content stringlengths 0 129k |
|---|
দেশের প্রাইভেট সেক্টর সবমিলিয়ে এখন বিশাল |
মোট সৃজিত চাকরীর ৯৫% (আনুমানিক) প্রাইভেট সেক্টরের |
তার মানে দেশের চাকরীরত ও রিটায়ারমেন্টে যাওয়া পেশাজীবিদের সিংহভাগই প্রাইভেট সেক্টরের |
তার আবার একটা বিশাল অংশ এইচআরের |
প্রায়ই ব্যাঙের ছাতার মতো সংগঠন গড়ে ওঠা নিয়ে আমি লেখালিখি করি |
আমি জানি, আমি অনেকের চক্ষুশূল হয়ে পড়েছি হয়তো এজন্য |
অনেকেই আমাকে অনুরোধ করেছিলেন, এই বিষয়টা নিয়ে কিছু লিখতে |
নিজের অব্যক্ত কথা আর জনমানুষের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি নিয়ে আমার ক্ষুদ্র ও বিচ্ছিন্ন চেষ্টাগুলো সমন্বিত করে এই লেখাটি লিখলাম |
একজন সাধারন আরএমজি প্রোফেশনাল হিসেবে আমাদের অসংখ্য গ্রাউন্ড বেজড ও ভার্চুয়াল বেজড সংগঠন ও গ্রূপগুলোর জন্য কিছু আহবান রেখে যেতে চাই: |
১.আমি অসংখ্য সংগঠন গড়ে তোলার সমালোচক ও সমর্থক-দুটোই |
সমালোচক, কারন চাওয়া ও পাওয়ার অনেক কথা আছে |
স্পেশালাইজড প্রোফেশন বা সেক্টর নিয়ে আলাদা সংগঠন বানাতে যাওয়ায় সার্বিক ঐক্য ভাগ হয়েছে |
শক্তি কমেছে অযথাই |
বেড়েছে প্রান্তিকতা |
সমর্থক এজন্য যে, সেক্টর ও ট্রেড ভিত্তিক গ্রূপ হলে তৃণমূলের সাথে তাদের সাংগঠনিক সম্পর্ক আরো নিবিড় করার সুযোগ থাকে |
তাছাড়া একাধিক সংগঠন গড়ে ওঠার অনেক কারনও আছে |
সেক্টরওয়াইজ নিজস্বতাও হয়তো একটি কারন |
আন্তঃসেক্টর স্বার্থের সংঘাতও জড়িত |
প্রোফেশনাল উন্নয়নে, সদস্যদের ভাগ্য সুরক্ষায় অনেক কিছু করার বিরাট সুযোগ আছে এই সংগঠনগুলোর |
২.আমরা সংগঠনকে তার সদস্যদের পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো সেবা প্রদানের ওয়ান স্টপ সেন্টার হিসেবে দেখতে চাই |
আমরা সংগঠন বানাই যে কারনে তার সবচেয়ে বড় কারন-সংগঠিত হওয়া আর ঐক্যবদ্ধ হওয়া |
সংগঠনকে কে আমি ও আমার মতো গণমানুষেরা দেখতে চাই, আমাদের পাশে যেকোনো বিপদে দাড়ানোর মতো অভিভাবক হিসেবে |
দেশের সাধারন বা প্রান্তিক শ্রমিকরাও আজ যেই ক্যারিয়ার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পায় তাদের বিভিন্ন সংগঠন হতে, এমনকি সরকারী এসটাবলিশমেন্ট হতে, আমরা সেই সেবা বা সুরক্ষাবোধ পেতে চাই সংগঠন হতে |
আমরা দেখতে চাই, আমাদের যেকোনো বিপদে সংগঠন আমাদের সাপোর্ট দিচ্ছে |
আমাদের হয়ে লড়ছে |
দরকারে উকিল দিয়ে হলেও |
৩.প্রতিটি সংগঠনের অবশ্যই একটি সংবিধান ও মেনেফেস্টো আছে |
সেটিকে প্রাঞ্জল, সহজবোধ্য (আসলে পড়ুন, সবার কাছে অর্থবাহী) করতে হবে |
আর তার প্রচার করতে হবে |
বন্যার সময় ত্রান আর দামী দামী কনফারেন্স করেই কিন্তু আপামর জনগনের সংগঠন হতে পারব না আমরা |
সেই সংবিধান শুধু সংগঠনের ভোটে পাশ না হয়ে উন্মুক্ত গনশুনানি বা গণপঠন হতে মতামত নিয়ে করলে আরো ভাল |
৪.চাকরী দাতা ও প্রার্থীদের একটি কমোন হাব হিসেবে সংগঠনকে গড়ে তোলা খুবই দরকার |
সময়ে বা অসময়ে চাকরী হারিয়ে অকূল পাথারে পড়াদের বেদনা আরেকজন পেশাজীবি ছাড়া আর কে বুঝবে? আমরা এতটুকু নীতিগতভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে পারি যে, সংগঠনের সদস্যরা যার যার কোম্পানীর যেকোনো জব ওপেনিং সংগঠনের সাইটে বা পেজে শেয়ার করবেন |
সংগঠনের একটি সিভি ব্যাংক, ডাটা ব্যাংক, জব পোর্টাল বানাবার দিকে নজর দিতে হবে |
নিজস্ব জব পোর্টাল |
ওই তথ্য ব্যাংক যেকোনো সদস্যের সাথে (বাইলেটারাল) যোগাযোগের জন্য কাজে লাগানো যাবে |
৫.সদস্যদের এ্যকটিভ হতে হবে |
সবগুলো ও সবধরনের প্লাটফরম মিলিয়ে বিশাল সংখ্যক একটি পেশাজীবি কোনো না কোনোভাবে যুক্ত আছেন কোনো সংগঠনের সাথে |
কিন্তু তাদের মধ্যে নিয়মিত ও সক্রিয় সদস্য খুব কম |
নিয়মিত যোগাযোগ, শেয়ারিং, কেস স্ট্যাডি, প্রবলেম শেয়ারিং, গুড প্রাকটিস শেয়ারিং, নলেজ গেদারিং, পরামর্শ দান-এই সেবাগুলো চালু ও চর্চা হওয়া দরকার |
শুধু প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বা বিশেষ দিবসে নয়, সারাবছর এই শেয়ারিং হওয়া দরকার |
সদস্যদের একটিভেট করার জন্য কিছু না কিছু করার উদ্যোগ নিতে হবে সংগঠনকে |
সদস্যরা শুধু বিভিন্ন ইভেন্টে দল বেঁধে যোগদান করলে কোনো লাভ হবে না |
পাশাপাশি ইসি'র সাথে সাধারন সদস্যদের বিষয়ভিত্তিক যোগাযোগটি বাড়াতে হবে |
৬.সংগঠনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, মেইল আইডি, পেজ বা গ্রূপের সুস্পষ্ট রুলস থাকা উচিত |
অনলাইন গ্রূপের নিয়ন্ত্রণ ও মডারেশনের জন্য নির্ধারিত মডারেটর থাকা দরকার |
"অধিক সন্নাসিতে গাঁজন নষ্ট" যেন না হয় |
সবাই যদি শৃঙখলা বিধানে নামেন, তাহলে বিশৃঙ্খলা বরং বাড়ে |
অনলাইন ফোরামগুলো যেমন: ফেসবুক পেজ, টেলিগ্রাম গ্রূপ, হোয়াটসএ্যাপ গ্রূপ এগুলোর জন্য বিষয়ভিত্তিক নিয়মিত পোষ্ট, আপডেট দেবার মানুষ ঠিক করা দরকার |
সদস্যদের সংগঠনের আরো সমৃদ্ধ করার জন্য আইডিয়া শেয়ার হওয়া দরকার |
তবে হ্যা, সব কাজ ইসিদের ঘাড়ে না চাপিয়ে সবারই শেয়ার নেয়া উচিৎ |
৭.সংগঠনের জুনিয়র ও সিনিয়র সদস্যদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক শেয়ারিং, লার্নিং বাড়ানো দরকার |
এইচআর নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য অদুর ভবিষ্যতে প্রচুর চ্যালেঞ্জ আসছে |
সেগুলোর জন্য নিজেদের তৈরী করতে হলে নলেজ ক্রিয়েটিং ও নলেজ শেয়ারিং এর বিকল্প নেই |
প্রতিমাসে একটি এক ঘন্টার টি-সেশন করা যায় যেখানে আমাদেরই একজন সিনিয়র পার্সোন তার অভিজ্ঞতা বা আইডিয়া নিয়ে কথা বলবেন |
বাকিরা শুনবেন |
তাছাড়া আমাদের স্পেশালাইজড এইচআর ট্রেইনীং দরকার |
শুধু লেবার ল বা নয় |
৮.সংগঠনগুলোকে ভার্চুয়াল হতে গ্রাউন্ড বেজড করতে হবে |
শুধুমাত্র ফেসবুকে একটি পেজ বা গ্রূপ থাকাটাই যথেষ্ট নয় |
তাদের স্থায়ী অফিস থাকা ও অফিসের জন্য কমপক্ষে একজন স্থায়ী সেক্রেটারী নিয়োগ দেয়া দরকার |
তার কাজ হবে অফিস চালনা |
পাশাপাশি সংগঠনের সমস্ত ঘটনা, প্রোগ্রামের রেকর্ড বানানোও তার কাজের অংশ হবে |
৯.বিভিন্ন পারপাসে যে নির্দিষ্ট কমিটি করা আছে তাদের এককভাবে একটিভ হতে হবে |
কমিটিগুলোকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে, স্বাধীন হতে হবে |
সবকিছু একজনের ভরসায় চলতে থাকলে কোনোটাই হবে না |
মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ইসি'র ফরমাল মিটিং করা দরকার, ফর্মাল মিটিং যেভাবে হয়, সেভাবে |
আমি দেখেছি, নিয়ম রক্ষার মিটিংগুলোও আড্ডায় রূপ নিতে |
ট্রেইনীং, ইফতার পার্টি বা পিকনিকের মতো এনজয়মেন্টের পাশাপাশি সিরিয়াস ধরনের প্রোগ্রাম করাটাকেও নিয়মিত করা দরকার |
১০.বার্ষিক চাঁদা না হয়ে মান্থলি চাঁদা হতে পারে সংগঠনের ব্যয় সংস্থানের উপায় |
পাশাপাশি ফান্ড বড় করার ফরমাল স্টেপ নিতে হবে |
স্পন্সর বেজড প্রোগ্রাম এরেঞ্জ না করে নিজস্ব ফান্ড হতে করতে পারলে নিজেদের প্ল্যানমতো প্রোগ্রাম করা যায় |
হ্যা, ওই ফান্ড রেইজিং করার জন্য স্পন্সর নেয়া যায় |
১১.সদস্য বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরী ও বাস্তবায়ন করতে হবে |
এই ব্যাপারটিকে ইন্সটিটিউশনালাইজ করতে হবে |
"মেহেম্মেদ যদি পাহাড়ের কাছে না যায়, তবে পাহাড় মেহেম্মেদের কাছে আসবে" এই পুরোনো প্রবাদটিকে সংগঠনের অপারেশনাল ম্যনুয়েলের বেলায় প্রয়োগ করতে হবে |
মানে, সংগঠনটিকে মানুষের কাছে নিয়ে যাবার চেষ্টা করা |
মহিরুহ হোন বা মূসীক, সংগঠনকে জনমানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে |
ইন্টার্যাকটিভ, কানেকটেড, কমিউনিকেটেড, প্রোএ্যাকটিভ, ডাইনামিক সংগঠন প্রত্যাশা করি আমরা |
"মহান স্বত্ত্বা" হয়ে দূরে দাড়িয়ে থাকা সংগঠন নয় |
সংগঠন হতে উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রোফেশনালদের কাছে বা গ্রূপের কাছে যেতে হবে |
বিশেষভাবে বিভিন্ন কর্পোরেট ও ইউনিভার্সিটিতে প্রোগ্রাম করতে হবে |
১২.একটি একক সংগঠনের স্বপ্ন যদি যৌক্তিক ও বাস্তব কারনে সম্ভব নাও হয়, আমরা আরেকটি বিকল্প পথে হাঁটতে পারি |
তা হল, সব পেশাদার সংগঠনকে নিয়ে একটি সমন্বয় সাধনকারী কেন্দ্রীয় বডি তৈরী |
যতগুলো প্ল্যাটফরম এইচআর/কমপ্লায়েন্স/এ্যাডমিন নিয়ে আছে, সবাইকে নিয়ে একটা জোট/কনসোর্টিয়াম/এলায়েন্স গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে |
এই ফোরামটি নিজে কোনো স্বত্ত্বায় পরিনত না হয়ে তার মূল লক্ষ্য "সমন্বয়" ও "সংযোগ" সাধন করবে |
তাহলেই সে সত্যিকারের একটি অভিভাবক ফোরামে পরিণত হবে |
ইতোমধ্যেই একটি প্লাটফরম এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গড়ে উঠেছে এবং সে কাজও শুরু করেছে |
হতে পারে, আমরা সবাই এখানেই মিললাম |
সবগুলো ছোট বড় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একত্রে বসে এই ঐক্য প্রক্রিয়াটা এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ শুরু করা জরুরী |
১৩.আর্থিক খাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সুষ্পষ্ট পরিকল্পনা, পরিকল্পনামাফিক ব্যয় এবং সদস্যদের কাছে গ্রহনযোগ্য ও চাওয়ামাত্র প্রদেয় একটি হিসাব, অডিট ও উপস্থাপন যদি না থাকে, তাহলে পাড়ার একটি সামান্য ক্লাবও সদস্যদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা হারায় |
বিশেষ করে বাংলাদেশে সংগঠন চালাতে হলে আর্থিক খাতের সুস্পষ্টতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরী |
১৪.গণতন্ত্র-বহুল উচ্চারিত ও কাঙ্খিত একটি বিষয় |
স্বৈরাচারিত্বের প্রতিবাদে নতুন সৃষ্ট সংগঠনও দেখা যায় একসময় নিজেই স্বৈরাচারে পরিণত হয় |
সংগঠনের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র ও নিয়মিত ভোট হওয়া দরকার |
এমনকি সিদ্ধান্ত গ্রহনেও গণতন্ত্র চর্চা ও ভোটিং চালু করা উচিত |
সদস্যদের ফিডব্যাক ও মতামত নেবার কোনো ব্যবস্থা সংগঠনগুলো কমই রাখে |
সদস্য ও শুভাকাঙ্খীদের মতামত, পরামর্শ, আইডিয়া, অনুযোগ, অভিযোগ, চাহিদা জানার কার্যকর ব্যবস্থা সংগঠনকেই নিতে হবে |
ফেসবুক পেজ ও লিংকডইন পেজ নিয়ে কার্যকর একটি ইনটারেকটিভ ফোরাম সৃষ্টি সম্ভব |
১৫.একটু বায়াজড মনে হতে পারে, তবু সাহস করে বলছি, দেশের সবচেয়ে বড় সেক্টর আরএমজিকে যেকোনো সংগঠনের বিশেষ নজর/মর্যাদা/স্টাটাস/গুরুত্ব দিয়ে চলা উচিৎ-নিজের স্বার্থেই |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.