content stringlengths 0 129k |
|---|
এ দিন বোলপুরে জেলা কমিটির বৈঠকেও যোগ দেন অনুব্রত |
ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী আশিস বন্দোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিংহ, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল-সহ জেলা নেতৃত্ব |
প্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনী গঠনে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবেনা, এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত পার্বত্য শান্তিচুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা: প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের দেশের মানুষের পাশে দ... |
আমাদের ছোট রাসেল সোনা: শেখ হাসিনা |
বরিশাল প্রতিবেদন |
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২১ |
রাসেল, রাসেল তুমি কোথায়? |
রাসেলকে মা ডাকে, আসো, খাবে না, খেতে আসো |
মা মা মা, তুমি কোথায় মা? |
মা যে কোথায় গেল- মাকে ছাড়া রাসেল যে ঘুমাতে চায় না ঘুমের সময় মায়ের গলা ধরে ঘুমাতে হবে |
মাকে ও মা বলে যেমন ডাক দিত, আবার সময় সময় আব্বা বলেও ডাকত |
আব্বা ওর জন্মের পরপরই জেলে চলে গেলেন |
৬ দফা দেওয়ার কারণে আব্বাকে বন্দি করল পাকিস্তানি শাসকরা |
রাসেলের বয়স তখন মাত্র দেড় বছরের কিছু বেশি |
কাজেই তার তো সব কিছু ভালোভাবে চেনার বা জানারও সময় হয়নি |
রাসেল আমাদের সবার বড় আদরের; সবার ছোট বলে ওর আদরের কোনো সীমা নেই |
ও যদি কখনও একটু ব্যথা পায় সে ব্যথা যেন আমাদের সবারই লাগে |
আমরা সব ভাইবোন সব সময় চোখে চোখে রাখি, ওর গায়ে এতটুকু আঁচড়ও যেন না লাগে |
কী সুন্দর তুলতুলে একটা শিশু |
দেখলেই মনে হয় গালটা টিপে আদর করি |
১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাসেলের জন্ম হয় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় আমার শোয়ার ঘরে |
দোতলা তখনও শেষ হয়নি |
বলতে গেলে মা একখানা করে ঘর তৈরি করেছেন |
একটু একটু করেই বাড়ির কাজ চলছে |
নিচতলায় আমরা থাকি |
উত্তর-পূর্ব দিকের ঘরটা আমার ও কামালের |
সেই ঘরেই রাসেল জন্ম নিল রাত দেড়টায় |
আব্বা নির্বাচনী মিটিং করতে চট্টগ্রাম গেছেন |
ফাতেমা জিন্নাহ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী |
সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটা মোর্চা করে নির্বাচনে নেমেছে |
প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল |
তখনকার দিনে মোবাইল ফোন ছিল না |
ল্যান্ডফোনই ভরসা |
রাতেই যাতে আব্বার কাছে খবর যায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে |
রাসেলের জন্মের আগের মুহূর্তগুলো ছিল ভীষণ উৎকণ্ঠার |
আমি, কামাল, জামাল, রেহানা ও খোকা কাকা বাসায় |
বড় ফুফু ও মেজ ফুফু মার সাথে |
একজন ডাক্তার এবং নার্সও এসেছেন |
সময় যেন আর কাটে না |
জামাল আর রেহানা কিছুক্ষণ ঘুমায় আর জেগে ওঠে |
আমরাও ঘুমে ঢুলঢুলু চোখে জেগে আছি নতুন অতিথির আগমনবার্তা শোনার অপেক্ষায় |
মেজ ফুফু ঘর থেকে বের হয়ে এসে খবর দিলেন আমাদের ভাই হয়েছে |
খুশিতে আমরা আত্মহারা |
কতক্ষণে দেখব |
ফুফু বললেন, তিনি ডাকবেন |
কিছুক্ষণ পর ডাক এলো |
বড় ফুফু আমার কোলে তুলে দিলেন রাসেলকে |
মাথাভরা ঘন কালো চুল |
তুলতুলে নরম গাল |
বেশ বড়সড় হয়েছিল রাসেল |
মাথার চুল একটু ভেজা মনে হলো |
আমি আমার ওড়না দিয়েই মুছতে শুরু করলাম |
তারপরই এক চিরুনি নিলাম মাথার চুল আচড়াতে |
মেজ ফুফু নিষেধ করলেন, মাথার চামড়া খুব নরম তাই এখনই চিরুনি চালানো যাবে না |
হাতের আঙ্গুল বুলিয়ে সিঁথি করে দিতে চেষ্টা করলাম |
আমাদের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রাসেল |
অনেক বছর পর একটা ছোট বাচ্চা আমাদের ঘর আলো করে এসেছে, আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে |
আব্বা বার্ট্র্যান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন |
মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখলেন |
ছোট্ট রাসেল আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে |
মা রাসেলকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সংসারের কাজ করতেন, স্কুল বন্ধ থাকলে তার পাশে শুয়ে আমি বই পড়তাম |
আমার চুলের বেণি ধরে খেলতে খুব পছন্দ করতো ও |
আমার লম্বা চুলের বেণিটা ওর হাতে ধরিয়ে দিতাম |
ও হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হাসতো |
কারণ নাড়াচাড়ায় মুখে চুল লাগতো তাতে খুব মজা পেত |
জন্মের প্রথম দিন থেকেই ওর ছবি তুলতাম, ক্যামেরা আমাদের হাতে থাকতো |
কত যে ছবি তুলেছি |
ওর জন্য আলাদা একটা অ্যালবাম করেছিলাম যাতে ওর জন্মের দিন, প্রথম মাস, প্রতি তিন মাস, ছয় মাস অন্তর ছবি অ্যালবামে সাজানো হতো |
দুঃখের বিষয় ওই ফটো অ্যালবামটা অন্যসব জিনিসপত্রের সঙ্গে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লুট করে নেয় |
হারিয়ে যায় আমাদের অতি যত্নে তোলা আদরের ছোট্ট ভাইটির অনেক দুর্লভ ছবি |
বাসার সামনে ছোট্ট একটা লন |
সবুজ ঘাসে ভরা |
আমার মা খুবেই যত্ন নিতেন বাগানের |
বিকেলে আমরা সবাই বাগানে বসতাম |
সেখানে একটা পাটি পেতে ছোট্ট রাসেলকে খেলতে দেওয়া হতো |
একপাশে একটা ছোট্ট বাঁশ বেঁধে দেওয়া ছিল, সেখানে রাসেল ধরে ধরে হাঁটতে চেষ্টা করতো |
তখন কেবল হামাগুড়ি দিতে শুরু করেছে |
আমরা হাত ধরে হাঁটাতে চেষ্টা করতাম |
কিন্তু কিছুতেই হাঁটতে চাইতো না |
ওর স্বাস্থ্য খুব ভালো ছিল |
বেশ নাদুস-নুদুস একটা শিশু |
আমরা ভাইবোন সব সময় ওকে হাত ধরে হাঁটাতাম |
একদিন আমার হাত ধরে হাঁটছে |
ওর যেন হাঁটার ইচ্ছা খুব বেড়ে গেছে |
সারা বাড়ি হাত ধরে ধরে হাঁটছে |
হাঁটাতে হাঁটতে পেছনের বারান্দা থেকে সামনের বারান্দা হয়ে বেশ কয়েকবার ঘুরলো |
এই হাঁটার মধ্যে আমি মাঝে মাঝে চেষ্টা করছি আঙ্গুল ছেড়ে দিতে, যাতে নিজে হাঁটতে পারে |
কিন্তু সে বিরক্ত হচ্ছে, আর বসে পড়ছে, হাঁটবে না আঙ্গুল ছাড়া |
তার সাথে হাঁটতে হাঁটতে আমি বরাবরই চেষ্টা করছি যদি নিজে হাঁটে |
হঠাৎ সামনের বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে আমার হাত ছেড়ে নিজে হাঁটতে শুরু করলো |
হাঁটতে হাঁটতে চলছে |
আমি পেছনে পেছনে যাচ্ছি |
সেই প্রথম হাঁটা শুরু করল |
আমি ভাবলাম কতটুকু হেঁটে আবার আমার হাত ধরবে |
কিন্তু যতই হাঁটছি দেখি আমার হাত আর ধরে না, চলছে তো চলছেই, একেবারে মাঝের প্যাসেজ হয়ে পেছনের বারান্দায় চলে গেছে |
আমি তো খুশিতে সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করেছি যে, রাসেল সোনা হাঁটতে শিখে গেছে |
একদিনে এভাবে কোনও বাচ্চাকে আমি হাঁটতে দেখিনি |
অল্প অল্প করে হেঁটে হেঁটে তবেই বাচ্চারা শেখে |
কিন্তু ওর সবকিছু যেন ছিল ব্যতিক্রম |
ও যে খুবই মেধাবী তার প্রমাণ অনেকভাবে আমরা পেয়েছি |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.