content
stringlengths
0
129k
সুরা ফুরকান, ২৫:৫৫
কোরানে বলছে আল্লাহ ছাড়া ভাল মন্দ করার ক্ষমতা আর কারে নেই
অথচ একই সাথে মোহাম্মদ বলছে কাল পাথরের পাপ মোচন করার ক্ষমতা বিদ্যমান
যা শিরক ছাড়া আর কিছু নয়
অর্থাৎ মোহাম্মদ সুকৌশলে তার অনুসারীদেরকে এক আল্লাহর উপাসনার কথা বলে একই সাথে শিরক শিক্ষা দিচ্ছেন যা তার অন্ধবিশ্বাসী অনুসারীরা বুঝতে পারছে না
তবে এটা কিন্তু মোহাম্মদের এক কঠিন ও বুদ্ধিমান অনুসারী বুঝতে পেরেছিল যার নাম ওমর , ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আর তাই সে বলেছিল -
আবিস বিন রাবিয়া বর্নিত- ওমর কাল পাথরের নিকট আসলেন এবং একে চুমু দিলেন, তারপর বললেন-আমি জানি তুমি একটা পাথর বৈ আর কিছু নও, তুমি কারও উপকারও করতে পার না , অপকারও করতে পার না
আমি যদি রাসুলুল্লাহকে না দেখতাম তোমাকে চুমু খেতে আমি তোমাকে চুমু খেতাম না
বুখারী, বই-২৬, হাদিস-৬৬৭
যায়েদ বিন আসলাম বর্নিত- ওমর বিন খাত্তাব কাল পাথরকে উদ্দেশ্য করে বললেন- আল্লাহর কসম, আমি জানি তুমি একটা পাথর ছাড়া আর কিছু নও, তুমি না পার কারো উপকার করতে, না অপকার
নবীকে যদি আমি না দেখতাম তোমাকে চুমু খেতে আমি তোমাকে কখনও স্পর্শ করতাম না
বুখারী, বই-২৬, হাদিস-৬৭৫
সোয়াইদ বিন ঘাফালা বর্ণিত: আমি ওমরকে কাল পাথরকে চুমু দিতে ও হাত বুলাতে দেখেছি এবং বলতে শুনেছি এরকম- আমি দেখেছি আল্লাহর নবীর তোমার জন্য অনেক ভালবাসা ছিল
সহি মুসলিম, বই-৭,হাদিস-২৯১৬
তার অর্থ এ কাল পাথর যেন তেন পাথর নয়, খোদ বেহেস্ত থেকে পথ ভুলে পৃথিবীতে টুপ করে এসে পড়েছে
আর এ পাথরের আছে পাপ মোচনে ক্ষমতা যা খোদ স্বয়ং নবীও মনে করতেন
তাহলে বিষয়টি দাড়াল, মোহাম্মদের আল্লাহ ছাড়াও একটা কাল পাথরেরও পাপ মোচনের ক্ষমতা বিদ্যমান
ঠিক একারনেই নিজেদের সীমাহীন পাপ মোচনের জন্য হজ্জের সময় হাজীরা এ কাল পাথরকে চুমু বা নিদেন পক্ষে একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্য উন্মাদ হয়ে যায়, এটাকে স্পর্শ করতে যেয়ে এ পর্যন্ত কত মানুষ মানুষের পায়ের নীচে চাপা পড়ে মারা গেছে তার কোন সঠিক হদিস নেই
আর বলা বাহুল্য, মোহাম্মদের কাল পাথরকে এভাবে পাপ মোচনকারী হিসাবে প্রচার করাটা মারাত্মক শিরক
বলতে গেলে তা অন্যান্য ধর্মের চেয়ে বেশী শিরক
অন্য ধর্ম যেমন- হিন্দুরা দেব দেবীর মূর্তি তৈরী করে পূজো করে, আপাত দেখতে মনে হয় মূর্তি বা জড় পদার্থের পূজা , কিন্তু আসলে ওরা মূর্তি পূজা করে না, ওরা ওদের জীবন্ত দেব দেবীকে মূর্তির মধ্যে কল্পনা করে তার পূজা করে
বিভিন্ন দেব দেবীকে তারা আলাদা আলাদা ঈশ্বরও ভাবে না, প্রতিটি দেব দেবীকে তারা মনে করে তাদের এক ঈশ্বরের এক একটি গুণের প্রতিরূপ
যেমন যে ধণের কামনা করে সে ঈশ্বরের ধণ সম্পর্কিত গুণরূপ লক্ষ্মীর পুজা করে, যে বিদ্যা বা জ্ঞানের কামনা করে সে ঈশ্বরের জ্ঞানরূপ স্বরস্বতীর পুজা করে, ইত্যাদি
খৃষ্টানরা গীর্জার মধ্যে মেরী ও যীশুর মুর্তি তৈরী করে তার সামনে মাথা নত করে ও প্রার্থনা করে
আপাত দেখতে মনে হয়, মূর্তির সামনে মাথা নত করছে ও প্রার্থনা করছে, আসলে তারাও হিন্দুদের মত তারা জীবন্ত যীশুকে মুর্তির মধ্যে কল্পনা করে সেটা করছে
এর ফলে তাদের মধ্যে তাদের ঈশ্বরের সাথে একটা নৈকট্যের বন্ধন অনুভুত হয়
হাওয়ার সামনে বসে পূজা বা প্রার্থনা করার চেয়ে এটা অনেক বেশী উপভোগ্য ও আন্তরিক হয়ে ওঠে
সুতরাং যুক্তির খাতিরে দেখা যায়, হিন্দু বা খৃষ্টান এরা গূঢ়ার্থে মোটেই মূর্তি পূজা করে না অর্থাৎ শিরক করে না
ইসলাম পূর্ব যুগে আরব রা ঠিক এভাবেই কাল পাথরকে পুজা করত আর তাদের দেখা দেখি মোহাম্মদও সেটা করতেন সেই বাল্য কাল থেকে
পরে ইসলাম চালু করার পরও তিনি সেটা বাদ দেন নি, কারন তিনি রাজনীতিবিদ বা সমরনেতা হিসাবে ভাল মতো চালু হলেও আধ্যাত্মিক বা তাত্ত্বিক বিষয়ে জ্ঞান ছিল সীমিত
কাল পাথরের সামনে মাথা নত করে তাকে চুমু খাওয়া তার একেশ্বরবাদী ধর্মেরই যে মহা লংঘন তথা চুড়ান্ত শিরক তা তার মাথাতে ঢোকেনি একেবারেই
আর এ একবিংশ শতাব্দিতে প্রায় দেড় বিলিয়ন মুসলমানদের মাথাতেও ঢুকছে না কোনমতে
অথচ স্বাড়ম্বরে চিৎকার করে ঘোষণা করে চলেছে ইসলাম হলো একমাত্র সত্য ধর্ম যা একেশ্বরবাদীতা প্রচার করে, কোন শিরক করে না, জড় পদার্থের পূজা করে না
এবার আসা যাক, কাবা ঘরকে কিবলা করে তার দিকে মুখ করে নামাজ পড়া শিরক কি না
মোহাম্মদ তার নবুয়ত্বত পান চল্লিশ বছর বয়েসে
তার আগে তিনি ৩৬০ পুতুল ভর্তি কাবার মধ্যে বসে তাদের উপাসনা করতেন
এমন কি নবুয়ত্ব পাওয়ার পরও তিনি উক্ত পুতুল ভর্তি ও দেয়ালে আঁকা নানা দেব দেবীর মূর্তি ভর্তি কাবার মধ্যে বসে তাঁর আল্লাহর আরাধণা করতেন
তাতে কোন অসুবিধা হতো না
অথচ তিনিই হাদিসে বলছেন-
আয়শা বর্ণিত- আল্লাহর নবী বলেছেন- যারা প্রানীর ছবি আকে তাদের শেষ বিচারের দিন আল্লাহ বলবেন- যে সব প্রানীর ছবি আকতে তাদেরকে জীবন দান কর
যে ঘরে কোন প্রানীর ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেস্তারা প্রবেশ করে না
সহি বুখারি, বই-৩৪, হাদিস-৩১৮
সাইদ বিন আবু হাসান বর্ণিত- যখন আমি ইবনে আব্বাস এর সাথে ছিলাম , এক লোক এসে বলল- হে আব্বাসের পিতা , আমি ছবি একেঁ জীবিকা নির্বাহ করি
ইবনে আব্বাস বললেন- আমি শুধুমাত্র নবীর কথা থেকে বলতে পারি তিনি বলেছেন- যে ব্যক্তি ছবি আকেঁ তাকে সেই পর্যন্ত শাস্তি দেয়া হবে যে পর্যন্ত না সে তাতে জীবন দান করতে পারে ও সেটা কখনই সম্ভব হবে না
এটা শুনে লোকটার মুখ শুকিয়ে গেল
ইবনে আব্বাস বলল- তবে যদি তুমি ছবি আকতেই চাও তাহলে গাছ পালা ও নির্জীব বস্তু এসবের ছবি আকঁতে পার
সহি বুখারি, বই-৩৪, হাদিস-৪২৮
আবু তালহা বর্ণিত- আমি নবীকে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন যে ঘরে কোন প্রানীর ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেস্তারা প্রবেশ করে না
সহি হাদিস, বই- ৫৪, হাদিস- ৪৪৮
তাই নিচের আয়াত নাজিল হয় -
নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি
অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন
এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর
যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে
আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে
সুরা বাক্কারা, ২: ১৪৪
আর যে স্থান থেকে তুমি বের হও, নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও-নিঃসন্দেহে এটাই হলো তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত বাস্তব সত্য
বস্তুতঃ তোমার পালনকর্তা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবহিত নন
সূরা আল বাকারা, ২: ১৪৯
এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই
তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান
সুরা আল বাকারা, ২: ১৪২
কাবা ঘরের দিকে কেন নামাজ পড়তে হবে? কাবার মধ্যে কি আল্লাহ বাস করে ? না সেখানে আল্লাহ বাস করে না
আবার কোরান এ কথাও বলে না যে আল্লাহর সর্বত্র বিরাজমান
কারন কোরান বলছে-
তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃস্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন
তিনি পরম দয়াময়
তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত, তাকে জিজ্ঞেস কর
সূরা- ফুরকান-২৫:৫৯(মক্কায় অবতীর্ণ)
আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন
তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই
এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?সূরা-সাজদা, ৩২: ০৪ (মক্কায় অবতীর্ণ)
সূরা-হাদীদ, ৫৭:০৪ ও সুরা-হুদ, ১১:০৭ আয়াতেও বলছে আল্লাহ আরশে অবস্থান করে
এবার দেখা যাক , আল্লাহর আরশ কোথায় সে সম্পর্কে হাদিস কি বলে -
আল্লাহর আরশ হলো আসমান সমূহের ওপর অবস্থিত........ সূনান আবু দাউদ, বই-৪০, হাদিস- ৪৭০৮
জান্নাতুল ফেরদাউসের ওপর আ ল্লাহর আরশ অবস্থিত...... সহি বুখারী, বই-৫২, হাদিস-৪৮
শুরুতে কিছুই ছিল না, তারপর আল্লাহ তার সিংহাসন তৈরী করলেন যা ছিল পানির ওপর, তার তিনি তার বইতে সবকিছু লিখলেন... সহি বুখারী, বই -৫৪,হাদিস-৪১৪
যখন সা'দ বিন মূয়াদের লাশ আল্লাহর কাছে রাখা হলো তখন তার আরশ কেঁপে উঠল
সহি মুসলিম. বই-৩১, হাদিস-৬০৩৩
(আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠতে মোহাম্মদ নিজে দেখেছিলেন, মনে হয় তখন মোহাম্মদ আল্লাহর আশ পাশেই ছিলেন না হয় আল্লাহর সাথে খোশ গল্প করছিলেন
তার মানে জানা গেল আল্লাহ সব কিছু সৃষ্টির পরম সব কিছু থেকে পৃথক হয়ে তার আরশে আসীন হয়েছে আর সেখান থেকেই তার সীমাহীন শক্তিশালি পর্যবেক্ষন ক্ষমতার দ্বারা দ্বীন দুনিয়ার সব কিছু পর্যবেক্ষন করছে অর্থাৎ সব কিছু তার জানা
অর্থাৎ আল্লাহ যে দুনিয়ার কোথাও থাকেন না তা সুনিশ্চিত
তাহলে যারা মক্কার কাবা ঘরের দিকে মুখ করে নামায পড়ে , তারা কার কাছে প্রার্থনা করে ও মাথা নত করে ? অন্তত: আল্লাহর কাছে যে প্রার্থনা ও মাথা নত করে না তা সুনিশ্চিত
যদিও তারা মনে করতে পারে যে তারা আল্লাহর কাছেই তা করে , কিন্তু তাদের এ ধারনা ভ্রান্তিপূর্ণ
আসলে তারা মাথা নত করে মক্কার ইট পাথরের তৈরী একটা দালান ও তার মধ্যে থাকা কাল পাথরের প্রতি তথা তারা মাথা নত করে সম্পূর্নই জড় পদার্থের প্রতি
আল্লাহ যদি বলত সে কাবা ঘরের মধ্যে অবস্থান করে তাহলে একটা যুক্তি ছিল কিন্তু আল্লাহ কাবা ঘর তো দুরের কথা দ্বীন দুনিয়ার কোথাও বাস করে না
সে বাস করে সাত আসমানের ওপর তার আরশে
তার অর্থ মোহাম্মদ কৌশলে তাঁর অনুসারীদেরকে আল্লাহর কাছে মাথা নত করার নাম করে মুলত একটা জড় পদার্থের তৈরী ঘর ও তার মধ্যে অবস্থিত কাল পাথরের কাছে মাথা নত করার জন্য বিধান করে গেছেন
যেটা সেই সময়ের মুসলমান তো বটেই বর্তমানের মুসলমানরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারছে না
মোহাম্মদ কেন কাবা কে তার কিবলা বানালেন তা বোঝা খুবই সহজ
কোন মতেই যখন ইহুদি ও খৃস্টানরা মোহাম্মদের নবুয়ত্ব বিশ্বাস করে তার বশ্যতা স্বীকার করল না , তখন মোহাম্মদ মনে করলেন সলোমনের মন্দিরকে কিবলা করার কোন অর্থ হয় না, সেটা করলে তার ইসলাম মক্কা থেকে অনেক দুরবর্তী প্যলেষ্টাইনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে, অতদুর গিয়ে মোহাম্মদ বা তার অনুসারীদের পক্ষে সুবিধা হবে না কারন প্যলেষ্টাইন ইহুদ...
পক্ষান্তরে কাবা ঘরকে কিবলা করলে তাতে আরবদের মধ্যে নিজস্ব জাতীয়তা বোধ ও ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি হবে এবং সব কিছু তারাই নিয়ন্ত্রন করতে পারবে
অর্থাৎ এ ধরনের সিদ্ধান্ত ছিল যতটা না ধর্ম কেন্দ্রিক তার চাইতে বেশী রাজনৈতিক
এত কথা মোহাম্মদের মত নিরক্ষর ব্যক্তি জানলেন কেমনে ? এর উত্তরও সোজা
মোহাম্মদ তার নবুয়ত্ব দাবী করলে সাথে সাথে ইহুদি ও খৃষ্টানরা তার প্রতিবাদ করে
তারা যুক্তি দেখায় সকল নবী আসার কথা ইসরাইলি বংশ থেকে তথা ইসহাকের বংশ থেকে
অথচ মোহাম্মদের জন্ম মক্কার কুরাইশ বংশে যারা না ইহুদি না খৃষ্টান, তারা পৌত্তলিক
আর তখনই মোহাম্মদ তার গল্প তৈরী করে ফেলে ও বলতে থাকে কুরাইশ বংশ হলো ইব্রাহিমের অন্য পূত্র ইসমাইলের বংশ থেকে যে ইসমাইলকে ইব্রাহিম তার মা হাজেরা সহ মোহাম্মদের কল্পিত দাবি মোতাবেক মক্কাতে নির্বাসন দিয়েছিল আর সে অর্থে মোহাম্মদ হলো ইসরাইলি বংশোদ্ভূত
আর তাই তৌরাত কিতাবে যে নবীর আগমনের ভবিষ্যদ্বানী করা আছে সেই ব্যক্তি হলো মোহাম্মদ
মোহাম্মদ এ দাবী করার সময় একবারও পারিপার্শিক ও ভৌগলিক অবস্থা সম্পর্কে কোন চিন্তা করেন নি