content stringlengths 0 129k |
|---|
একটা দুধের শিশু ইসমাইলকে নিয়ে তার মাতা হাজেরাকে কিভাবে প্যালেষ্টাইন থেকে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দুরে কঠিন মরুভুমি পাড়ি দিয়ে নির্বাসন দেয়া সম্ভব তা তার মাথাতে খেলেনি |
এর পরেও কথা হলো ইসমাইলের বংশ ধারাকে ইসরাইলি বংশ বলা হয় না |
ইসরাইলি বংশ বলা হয় ইসহাকের এক পূত্র জ্যকব যার অন্য নাম ছিল ইসরাইল তার ছিল বারটা পূত্র যাদের থেকে বারটা গোত্র সৃষ্টি হয় তাদেরকে বলা হয় ইসরাইলি |
সুতরাং মোহাম্মদ রচিত কিচ্ছা কে সত্য ধরে নিলেও মোহাম্মদের নবুয়ত্ব টেকে না |
আর তখনই মোহাম্মদ প্রচার করতে থাকেন যে ইহুদি ও খৃষ্টানরা তাদের তোরাত ও গসপেল বিকৃত করে ফেলেছে |
আর তাই মোহাম্মদ যখন মদিনাতে তার ক্ষমতা মোটামুটি ভাবে কুক্ষিগত করে ফেলেছিলেন ও মদিনার অধিকাংশ মানুষ তার বশ্যতা স্বীকার করে ফেলেছিল তখনই তিনি সব কিছু বিচার বিবেচনা করে তার কিবলা সলোমনের মন্দিরকে বাদ দিয়ে কাবাকে স্থির করেন ও এর জন্য প্রয়োজনীয় আয়াত নাজিল করে ফেলেন |
অবশ্য এর কিছুকাল আগে থেকেই তার নিজেরও ইচ্ছা ছিল ও কিছু সাহাবি তাকে কাবা ঘরকে কিবলা করার জন্য চাপ দিচ্ছিল |
যা দেখা যায় নিচের হাদিসে- |
বারা বিন আযিব বর্ণিত- আল্লাহর রসূল বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে ষোল বা সতের মাস নামায পড়লেন কিন্তু তিনি কাবা ঘরের দিকে মুখ করে নামায পড়তে ইচ্ছা পোষণ করতেন, তাই আল্লাহ নাজিল করলেন এ আয়াত - নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি |
অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন |
এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর |
যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে |
আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে |
সহি বুখারি, বই-৮, হাদিস-৩৯২ |
আল্লাহ বার বার মোহাম্মদকে আকাশের দিকে তাকাতে দেখে বুঝে ফেলে মোহাম্মদ চান কাবা কে কিবলা বানাতে |
আল্লাহ বিন্দু মাত্র দেরী না করে সাথে সাথে তার জন্য আয়াত নাজিল করে দেয় |
কিন্তু এ ধরনের নির্দেশ যে প্রকারান্তরে তার ইসলামকে পৌত্তলিকতার জালে আবদ্ধ করে ফেলে সে বোধ টুকু মোহাম্মদের ছিল না |
উক্ত ২:১৪৪ আয়াত টি নিচের আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক- |
এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই |
তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান |
সুরা আল বাকারা, ২: ১৪২ |
কারন পূর্ব পশ্চিম যদি আল্লাহরই হয় তাহলে পূর্ব পশ্চিম যে কোন দিকে মুখ করে নামায পড়লেই তা আল্লাহর কাছে পৌছানোর কথা |
আর এ হিসাবে আল্লাহ যদি বলত- তোমরা পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিন সব কিছুই আমার , যে দিকে মুখ করেই নামাজ পড়ো না কেন তা আমার কাছেই আসে- তাহলে তা হতো বাস্তব ভিত্তিক ও যুক্তি যুক্ত |
অথচ আল্লাহ পূর্ব পশ্চিম আমার বলে আবার বলছে শুধুমাত্র কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়তে , এটা কোন ধরনের কথা ? তার অর্থ কি কাবার দিকে মুখ করে নামাজ না পড়লে তা আল্লাহর কাছে পৌছবে না ? এটা কি কোরানের আল্লাহর পূর্ববর্তী ব্ক্তব্যের সাথে স্ববিরোধী নয়? এ ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য কি আল্লাহর সংকীর্ণ মনের পরিচয় নয় ? আল্লাহ কেন শুধ... |
যদি আপনি আহলে কিতাবদের কাছে সমুদয় নিদর্শন উপস্থাপন করেন, তবুও তারা আপনার কেবলা মেনে নেবে না এবং আপনিও তাদের কেবলা মানেন না |
তারাও একে অন্যের কেবলা মানে না |
যদি আপনি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, সে জ্ঞানলাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে নিশ্চয় আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন |
সূরা বাক্কারা, ২:১৪৫ |
অদ্ভুত কথা ! আহলে কিতাবিরা কেন মোহাম্মদের কিবলা মানতে যাবে ? আর তা ছাড়া তাদের তো কোন কিবলাই নেই বা তার দরকারও নেই, কারন তাদের ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান, তাই যে কোন দিকে তাকিয়ে তার প্রার্থণা করলেই সে তা শুনতে পায় |
সলোমনের মন্দিরকে তারা পবিত্র উপাসনালয় জ্ঞান করে ঠিকই কিন্তু তার দিকে তাকিয়ে তো তারা প্রার্থনা করে না |
অর্থাৎ সলোমনের মন্দিরের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করাটা তাদের জন্য আবশ্যকিয় কোন বিধান নয় |
যুক্তির দিক দিয়ে সেটাই সঙ্গত আর কোরানের আল্লাহও কিন্তু সেটাও স্বীকার করছে যৌক্তিক কারনেই ২:১৪২ আয়াতে |
অর্থাৎ বিষয়টা দাড়াচ্ছে যেহেতু আহলে কিতাবিরা মোহাম্মদকে নবী স্বীকার করছে না , তাই মোহাম্মদের সোজা বক্তব্য যে তিনি নিজে আর তাদের উপাসনালয় বায়তুল মোকাদ্দাসকে আর কিবলা করবেন না |
তার চেয়ে বড় কথা হলো মদিনাতে হিজরত করার দেড় বছর পর মোহাম্মদ কাবাকে কিবলা বানাবার ওহী পান, এর পরও মোহাম্মদ ও তার অনুসারীরা মদিনাতে সাড়ে আট বছর কাল কাটান ও এ গোটা সময় তারা সবাই পুতুল ও ছবি ভর্তি কাবার দিকে মুখ করে নামায পড়তেন তাতে তাদের কোন অসুবিধা হয় নি |
অথচ মোহাম্মদের বর্ণনা মতেই সে ঘরে কোন ফিরিস্তা আসার কথা নয় |
তাহলে সে সময় তারা কার কাছে নামায পড়তেন ? আপাত: দৃষ্টিতে আল্লাহর কাছে বলেই মনে হয় , কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কি তাই ? |
তবে নিচের হাদিস থেকে আল্লাহর আরশের অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারনা করা যেতে পারে- |
আবু দার বর্ণিত- মসজিদের মধ্যে একদা আমি নবীর কাছে ছিলাম |
তিনি জিজ্ঞেস করলেন- " আবু দার, তুমি কি জান সূর্য অস্ত যাওয়ার পর সে কোথায় যায় ? আমি উত্তর করলাম-" আল্লাহ ও তার রসুল ভাল জানেন" |
তিনি বললেন-" এটা আল্লাহর আরশের নিচে যায়, বিশ্রাম করতে থাকে ও প্রার্থনা করতে থাকে পূনরায় উদিত হওয়ার জন্য |
পরে তাকে আল্লাহ অনুমতি দিলে সে পূনরায় পূর্ব দিকে উদিত হয় যা আল্লাহ বর্ণনা করেছেন তার বানী ৩৬:৩৮ আয়াতে(সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে |
এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ |
সহি বুখারি, বই-৬০, হাদিস-৩২৬ |
পৃথিবীকে সমতল ভূমি (কোরান বস্তুত সেটাই ধরেছে) ধরলে আল্লাহর আরশের অবস্থান সম্পর্কে একটা আন্দাজ করা যেতে পারে |
সমতল ভূমির ওপরের পৃষ্ঠে আমাদের অবস্থান , ঠিক এর উল্টো পাশেই হলো আল্লার আরশ কারন আমরা তো দেখি সূর্য অস্ত যাওয়ার পর সমতল পৃথিবীর উল্টো পাশেই চলে যায় |
যদি সূর্য পৃথিবীর উল্টো পিঠে গমন ক'রে সেখানে আল্লাহর আরশের সাক্ষাত পায় তাহলে অবশ্যই সেখানেই আল্লাহর আরশ থাকবে এটা সুনিশ্চিত |
তবে সেখানে পৌছানোটা আমাদের জন্য কঠিন হবে কারন পৃথিবীর উল্টো পিঠে গেলেই তো আমরা টুপ করে পড়ে যাব |
আমি পৃথিবীতে পর্বমালামসূহ রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে তৈরী করেছি প্রশস্ত পথ, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয় |
সূরা আম্বিয়া, ২১:৩১ ( মক্কায় অবতীর্ণ) |
আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা এবং পর্বতমালাকে পেরেক? সূরা আন নাবা-৭৮:৬-৭ (মক্কায় অবতীর্ণ) |
তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ |
তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু |
আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি |
সূরা লোকমান-৩১:১০(মক্কায় অবতীর্ণ) |
অর্থাৎ পৃথিবীতে পর্বতমালা আল্লাহ তৈরী করেছেন পেরেকের মত করে |
পেরেক দিয়ে যেমন কোন কিছু গেথে দেয়া হয় শক্ত করে পর্বত সেভাবেই সমতল পৃথিবীকে গেথে রেখেছে যাতে পৃথিবী কাত হয়ে যেতে না পারে সেকারনেই আল্লাহ পরিস্কার ভাষায় বলছে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুকে না পড়ে, কারন তা হলে আমরা সবাই গড়িয়ে পড়ে যাব |
আল্লাহ বড়ই দয়ালু আমরা পৃথিবী থেকে পড়ে যাই তা সে চায় না |
কিন্তু কার সাথে পৃথিবীকে গেথে রেখেছে তা পরিস্কার নয় |
এছাড়াও সে দুনিয়াতে অনেক রাস্তা ঘাট তৈরী করে রেখেছে যাতে মানুষ জন চলা ফিরা করতে পারে |
বর্তমানে দরিদ্র মুসলিম দেশ গুলো ( বিশেষ করে বাংলাদেশ) কেন যে খামোখা রাস্তা ঘাট ব্রিজ কালভার্ট এসব তৈরী করার জন্য ইহুদি নাসারা কাফেরদের কাছে হাত পাতে বোঝা দুস্কর, তার চেয়ে বরং আল্লাহর কাছে আর্জি জানালেই তো পারে |
অতীতে যেমন সে রাস্তা ঘাট তৈরী করে দিয়েছিল না চাইতেই , আর এখন সবাই মিলে তার কাছে প্রার্থনা জানালে সে কি রাস্তা ঘাট ব্রিজ কালভার্ট তৈরী করে দেবে না ? |
যাহোক , সব চেয়ে মজা লাগল উক্ত সহি বুখারি, বই-৬০, হাদিস-৩২৬ এ উল্লেখিত সুরা ইয়াসিনের ৩৬:৩৮ আয়াতের সম্পর্কে তথাকথিত ইসলামি পন্ডিত জাকির মিয়ার এক দুর্দান্ত বাল খিল্যসুলভ ব্যখ্যা শুনে |
আয়াত টা এরকম - |
সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে |
এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ |
সূরা ইয়াসিন, ৩৬:৩৮ |
বর্তমানে বিজ্ঞানের বদৌলতে আমরা জানি সূর্য আকাশ গঙ্গা নামক স্পাইরাল প্রকৃতির ছায়াপথের একটা বাহুর একেবারে শেষ দিকে অবস্থান করছে ও তা প্রতি ২০ কোটি বছরে ছায়াপথটির কেন্দ্রকে একবার করে প্রদক্ষিন করছে অনেকটা ৩৬৫ দিনে আমাদের পৃথিবী যেমন একবার সূর্যকে প্রদক্ষিন করে সেরকম |
তো জাকির মিয়ার বক্তব্য হলো সূর্য যে ২০ কোটি বছরে তার ছায়াপথের কেন্দ্রকে একবার প্রদক্ষিন করে আসে উক্ত আয়াত নাকি সেটাই বলছে |
যে লোক কোরান হাদিস তেমন পড়ে নি , জানেও না তাতে কি লেখা সে লোক কিন্তু ঠিকই ঘাবড়ে যাবে জাকির মিয়ার এ বক্তব্যে ও একই সাথে মনে করে বসতে পারে জাকির মিয়া সত্য কথা বলছে |
কারন আয়াতটিতে তো পরিস্কার বলছে - সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে |
অথচ জাকির মিয়ারও ১৪০০ বছর আগে তার নবী মোহাম্মদ কিন্তু এ আয়াতের যথার্থ ব্যখ্যা দিয়ে গেছেন উক্ত হাদিসে |
ঠিক একই ব্যখ্যা কিন্তু মোহাম্মদ সহি বুখারি, বই -৯৩, হাদিস- ৫২৮ ও সহি মুসলিম , হাদিস -২৯৭ এ প্রদান করেছেন |
তাহলে প্রশ্ন হলো - কার ব্যখ্যা সত্য? মোহাম্মদের নাকি জাকির মিয়ার ? |
মোহাম্মদ কিন্তু খুব সহজ সরল ভাবেই সেই ১৪০০ বছর আগেকার মানুষের জ্ঞান বুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে উক্ত আয়াতের ব্যখ্যা দিয়েছেন |
এজন্য মোহাম্মদকে ধণ্যবাদ |
কারন তখন মানুষের ধারনা ছিল পৃথিবী হলো সমতল একটা ভূমি আর তাই সূর্যই পূর্ব দিকে উদিত হয়ে সারা দিন কিরণ দিয়ে অস্ত যায় ও রাতের বেলা বিশ্রাম নেয় যা ছিল তখনকার সব ধর্মেরই ব্ক্তব্য |
বিশেষ করে খৃষ্টান ধর্মেরও |
হিন্দু ধর্মের বক্তব্যও প্রায় একই রকম |
এর কারন হলো সে সময় বা তারও হাজার হাজার বছর আগ থেকে যে কেউ সকাল বেলায় উঠে দেখত সূর্য পূব দিকে উদয় হয় ও সারাদিন আকাশে পরিভ্রমন শেষে পশ্চিমে অস্ত যায় |
মোহাম্মদ নিজেও সেটা শৈশব থেকে দেখে এসেছেন ও সুবিধা মত একসময় তার কোরানে বর্ণনা করেছেন ও পরে তার মত করে সহজ সরল ব্যখ্যা প্রদান করেছেন |
এখন জাকির মিয়া এসে বলছে ভিন্ন কথা |
জাকির মিয়া কি মোহাম্মদের চাইতে বেশী ইসলাম জানে ও বোঝে ? |
ইসলাম অভিযোগ করে হিন্দু খৃষ্টান এসব ধর্ম পৌত্তলিকতা দোষে দুষ্ট |
বিষয়টা কি আসলে তাই ? |
হিন্দু ধর্মের মূল কথা হলো তাদের ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় প্রয়োজন অনুসারে বহু রূপে আত্মপ্রকাশ করে |
যে মানুষ তাকে যে ভাবে ডাকে ঈশ্বর ঠিক সেভাবেই তার কাছে ধরা দেয় |
যদি কোন সত্যিকার ঈশ্বর থেকে থাকে আসলে হওয়ার কথাও তো তাই |
কেউ ঈশ্বরকে বন্ধু ভাবে চাইতে পারে , কেউ সন্তান হিসাবে, কেউ বা স্বামী হিসাবে |
ঈশ্বরের যদি এভাবে তার ভক্তের ইচ্ছা পূরণের ক্ষমতা না থাকে তাহলে সে কিসের ঈশ্বর? ধরা যাক, এক লোক তাকে বন্ধু হিসাবে চাইল কিন্তু অন্য তার ভাই ঈশ্বরকে পিতা হিসাবে কামনা করল |
সে ক্ষেত্রে ঈশ্বর একই সাথে দুই সহোদর ভাইয়ের সাধ কিভাবে মিটাবে ? এটা একমাত্র সম্ভব ঈশ্বর যদি বহু রূপ ধারন করেন |
মুনকার নকির নামক দুই ফিরিস্তা যদি একই সাথে দুনিয়ার সাতশ কোটি মানুষের দুই কাধে বসে তাদের কাজ কাম লিখে রাখতে পারে, ঈশ্বর কেন পারবে না দুনিয়ার মানুষ যে যেমন করে তাকে চাইবে সেভাবে তার কাছে ধরা দিতে? যদি তা না পারে বা না করে সেটা তাহলে ঈশ্বরের অক্ষমতা |
হিন্দুদের যে শত কোটি দেব দেবী আছে এগুলো সেই এক ঈশ্বরের বহুরূপ ছাড়া আর কিছু নয় |
হিন্দুরা যার যার সুবিধা মত তার আরাধ্য দেব দেবী নির্ধারন করে তার পূজা করে |
আবার যদি কেউ চায় সে শুধুমাত্র পরম ঈশ্বরেরও উপাসনা করতে পারে |
ওপর থেকে দেখলে মনে হয় মূর্তি পূজা করছে |
কিন্তু বিষয়টা মোটেও তা নয় |
ওরা আরাধ্য দেবতাকে সামনে রেখে তার মধ্যে জীবন্ত দেবতার কল্পনা করে, মাথা নত করে |
মাথা নত করার সময় মনে মনে ভাবে তার আরাধ্য দেবতা তাকে দেখছে |
সে তার সামনের দেব-দেবীর মূর্তিকে জড় পদার্থ মনে করে না |
যে কারনে তার অন্তরের সাথে তার আরাধ্য দেবতার একটা মিলন ঘটে, আরাধ্য দেবতাকে সে হৃদয়ে অনুভব করতে পারে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.