content
stringlengths
0
129k
আজকের বিষয়ঃ অর্থনীতি
সাইকেলকে সবাই "পরিবেশবান্ধব" বলে ঠিকাছে কিন্তু নিজে বাঁচলে তারপর তো পরিবেশ, জোরে বলেন, সত্যি বলছি, নাকি?
ইউরো এক্সিম ব্যাঙ্ক লিমিটেডের সিইও সঞ্জয় ঠাক্কার বলেছেন, একটা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিতে এক সাইকেলই যথেষ্ঠ
গাড়ি কেনে না বলে গাড়ির লোনও নেয় না, গাড়ির বীমাও করায় না, না আছে তেলের খরচ না গাড়ি সার্ভিসিং কিংবা মেরামতের খরচ
আর পার্কিং এর পয়সা তো অনেক দূরের কথা
আপনি বলবেন, সাইকেল চালালে স্বাস্থ্য ভাল থাকে, বিশ্বের জলবায়ুর জন্যেও ভাল! তাই? কি করে?
অর্থনীতিতে ভাল স্বাস্থ্যের লোকের কোন প্রয়োজন তো নেই
না তারা ধূমপাণ করে না ড্রাগ ব্যবহার করে
ডাক্তারের ও দরকার হয় না, হাসপাতালেও যায় না
জিডিপিতে তাদের কোন অবদান আছে? না, নেই
অথচ প্রতিটি ম্যাকডোনান্ড রেস্টুরেন্ট তাদের নিজস্ব কর্মচারী বাদেই আরও অন্তত ত্রিশটি চাকুরীর ব্যবস্থা করে, দশ জন কার্ডিওলোজিস্ট, দশ জন দাঁতের ডাক্তার, দশ জন জিম ট্রেইনার
আপনি নিজেই ভাবেন, সাইকেল চালাবেন না ম্যাকডোনাল্ড যাবেন --- বুদ্ধিমান হন - ঠিক রাস্তাটি বাছুন
জোক্স আপার্টঃ সঞ্জয় ঠাক্কার ডাচ অর্থনীতি সম্পর্কে কিছুই জানে না
সাইকেল সম্বন্ধেও না
সাইকেলের দাম তিনশো ইউরো থেকে তিন হাজার ইউরোর ওপরে যায়
কত রকম সাইকেল তৈরীর কারখানা আছে, সাইকেল রিপায়েরের দোকান আছে, জাপান - চীনের সাথে সাইকেল তৈরীর কোলাবোরেশান আছে
সাইকেল এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চহারে বীমাও আছে
এখানে সাইকেল রাখতে গেলেও অনেক জায়গায় পয়সা দিতে হয়
এছাড়া আছে সাইকেল নিয়ে এক্সেসারিজের দোকান
সাইকেলের গায়ে ফিট হবে সেরকম পানির বোতল, মাথায় পরার হেলমেট, সাইক্লিং করার জার্সি, জুতো কত কি
প্রতি বছর কত সাইক্লিং টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়
"ট্যুর দ্যা ফ্রান্স" নিয়ে কত মিলিয়ন ইউরোর বাজি খেলা হয়, তা যদি জানতে ঠাক্কার
এসব টুনার্মেন্টে কত ক্যাফে-রেস্টুরেন্ট কত হাজার ইউরোর ব্যবসা করে
কত হাজার লিটার শুধু বিয়ারই বিক্রি হয়
চল্লিশ-পঞ্চাশ কিলোমিটার সাইকেল করলে কে আর দুটো চিজ বার্গার কিংবা বিগ ম্যাক খেতে ভাবে! সাইকেল মেইনটেইনে খরচ কম বলে অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ অনেক বেশী
গাড়ির মত বেশি না হলেও সাইকেল চালাতেও খরচ হয়
জেনারেলাইজ করার আগে জানার পরিধি আরও বাড়াও ঠাক্কারজী
সূত্রঃ জোক হোয়াটসএপ, বাকি ব্যবচ্ছেদ আমার
তানবীরা 16:22 :
উইম্যান্স ডে
যারা যারা আমাকে "উইমেন্স ডে" নিয়ে লিখতে বলেছিলেন কিন্তু নানা কারণে লেখা হয়ে ওঠেনি তাদের জন্যে, আমার বন্ধুদের জন্যে আজকের এই লেখাঃ
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, মেয়ের সাথে খিটমিট করা, বিছানাপত্তর ঝাড়া, নাস্তা-লাঞ্চ ঠিক করা, মেয়েকে স্কুলে পাঠানো, নিজে অফিস যাওয়া, অফিস থেকে ফিরে রান্না করা, ডিনার সার্ভ করা, বাড়িঘর গোছানো, আমার রোজ " মাই ডে কাম উইমেন্স ডে"
এটা সাতই মার্চ যেমন থাকে, আটই মার্চও তেমনই থাকে এমনকি নয়ই মার্চেও এতে কোন পার্থক্য আসে না
মার্চ হয়ে জুলাই থেকে অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বর কোনো কোয়ার্টারেও কোন আলাদা কিছু নেই
সর্দি-কাশি, জ্বরেও নেই
প্রতিদিনই আমার দিন
এমনিতে প্রতিদিনই আমি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জামা-কাপড় পরি, চুল আঁচড়াই, নিজের পছন্দের ক্রীম-পার্ফিউম মাখি
প্রতিনিয়ত নেল পলিশ করি, কানের দুল, আংটি, চুড়ি চেঞ্জ করে পরি
নিজের যত্ন নেয়ার জন্যেও আলাদা কোন দিবস টিবসের অপেক্ষা করি না
বাঙালি মেয়েদের পড়াশোনার ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি, সেটাকে নারী জাগরণের শুরু বলে ধরে নেই
সেটা সত্যিও বটে
মেয়েদের পড়াশোনার সাথে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারও জড়িত ছিলো
তখন বাঙালি মেয়েদের শোভনীয় ভাবে ঘরের বাইরে বের হবার কোন পোষাক ছিলো না
ব্রাক্ষ্ম সভায় কিংবা স্কুলে যেতে নানা ধরনের পোষাক মেয়েরা নিজেরা ভেবে বের করে নিতো, শাড়ির ওপর বিরাট চাদর জড়ানো কিংবা বিরাট একটি জামার সাথে শাড়ির মিল দেয়ার চেষ্টা যা নিয়ে তখন যারা নারী জাগরণের বিপক্ষে ছিলেন তারা নিজেদের পত্রিকায় বিভিন্ন উপহাসমূলক লেখা বের করতেন, বিবিবাবু ইত্যাদি নাম দিতেন
মর্হষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় ছেলের বউ জ্ঞানদানন্দিনী ঠাকুর, শাড়ির সাথে ব্লাউজ, পেটিকোট মিলিয়ে আজকের এই শাড়ি পরার শোভন পদ্ধতি্টি আবিস্কার করেন তাও বিলাত-মুম্বাই ঘুরে
অনেকদিনের অনেকজনের চিন্তা ভাবনার ফসল আজকের এই শাড়ি পরার স্টাইল
শোভনীয় এবং খানিকটা সামাজিকভাবে গ্রাহ্য জামা কাপড় না থাকলে মেয়েরা বাইরে যেয়ে কাজ শুরু করবে কিভাবে!
পশ্চিমের মেয়েরাই কি বরাবর এ ধরনের পোষাক পরতেন? তাদের পোষাক কি বাইরে বের হয়ে কাজ করার মত স্বাধীন ছিলো? আজকে যে বিখ্যাত "শ্যানেল" ব্র্যান্ড আমরা ব্যবহার করি তার উদ্যোক্তা ফ্রেঞ্চ ডিজাইনার কোকো শ্যানেল উনিশো কুড়ি সালে আবার মেয়েদের কাপড়ের ডিজাইনে পকেট সিস্টেম ফিরিয়ে আনাতে বেশ সমালোচিত হয়ে বলেছিলেন, মেয়েদের উচিত এখন বাস্তববাদী হওয়া, স্বপ্নের প্রিন্স চার্মিং খোঁজা বন্ধ করে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী/প্রিন্সেস চার্মিং করে গড়ে তোলা
আমার মতো আরও যারা আছেন, যাদের আনলিমিটেড এক্সপেন্ডিচার ক্রেডিট কার্ড হোল্ডার কোনো প্রিন্স চার্মিয়ের সাথে এখনো দেখা হয় নি, নিজের মত বাঁচেন, যার যার অক্ষি পথে নিজের নিজের প্রিন্সেস চার্মিং হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছেন তাদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা
যারা অবৈতনিক ক্লিশে ঘর-সংসার রোজ টেনে যাচ্ছেন তাদের লাল সালাম
তবে এই শুভেচ্ছা, অভিনন্দন আর সালাম আটই মার্চের জন্যে নয়, সংগ্রাম যেমন প্রতিটি দিনের, প্রতিটি মুহূর্তের, অভিবাদন ও তাই প্রতিটি ন্যানো, মাইক্রো সেকেন্ডের
লেটস সেলিব্রেট ইচ ডে এজ মাই ডে অর উইম্যান্স ডে
তানবীরা 16:21 :
মেঘের প্রথম ইন্টার্নী
ছোট্ট মেঘমালা অনেক দুষ্টমিষ্টি ছিলো
স্কুল থেকে ফিরে সারা বাড়ি ছুটোছুটি করতো
দুধ খেতে চাইতো না
কিন্তু মেঘমালার মা, মেঘের চেয়ে এক কাঠি আরও বেশি দুষ্ট ছিলো
ভেবে ভেবে এমন জায়গা বাসায় খুঁজে বের করলো, যেখানে বসে মেঘমালা বেশি নড়াচড়া করতে পারবে না
দুধ শেষ করবে তারপর উঠবে
দুধের গ্লাস হাতে নিয়ে মেঘমালা জানালা দিয়ে আকাশের েদিকে তাকিয়ে যথারীতি গভীর ভাবনায় ডুবে যেতো
নানা দার্শনিক ভাবনায় ডুবে থেকে মেঘমালা যথারীতি, দুধ ঠান্ডা করে বসে থাকতো
মেঘের মা এসে মেঘকে দুধ শেষ করার তাগাদা দিলে শুরু হতো নানা দার্শনিক গল্প
মামি জানো, এক এক দিন, এক এক গল্প
একদিন মা তাড়া দিলো, এখনো দুধ শেষ করো নি, তাড়াতাড়ি শেষ করো, দুধ না খেলে বড় হবে কি করে?
দুঃখী মেঘমালা করুণ গলায় বললো, মামি জানো , বড় হওয়া অনেক কষ্টের ব্যাপার
অনন্ত কৌতুহলী মামি জিজ্ঞেস করলো, কেন!
চার বছরের দুঃখী মেঘু বললো, রোজ ভোরে ঘুম থেকে উঠে অফিস যেতে হবে, সারাজীবন
তাহলে জীবনে আনন্দ বলতে আর কি থাকলো, বলো?
মেঘকে ঘুম থেকে জাগানো আর পাহাড় চড়া এক কথা
এই আনপ্লেজেন্ট দায়িত্ব প্রতি সপ্তাহে মা থেকে বাবা, আর বাবা থেকে মায়ে'তে শিফট হতে থাকে
নিরুপায় মা হুমকিও দেয় মাঝে মাঝে, তোকে পুলিশে দিয়ে দেবো, দেখি তখন কি করে বেলা আটটা অব্ধি ঘুমাস
সেই মেঘমালা নিজের মোবাইলে এলার্ম দিয়ে ভোরে উঠছে, গলায় কোম্পানীর ব্যাজ ঝুলিয়ে, নিজের হাতে লাঞ্চ বানিয়ে নিয়ে, মা'কে বিছানায় রেখেই অন্ধকার সকালে বাসের পেছনে ছুটছে
তাকে "ইন্টার্নি" করতে হচ্ছে, সাড়ে আটটায় ম্যানেজারের সামনে উপস্থিত থাকতে হয়, নোট নিতে হয় সারাদিনের কাজের
ডিয়ার ডিয়ারেস্ট আমার হরিণ ছানা মেঘমালা, তুমি বড় হয়ে যাওয়াতে তুমি যেমন দুঃখী, মা'ও ঠিক ততটাই দুঃখী
বড় হলে মায়েদের কোল ঘেষে থাকা হরিণ ছানাগুলো হারিয়ে যায়, ছোট ছোট দু'হাত দিয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে, সেই আধো বাধো শব্দে "মামি জানো" এর জায়গায় সেই ছোট হাতে আসে মোবাইল, তার সেই ছোট বিস্ময়কর পৃথিবীর স্বর্গীয় সব নতুন নতুন জিনিস আবিস্কারের ঘটনা গুলো তখন ট্রান্সফার হতে থাকে হোয়াটসএপ, স্ন্যাপচ্যাট, ইন্সটাগ্রামের বন্ধুদের কাছে, হরিণ ছানারা ছোট পৃথিবী থেকে পা দেয় বড় পৃথিবীতে
আর যেই মা হরিণ ছানার জন্যে বড়
পৃথিবী ত্যাগ করে নিজেকে বন্দী করে ফেলেছিলো ছোট পৃথিবীতে, সে পরে রয় একা ঘরের কোণে
কিন্তু দু'সপ্তাহের জন্যে হলেও সকালে ওঠা নিয়ে তুমি ঢিট হয়েছো, এটা মন্দ না
তানবীরা 16:17 :
, 5 2020
ওয়াজের একাল - সেকাল
আর দশটা সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি ঘরের মেয়ের মত, আমিও নসিহত শুনে শুনেই বড় হয়েছি
এটা করলে মানুষ কি বলবে, ঐটা করা ধর্মে নিষেধ, আমাদের বংশের মেয়েরা এগুলো করে না আর তারমধ্যে সবচেয়ে নসিহত দ্যা গ্রেট ছিলো, এসব করলে তোর বিয়ে হবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি
তাই পাকনা কাল থেকেই নসিহত ব্যাপারটার প্রতি চরম একটা বিতৃষ্ণা আরও অনেক ফাজিল মেয়ের মত আমারও ছিলো, এখনও আছে
লাইভ ওয়াজ শুনতে যাওয়ার ভাগ্য হয় নাই
হুজুররা শুনলে অবশ্য বলবে, বাম্ববার লাইভ কনসার্টে যেয়ে তো নাচতে পারছো টি-এস-সির মাঠে, পারো নাই শুধু আমাদের ভাল ভাল কথা শুনতে আসতে
তবে, নেভার দ্যা লেস, প্রতি শুক্রবার লাইভ খুতবা শুনেছি, মসজিদের মাইক দিয়ে দিকে দিকে খুতবা ছড়িয়ে দেয়া হতো
আর কোথাও মিলাদে গেলে আসল মিলাদের আগে হুজুদের বয়ান কিংবা নসিহত
তখনের বিষয় ছিলো, না খেতে পাওয়া মা ফাতেমা, মা আমেনা, বুররাকে চড়ে সাত আসমানে যাওয়া আর অবধারিত ভাবে জাহান্নামী নারীদের হাই হিল, ভ্যানিটি ব্যাগ আর নাভির নীচে শাড়ি
এই বিষয়ের মধ্যেই ঘুরপাক খেতো
মা ফাতেমা'র না খেতে পাওয়ার কাহিনী বর্ননার সময় হুজুররা কিরকম আহাজারি করে কাঁদতো, শ্রোতামন্ডলীর অনেকেও শুনতে শুনতে জোরে জোরে আকুল কান্নায় ভেঙে পরতো, আমি আত্মগ্লানিতে ভুগতে থাকতাম, অজানা অচেনাদের জন্যে কান্নাকাটি করার মত মন কিছুতেই নরম হতো না, সামনেই কত অনাহারী দেখেছি এবং জেনে গেছি সেসব আমার ব্যাপার না
র‍্যাদার মন উচাটান থাকতো সদ্য গরু কেটে রান্না করা সুগন্ধি ছড়ানো তেহারী কখন খেতে পাবো সেই আশায়
আমি অত্যন্ত মুগ্ধ বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি, বিশ্বায়নের যুগে ওয়াজ শিল্প ও পিছিয়ে নেই
হুজুররা বুঝে গেছে পাঁচশো সত্তর খ্রীস্টাব্দ নিয়ে এখন আর মানবজাতি বদার্ড না
মা ফাতেমা, মা আমেনা আর বুররাক দিয়ে বানিজ্য হবে না
বাংলাদেশের বাংলা সিনেমার গল্প আর প্রযুক্তি থেকে হুজুরদের চিন্তাধারা আধুনিক ও উন্নত
তারা তাদের শিল্পকে নবায়ন করেছেন আজকের প্রেক্ষাপটে
আজকের ওয়াজের বিষয়, মেয়েদের জীন্স, ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফেসবুক, ভাইরাল, ইউটিউব, বেলগ্রেড এমনকি করোনা ভাইরাস
এভাবে চললে তো আরিফ জেবতিক ভাইয়ের ফেবু ক্যারিয়ার প্রায় হুমকির মুখে