content
stringlengths
0
129k
"শিয়াল বাড়ি বধ্যভূমিতে বাঙালি হত্যাযজ্ঞের যে লোমহর্ষক নৃশংসতার স্বাক্ষর আমি দেখেছি তাতে আমি শোকাভিভূত ও সন্ত্রস্ত হয়ে গিয়েছি
এই হত্যাকাণ্ড নাৎসি গ্যাস চেম্বারের হত্যাযজ্ঞের চেয়েও অনেক বীভৎস"
তিনি সাংবাদিকদের আরো জানান যে, তিনি দেশে ফিরে গিয়ে পরিষদের সভাপতির কাছে এই গণহত্যার জন্য তদন্ত কমিশন গঠন করতে বলবেন
(দৈনিক আজাদ, ২২/১/৭২) [তথ্যসূত্রঃ দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী- এ এস এম সামছুল আরেফীন ; পৃঃ০৭]
স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থক মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য এডলাই স্টিভেনস কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বধ্যভূমিগুলো পরিদর্শন করে ১৯৭২ সালের ৩০শে জানুয়ারি বলেন-
"বাংলাদেশে পাক বাহিনীর নৃশংসতা ছিল ভয়াবহ ও মানবজাতির ইতিহাসে তার কোন নজির নেই
এই বর্বরতা মানুষের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে" (দৈনিক আজাদ, ৩১/১/৭২) [তথ্যসূত্রঃ দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী- এ এস এম সামছুল আরেফীন ; পৃঃ০৭]
মার্কিন সিনেটের অপর সদস্য এডওয়ার্ড কেনেডি বলেন-
"মানুষের মস্তিষ্কে এ ধরনের বর্বরতার চিন্তা আসতে পারে এ কথা ভাবতেও কষ্ট হয়" (দৈনিক আজাদ, ১৭/২/৭২) [তথ্যসূত্রঃ দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী- এ এস এম সামছুল আরেফীন ; পৃঃ০৭-০৮]
ফরাসী সাহিত্যিক আঁদ্রে মালরো বলেছিলেন-
"দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নাৎসিদের নৃশংসতার নিদর্শন আমি দেখেছি
কিন্তু এখানকার নৃশংসতা তার চেয়ে অনেক বেশি" (দৈনিক আজাদ, ১৩/৩/৭২) [তথ্যসূত্রঃ দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী- এ এস এম সামছুল আরেফীন ; পৃঃ০৮]
এবং এরা প্রত্যেকেই পাক বাহিনীর এই নৃশংসতার জন্য যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা করতে বলেন
দালাল আইনের গোড়াপত্তনঃ
১৯৭১ সালের ১৩ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মন্ত্রী পরিষদের এক বৈঠকে যুদ্ধাপরাধী বিষয়ে গণহত্যা তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়
হাইকোর্টের কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কোন বিচারপতি বা সমপর্যায়ের কোন মনোনীত ব্যক্তির নেতৃত্বে কমিশনটি পাক বাহিনী ও তাদের দালালদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের মৌখিক ও লিখিত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে ব্যাপক রিপোর্ট পেশ করবেন বলে ঘোষণা করা হয়
পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব রাজাকার, আলবদর, আলশামস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা করেছে তাদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি দ্য বাংলাদেশ কোলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার ১৯৭২ বা দালাল আইন আদেশ শিরোনামে আইন প্রণয়ন করা হয়
শহীদদের পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ঢাকার রাজপথে মিছিল বের হয়
সেদিনের সেই মিছিলে পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করা হয়
পরবর্তীতে সেই মিছিলের ৯ দিন পর অর্থাৎ ১৯৭২ সালের-ই ২৬ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু জাতির উদ্দেশে দেয়া বেতার ও টিভি ভাষণে পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গটি আবার সামনে নিয়ে আসেন
পাক প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানে আটকে পড়া পাঁচলাখ বাঙ্গালীকে ফেরত দেয়ার বিষয়টি পাক যুদ্ধবন্ধীদের মুক্তির সঙ্গে শর্তযুক্ত করায় শেখ মুজিবুর রহমান এ ভাষণে বলেন,
'তাঁদেরকে (পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙ্গালী) ফিরিয়ে দেয়া হোক
এ ইস্যুকে কোনোক্রমে যুদ্ধবন্দীদের সমপর্যায়ে ভাবা চলবে না
কারণ তাদের (পাক যুদ্ধবন্দীদের) মধ্যে এমন অনেক আছেন যারা শতাব্দীর নৃশংসতম হত্যার অপরাধে অপরাধী
তারা মানবিকতাকে লঙ্ঘন করেছে এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার ভিত্তিতে বিচার হবে
২৬শে এপ্রিল দিল্লী স্টেটসম্যান পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু বলেন-
"যারা গণহত্যা করেছে তাদের এর পরিণতি থেকে রেহাই দেয়া যায় না
এরা আমার ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে
এদের ক্ষমা করলে ভবিষ্যতে বংশধরগণ এবং বিশ্বসমাজ আমাদের ক্ষমা করবেন না" (দৈনিক বাংলা, ৩০/৪/১৯৭২)
একই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী , ১ জুন ও ২৯ আগস্ট তারিখে তিন দফা সংশোধনীর পর আইনটি চূড়ান্ত হয়
শুধু দালাল আইন নয়, আরও কিছু আদেশ জারী করা হয় সে-সময়ে
নিজ-নিজ জেলা আদালতে গোলাম আজম ও তার সঙ্গীদের হাজির হওয়ার নির্দেশ জারী হয় ১৯৭২ এর ১৪ ফেব্রুয়ারী
১৯৭২ সালের ১৬ মে বঙ্গবন্ধু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়,
'বাংলাদেশে পাক হানাদার বাহিনীর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্ডিন্যান্স প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে
ইতোমধ্যে কলাবরেটের আইনের অধীনে কলাবরেটর-দালালদের বিচারের কাজ শুরু হয়ে গেছে
১৯৭২ সালের ২ জুলাই কুষ্টিয়ার এক জনসভায় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু পুনরায় জোর দিয়ে বলেন,
'পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে
কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না
১৯৭২ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বলেন,
'সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সম্পর্কিত তদন্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা প্রকাশ করা হবে
একই বছরের ১৫ ডিসেম্বরে জারী করা হয় বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন
নভেম্বর সংবিধানের ১২ ও ৩৮ অনুচ্ছেদ মোতাবেক ধর্ম নিয়ে রাজনীতি রহিত করা হয়
পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারের এক প্রেস রিলিজে বলা হয়,
তদন্তের মাধ্যমে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর মধ্য থেকে ১৯৫ জনকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, জেনেভা কনভেনশনের আর্টিকেল তিন এর লংঘন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটের অপরাধে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে
১৯৭৩ সালের ১ জুনের এক খবরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে বলা হয়,
'টোকিও ও নুরেমবার্গ বিচারের সময় যে মূল নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে একটি বিল পেশ করা হবে
১৯৭৩ সালের ৮ জুন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এক সাক্ষাৎকারে জানান,
'ইতিপূর্বে তালিকাভুক্ত পাক যুদ্ধাপরাধীদের সংখ্যা ১২০০ থেকে কমে ১৯৫ জন হয়েছে
এই ১৯৫ জন পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই
এরপর ১৯৭৩ সালের ১৮ এপ্রিল গ্যাজেট-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গোলাম আজমদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়
একটা চলমান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অব্যাহত থাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম
গোলাম আজমরা এ-সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়
দালাল আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারঃ
একাত্তরে যেসব রাজাকারেরা পাকি বাহিনীর সাথে এ দেশে গণহত্যা, নারী নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলো তাদেরকে "দালাল আইনে" গ্রেপ্তার করা শুরু হয় ১৯৭২ সালের জানুয়ারি থেকে এবং বিচার কাজ শুরু হয় এপ্রিলে
১৯৭৩ সালের ৩০ শে নভেম্বর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আগে অর্থাৎ ৩১ শে অক্টোবর পর্যন্ত দালাল আইনে গ্রেপ্তারকৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৭ হাজার ৪৭১ জন
এদের দ্রুত বিচারের জন্য তৎকালীন সরকার সারাদেশে ৭৩ টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে
এর পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে কর্মরতদের কেউ দালালি এবং যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না তা যাচাই করার জন্য ১৯৭২ সালের ১৩ জুন একটি আদেশ জারি করে যা তখন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়
দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ ১৯৭২ এ দন্ডপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সাজা এখানে উল্লেখ করলামঃ-
• ১৯৭৩ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি, বাংলার বাণী পত্রিকার একটি খবরের শিরোনামে বলা হয় "দালাল মন্ত্রী ইসহাকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড"
এই ইসহাক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থনে গঠিত ডা.মালিক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন
স্বাধীনতার পর ওই মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে একেও গ্রেপ্তার করা হয়
রায়ের প্রায় ১০ মাস পর '৭৩-এর ৫ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান
মুক্তিযুদ্ধের পর সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ২৪ মাস কারাগারে ছিলেন
• ১৯৭৩ তারিখে দৈনিক পূর্বদেশ এ পাওয়া যায় -'দালাল আইনে সা'দ আহমদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড'
খবরে বলা হয়, কুষ্টিয়া সেশন জজ-৩-এর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সদস্য আর কে বিশ্বাস কুষ্টিয়া শান্তি কমিটির সদস্য সা'দ আহমদকে পাক বাহিনীকে সহযোগিতা, অপহরণ ও নরহত্যার অভিযোগে এবং কুষ্টিয়া-১১ আসনে সাজানো উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কারণে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন
রায়ে আদালত বলেন, 'অভিযুক্তের আরও বেশি শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল
কিন্তু এই জেলার একজন সফল আইনজীবী হিসেবে অতীতের কাজের জন্য তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হলো
• ১১ জুন, ১৯৭২ তারিখে দৈনিক বাংলায় প্রধান শিরোনাম ছিল−'দালালির দায়ে মৃত্যুদন্ড'
কুষ্টিয়ার দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সদস্য রবীন্দ্র কুমার বিশ্বাস ৮ জুন রাজাকার চিকন আলীর বিরুদ্ধে এ রায় দেন
কুষ্টিয়ার মিরপুর গ্রামের চিকন আলীর বিরুদ্ধে '৭১ সালের ১৯ অক্টোবর একই গ্রামের ইয়াজউদ্দিনকে গুলি করে মারার অভিযোগ ছিল
পরে উচ্চ আদালত সাজা কমিয়ে চিকন আলীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন
আট বছর চার মাস জেল খাটার পর দালাল আইন বাতিলের সুযোগে চিকন আলী ছাড়া পায়
• ৬ অক্টোবর, ১৯৭২ দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, প্রখ্যাত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ হত্যার অভিযোগে ১৯৭২ এর ৫ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের জজ সৈয়দ সিরাজউদ্দীন হোসেন আইয়ুব আলী, মকবুল হোসেন ও যোবায়ের নামের তিন আলবদর সদস্যকে মৃত্যুদন্ড
১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আজিমপুরের দায়রা শরিফের বাসভবন থেকে ড. আজাদকে অপহরণ করে আলবদররা
• দালাল আইনে সবচেয়ে বেশি কারাদন্ড হয় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ গ্রামের দালাল আবদুল হাফিজের
হত্যা, লুট ও দালালি মামলায় বিভিন্ন ধারায় তাঁকে আদালত ৪১ বছরের দন্ড দেন
১৯৭৩ সালের ১২ এপ্রিল বাংলার বাণী পত্রিকায় এ সংবাদ প্রকাশিত হয়
মামলার বিবরণে দেখা যায়, '৭১-এর ১৫ অক্টোবর রাতে আবদুল হাফিজ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নিজ গ্রামের ইয়াসিন মিয়ার বাড়িতে ঢুকে তাঁর ভাগ্নে শাহ আলমকে হত্যা এবং ইয়াসিন মিয়ার বাবাকে অপহরণ করেন
ইয়াসিন মিয়া বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন
পরে দুই হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁর বাবাকে মুক্ত করেন তিনি
• ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের সরুগ্রামের আয়েজ মন্ডলের তিন ছেলেকে দন্ড দেওয়া হয়
তাঁদের মধ্যে মফিজুর রহমান ওরফে চান মিয়াকে মৃত্যুদন্ড, মোখলেছুর রহমান ওরফে খোকা মিয়া ও মশিউর রহমান ওরফে লাল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়
ধুনট উপজেলার নান্দিয়ারপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন
উচ্চ আদালত পরে চান মিয়াকে মৃত্যুদন্ডের বদলে ২০ বছর সাজা দেন
অপর দুই ভাইয়ের সাজাও কমিয়ে প্রত্যেককে ১০ বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়
• মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চর শিলমন্দি (এখন পূর্ব শিলমন্দি) গ্রামের মাতবর কেরামত আলী কাজীর বিরুদ্ধে দুটি মামলায় মোট আট বছর কারাদন্ড হয়
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শান্তি কমিটিতে যোগ দিয়েছিলেন
বাংলাদেশ হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দড়ি চর শিলমন্দি গ্রামের সামসুদ্দিন মাস্টার ও সিরাজ নামের দুই মুক্তিযোদ্ধা মামলা করেন
উভয় মামলায় কেরামত আলীর সাজা হয়
কেরামত কাজী ১৯৯০ সালে মারা যায়
• ১৯৭২ সালের ৯ জানুয়ারি আজাদ পত্রিকার খবরে বলা হয়, ডা. মালিকের মন্ত্রিসভার পূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনকে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তার জন্য যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে
• ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত এক সংবাদে দেখা যায়, ঢাকার বিশেষ আদালত পূর্ব পাকিস্তান বিবিসির সংবাদদাতা নিজামউদ্দীনের অপহরণের সঙ্গে জড়িত আলবদর সিদ্দিকুর রহমান ও মোহাম্মদ গালিবকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন
১৯৭১-এর ১২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজামউদ্দীনের ঢাকার তৎকালীন রোকনপুর হাউস থেকে অন্য আলবদরদের সহায়তায় অপহরণ করে
• ১৯৭৩ সালের ১২ জুলাই দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত এক সংবাদে দেখা যায়, রাজশাহীর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শ্রী কান্তি দাস হাওলাদারকে হত্যার অভিপ্রায়ে অপহরণ করায় মুজিবুর রহমান নামে এক রাজাকারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন
• ১৯৭৩ সালের ১৪ এপ্রিল তৎকালীন পূর্বদেশ পত্রিকায় একটি খবর ছিল, পাক বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ এবং তিন পল্লীবধুর শ্লীলতাহানির অভিযোগে মৌলভীবাজারের দীরুল আজীর আসিফ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়
১৯৭৩ সালের ২০ এপ্রিল দৈনিক সংবাদ-এর একটি খবরে দেখা যায়, কুমিল্লায় বিশেষ আদালত আবদুল হামিদ ও আজিজউল্লাহ্ নামের দুই দালালকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন
রফিক উদ্দিন নামের এক মুক্তিযোদ্ধাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেওয়ার অপরাধে তাঁদের সাজা দেন আদালত
১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালের দৈনিক পত্রিকাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কয়েক দিন পরপরই তখনকার পত্রিকায় দালাল আইনে সাজা হওয়ার খবর প্রকাশিত হতো