content stringlengths 0 129k |
|---|
তাই "কেন ১৯৭২ সালেই রাজাকারদের বিচার করা হল না?"- এ ধরনের প্রশ্নগুলোকে আমি সম্পূর্ন অযাচিত ও ভিত্তিহীন বলবো |
সেই সাথে যারা এরকম প্রশ্ন করে, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, এরা যেকোনভাবেই প্রমান করতে চায় যে, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে কোন উদ্যোগ-ই নেন নি |
যার ফলে এখনো রাজাকারের বিচার চলছে |
কিন্তু এতোসব তথ্য প্রামান থাকায় এরা কখনোই সফল হতে পারবে না |
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার প্রেক্ষাপটঃ |
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধের বিচার করে যাননি |
তিনি যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে গেছেন |
যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর যুক্তি হিসেবে অনেক মিথ্যা প্রচারের ভেতর এটা একটি চমৎকার উদাহরণ |
বঙ্গবন্ধু কোনোদিন যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে যাননি |
বরং তিনই সেই বিচারকার্য বিচারিক কাঠামোয় শুরু করে গিয়েছিলেন |
এক্ষেত্রে অনেকে ইনিয়ে বিনিয়ে " বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার" অপব্যাখ্যা করতে চায় |
কিন্তু ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে কোন ধরনের অপব্যাখ্যাই গ্রহনযোগ্য হবে না |
কারণ ১৯৭৩ সালের ৩০শে নভেম্বর দালাল আইনে আটক যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না তাদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করা হয় |
এ ঘোষণার পর দালাল আইনে আটক ৩৭ হাজারের অধিক ব্যক্তির ভেতর থেকে প্রায় ২৬ হাজার ছাড়া পায় |
তবে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ৫নং ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়ঃ- |
'যারা আদেশের নিচের বর্ণিত ধারাসমূহে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অথবা যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অথবা যাদের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত ধারা মোতাবেক কোনটি অথবা সব ক'টি অভিযোগ থাকবে অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান করেছে সেসব অপরাধী কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য ননঃ - |
১. ১২১ (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো অথবা চালানোর চেষ্টা), |
২. ১২১ ক (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র), |
৩. ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), |
৪. ৩০২ (হত্যা), |
৫. ৩০৪ (হত্যার চেষ্টা), |
৬. ৩৬৩ (অপহরণ), |
৭. ৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) |
৮. ৩৬৫ (আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ), |
৯. ৩৬৮ (অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা), |
১০. ৩৭৬ (ধর্ষণ) |
১১. ৩৯২ (দস্যুবৃত্তি), |
১২. ৩৯৪ (দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত), |
১৩. ৩৯৫ (ডাকাতি), |
১৪. ৩৯৬ (খুনসহ ডাকাতি), |
১৫. ৩৯৭ (হত্যা অথবা মারাত্মক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি), |
১৬. ৪৩৫ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধন), |
১৭. ৪৩৬ (বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার), |
১৮. ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪৩৬ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোন জলযানের ক্ষতিসাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান |
সুতরাং এ বিষয়গুলো জানার পরেও যারা বলে যে বঙ্গবন্ধু রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করার জন্য এবং নিলজ্জতার সীমা অতিক্রম করে রাজাকারদের পক্ষ নেবার জন্যই কথাগুলো বলে |
জিয়াউর রহমান কর্তৃক দালাল আইন বাতিলঃ |
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরও ১১ হাজারের বেশি ব্যক্তি এ সকল অপরাধের দায়ে কারাগারে আটক ছিল এবং তাদের বিচার কার্যক্রম চলমান ছিল |
কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ই অগাস্ট শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে পাল্টে যায় বাংলাদেশের রাজনীতি |
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান |
১৯৭৫ সালের এর ৩১শে ডিসেম্বর জেনারেল জিয়া সামরিক অধ্যাদেশ জারী করে দালাল আইন বাতিল করে |
থেমে যায় যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম |
শেখ মুজিবর রহমান সরকারের জারী করা আইনগুলো একের পর এক অধ্যাদেশ জারী মধ্য দিয়ে রহিত করা হয় |
১৯৭৬ সালে ' . 2 1976′ জারী করে ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতি করার লক্ষ্যে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদের শর্তাদি তুলে দেয়া হয় |
১৯৭৬ এর ১৮ জানুয়ারী নাগরিকত্ব ফিরে পাবার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে আবেদন করতে বলা হয় গোলাম আজমকে |
এছাড়াও ' . 1 1977′ দ্বারা সংবিধানের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ তুলে দেয়া হয় |
মার্শল ল'র আওতায় এসব অধ্যাদেশ জারী করে জেনারেল জিয়ার সরকার |
এসব অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম |
আমি জানি এতোসব তথ্য উপাত্ত থাকার পরেও অনেকে তাদের অযাচিত প্রশ্নগুলো বার বার করে যাবেন |
তাদের উদ্দেশ্য করে কিছুই বলার নেই |
ইতিহাস হল সময়ের হিসেব |
ঘটনাচক্রে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের হিসেবটা অতন্ত রক্তাক্ত |
তাই যখনই সেই ইতিহাসের হিসেবের খাতার পৃষ্ঠাগুলো উন্মোচন করে, তখন সুকান্তের একটা কথা মনে পরে-"হিসেবের খাতা যখনই নিয়েছি হাতে,দেখেছি লিখিত রক্ত খরচ তাতে..." |
মানুষ মরে যায়, পচে যায়, নিঃশেষ হয়ে যায় একসময় |
কিন্তু ইতিহাসের কোন মরণ নেই,কোন শেষ নেই |
ইতিহাস সত্যিটাই আমাদের সামনে তুলে ধরে |
বরং আমরাই বারবার ইতিহাসকে বিকৃত করি, মিথ্যাচারের আশ্রয় নিই |
কিন্তু আদতে তাতে কোন লাভই হয় না |
ইতিহাসকে মিথ্যা প্রমাণিত করবার সাধ্য কারোর-ই নেই, থাকে না |
তথ্যসূত্রঃ |
০১. দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী- এ এস এম সামছুল আরেফীন |
০২. ৭৩-এর আইনের সহজপাঠ এবং ৭১-এর গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার |
০৩.://..//%0%6%6%0%6%%0%6%2%0%6%%0%6%2_%0%6%86%0%6%87%0%6%8_%28%0%6%%0%6%%0%6%6%0%7%87%0%6%7_%0%6%9%0%7%8%0%6%0%0%6%%0%6%87%0%6%%0%7%8%0%6%%0%7%81%0%6%8%0%6%%0%6%2%29_%0%6%86%0%6%6%0%7%87%0%6%6_%0%7%7%0%7%%0%7%%0%7%8 |
০৪. ://..///184305 |
০৫. 298. ( ) , 1972 - |
দুঃখবিলাস |
আলবদর মুজাহিদের অপরাধনামা |
... |
৭ ফেব্রু, ২০১৫ |
৩০ লাখ বাঙালী হত্যার আইকনিক মিথ এবং বাস্তবতা |
১৫ অগা, ২০১৪ |
বিস্মৃতির অতলে চাপা পড়া এক কল্পনাতীত নিকৃষ্টতা এবং নাম না জানা কিছু মা-বোনের ইতিহাস...(৪র্থ পর্ব) |
১৬ ডিসে, ২০১৪ 2.5 500 |
শুভ হোক আজকের সারাটা দিন! |
আজ রবিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং |
২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) |
১লা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী |
এখন সময়, সকাল ৭:৪৭ |
সভ্যতায় প্রবেশ |
সভ্যতা ব্লগ উদ্যোগ নিচ্ছে একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার যেখানে দেশের আনাচে কানাচে থাকা সকল বীর-মুক্তিযোদ্ধার সাফল্য গাঁথা আর বীরত্বের ইতিহাস সংগৃহীত থাকবে |
নতুন প্রজন্মের সভ্যতার বিনির্মাণে এমন চেতনা ও স্বাধীনতার অর্জনই হবে আগামীর দিকনির্দেশনা |
"একাত্তরের দলিল" বিভাগে প্রকাশিত পান্ডুলিপিগুলো এখানে পড়ুন... > |
প্রাচীরপত্র |
সাম্প্রতিক পাণ্ডুলিপিসমূহ |
বড় পর্দার হাসিখুশি মানুষটির অপমৃত্যু |
বিবর্ণ ব্যাথা |
& ; |
ভালোবাসার ৪ টি প্রিয় কবিতা |
বাংলা কবিতায় ছন্দ কত প্রকার ও কি কি? |
@ বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম এবং বীর প্রতীকদের তালিকা |
যখন বলেছেনঃ নভে ২৩, ২০২১ |
. . |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.