content stringlengths 0 129k |
|---|
পরের বছর থেকে আমার রথ চাই এই বলে দিলুম মিনসে! নয়ত দেখব কে তোমাকে রথে চড়ায়! আর মাসীটাও হয়েছে তেমন যত তেল দেয় এই বোনঝি-বোনপো তিনটেকে |
সারাবছর তো এরা মাসীকে ঝিঙের বাড়ি মারলেনা তবুও বোকা মাসীটা এলাহি আয়োজন করবে এদের জন্যে সাতদিন ধরে " |
বুঝতাম তুমি তেমন একটা কেউকেটা তাহলে তো তোমার নিদেন ফেসবুকে একটা একাউন্ট থাকত! আমরা সেখানেই জয় জগন্নাথস্বামী নয়নপথগামী বলে চিত্কার করে মরতাম ! তাহলে বিমলিপিসিও অত রেগে যেতনা ! না আছে ফেসবুকে তোমার একটা সেলিব্রিটি পেজ, না আছে নিজস্ব প্রোফাইল |
সারাদিন নিজের স্নান্, ভৃঙ্গার্, শৃঙ্গার আর একশো আট রকমের মন্ডা মিঠাই, বত্রিশ রকমের ভাজাভুজি আর ছাপ্পান্ন ব্যঞ্জন খেতেই ব্যস্ত! দুনিয়াটা দ্যাখো জগাদা! কত দিন বলেছি তোমায়! ! নয়ত এতদিনের ব্র্যান্ডের ব্যান্ড বাজানোই বৃথা ! |
বিশ্বাস করো জগাদা! তুমি বড় না শিব বড় তা আমার মত পাপীর অজানা কিন্তু শিবরাত্রির দিনে ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দিরে শিবলিঙ্গে জল ঢালার অধিকার নেই আমার |
বললুম, আমি বামুন-কন্যা, আমি বাড়িতেও শিবপুজো করি |
গোদা একটা মহাপুরুত আমাকে তার ইয়া মোটা পেল্লায় বাহুমূলের খোঁচা আর কনুইয়ের এক ঠোনা মেরে বললে, "ত কি? এ লিঙ্গ অমার অচি" আমি বললুম, সে তো জানি |
কিন্তু শিবলিঙ্গ তো আমাদের সকলের |
পুরীতে গিয়ে সেই এক অবস্থা |
শঙ্করাচার্য মন্দিরেও আমি অছ্যুত ভক্ত |
অগত্যা সমুদ্দুরের বালিয়াড়িতে বসে মনের দুঃখে শিবলিঙ্ঙ গড়ে জল ঢেলে শিবরাত্রি ব্রত করলুম |
তোমার অত বড় বড় চোখ হলে কি হবে ! তোমার রাজ্যে তুমি সত্যি ঠুঁটো |
পান্ডাসর্বস্ব তোমার এক্তিয়ার তোমার শুধু দেখনদারি |
আজ চন্দনযাত্রা, কাল স্নানযাত্রা, পরশু রথযাত্রা! |
10:45 1 : |
! |
, 17, 2016 |
স্বর্গীয় রমণীয় - ১৩ "রাস, / ভাগবত" |
"তোমরা আমাকে ভালোবাসা দাও, আমি তোমাদের ভালোবাসা দিব" কানুদা এমনটি বলতেন |
আমজনতাকে অবিশ্যি নয় |
গোপিনীদের |
গোপবালারা এক সে বড় কর এক সুন্দরী, অদ্বিতীয়া প্রেমিকা আর সারাক্ষণ কৃষ্ণপ্রেমে হাবুডুবু খাওয়া বৃন্দাবনের কিছু রমণী |
এই বৃন্দাবনের গোপবালারা ভক্তিযোগে কানুকে পাবার জন্য আমরণ চেষ্টা করে গেছেন |
রাধার সাথে কানুর পিরীতি তাদের বুকে শেল হয়ে বাজত |
রাধা একাই কেন পাবে কানুকে? তাদের যুগলে দেখতে পেলে ঝলসে যেত গোপিনীদের চোখ, ফেটে যেত বুক |
এহেন কূটনৈতিক কানু যাদবের চিন্তা হল |
এত কষ্টের তৈরী ব্র্যান্ড |
যুগে যুগে সেই ব্র্যান্ডকে বাজিয়েই চলেছে আম আদমী |
কিন্তু বৃন্দাবনের গোপিনীরা কানুর পিরীতি থেকে বঞ্চিত থেকে যদি সেই আদি অনন্ত দুধ সাদা ব্র্যান্ডে কালি ছিটিয়ে দেয়? অগত্যা মধুসূদন |
কানু যাদব ফন্দী আঁটলেন |
শারদীয়া উত্সবের পরপর আম আদমীর মনখারাপ থাকে |
গোপিনীদেরো ঘরের কাজকর্মে একটু ঢিলাঢালা ভাব থাকে |
উত্সবের হ্যাঙ ওভার কাটতে না কাটতেই কার্তিকের পূর্ণিমায় আয়োজন করবেন রাস উত্সব... এই ছিল প্ল্যান |
তিনিই স্বয়ং ইভেন্ট ম্যানেজার |
/ ভাগবত ! |
অতএব সতীলক্ষ্মী সব গোপিনীদের সঙ্গে কানুদার একান্তে গেট টুগেদার হল রাসলীলা |
আর তাই তো কানুদা হলেন রাসবিহারী |
এ হল দ্বাপরের বেত্তান্ত |
তারপর কলিতেও সেই ট্র্যাডিশন অব্যাহত |
বৃন্দাবনের আনাচেকানাচে কানুগত প্রাণ গোপিনীদের হৃদয়যন্ত্রে সেদিন বেজে উঠেছিল ভালোবাসার সেই সুর যা এখনো হৃদয়ঙ্গম করছেন সারা দেশের মানুষ |
অতএব কানুদার রাধার সাথে পরকীয়ায় নিজের দাপুটে ব্র্যান্ডে কেউ কালি ছেটাতে পারেনি |
ঠিক যে মূহুর্তে গোপিনীরা "নাহ্, ঐ বাঁশী শুনে আর কাজ নাই" ভাবল তখনি কানুদা রাসলীলার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করলেন |
মানে একপ্রকার গোপিনীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেই বসলেন বিচক্ষণ কানুদা |
আগে বাজাতেন ভৈরবী, ইমন, শুদ্ধ বিলাবল, ভূপালী এইসব রাগ-রাগিনী |
এখন বাজালেন আহির ভৈরব, পুরিয়া ধ্যানেশ্রী, আশাবরী ...যত করুণ রসে সিঞ্চিত সুরের ঝর্ণা ততই পাগলপ্রায় গোপিনীদের অবস্থা |
অভিসারের কথা না জানিয়েই ছুটে যেতে ইচ্ছে হল প্রাণ |
সবকিছু দিতে ইচ্ছে হল কানু-দয়িতের জন্যে |
কেউ তখন দুধ দুইছিল, কেউ দুধ জ্বাল দিচ্ছিল, কেউ রাঁধছিল খিচুড়ি |
কেউ নিজের সন্তানকে দুধ খাওয়াতে ব্যস্ত ছিল |
কেউ স্বামীকে দফতরে পাঠানোর জন্য দেখভাল করছিল |
যে যেমন অবস্থায় ছিল ঠিক তেমন অবস্থায় সবকিছু ফেলে রেখে ছুটল সেই বাঁশীর পিছুপিছু |
"কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গো, আকুল করিল মন-প্রাণ" |
একজন গোপিনী স্নানের পর চন্দন দিয়ে অঙ্গরাগ করতে ব্যস্ত ছিল |
একজন পরছিল কাজল |
একজন সবেমাত্র কাঁচুলি পরেছে, ভুলে গেল উত্তরীয় পরিধানের কথা |
একজন আবার এক কানে কুন্ডল পরেই দৌড়ল |
"উথালিপাথালি ওদের বুক, মনেতে নাই সুখ রে, আমায় ডুবাইলি রে, আমায় ভাসাইলি রে" |
লাজলজ্জা বিসর্জন দিয়ে কানুর কুঞ্জবন রূপ বৈঠকখানায় ছুটল তারা |
চুলোয় যাক্ সংসার! রসাতলে যাক স্বামী-পুত্র! "রইতে নারে, বাঁশীতে ডেকেছে যারে" |
বাঁশীওয়ালার ডাকে সাড়া দিয়েও বিপদ হল গোপিনীদের |
কানু বাঁশীওয়ালা পরীক্ষা নেন সততই |
গোপিনীরা পূর্ণিমার রজতশুভ্র জ্যোত্স্নায় বৃন্দাবনের কুঞ্জে এসেছে সব ছেড়েছুড়ে |
এর মধ্যে কে কানুকে সত্যি ভালোবাসে আর কে লোক দেখানো সেটা যাচাই করতে তিনি বললেন, ভয়ঙ্কর রাতে, বনে বাদাড়ে হিংস্র বন্যপ্রাণী আছে |
অতএব তোমরা ঘরে ফিরে যাও |
গোপিনীরা বলল, চাঁদের আলোয় আঁধার তো দিন হয়েছে আর বৃন্দাবনের জন্তু জানোয়ার বন্ধুপূর্ণ অতএব আমরা আজ ফিরবনা এরাতে |
কানুদা আবারো বললেন, তোমাদের পরিবারের লোকেরা কি বলবে? তাদের অহেতুক চিন্তা বাড়িওনা |
কিন্তু গোপিনীরা নারাজ |
"রহিল মোর ও ঘর দুয়ার".... কেষ্টারে লয়েই থাকবেন তেনারা |
নিজেদের মধ্যে তারা বলাবলি করতে লাগল" আজ সব ছেড়ে চলে এলাম তার জন্যে, আর এখন কিনা তিনি বলছেন ফিরে যেতে?" এদিকে প্রেমের অনুঘটক রূপে কাজ করল কার্তিকের মৃদুমন্দ হিমেল বাতাস, আকাশে রূপোর থালার মত পূর্ণচন্দ্র, আর ভেসে এল নানা ফুলের গন্ধ |
দিশেহারা হয়ে গেল সতীলক্ষ্মী গোপিনীরা |
তন্ময় হয়ে গেল কানুচিন্তায় |
ভুলে গেল দেহ-গেহ |
দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে তারা একদৃষ্টে চেয়ে কেমন যেন সম্মোহিত হয়ে গেল একে একে |
কানুর রূপ, বাঁশীর সুর, প্রেমের অনুকূল প্রকৃতি সবকিছু মিলেমিশে একাকার তখন |
তাদের পরপুরুষের হাবভাব, চালচলন, চটূল হাসি, অকপট অনুরাগ, মধুর বাক্যালাপ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগে ব্যস্ত তারা |
"ভিতর বাহিরে, অন্তর-অন্তরে আছো তুমি, হৃদয় জুড়ে" |
তারা যারপরনাই হারিয়ে ফেলল নিজ নিজ পৃথক সত্ত্বা |
প্রগাঢ় প্রেমে বুঝি এমনটিই হয়ে থাকে |
পাগলপ্রায় গোপিনীরা উচ্চৈস্বরে গাইতে লাগল গান... "হরিনাম লিখে দিও অঙ্গে" |
কানুর দুষ্টুমি শুরু হল তখন |
অশোক, নাগকেশর, চাঁপা গাছের আড়ালে চলে গিয়ে পরখ করতে লাগলেন তাদের প্রেমের আকুতি |
লুকোচুরি চলল কিছুক্ষণ |
কানুর প্রিয় ছোট ছোট ফুলগাছ, কুর্চি, মালতী, জাতি |
এদের কাছে গিয়ে গোপিনীরা জিগেস করল তারা... কানুকে দেখেছ ? |
এভাবে চলল কিছুক্ষণ |
অবশেষে বৃন্দাবনের তরুলতার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে তারা লক্ষ্য করল কানুর খালিপায়ের ছাপ |
ওরা ভাবল আবারো বুঝি কানু সেই রাধার সাথে দেখা করতে চলে গেছে |
খুব অভিমান হল তাদের |
হঠাত তারা দেখল কিছুদূরেই রাধা মূর্ছিত হয়ে পড়ে আছে |
তা দেখে চক্ষুকর্ণের বিবাদ ভঞ্জন হল গোপিনীদের |
সখীদের সেবায় রাধার জ্ঞান ফিরল |
তাকে নিয়ে গোপিনীরা চাঁদের আলোয় যতদূর পর্যন্ত যাওয়া যায় ততদূর গেল |
তন্ন তন্ন করে খুঁজল কানুকে |
তবু তার দেখা নাইরে |
তার দেখা নাই |
তারপর কানুর স্তুতি শুরু হল |
তারপর কিছুটা মান-অভিমানের পালা |
যার জন্য আমাদের সব ছেড়ে চলে আসা, যার বাঁশীর শব্দে আকৃষ্ট হয়ে আমরা এই গভীর বনে চলে এলাম, যার কষ্টে আমরা এতদিন কষ্ট পেলাম, যাকে ভালোবেসে আমরা সকলের কাছে খারাপ হলাম সেই কানু কিনা আমাদের বুঝলনা? অতএব কানু একজন শঠ ব্যক্তি |
তিনি মিথ্যাচার করেছেন |
কানু বেচারা তখনো ইনভিজিলেটরের ভূমিকায় |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.