content
stringlengths 0
129k
|
|---|
বেশ, তো কিভাবে তুমি নিজের হাইপথেসিস টেস্ট করতে যাচ্ছো? ওয়েল- আমি ভাল্লকের চামড়ার হেয়ার ফলিকল কোষে এক্সপ্রেসড পিগমেন্ট কোডকারী জিনটি আইসোলেট করতে ও অধ্যয়ন করতে চাই, খুব সম্ভবত আমি দেখতে যাচ্ছি যে বাংলাদেশী ভাল্লুকের চুলের পিগমেন্টের ক্রমোফোর সব আলো এবসর্ব করে অপরপক্ষে মেরুর ভাল্লুকেরটা কোন আলোই এবজর্ব করে না এদের জন্মের জন্য দায়ী জিনটিতে মিউটেশনের কারণে; দুটি ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের ফলে সুচীত দুটি ভিন্ন সিলেক্সন প্রেসার যেইখানে দুটি আলাদা মিউটেশনকে পজিটিভলি সিলেক্ট করেছে
|
পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আপনি দেখলেন যে আপনার দাবীটি বাস্তবতার সাথে সামঞ্জগ্যপুর্ণ
|
ব্যাস, আপনার দাবী কনক্লুড হয়ে গেলো
|
এরপর আপনি সেফালোপড যেমন- অক্টোপাস, স্কুইড এবং বিশেষ করে কাটলফিসের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে তারাও যে কোন ব্যাকগ্রাউন্ড মিমিক করতে সক্ষম; যতো কম্পলেক্স ব্যাকগ্রাউন্ডই হোক না কেনো
|
এমনকি দাবার ছক যেটি কিনা সাদা-কালো (যেই দুটি রঙের মধ্যে কনট্রাস্টের পার্থক্য কিনা রাফলি সর্বাধিক) টাইলের কন্টিগুয়াস ট্যান্ডেম রিপিট, সেই দাবার ছকের উপর এদের ছেড়ে দিলে দাবার ছকও তারা তাদের চামড়ায় মিমিক করে ফেলে, এবং মোটামুটি নিখুঁত মিমিক! সো আপনি হাইপথেসিস দাড় করালেন- ওয়েল, ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে সুমুদ্রে প্রচুর প্রচুর মার্মেইড বসবাস করতো
|
তাদের প্রিয় খেলা ছিলো দাবা, যেটা কিনা তারা খেলতো সুমুদ্রতলপৃষ্ঠে বসে, আর প্রিয় খাবার ছিলো তাদের কাটলফিস......ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি
|
এবং একইভাবে আনবিক উপায়ে আপনার হাইপথেসিস আপনি যখন টেস্ট করতে গেলেন, তখন দেখলেন যে- না আপনার হাইপথেসিসটা সামান্য অল্প একটু বাস্তবতা বিচ্যুত, কাটলফিসে মাইমেটিক মেকানিজম মুলত এইরকম যে- তাদের চামড়ায় পিগমেন্ট কোষের ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বেশী যেটি কিনা প্রতিনিধিত্ব করে প্রায় ৩০০ ডিপিআই রিসোলিউশনের
|
পিগমেন্ট কোষগুলো হ্যাভিলি হ্যাভিলি স্নায়ুসংযোগপ্রাপ্ত এবং স্কেলিটাল মাংশপেশী সংযোগপ্রাপ্ত
|
চার রঙের ক্রোমোফোর রয়েছে চামড়ায় যেগুলোর প্রত্যেকটি নিউরোমাস্কুলার উপায়ে ডিফ্রেন্সিয়ালি ফুঁটে উঠাতে পারে তারা টেলিভিশন স্ক্রীনের মতো
|
এর কারণেই তারা যে কোন ব্যাকগ্রাউন্ড মিমিক করতে পারে
|
আমার প্রশ্ন হচ্ছে কাটলফিসের রঙের রহস্য যখন কিনা আপনি উদ্ধার করে ফেলছেন, তখন আপনার দাবা-মার্মেইড হাইপথেসিসটা কি দখিনা বাতাসে উড়িয়ে নিয়েই গেল না? অথবা ভাবুন যদি কাটলফিসের রঙের রহস্য আসলে আপনার এসে করার এবং প্রোব করার কোন উপায় না থাকতো, তখন আপনি কি করতেন? এটাতো আপনি বলতেই পারতেন তাই না যে- ওয়েল জীবজগতে হাজার হাজার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি মিমেটিক এডাপ্টেশন ঘটে প্রিডেশন সুচীত সিলেক্সন প্রেসারে; তাই কাটলফিসের মিমেটিক এডাপ্টেশনও কোন না কোন সিলেক্সন প্রেসারের সুচনায় সুচীত, এবং এই প্রেসারের সোর্স যদি দাবা খেলারত মার্মেইড নাও এমনকি হয়ে থাকে, দেন সেটা দাবাখেলারত সান্টাক্লজ!! এইবার কাটলফিসকে দাবার ছক থেকে তুলে লুডুর ছকের ব্যাকগ্রাউন্ডে ছাড়েন, সেই ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথেও যে নিজের গায়ের রঙ মিশিয়ে ফেলবে- সম্পুর্ণ ট্রান্সপারেন্ট থেকে সম্পর্ণ কালো হতে কাটলফিসের লাগে ২ সেকেন্ড! তো এইবার কি আপনি নতুন লুডু-মার্মেইড হাইপথেসিস দাড়া করাতে যাচ্ছেন? এইভাবে কতো হাইপথেসিসি দাড়া করানো সম্ভব?
|
বিবর্তনের প্রকৃতি হচ্ছে মডুলার, বিবর্তিত হয় হচ্ছে গিয়ে মডিউল
|
যেমন- এককালে এককোষী জীবে প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র মর্ফোলজিকাল ট্রেইট বিবর্তিত হতো একক মডিউল হিসেবে
|
কিন্তু, যেই মুহুর্তে বিবর্তিত হলো প্রথম বাওপ্লান যেটা কিনা এম্ব্রিয়নিক/ এক্সট্রাএম্বিয়নিক ডিভেলপমেন্টের মাধ্যমে মর্ফোলজি নিয়ন্ত্রন করতে পারে, সেই মুহুর্ত থেকে মডুলারিটি হয়ে গেল সম্পুর্ণই পরিবর্তিত, এখন আর একক মর্ফোলজিকাল ট্রেইট বিবর্তিত হয়না, বিবর্তিত হয় গিয়ে বরং নতুন নতুন বাওপ্লান! বিহেইভিয়ার স্বতন্ত্র মডিউল হিসেবে দেখা যায় অনেক জীবে, কিন্তু কাটল ফিসের রঙের মতোই ভালো একটা সম্ভাবনা আছে যে মানুষে স্বতন্ত্র বিহাইভিওরাল ট্রেইটগুল মডুলার না, মডুলার হচ্ছে বরং এর মস্তিষ্ক, যেটা কিনা সক্ষম পরিস্থিতি সাপেক্ষে বিহেইভিওর নির্দেশ করতে
|
এর রয়েছে এক্সেপশনালি বড় নিওকোর্টেক্স যেটা অন্য আর কারও নেই, কনকর্ডেন্টলি এই নিওকোর্টেক্সের বৃহদত্বও ডিভেলপ করে এম্ব্রিয়নিক ডিভেলপমেন্টের সর্বশেষো পর্যায়ে! এমতাবস্থায়, একটা আচরণ কিভাবে বিবর্তিত হলো সেই আলোচনাটাইয় বসার আগে আপনাকে প্রমান করতে হবে যে- বিবর্তিত হয় একটা একটা আচরণই
|
সেইটা করার আগ পর্যন্ততো এইটা সায়েন্স হচ্ছে না
|
যেমন- মুসলমানদের বাস্তবতার একটা মডেল আছে, সেই মডেলের সবগুলো দাবী বাস্তবতার সাথে রিকন্সাইল কএ শুধুমাত্র যদি তাদের একটা এভিডেন্সবিহীন দাবী আপনি মেনে নেন, সেটা কি আপনি করবেন? করবেন না কেনো, কেননা বাস্তবতাকে বুঝতে হলে এর সম্পর্কে করা প্রত্যেকটি দাবীর পক্ষেই এভিডেন্স থাকোতে হবে, একটা দাবীও এভিডেন্সবিহীন হলে চলবে না
|
তাই, বিবর্তনবাদী মনোবিজ্ঞানকে সায়েন্স বলে দাবী করার আগে এইটা ডেমন্সট্রেইট করা চাই যে- যেই অনুমিতির উপর এটি দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই অনুমিতিটি সঠিক, যে- মানুষের বিহেইভিয়ার মডুলারলি বিবর্তিত হয় সময়ের সাথে সাথে
|
এখন পর্যন্ত এই দাবীর পক্ষে একটা এভিডেন্সও নাই যেটা কিনা অন্যান্য জীবের জন্য রয়েছে
|
যেমন- পুরুষ ইঁদুর বয়োপ্রাপ্তির সাথেসাথেই মাউন্টিং বিহেইভিয়ার প্রদর্শন করে, ইভেন টোড অঙ্গুলেটস যেমন- হরিণ, ছাগল জন্মের সময় থেকেই স্টটিং প্রদর্শন করে; যেই পরিবেশেই এদের বড় করা হোক না কেনো কিংবা যে কোন রিজনেবলি ইনহিবিটিং স্টিমুলিই দেয়া হোক না কেনো সেটা করে
|
মানুষের বিহেইভিয়ার বরং দেখা যায় চরম চরম ডাইভার্স, এবং হেটেরোজিনিয়াস, প্রতিটা এইরকম বিহেইভিয়ার একবার একবার করে মডুলারলি বিবর্তিত হয়েছের চেয়ে বিহেইভিয়ার নির্ধেশকারী অঙ্গটিই একক একটি মডিউল হিসেবে উদ্ভুত হয়েছে এইটাই কি মোস্ট পার্সিমোনিয়াস হাইপথেসিস না?
|
অভিজিৎ জুন 30, 2011 9:40 পূর্বাহ্ন -
|
@আল্লাচালাইনা,
|
আপনার সাথে আলোচনা করে আনন্দ আছে
|
গভীর তর্কে ঢোকা যায়
|
আমরা দ্বিমত করলেও সেটা থেকে আমরা দু'জনেই এবং সাথে অন্য সবাই উপকৃত হবেন বলে মনে করি
|
আপনার কাটলফিসের রঙের সাথে দাবা-মার্মেইড হাইপথেসিসটা চমৎকার, কিন্তু এটার উত্তর দিতে হলে আমাকেও এ ধরনের আরেকটা 'চিত্তাকর্ষক' হাইপোথিসিস দিয়ে রিফিউট করতে হবে
|
বক্তব্যের কাউণ্টার-প্রতি কাউন্টার চলতেই থাকবে
|
আপনি ধরেই নিয়েছেন বিবর্তন মনোবিজ্ঞানের হাইপোথিসিসগুলো দাবা-মার্মেইড-এর হাইপোথিসিসের মতো
|
এখন আমি যে যুক্তিই দেই না কেন, সেটাতেই ঘুরপাক খাবে
|
সেটা থেকে যা হোক, আমি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেবল প্রাসঙ্গিক আলোচনায় থাকছি
|
পুরুষ ইঁদুর বয়োপ্রাপ্তির সাথেসাথেই মাউন্টিং বিহেইভিয়ার প্রদর্শন করে, ইভেন টোড অঙ্গুলেটস যেমন- হরিণ, ছাগল জন্মের সময় থেকেই স্টটিং প্রদর্শন করে; যেই পরিবেশেই এদের বড় করা হোক না কেনো কিংবা যে কোন রিজনেবলি ইনহিবিটিং স্টিমুলিই দেয়া হোক না কেনো সেটা করে
|
মানুষের বিহেইভিয়ার বরং দেখা যায় চরম চরম ডাইভার্স,...
|
আপনার এই উক্তির মধ্যে এই দাবী স্পষ্ট যে, ইঁদুর, ছাগল হরিণের সমাজের প্যাটার্ণ বায়োলজিকাল রুল দিয়ে অনুসন্ধান করা গেলেও মানুষেরটা করা যাবে না, কারণ সেটা 'দেখা যায় চরম চরম ডাইভার্স'
|
কিন্তু সত্যই কি? মানব সমাজের কি কোনই প্যাটার্ণ নেই? আর সেটা কি বায়োলজিকালি বের করা যাবে না? অবশ্যই যায় অনেকক্ষেত্রেই
|
একটি উদাহরণ দেই
|
শিম্পাঞ্জীদের মধ্যে নারীরা হয় বহুগামী
|
তারা একই দিনে একাধিক পুরুষ শিম্পাঞ্জির সাথে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হয়
|
অধিক সংখ্যক পুরুষের সাথে যথেচ্চার সম্ভোগের মাধ্যমে নারী শিম্পাঞ্জিরা প্রকারন্তরে নিশ্চিত করতে চায় যে, উৎকৃষ্ট জেনেটিক মালমশলাসম্পন্ন পুরুষের দ্বারাই যেন তার ডিম্বানুর নিষেক ঘটে
|
কিন্তু নারী শিম্পাঞ্জির এই ধরণের অভিরুচির কারণে পুরুষ শিম্পাঞ্জির জন্য 'বংশ রক্ষা' হয়ে যায় মাত্রাতিরিক্ত কঠিন
|
তাদেরকে এক অসম বীর্য প্রতিযোগিতার ( ) মধ্যে নামতে হয়
|
নারী শিম্পাঞ্জির যোনিতে গর্ভধারণ নিয়ে বিভিন্ন পুরুষ শিম্পাঞ্জির শুক্রের মধ্যে নিরন্তর প্রতিযোগিতা চলে, সেই কারণে একটি পুরুষ শিম্পাঞ্জির পক্ষে কখনোই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয় না যে, যৌনসম্পর্ক হলেই তার নির্দিষ্ট বীর্য থেকেই নারী শিম্পাঞ্জিটি গর্ভধারণ করবে বা করছে
|
কিন্তু সেই সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পায় যদি তার শুক্রাশয়ের আকার অপেক্ষাকৃত বড় হয়, আর তার শুক্রাশয় যদি সঙ্গমের সময় অঢেল শুক্রের যোগান দিতে সমর্থ হয়
|
এই নির্বাচনী চাপই শিম্পাঞ্জিকূলে ত্বরান্বিত করেছে বৃহৎ শুক্রাশয় গঠনের দিকে (গড়পরতা শিম্পাঞ্জির শুক্রাশয়ের ওজন তার দেহের ওজনের ০.৩ ভাগ, এবং শুক্রাণু প্রক্ষেপনের সংখ্যা প্রতি বীর্যপাতে ৬০ ১০^৭)
|
ঠিক উলটো ব্যাপারটি ঘটে গরিলাদের ক্ষেত্রে
|
নারী গরিলারা বহুগামী নয়
|
কেবল পুরুষ গরিলারা বহুগামী
|
শক্তিশালী পুরুষ গরিলারা বড় সড় হারেম তৈরির মাধ্যমে নিশ্চিত করে বহু নারীর দখল
|
এভাবে পুরুষ গরিলারা নিশ্চিত করে তাদের অধিনস্ত নারীর দেহে নিরাপদ গর্ভসঞ্চার
|
কাজেই পুরুষ গরিলাদের জন্য ব্যাপারটা কখনোই পুরুষে পুরুষে বীর্য প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরঞ্চ হয়ে উঠে শক্তিমত্তার প্রতিযোগিতা
|
শক্তিশালী পুরুষ গরিলারা স্বীয় শক্তির মাধ্যমে অধিকাংশ নারীর দখল নিয়ে নেয়, অধিকাংশ শক্তিহীনদের জন্য পড়ে থাকে দুর্ভাগ্য
|
সামাজিক অবস্থানের কারণেই গরিলাদের ক্ষেত্রে নির্বাচনী চাপ তৈরি করেছে বড় সড় দেহ সমৃদ্ধ শক্তিশালী দেহগঠনের, বৃহৎ শুক্রাশয় তৈরির দিকে নয়
|
গরিলাদের ক্ষেত্রে বৃহৎ শুক্রাশয় গঠনের কোন উপযোগিতা নেই
|
নারী পুরুষের মধ্যকার সামাজিক সম্পর্কের কারণেই গরিলাদের ক্ষেত্রে দেহ অনুপাতে শুক্রাশয়ের আকার অনেক ছোট (শুক্রাশয়ের ওজন দেহের ওজনের ০.০২ ভাগ, এবং শুক্রাণু প্রক্ষেপনের সংখ্যা প্রতি বীর্যপাতে ৫ ১০^৭)
|
এখন মানুষের ক্ষেত্রে কি রকম পাওয়া গেছে? এক্ষেত্রে মানুষের অবস্থান হল গরিলা আর শিম্পাঞ্জির মাঝামাঝি (শুক্রাশয়ের ওজন দেহের ওজনের ০.০৪- ০.০৮ ভাগ, এবং শুক্রাণু প্রক্ষেপনের সংখ্যা প্রতি বীর্যপাতে ২৫ ১০৭)
|
পুরুষ মানুষদের শুক্রাশয়ের আকার গরিলাদের মতো এত ছোট নয়, ফলে ধরে নেয়া যায় যে, মানব সমাজে নারীরা শতভাগ একগামী মনোভাবাপন্ন নয়
|
আবার শুক্রাশয়ের আকার পুরুষ শিম্পাঞ্জিদের শুক্রাশয়ের মতো এত বড় সড়ও নয় - ফলে আমরা এটাও বুঝতে পারি যে, মানব সমাজে নারীরা আবার শতভাগ নির্বিচারী বহুগামীও নয়
|
এখন প্রাইমেট হিসেবে মানুষের যৌনতার প্যাটার্ণ আপনাকে বলতে বললে কি বলবেন? এটা এত ডাইভার্স যে নির্ণয় করা সম্ভব নয় বলে ছেড়ে দেবেন, নাকি বলবেন যে মানব শুক্রাশয়ের আকার গরিলা আর শিম্পাঞ্জির মাঝামাঝি দেখে অনুমান করা যায় যে, মানুষের মধ্যে একগামিতা যেমন আছে তেমনি বহুগামিতার চর্চাও
|
বলবেন যে, প্রাইমেটের এই স্পিশিজটির অধিকাংশ সদস্যই 'বিবাহ নামক ইন্সটিটিউশনের' মনোগামিতার চর্চাকে বৈশিষ্ট হিসেবে জ্ঞাপন করলেও এর মধ্যে আবার অনেকেই সময় এবং সুযোগমত বহুগামী হয়, কাকোল্ড্রির চর্চা করে
|
অনেক ক্ষমতাবান পুরুষেরা (আকবর চেঙ্গিসখান প্রমুখ) আবার অধিক নারীর দখল নিতে গরিলাদের মতোই 'হারেম তৈরি' করে, কিন্তু বেশিরভাগই 'সিরিয়াল মনোগামি' অর্থাৎ, একই সময়ে কেবল একজন সঙ্গির সাথেই জীবন কাটায়
|
এই বায়োলজিকাল প্যাটার্ণ (তা যত ডাইভার্সই হোক না কেন) ডারউইনীয় দৃষ্টিকোন থেকে তুলে ধরলে সমস্যা কি? ইঁদুর, বাঘ, ছাগল, হরিণ, খরগোশ - সব প্রানীরই কিছু না কিছু প্যাটার্ণ আছে, সে প্যাটার্ণগুলো ডারউইনীয় লজিক প্রয়োগ করে নির্ণয় করা গেছে
|
মানুষেরটা যতই 'ডাইভার্স' হোক না কেন, সেটা বায়োলজির নিয়মের বাইরের কিছু নয়, যে বিবর্তনকে বাইরে রাখতে হবে
|
প্রতিটা এইরকম বিহেইভিয়ার একবার একবার করে মডুলারলি বিবর্তিত হয়েছের চেয়ে বিহেইভিয়ার নির্ধেশকারী অঙ্গটিই একক একটি মডিউল হিসেবে উদ্ভুত হয়েছে এইটাই কি মোস্ট পার্সিমোনিয়াস হাইপথেসিস না?
|
বুঝতে পারছি আপনার সমস্যাটা কোথায়
|
বিবর্তন মনোবিজ্ঞানীরা কিন্তু বলে না যে প্রতিটা বিহেইভিয়ার একবার একবার করে মডুলারলি বিবর্তিত হয়েছে
|
তারা একেকটা বিহেভিয়ারের বিবর্তন নিয়ে চিন্তিত নয়, বরং মানব সমাজের সামগ্রিক কিছু প্যাটার্ণ খোঁজার দিকেই লক্ষ্য থাকে তাদের
|
আপনি লিডা কসমাইডস আর জন টুবির ' : ' লেখাটা পড়ে নিতে পারেন - যেখানে প্রবন্দটির শেষের দিকে তারা স্পষ্ট করেছেন, বিবর্তন মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য হচ্ছে মুলতঃ ', ' খোঁজা, আপনার কথামতো প্রতিটা বিহেভিয়ারের আলাদা আলাদা অনুসন্ধান নয়
|
আর বিবর্তন মনোবিজ্ঞানীরা আপনার কথামত মস্তিস্ককেই মডুলার মনে করেন
|
তারা মানব মস্তিস্ককে মডুলার সুইস নাইফের সাথে তুলনা করেছেন এ নিয়ে সেই বিখ্যাত ছবিটা আমি আমার লেখাতেও ব্যবহার করেছি-
|
[]://.-.///_/_.[/]
|
যাহোক মোদ্দাকথা হল - তারা মস্তিস্ককে মডুলার বলেই মনে করেন
|
আদিম সমাজে বিভিন্ন এডাপ্টিভ সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে মস্তিষ্কের মডিউলগুলো ভিন্ন ভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়েছে, যেটার ছাপ পড়েছে আমাদের আচরণে
|
যেমন, একটা সময় মানুষ জঙ্গলে থাকত, খুব কষ্ট করে খাবার দাবার সংগ্রহ করতে হত
|
শর্করা এবং স্নেহজাতীয় খাবার এখনকার মত এত সহজলভ্য ছিলো না
|
শরীরকে কর্মক্ষম রাখার প্রয়োজনেই এ ধরণের খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিলো
|
আমরা এখনো অনেকেই মিষ্টি জাতীয় কিংবা তৈলাক্ত খাবারের প্রতি লালায়িত হয়ে উঠি, এমনকি সেটা দেহের জন্য ক্ষতিকর জেনেও
|
ঠিক একই কারণে আমাদের অনেকেই তেলাপোকা দেখলে এখনো আঁতকে উঠি, বাস ট্রামকে ভয় পাইনা, যদিও তেলাপোকা নয়, বাস চাপা পড়েই মানুষ মারা যায় ঢের বেশি
|
বাস ট্রাকের ব্যবহার খুব সাম্প্রতিক, মানেতিহাসের পথপরিক্রমায় সেটা বিন্দু সম- তার তুলনায় বনে -জঙ্গলে দীর্ঘদিন কাটানোর কারণে বিষধর কীটপতংগকে ভয় পাবার স্মৃতি আমরা নিজেদের অজান্তেই আমাদের মধ্যে করি
|
আসলে সঠিক খাবার নির্বাচন করে খাওয়া, প্রেডিটর এড়ানো, কার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে আর কাকে এড়িয়ে চলতে হবে, কিভাবে আশে পাশের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, আর সর্বোপরি কীভাবে সঠিক সঙ্গি বাছাই করতে হবে - সবগুলোই ছিলো কোন না কোন ভাবে এডাপ্টিভ সমস্যা
|
এই সমস্যাগুলো আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেভাবে সমাধান করে সফল হয়েছিল, তার ছাপ আমরা আমাদের মধ্যে দেখতে পাই
|
এটা কোন অবৈজ্ঞানিক ব্যাপার নয়
|
ঠিক একই রকমভাবে পরকীয়া, কোকিলাচরণ ইত্যাদিও ছিলো বিবর্তনের যাত্রাপথে একধরনের 'এডাপ্টিভ' সমস্যা, যেটা নারী পুরুষ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সমাধান করেছে ইতিহাসের যাত্রাপথে, নিজ সঙ্গিকে ধরে রাখার প্রয়োজনে
|
তাই সেক্সুয়াল জেলাসির রকমফেরও নারী পুরুষভেদে ভিন্ন হতেই পারে
|
নারী পুরুষের মডুলার মস্তিস্ক তো অনেক কিছুতেই ভিন্ন
|
যেমন, ছেলেদের ব্রেনের আকার গড়পরতা মেয়েদের মস্তিস্কের চেয়ে অন্ততঃ ১০০ গ্রাম বড় হয়,কিন্তু ওদিকে মেয়েদের ব্রেন ছেলেদের চেয়ে অনেক ঘন থাকে
|
মেয়েদের মস্তিস্কে কর্পাস ক্যালোসাম এবং এন্টেরিয়র কমিসুর নামক প্রত্যঙ্গ সহ টেম্পোরাল কর্টেক্সের যে এলাকাগুলো ভাষা এবং বাচনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়, মেয়েদের ক্ষেত্রে সেগুলো ছেলেদের চেয়ে অন্ততঃ ২৯ ভাগ বিবর্ধিত থাকে
|
শুধু তাই নয়, মেয়েদের মস্তিস্কে রক্তসঞ্চালনের হার ছেলেদের ব্রেনের চেয়ে শতকরা ১৫ ভাগ বেশি থাকে
|
সেগুলোর কোন প্রভাব কি আচরণে পড়েনি? পড়েছে যে সেটা আপনিও জানেন
|
যে কোন অভিভাবককে জিজ্ঞাসা করলেই দেখবেন, তারা সবাই লক্ষ্য করেছেন, মেয়ে শিশুরা ছেলে শিশুদের চেয়ে অনেক আগে কথা বলা শিখে যায় - একই রকম পরিবেশ দেয়া সত্ত্বেও
|
ছেলেদের বাচনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রগুলো গড়পড়তা মেয়েদের মত উন্নত না হওয়ায় ডাক্তাররা লক্ষ্য করেন পরিণত বয়সে ছেলেরা সেরিব্রাল পালসি, ডাইলেক্সিয়া, অটিজম এবং মনোযোগ-স্বল্পতা সহ বিভিন্ন মানসিক রোগে বেশি আক্রান্ত হয়
|
এগুলো বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা থেকেই বেরিয়ে এসেছে
|
কাজেই যেটা বলতে চাইছি 'এডাপ্টিভ' সমস্যা সমাধানের জন্য যে কৌশলগুলো আশ্রয় নিতে হয়েছে সেগুলোর ছাপ থাকবেই শরীরে মন মানসিকতায়
|
এটা অস্বীকার করতে চাইলেও যাবে কি? যেমন আমরা সবাই জানি - মনোগমাস স্পিশিজে নারী পুরুষের আকার আয়তন সমান হয়, অনেক সময় পার্থক্য করাই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়
|
যেমন পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে
|
নারী পেঙ্গুইন আর পুরুষ পেঙ্গুইনের আকার একেবারে সমান সমান
|
কিন্তু যে সমস্ত স্পিশিজে পুরুষে পুরুষে প্রতিযোগিতা হয় নারীর দখল নেবার জন্য সেখানে পুরুষের দৈহিক আকার নারীর চেয়ে বড় হয় (গরিলা, ডলফিন ইত্যাদি দেখুন)
|
এখন মানব সমাজের দিকে তাকালে আমরা কি দেখি? পুরুষদের দৈহিক আকার মেয়েদের চেয়ে বেশি হওয়া, শক্তিমত্তা এবং আপার বডি ম্যাস - সব কিছুই প্রমাণ করে বিবর্তনীয় পথ পরিক্রমমায় সম্ভবতঃ খুব ভায়োলেন্ট পুরুষ -পুরুষ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে
|
এ ব্যাপারগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করাটা নিশ্চয় অপবিজ্ঞান হবে না
|
আরো একটা জিনিস বার বার বলছি, সোশিওবায়োলজির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এডওয়ার্ড ও উইলসনের মত পৃথিবী বিখ্যাত প্রানীবিজ্ঞানী, তারই উত্তরসূরী শাখা হচ্ছে বিবর্তন মনোবিজ্ঞান, যার প্রতিষ্ঠাতা এবং চর্চাকারীদের মধ্যে হার্ডকোর বায়োলজিস্টরাই অগ্রগন্য, হোমিওপ্যাথির ডাক্তাররা নন
|
তারা সব একজোট হয়ে অপবিজ্ঞান ছড়ানোর জন্য এমন একটি শাখা তৈরি করেছেন এটা বলা বা ইঙ্গিত করা কোন কাজের কথা নয়
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.