content
stringlengths
0
129k
এ দিন বোলপুরে জেলা কমিটির বৈঠকেও যোগ দেন অনুব্রত
ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী আশিস বন্দোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিংহ, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল-সহ জেলা নেতৃত্ব
প্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনী গঠনে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবেনা, এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত পার্বত্য শান্তিচুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা: প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ২৪ বছরে পার্বত্য শান্তি চুক্তি করোনা বাড়লে আবারও বন্ধ হবে স্কুল: প্রধানমন্ত্রী গাড়ি না ভেঙে ছাত্রদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে বললেন প্রধানমন্ত্রী আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না: প্রধানমন্ত্রী গাড়ি ভাঙচুর-আগুন দিলেই ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী 'আ'লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন হয়েছে' বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন ও জয়িতা টাওয়ারের ভিত্তি স্থাপন সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাবি: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থন দেবে রাজস্ব বোর্ডকে সেবাধর্মী, জনবান্ধব ও করদাতাবান্ধব করেছে সরকার ষড়যন্ত্র থাকবে, তবু দেশ এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণের বিষয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব গ্রহণ মহান অর্জন বৈদেশিক বিনিয়োগে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে ২৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছি
আমাদের ছোট রাসেল সোনা: শেখ হাসিনা
বরিশাল প্রতিবেদন
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২১
রাসেল, রাসেল তুমি কোথায়?
রাসেলকে মা ডাকে, আসো, খাবে না, খেতে আসো
মা মা মা, তুমি কোথায় মা?
মা যে কোথায় গেল- মাকে ছাড়া রাসেল যে ঘুমাতে চায় না ঘুমের সময় মায়ের গলা ধরে ঘুমাতে হবে
মাকে ও মা বলে যেমন ডাক দিত, আবার সময় সময় আব্বা বলেও ডাকত
আব্বা ওর জন্মের পরপরই জেলে চলে গেলেন
৬ দফা দেওয়ার কারণে আব্বাকে বন্দি করল পাকিস্তানি শাসকরা
রাসেলের বয়স তখন মাত্র দেড় বছরের কিছু বেশি
কাজেই তার তো সব কিছু ভালোভাবে চেনার বা জানারও সময় হয়নি
রাসেল আমাদের সবার বড় আদরের; সবার ছোট বলে ওর আদরের কোনো সীমা নেই
ও যদি কখনও একটু ব্যথা পায় সে ব্যথা যেন আমাদের সবারই লাগে
আমরা সব ভাইবোন সব সময় চোখে চোখে রাখি, ওর গায়ে এতটুকু আঁচড়ও যেন না লাগে
কী সুন্দর তুলতুলে একটা শিশু
দেখলেই মনে হয় গালটা টিপে আদর করি
১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাসেলের জন্ম হয় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় আমার শোয়ার ঘরে
দোতলা তখনও শেষ হয়নি
বলতে গেলে মা একখানা করে ঘর তৈরি করেছেন
একটু একটু করেই বাড়ির কাজ চলছে
নিচতলায় আমরা থাকি
উত্তর-পূর্ব দিকের ঘরটা আমার ও কামালের
সেই ঘরেই রাসেল জন্ম নিল রাত দেড়টায়
আব্বা নির্বাচনী মিটিং করতে চট্টগ্রাম গেছেন
ফাতেমা জিন্নাহ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী
সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটা মোর্চা করে নির্বাচনে নেমেছে
প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল
তখনকার দিনে মোবাইল ফোন ছিল না
ল্যান্ডফোনই ভরসা
রাতেই যাতে আব্বার কাছে খবর যায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে
রাসেলের জন্মের আগের মুহূর্তগুলো ছিল ভীষণ উৎকণ্ঠার
আমি, কামাল, জামাল, রেহানা ও খোকা কাকা বাসায়
বড় ফুফু ও মেজ ফুফু মার সাথে
একজন ডাক্তার এবং নার্সও এসেছেন
সময় যেন আর কাটে না
জামাল আর রেহানা কিছুক্ষণ ঘুমায় আর জেগে ওঠে
আমরাও ঘুমে ঢুলঢুলু চোখে জেগে আছি নতুন অতিথির আগমনবার্তা শোনার অপেক্ষায়
মেজ ফুফু ঘর থেকে বের হয়ে এসে খবর দিলেন আমাদের ভাই হয়েছে
খুশিতে আমরা আত্মহারা
কতক্ষণে দেখব
ফুফু বললেন, তিনি ডাকবেন
কিছুক্ষণ পর ডাক এলো
বড় ফুফু আমার কোলে তুলে দিলেন রাসেলকে
মাথাভরা ঘন কালো চুল
তুলতুলে নরম গাল
বেশ বড়সড় হয়েছিল রাসেল
মাথার চুল একটু ভেজা মনে হলো
আমি আমার ওড়না দিয়েই মুছতে শুরু করলাম
তারপরই এক চিরুনি নিলাম মাথার চুল আচড়াতে
মেজ ফুফু নিষেধ করলেন, মাথার চামড়া খুব নরম তাই এখনই চিরুনি চালানো যাবে না
হাতের আঙ্গুল বুলিয়ে সিঁথি করে দিতে চেষ্টা করলাম
আমাদের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রাসেল
অনেক বছর পর একটা ছোট বাচ্চা আমাদের ঘর আলো করে এসেছে, আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে
আব্বা বার্ট্র্যান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন
মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখলেন
ছোট্ট রাসেল আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে
মা রাসেলকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সংসারের কাজ করতেন, স্কুল বন্ধ থাকলে তার পাশে শুয়ে আমি বই পড়তাম
আমার চুলের বেণি ধরে খেলতে খুব পছন্দ করতো ও
আমার লম্বা চুলের বেণিটা ওর হাতে ধরিয়ে দিতাম
ও হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হাসতো
কারণ নাড়াচাড়ায় মুখে চুল লাগতো তাতে খুব মজা পেত
জন্মের প্রথম দিন থেকেই ওর ছবি তুলতাম, ক্যামেরা আমাদের হাতে থাকতো
কত যে ছবি তুলেছি
ওর জন্য আলাদা একটা অ্যালবাম করেছিলাম যাতে ওর জন্মের দিন, প্রথম মাস, প্রতি তিন মাস, ছয় মাস অন্তর ছবি অ্যালবামে সাজানো হতো
দুঃখের বিষয় ওই ফটো অ্যালবামটা অন্যসব জিনিসপত্রের সঙ্গে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লুট করে নেয়
হারিয়ে যায় আমাদের অতি যত্নে তোলা আদরের ছোট্ট ভাইটির অনেক দুর্লভ ছবি
বাসার সামনে ছোট্ট একটা লন
সবুজ ঘাসে ভরা
আমার মা খুবেই যত্ন নিতেন বাগানের
বিকেলে আমরা সবাই বাগানে বসতাম
সেখানে একটা পাটি পেতে ছোট্ট রাসেলকে খেলতে দেওয়া হতো
একপাশে একটা ছোট্ট বাঁশ বেঁধে দেওয়া ছিল, সেখানে রাসেল ধরে ধরে হাঁটতে চেষ্টা করতো
তখন কেবল হামাগুড়ি দিতে শুরু করেছে
আমরা হাত ধরে হাঁটাতে চেষ্টা করতাম
কিন্তু কিছুতেই হাঁটতে চাইতো না
ওর স্বাস্থ্য খুব ভালো ছিল
বেশ নাদুস-নুদুস একটা শিশু
আমরা ভাইবোন সব সময় ওকে হাত ধরে হাঁটাতাম
একদিন আমার হাত ধরে হাঁটছে
ওর যেন হাঁটার ইচ্ছা খুব বেড়ে গেছে
সারা বাড়ি হাত ধরে ধরে হাঁটছে
হাঁটাতে হাঁটতে পেছনের বারান্দা থেকে সামনের বারান্দা হয়ে বেশ কয়েকবার ঘুরলো
এই হাঁটার মধ্যে আমি মাঝে মাঝে চেষ্টা করছি আঙ্গুল ছেড়ে দিতে, যাতে নিজে হাঁটতে পারে
কিন্তু সে বিরক্ত হচ্ছে, আর বসে পড়ছে, হাঁটবে না আঙ্গুল ছাড়া
তার সাথে হাঁটতে হাঁটতে আমি বরাবরই চেষ্টা করছি যদি নিজে হাঁটে
হঠাৎ সামনের বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে আমার হাত ছেড়ে নিজে হাঁটতে শুরু করলো
হাঁটতে হাঁটতে চলছে
আমি পেছনে পেছনে যাচ্ছি
সেই প্রথম হাঁটা শুরু করল
আমি ভাবলাম কতটুকু হেঁটে আবার আমার হাত ধরবে
কিন্তু যতই হাঁটছি দেখি আমার হাত আর ধরে না, চলছে তো চলছেই, একেবারে মাঝের প্যাসেজ হয়ে পেছনের বারান্দায় চলে গেছে
আমি তো খুশিতে সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করেছি যে, রাসেল সোনা হাঁটতে শিখে গেছে
একদিনে এভাবে কোনও বাচ্চাকে আমি হাঁটতে দেখিনি
অল্প অল্প করে হেঁটে হেঁটে তবেই বাচ্চারা শেখে
কিন্তু ওর সবকিছু যেন ছিল ব্যতিক্রম
ও যে খুবই মেধাবী তার প্রমাণ অনেকভাবে আমরা পেয়েছি