content stringlengths 0 129k |
|---|
তো, মেইন ইঞ্জিনিয়ার একবার পালায়া গিয়া তার বউয়ের লগে দেখা করে |
তখন ইঞ্জিনিয়াররে খুন করা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় তো থাকে না! এইরকম একটা ব্যাকগ্রাউন্ড |
বউয়ের লগে লাস্টবার ফোনে কথা বলার পরে খুব নরমালি ইঞ্জিনিয়ারটা হাঁটতে থাকে, আর তারে পিছন থিকা মার্ক গুলিটা করে |
৩:৪৭ থিকা ৪:০৩ পর্যন্ত ফ্রেমটা |
ভ্যান গঁগের স্টেরি নাইটসের কথা মনে হইছে আমার |
ইঞ্জিনিয়ারটা বলেও, নিউ মেক্সিকোতে এতো বেশি তারা দেখা যায়! আমি আরেকটু ভালো কইরা দেখি! |
ভিডিও'টার কোয়ালিটি'টা ভালো না |
স্পষ্টভাবে বুঝা যায় না এইখানে |
কিন্তু খুবই পোয়েটিক ফ্রেমটা |
গ্রিক ট্রাজেডি কেন ভালো - এইটা মনে হইতেছিল, কারণ এইখানে নিয়তি অনেক পাওয়ারফুল |
এইখানেও একটা 'নিয়তি' সিচুয়েশন ক্রিয়েট করা হইছে |
ইঞ্জিনিয়ার যখন ভুলটা কইরা ফেলছে, এইটারে তো আন-ডু করার বা মাফ করার আর কোন উপায় নাই! তাইলে পুরা বিজনেসটাই রিস্কে পইড়া যাবে, এর সাথে রিলেটেড সবার, সবকিছু |
এই কারণে রিস্ক তো নেয়া যাবে না, ইঞ্জিনিয়ারের মরাই লাগবে |
এইটা ইঞ্জিনিয়ারও নিয়তি হিসাবে মাইনা নেয় |
তো, খালি ফ্রেমটা, এর ভিতরে যে নিয়তির ট্রাজেডি, এইটাই মেলানকলিক কইরা তোলে আসলে |
তো, এই জায়গাতে আমার একটা কথাও আছে |
এইটা আম্রিকান সিরিজগুলাতে এতোটা পোয়েটিকভাবে না থাকলেও রিভেঞ্জের জায়গা থিকা নানাভাবে আছে, বা থাকে |
যে, যে খুন করতেছে, সে তো আসলে খুন করতে চায় না, বাধ্য হয়া করতেছে! যে মারা যাইতেছে, সেও অনেকসময় বুঝে যে, তার মারা যাওয়া ছাড়া কোন পথ নাই, এটলিস্ট না-বুঝলেও এইভাবে কাহিনিতে দেখায় |
এইটা খুবই প্রব্লেমেটিক |
কেউ একজনরে আপনি হেইট করেন; এখন হেইট করার লাইগা তারে যেমন 'খারাপ মানুশ' বানাইতে হয়, এইরকম খুন করার আগে, খুনটারে নিয়তি বইলা ভাবতে পারতে হয় |
এর ভিতর দিয়া খুন করাটারেই জায়েজ করা হয় না খালি, গ্লোরিফাইও করা হয় আসলে |
এইটা খুব প্যারাডক্সিক্যাল লাগতে পারে যে, কাহিনিটারে বা এর এসেন্সটারে আমি সার্পোট করতেছি না, কিন্তু সিন'টারে আমি এপ্রিশিয়েট করতে পারতেছি; কেমনে? আমার ধারণা, এইটা হইতে পারতেছে এসথেটিকস ও এথিকসরে আলাদা করতে পারার ভিতর দিয়া; যদিও এতোটা আলাদা আলাদা না ঘটনাগুলা |
যখন আমি এসথেটিক্যালি জিনিসটারে সুন্দর বলতেছি, তখন এর এথিকসটার প্রতিও সার্পোট থাকে তো কিছুটা; মানে, আমি মনে করি, নিয়তি বইলা একটা জিনিস আছে, এবং লাইফের সার্টেন ঘটনা, আমরা বুঝতে পারি বা না-পারি, আমাদের নিয়তি হিসাবে হাজির হইতে পারে |
এইটুক এথিক্যাল সার্পোট আমার এইখানে আছে |
কিন্তু একইসাথে আমি মনে করি, এই 'নিয়তি' জিনিসটারে রিভেঞ্জের কাঁচামাল হিসাবে ইউজ করা যায় না |
মার্ক এবং ওয়েগনার দুইজনই, এই রিভেঞ্জের জায়গাটারে যতটুক এড়াইতে পারছেন, ততটুকই এই সিনটারে সুন্দর কইরা তোলছে আসলে |
→ |
: |
25 নভে. 2021 |
ওয়াহিদ সুজন |
একদিনের সিলেট ভ্রমণে যা যা ঘটে |
ঢাকাদক্ষিণ (ডিএসসিসি না) বলে একটা জায়গায় গেছিলাম রবিবার (২১ নভেম্বর) সকাল সকাল |
হুমায়ূন রশীদ চত্ত্বরে ফজরের আযানের সময় বাস থেকে নামি |
এরপর বার দু-এক এদিক-ওদিক চক্করের পর যখন সিলেট থেকে গোলাপগঞ্জের অভিমুখে ছুটছিলাম, বাসে |
দু'পাশের হলুদ ধানের ক্ষেত, বন-বাদড় টাইপের কিছু জায়গা আর জলাভূমির মধ্যে কুয়াশার ভেসে থাকা দেখে, ভাবতেছিলাম, 'তাইলে আমরা কেন নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে যাই' |
অচেনাদের চোখে আমাদের এলাকাগুলা অপূর্ব সুন্দর বা ছেড়ে যাওয়ার মতো না |
এর উত্তর অবশ্য আমার কাছে নাই |
যেহেতু আমার স্মৃতিতে তেমন কিছু বরাদ্দ নাই |
আমি যেখানে যাইতে চাই সেখানে আসলে আমার কিছু নাই! |
ঢাকাদক্ষিণরে শ্রী চৈতন্যের পূর্বপুরুষের এলাকা বইলা জানছিলাম |
গুগলে ঘেঁটে দেখলাম, সেখানে কোনো বাড়ি বা মন্দির আছে |
গোলাপগঞ্জ যখন সাতটা নাগাদ নামি, কোনো জনমানব নাই, ছেড়ে যাওয়া বাসের দূর থেকে দূর যাওয়ার চিহ্ন ও তিনটা সিএনজি ছাড়া |
ফলত অপেক্ষার তিক্ত স্বাদ এড়াইতে দুবার সিএনজি পাল্টানোর জায়গায় একবারে একা একাই বাড়তি ভাড়া দিয়ে সওয়ার হইলাম |
পথ যত আগাইছে আমার কাছে ভালো লাগতেছিল বেশি বেশি |
দু'পাশে কখনো টিলা, ক্ষেত-খামার |
মাঝে মাঝে মনে হইতেছিল কোনো বনের চলে আসছি |
দু'বার নদী মানে ব্রিজ পার হইলাম |
ঠান্ডা বাতাসের উল্টো দিকে তার কাছাকাছি বেগে আগাইতে আগাইতে খানিকটা বিব্রতবোধ করলাম, হঠাৎ-ই |
একটা আঁশটে-গেছো গন্ধ চারপাশে |
মাফলার ঠিকঠাক করতে করতে নিজের শরীর চেক করলাম, ভালো করে |
তারপর সিএনজি'র চালকের দিকে তাকালাম |
ওনার দৃষ্টি পথের দিকে |
এরপর মনে হইলো, আচ্ছা এটা তো ফুলের গন্ধ |
গুগল ঘেটে দেখলাম, শরত-হেমন্ত ছাতিম ফোটার সময় |
ছাতিমের গন্ধের সঙ্গে আমার পরিচয় কয়েক বছর আগে |
দোয়েল চত্বর থেকে রিকশায় করে গুলিস্তানের দিকে যাইতেছিলাম |
হঠাৎ সঙ্গে থাকা বন্ধুটি চিৎকার দিয়ে উঠছে |
'ছাতিম ফুটছে' |
গন্ধটা ফুলের হতে পারে আমার বিশ্বাস হয় নাই |
পরে শুনি এ ফুল নিয়ে নাকি রবিঠাকুরের কবিতাও আছে! |
শ্রী চৈতন্যের বাড়ি খোঁজার আগেই ঢাকাদক্ষিণ পার করে আসি বোধহয় |
এরপর কুশিয়ারা নদী পার হয়ে গন্তব্য |
যেহেতু সকাল সকাল |
জাস্ট হাত-মুখ ধুয়ে ঘুম দিই |
গেছিলাম বিয়েতে |
বর আমার বন্ধু, পুত্রসম |
ঘণ্টা দু-এক ঘুমানোর পর গোসল দিয়ে নদীর পারে গেলাম |
শান্ত জল, স্রোত নাই, কুলে দু-একটা নৌকা মাঝিহীন |
কিন্তু কড়া রোদ |
গরমে বেশিরক্ষণ থাকার উপায় ছিল না |
ছায়ায় ছায়ায় হেঁটে বাসায় ফিরলাম |
এরপর আবার সিলেট শহরে আইসা হাল বাংলার বেশির ভাগ বিয়ের মতো ফটোশুট দেখতে দেখতে সময় কাটলো |
যেহেতু বিয়ে শাদীতে খুব একটা যাওয়া হয় না, নতুন দেখলাম মাথার ওপর ড্রোন উড়ছে |
ভিডিও করছে আরকি! বর-কনে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলছে, ফেইক লজ্জার ভান করছে |
নির্দেশনা দিচ্ছে ফটোগ্রাফার |
খাইলাম, মোটামুটি যা যা থাকে হাল আমলের এজমালি মেন্যুতে, সুস্বাদু |
বিদায় নিয়ে চা খাইতে এক ছোটভাইয়ের অফিসে গেলাম |
ততক্ষণ মৌলভীবাজারে যাওয়ার একটা প্ল্যান হয়ে গেছে মেসেঞ্জারে |
পিত্তথলির সার্জারি দেখাবে ডাক্তার বন্ধু |
এ জিনিস দেখার ওপর আমার একটা হক্ব তৈয়ার হইছে ইতিমধ্যে (প্রায় দুই বছর এ সমস্যায় আমি ভুগছি) |
ছোট ওই ভাইয়ের অফিস মানে ব্যাংকে এক লিটল ম্যাগিয়ানের (?) লগে পরিচয় |
উনি ফরহাদ মজহার নিয়ে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করলেন |
একটা পজিটিভ ভাইব দেখলাম ওনার মাঝে |
কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হইলো, সিরিয়াস কোনো ব্যাপারে না যদিও |
এই ফাঁকে কলেজের সহপাঠী ফোন দিল |
ফেইসবুক মারফত আমার সিলেট আগমন তার জানা হইছে |
১৪ বছর দেখা হইলো, প্রায় |
যাইয়া দেখি, সে একটা ব্যাংকের ম্যানেজার |
এক অসহায় নারী লোন মোটামুটি পরিশোধ করছে, সামান্য কিছুর জন্য ক্লোজ করতে পারছে না |
ও ভদ্রমহিলাকে খানিকটা হেল্প করলেন |
এভাবে নিয়মিত হেল্প করে কিনা জানি না, ওই নারী খুবই কৃতজ্ঞতা জানালেন |
বললেন, এই টাকা উনি অবশ্যই সুবিধামতো সময়ে দিয়ে যাবেন, এ উপকার কখনোই ভুলবেন না |
সঙ্গে ছিল কলেজ পড়ুয়া ছেলে |
সে নিশ্চয় মায়ের স্ট্রাগল থেকে জীবন কী বুঝতে পারছে |
বন্ধুর সঙ্গ খুবই ভালো লাগলো |
যদিও আমাদের তেমন কোনো স্মৃতি নাই আগের দিনের, তারপর মনে হলো, দারুণ একটা স্মৃতি হলো এবার |
এটা আমি কখনো ভুলবো না |
একজন ভালো মানুষরে মনে রাখা ও কৃতজ্ঞ হবার জন্য এটাই যথেষ্ট |
অবশ্য এ ঘটনা নিয়া আমি কিছুই জিজ্ঞাসা করি নাই |
ব্যাপারটার যে নিজস্ব মহিমা, তা অটুট থাকুক |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.