content stringlengths 0 129k |
|---|
অবশ্য আমার ফোন না করার ঘাটতি আমার স্ত্রী অনেকাংশে পুষিয়ে দেন |
তার সেল্ফোন ছাড়াও বাসার ল্যান্ড ফোনে ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল কি সব আন্লিমিটেড সিস্টেম আছে যার মাধ্যমে আমেরিকা, কানাডাসহ বাংলাদেশে এবং সাথে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াতেও নাকি ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন করা যায় |
মজার ব্যাপার হলো, টেলিফোনে প্রায় নিয়মিতই আমার পরিবারের সদস্যদেরসহ আমার ঘনিষ্ট বন্ধুদের স্ত্রীদের সাথে কথা বলেন আমার স্ত্রী, যা আমাকে 'অসামাজিক' খেতাব পাওয়া থেকে ক্রমাগত রক্ষা করে চলেছে |
এস.এম.-এর সাম্প্রতিক পরিবর্তন তার ও আমার বাড়তি ঘনিষ্টতার আরেকটা কারন |
বুয়েটের একসময়ের প্রগতিশীল একটা রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির একজন ছাত্রনেতা, বিতার্কিক, তুখোড় প্রেমিক এবং ফটকাবাজ এস.এম.-এর ধর্মচর্চাহীন জীবন-যাপন থেকে সাম্প্রতিককালের ধর্মীয় জীবন-যাপনে উত্তরণ রীতিমত লক্ষ্যনীয় এবং অনেকের জন্যে শিক্ষনীয়ও |
ধর্ম আমাদের বন্ধুত্বের সাম্প্রতিক গাঢ়ত্বে অন্যতম প্রভাবক |
কেননা আমরা দুজনই মোটামুটি ধার্মিক |
সমস্যা শুধু একটাই |
ধর্মের ব্যাপারে আমার মডারেট এ্যাটিচিউড এস.এম.-এর একেবারেই পছন্দ নয় |
তাতে অবশ্য আমাদের বন্ধুত্বে তেমন অসুবিধে হয়না; কেননা একতরফা বিতর্কে আমি বেশীরভাগ সময়ই নিরব শ্রোতার ভূমিকা পালন করি |
তাছাড়া টেলিফোনে তর্ক-বিতর্কের বাড়তি সুবিধা হলো প্রতিপক্ষের চেহারা দেখা যায়না |
আমি নিশ্চিত, আমাকে ননস্টপ উপদেশবলী দেয়ার সময় আমার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলে এস.এম. হয়ত চেপে যেতো |
যেমন, মওলানা আবুল কালাম আজাদের ব্যাপারটা, যিনি এনটিভি'র 'আপনার জিজ্ঞাসা' নামক ইসলামিক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন |
আমি বললাম, "লোকটাকে আমার পছন্দ নয়; কথাবার্তায় সবসময় কেমন যেন একটা এ্যারোগ্যান্ট-এ্যারোগ্যান্ট ভাব |
তাছাড়া আমি কবে যেন একটা আর্টিকলে পড়েছি লোকটা নাকি একাত্তরে রাজাকার ছিল; তৎকালীন 'বাচ্চু' নামধারী এই লোকটা ফরিদপুরে মানুষ হত্যা, রেইপ্ করা থেকে শুরু করে এমন কোনো খারাপ কাজ নেই যা সেসময় করেনি" |
ব্যস, এস.এম. আমাকে চেপে ধরলো, "ভদ্রলোক একাত্তরে নাকি একান্নতে কি করেছিল সেটা নিয়ে এখনও পড়ে থাকবি? তোরা কবে ওসব ছাইপাশ ইতিহাস ভুলে সামনের দিকে তাকাতে শিখবি? ভদ্রলোকের নলেজ দেখেছিস ইসলামে? তাছাড়া এমন সুন্দর সুন্দর যুক্তি দিয়ে সব কথা বলেন! যেন একেবারে মনের কথা |
বাংলাদেশের ইসলামী সমাজে ওনার এখনকার কন্ট্রিবিউশনটাই বড় কথা |
ওসব ইতিহাস খোঁচাখুঁচির দরকার কি? কে কবে কি করেছিল সেটা বড় কথা নয়, এখন কি করছে সেটাই ইম্পর্টেন্ট |
তোদের এই এক দোষ, নিজেরা ইসলামের জন্যে ভাল কিছু করবিনা; আর ওনার মত পটেনশিয়াল কেউ তা করতে গেলে অমনি ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করবি |
উনি আজ আমাদের দেশের অন্যতম একজন রিলিজিয়াস ফিগার |
ওনার সম্পর্কে আন্দাজে এসব উল্টাপাল্টা বলা ঠিক না" |
আমি মিনমিন করে বলতে গেলাম, "ঠিক আছে, লোকটা তোর-আমার মত রহিমউদ্দিন, করিমুদ্দিন হলে সমস্যা ছিলনা; কিন্তু উনি দেশের এতবড় একটা রিলিজিয়াস ফিগার বলেই না ওনার পেছনের ইতিহাস জানাটা গুরুত্বপূর্ণ!" উত্তরে ধমকে উঠলো এস.এম., আমাকে পাত্তাই দিলো না |
এবছর একুশে ফেব্রুয়ারী পড়লো রোববারে |
মেট্রো ফিনিক্স-এর চ্যান্ড্লার শহরের একটা চার্চে একুশের অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো স্থানীয় বিভিন্ন বাংলাদেশী সংগঠন |
সকাল এগারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান |
প্রভাতফেরী এগারটায় |
আমি ছেলেমেয়েদের নিয়ে সকাল সকালই পৌঁছে গেলাম |
বাংলা ভাষার প্রতি ভালবাসা এবং ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েকে আমাদের ভাষা, আমাদের দেশের কৃষ্টি এবং এসবের ইতিহাসের সাথে আরো একবার পরিচয় করিয়ে দেয়াটাও যাওয়ার আরেকটা উদ্দেশ্য |
গতবছরও গেছি |
প্রভাতফেরীর পর যখন গান-বাজনা শুরু হয়, তখন সাধারনত চলে আসি আমরা |
এবারই শুধু ব্যতিক্রম |
'শিকড়' বাংলা স্কুলের ষ্টলে আমার প্রথম প্রকাশিত বই 'রঙ দিয়ে যায় চেনা' বিক্রি হচ্ছিল |
কাজেই আমাকে প্রায় সারাদিনই থাকতে হলো অনুষ্ঠানে |
পরের রোববারে এস.এম.-এর ফোন পেলাম- "কিরে, গত রোববার সারাদিন কোথায় ছিলি?" একুশের অনুষ্ঠানে ছিলাম শুনেই ফোড়ন কাটলো এস.এম.- "ও, তুইতো আবার 'ম-দা-রে-ত' মুসলমান, যাকে আরেক ভাবে বলা যায় 'মদ' খাওয়া মুসলমান |
দিস্ ইজ প্লেইন্লি স্টুপিড |
কাঠ-খড় আর কাপড় দিয়ে তিনটে খাম্বা বানিয়ে সেখানে ফুল দেয়ার যে কি মানে, তা আমার মাথায় আসেনা |
দিনশেষে যেটা ভেঙ্গেই ফেলবি, সেটা বানানোরই বা দরকার কি? আর সেখানে ফুল দেয়ারই বা মানেটা কি? এ সবই আসলে হিন্দুয়ানী কালচার; পুজা দোস্ত, পুজা; দিস্ ইজ প্লেইন্লি পুজা |
মূর্তি বানিয়ে পুজা করা আর মনুমেন্ট বানিয়ে ফুল দেয়া আসলে একই জিনিষ |
আমার মাঝে মাঝে কি ইচ্ছে হয় জানিস? তোদের এসব অনুষ্ঠানে গিয়ে যদি এক লাথিতে ওসব শহীদ মিনার-ফিনার ভেঙ্গে ফেলতে পারতাম, তাহলে হয়ত আরেকটু বেশী শান্তি পেতাম মনে" |
আমি মিনমিন করে খানিকটা প্রতিবাদ করতে গেলাম পুজার ব্যাপারটা নিয়ে; এস.এম. এক ধমকে আমাকে থামিয়ে দিলো, পাত্তাই পেতে দিলোনা |
কি জানি, হয়ত এস.এম.-এর কথাই ঠিক |
শহীদ মিনারে ফুল দেয়া হয়ত ধর্মীয়ভাবে ঠিকনা |
আফ্টার অল, গান-বাজনা শুরু হওয়ার আগেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমি যে বাসায় চলে আসি, তার কারনটাও তো ধর্মীয়ই |
কোনো ওলামাকে কখনও জিজ্ঞেস করা হয়নি ধর্মীয়ভাবে ব্যাপারটা কতখানি ঠিক নাকি ঠিকনা |
তবে বুদ্ধিগত দিক দিয়ে বিষয়টাকে দেখলে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এটাকে অনেকখানিই দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপার বলে মনে হয় |
আমি যে একুশের দিন শহীদ মিনারে যাই তাতেও যেমন আহামরি কোনো লাভ নেই, আবার এস.এম. যে শহীদ মিনারে যায়না তাতেও আহামরি কোনো ক্ষতি নেই |
ব্যাপারটা রিলেটিভ এবং তত্ত্বগতভাবে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সাথে এর সম্পর্ক হওয়া উচিত বলে আমার ধারনা |
সে অর্থে এস.এম.-এর সাথে এ বিষয়ে আমার কোনো মৌলিক দ্বন্দ্ব থাকার কথা নয় |
তবে সমস্যা হলো শহীদ মিনার বিষয়ে সামগ্রিক মনোভাবটা নিয়ে |
এস.এম. চরমপন্থী মনোভাবের ঠিক একধাপ পেছনে রয়েছে |
এই ধাপটা ক্রস্ করলেই শহীদ মিনারে বোমা ফাঁটানো, প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহনকারীদেরকে শারিরিকভাবে আক্রমন করা, ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সহজেই যুক্তিযুক্ত ও স্বাভাবিক মনে হয় |
লাথি দিয়ে শহীদ মিনার ভাঙ্গার বাসনা হওয়ার পরের ধাপটাই কিন্তু সর্বশেষ ধাপ, যা ভায়োলেন্ট |
ধর্মচর্চাহীন জীবন-যাপন থেকে ধর্মীয় জীবন-যাপনে উত্তরণে এস.এম. একটা প্রসেস-এর ভেতর দিয়ে গেছে যেখানে ধর্ম নিয়ে যথেষ্ট পড়াশুনা করার পাশাপাশি আমাদের উপমহাদেশসহ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অসংখ্য মুসলিম স্কলারদের বক্তৃতা সে শুনেছে (বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশে এবং ইন্টারনেটে) |
এটা একটা প্রচলিত প্রসেস যার মাধ্যমে আধূনিক শিক্ষিত মুসলমানদের অনেকে ধর্মচর্চাহীন জীবন-যাপন ছেড়ে ধর্মীয় জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন |
এবং তত্ত্বগতভাবে এতে ভাল ছাড়া খারাপ কিছু থাকার কথা নয় |
কেননা, আমার নিজের ধর্মীয় জীবন-যাপনে পদার্পনও এই প্রসেসের মাধ্যমেই |
তবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, এই প্রসেসটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুটো ডিস্টিংক্ট () পথের যে কোনো একটাতে মানুষটাকে টেনে নিয়ে যায় |
একটা পথ হলো, নিরীহ ধর্মপালনের একাগ্রতা বা উৎসাহ জাগা যা ক্রমে বৃদ্ধি পেলেও সাধারনত ভায়োলেন্ট মনোভাবের দিকে যায়না |
পক্ষান্তরে, দ্বিতীয় পথটা শুরুতে নিরীহ ধর্মপালনের একাগ্রতা বা উৎসাহ জাগার মাধ্যমে শুরু হলেও ক্রমে তা জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে প্রতিক্রিয়াশীলতা ও চরমপন্থার দিকে টার্ন নেয় যা মানুষটার মাঝে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতাসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি প্রচ্ছন্ন বা প্রকাশ্য বিদ্বেষের জন্ম দেয় |
আর দুঃখজনক হলো, এই রোগ কেবল এস.এম.-এর একার মধ্যে নয়, বাংলাদেশী এবং নন-বাংলাদেশী- এদেশে বসবাসকারী অনেক মুসলমানের মধ্যেই আমি এহেন এক্সট্রিম মনোভাবের প্রাদূর্ভাব লক্ষ্য করেছি |
সমস্যাটা সেখানেই |
কেননা এই মনোভাবেরই পর্যায়ক্রমিক ও প্রক্রিয়াগত এ্যাড্ভান্স্ড্ রূপ হলো আজকের ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের প্রত্যক্ষ কিম্বা পরোক্ষ সমর্থন |
এবার তাসের অন্য পিঠটা দেখি |
কবে যেন কার কাছে একটা প্রবাদ শুনেছিলাম, "অন্যের পকেটের পয়সাতেই যখন খাবো, তখন ডাল-ভাত কেন? পোলাও-কোর্মাই খাই" |
ক্রিশ্চিয়ান রেডিক্যালিজমে অধূনা কনভার্ট হওয়ার অসংখ্য উদাহরন যদিও খুঁজে পাওয়া যাবে আধূনিক সভ্যতার দেশ খোদ আমেরিকাতেও, তবে ছোট-খাট এসব উদাহরন না খুঁজে আমেরিকার একসময়ের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর মানুষটার কথাই ধরিনা কেন? যারা আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, জর্জ ডব্লিউ বুশ-এর রাজনৈতিক উত্থানের ওপর নির্মিত হলিউডের '' মুভিটা দেখ... |
মজার ব্যাপার হলো, তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সিনিয়র বুশ, যিনি নিজে একজন মডারেট এপিস্কোপাল প্রোটেস্ট্যান্ট ( ) ছিলেন এবং সেসময় সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার জন্যে নিজেকে তৈরী করছিলেন, এভানজেলিক্যাল () খ্রীষ্টানদের ভোটব্যাংক-কে তার দিকে আকৃষ্ট করার জন্যে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিলি গ্র্যামের সাথে ... |
দুঃখের বিষয়, বিলি গ্র্যাম একসময়ের মডারেট মেথোডিষ্ট প্রোটেস্ট্যান্ট ( ) জুনিয়র বুশকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন তার ধর্মীয় আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে রেডিক্যালিজমে কনভার্ট হতে যা পিতা সিনিয়র বুশ কল্পনাও করেননি এবং যা তাকে যার-পর-নাই উদ্বিগ্ন করেছিল জুনিয়র বুশের ভবিষ্যত ভাবনায় যা মুভিটাতে দেখানো হয়েছে |
অবশ্য মতান্তরে শোনা যায়, বুশ নাকি তারও প্রায় বছর খানেক আগেই রেডিক্যালাইজ্ড্ হন 'আর্থার ব্লেসিট' ( ) নামের আরেক রেডিক্যাল প্রীষ্ট-এর বক্তৃতা শুনে কিম্বা মতান্তরে তার সংস্পর্শে এসে |
মজার ব্যাপার হলো, বিলি গ্র্যাম বা আর্থার ব্লেসিটকে তালেবান নেতা মোল্লা ওমর কিম্বা ইয়েমেনে নির্বাসিত মুসলিম রেডিক্যাল ধর্মনেতা আনোয়ার আওলাকী'র খ্রীষ্টান ভার্শন বললে মনে হয়না খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে |
ডব্লিউ বুশের 'রিলিজিয়াস ফেইথ'-এর ওপর লিখিত অসংখ্য আর্টিকলে পাওয়া যায়, বুশ বিশ্বাস করতেন রেডিক্যাল মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যেই ঈশ্বর তাকে পছন্দ করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং তার আফগানস্থান ও ইরাক আক্রমন প্রকারান্তরে ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতিফলন |
'নাইন-ইলেভেন'-এর পর বুশের মুখ দিয়ে প্রথম যে শব্দটা বের হয়েছিল প্রতিক্রিয়া হিসেবে তা হলো, 'ক্রুসেড' অর্থাৎ মুসলমানদের সাথে খ্রীষ্টানদের ধর্মযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে |
বুশের মুখনিসৃত এ অসম্ভব কথাটা বিশ্ববাসীকে অবাক করলেও ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে বুঝা যাবে, বুশ আসলে লিবিয়ার রাষ্ট্রনেতা গাদ্দাফী কিম্বা ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ-এর খ্রীষ্টান ভার্শন বৈ আর কিছু নয় |
বুশ তার হোয়াইট হাউসের ওয়েষ্ট উইং-এ নিয়মিত রোমান ক্যাথলিক রেডিক্যাল পাদরীদের নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রুদ্ধদ্বার মিটিং করতেন যেখানে তার প্রশাসনের কারো প্রবেশাধিকার ছিলনা |
এমনকি চরম কন্সার্ভেটিভ হিসেবে পরিচিত তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডিক চেনী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রাম্স্ফেল্ড, কিম্বা তার রাজনৈতিক গুরু, কার্ল রোভ-এরও নয় |
শোনা যায়, ডমেষ্টিক নীতি নির্ধারন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অনেক বিষয়ে পলিসি মেকিং-এ বুশ এসব রেডিক্যাল পাদরীদের পরামর্শ নিতেন |
ইরাক আক্রমনের আগে বুশ তার ওয়েষ্ট উইং-এর অফিসে এসব পাদরীদের ডেকে নিয়ে তাদের দিয়ে ইরাক যুদ্ধকে হালাল করিয়ে নিয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই, যেভাবে আফগানস্থানের তোরাবোরা পাহাড়ের গুহায় নেতৃস্থানীয় ওলামাদের ডেকে নিয়ে তাদের দিয়ে 'বিন লাদেন' আমেরিকায় সন্ত্রাসী হামলা চালানো তথা 'নাইন-ইলেভেন'-এর হামলাকে হালাল করিয়ে নিয়েছিল ... |
ভাবতে অবাক লাগে, ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের এক্সেসিভ রিলিজিয়াস জিল্এবং আল্ট্রা কন্সার্ভেটিভ মানসিকতা কিভাবে সবাইকে একই কাতারে টেনে এনে পরষ্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়! 'নাইন-ইলেভেন'-এর সন্ত্রাসী হামলাকে হালাল বলে ফতোয়া দানকারী মুসলিম মোল্লাদের সাথে ইরাক আক্রমনকে হালাল বলে ফতোয়া দানকারী খ্রীষ্টান মোল্লাদের কি কোনো মৌ... |
দুঃখের বিষয়, দু'জনই সমানভাবে মানবতার শত্রু হলেও বিশ্ববাসীর চোখে কেবল একজন অসভ্য এবং বাকিজন সভ্য হিসেবে বিবেচিত |
এ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির () 'মেমোরিয়াল ইউনিয়ন' ভবনে প্রতি রোববার বিকেলে একদল বাংলাদেশী বাচ্চাকে নিয়ে বসে 'শিকড়' বাংলা স্কুল |
আমার ছেলেমেয়েরা 'শিকড়'-এর নিয়মিত স্টুডেন্ট |
সপ্তাহ তিনেক আগের কথা |
'মেমোরিয়াল ইউনিয়ন' ভবনের দোতলায় ২৩৮ নম্বর রুমে 'শিকড়'-এর ক্লাস হচ্ছে |
শফিকের বড় ছেলেটাও 'শিকড়'-এ যায় |
শফিক বুয়েটের |
আমার এক বছরের জুনিয়র |
বাচ্চাদের নামিয়ে দিয়ে শফিক আর আমি সাধারনত এ.এস.ইউ. ক্যাম্পাসের পাহাড়টাতে হাঁটতে যাই বৈকালিক ব্যায়ামটা এই সুযোগে সেরে নেয়ার জন্যে |
সেদিন কেন জানি শফিক আসেনি |
'মেমোরিয়াল ইউনিয়ন' ভবনের দোতলায় সপ্তাহের অন্যান্য দিন ইউনিভার্সিটির রেগুলার ক্লাস হয় |
লম্বা করিডোরের জায়গায় জায়গায় সোফা ফেলানো রয়েছে বসার জন্যে |
মাত্র দু'ঘন্টার ব্যাপার |
চোখ বন্ধ করে কোনো একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করেই দু'ঘন্টা পার করে দিতে পারবো ভেবে তেমনই একটা সোফায় গা এলিয়ে বসে পড়লাম |
যে সোফাটায় আমি বসেছি, তার বিপরীত দিকেই একটা ক্লাস রুম |
রুমের দরজাটা বন্ধ |
তবে কাঠের দরজার খানিকটাতে গ্লাস লাগানো রয়েছে, যা দিয়ে রুমের ভেতরটা অনেকাংশেই দেখা যায় |
দেখলাম প্রায় ১০/১২ জন যুবক ভেতরে রয়েছে যাদের প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ২৫-এর মধ্যে |
চেহারা দেখেই বুঝা যায় আমাদের সাব-কন্টিনেন্টের |
প্রত্যেকের গায়ে কালো গেঞ্জি |
তবে পরনে অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন রঙের ফুলপ্যান্ট |
প্রত্যেকের কপালে লাল ফিতা বাঁধা |
রুমের সাদা টিউব লাইটগুলো নেভানো |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.