যা
বড় বড় গোল্লা গোল্লা চোখ হলে যা হয় আর কি ! দূরদৃষ্টি বেশি কিন্তু কাছের লোককে একটু কম দ্যাখে
তাই আমাদের দেখতে পায়না
ঠিকঠাক সব !
আমি বল্লুম, একটা সেলফি তুলতে দেবে আমার জগাদার সাথে? পান্ডাটা বল্ল, তর মনে? সেলফোন নিয়ে জগোন্নাথো মন্দিরে ঢোকা বারণ অছি
আমি বল্লুম, আমাকে গেটেতো আটকালোনা
পান্ডা তখন বল্ল, কিছু কড়ি ছাড়ো, মু এলাউ করি দিব
জগাদার সাথে তোমার সেলফি আমি‌ই তুলে দিব
অগত্যা একটা চকচকে পাতি বের করে তার হাতে দিলুম
তারপর তিনজনের পাশে দাঁড়িয়ে যেই ছবিখানা তুলে দিতে বলেচি তখন ব্যাটা বলে , উঁহু! শুধু জগোন্নাথেরো সঙ্গে ফটোর কথা ছিল, বাকীরা ছবিতে এলে আরো পৈসা লাগবে
আমি বল্লুম, থাক আমার সেলফি লাগবেনা, আমাকে টাকাটা ফেরত দাও তবে
সে তখন আমার মাথায় একটা চটাস করে লাঠিপেটা করে বলল, মু আর তুমারে ছাড়িচিনা
তুমি বেশ শহুরে যুবতী, দেখিব ছাতি
আমি বল্লুম, এ তো পুরো মন্দিরের মধ্যে মানহানি! জগাদাকে প্রাণপণে ডাকতে লাগলুম
বাঁচাও জগাদা! তোমার কাছে এসে শেষ অবধি এসব কি! বল্লুম, ঠিক আছে পয়সা ফেরত চাইনা আমি, একটা গান শোনাবে? সেই ধড়িবাজ পান্ডা তখন পান খাওয়া রাঙা ঠোঁটে গাইতে শুরু করলঃ
কঁড় কঁড় কৌচি, বাঁশুরী বাজাউচি, বামেতে বসিগিড়ি রসমতী রাই, ঠাকুর দরশন মিলিবেনা কাঁই!
আমি মানে মানে কেটে পড়লুম সে যাত্রায়
গর্ভগৃহের বাইরে পা দিয়েচি অমনি সে পেছন থেকে এসে আমার মাথায় আবার লাঠিপেটা করে বলল,
ধাঁই কিড়িকিড়ি, পটাকা তিলা, নিতাই গো মোর তিহিলা মিঠা
সেই তো অসিতো, বলিকা সুন্দরী, মদনমোহন পিঞ্জরিতে পাখী পুষিতো...
আমি ছুট্টে মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে বাঁচি আর কি!
রথের দিন সকাল সকাল উঠে সাজতে গুজতে দোল ফুরোয় জগাদা এন্ড কোম্পানির
প্রতিবছর ঐদিনে জগাদার সহজসঙ্গিনী মা বিমলা ভৈরবীর বড্ড গোঁসা হয়
রথে চড়তে না পারায় বিমলার খুব আক্ষেপ
উগরে দেন ঝাঁঝ..
"সংসার, বিশ্ব ব্রহ্মান্ড রসাতলে গেল
আর তিনি কিনা ভাইবোনকে বগলে করে বেড়াতে চললেন্! আদিখ্যেতা যত্তসব্! আর আমি একলাটি র‌ইনু পড়ে ঘরের কোণে
মিন্‌সে, মাসীর বাড়ি যাবার আর সময় পেলনা? শেষ একমাস সেই চানযাত্রার দিন থেকে দরজা বন্ধ করে বসে আছেন বাবুরা সব্! মুখ দেখাদেখি বন্ধ দুনিয়ার সাথে
কি না জ্বর এয়েচে ওনার
জ্বর যেন কারো হয়না
ভালো ভালো সব খাবার খাব অথচ একটা প্যারাসিটামল বড়ি গিলবনা ! কিনা ওষুধ খেতে বমি পায়
বোঝো ঠ্যালা
আসলে কাজে ফাঁকি দিয়ে দরজা বন্ধ করে একমাস ধরে এই প্যাকেজ ট্যুরের প্ল্যান করে তিনটিতে মিলে
ধড়িবাজ ননদ আমার
উনি নাকি সুভদ্রা
আদৌ ভদ্রতা জানে কি ? নয়ত প্রতিবার যাবার আগে আমাকে একটিবারও বলে না যে বৌদি এবারটা চলো আমাদের সাথে
আর তেমনি চালাক ভাসুরটাও
ভালো ভালো রান্না খেতে ইচ্ছে হলে বৌদি
আঙুরের রস করে দেবার বেলায় বৌদি
কাট্‌গ্লাসের সুরাপাত্র কিনে আনার বেলায় বৌদি
ফ্রিজে বরফ বসানোর বেলায় বৌদি
আর সেই বৌদিটাকে এখন মনে পড়েনা !
আসলে পালের গোদা তো ঐ ঠুঁটো মিন্‌সেটা
তার কত্ত বায়না সামলাই এই আমি ঘেটো মড়া মেয়েছেলেটা
একশো আট রকমের হালুয়া, বত্রিশ রকমের মুচমুচে নিমকি , ছাপ্পান্ন রকমের পদ
সব ঠিকমত হচ্ছে কি না সব তদারকি করি সারাটি বছর ধরে
আর আমার বেলায় আমড়ার আঁটিও জোটে না একটা