content
stringlengths
0
129k
যে কারণে খুলশীতে ট্রেনের সঙ্গে বাস-সিএনজির সংঘর্ষ, জানালো পুলিশ
খুলশী
রেল সিগন্যাল অমান্য, খুলশীতে ট্রেনের সঙ্গে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ২
করোনাভাইরাস
অমিক্রন আশঙ্কার মাঝেই চট্টগ্রামে করোনাশূন্য একটি দিন
গণপরিবহন
এক শর্ত সরকারের কাছে, অন্য শর্ত শিক্ষার্থীদের কাছে
২ শর্তে হাফ ভাড়া মিলবে চট্টগ্রামেও, শেষমেশ সিদ্ধান্তে পরিবহন মালিকরা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বাঁচানো গেল না চবির শাটলে কাটা পড়া সেই নারীকে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চবি ছাত্রের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির প্রমাণ পেল পুলিশ, অভিযোগপত্র দাখিল
সম্পাদক ■ হোসাইন তৌফিক ইফতিখার
উপদেষ্টা সম্পাদক ও প্রকাশক ■ আয়ান শর্মা
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ■ ক্য শৈ হ্লা
সংযুক্ত সম্পাদক ■ অসিত সেন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ■ হাসান মাহমুদ আকবরী
, , ' , , , , .
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৈরতলার কলোনীতে বিভিন্ন সরকারি চাকরিজীবি পরিবার গুলোর বসবাস ছিল
এই কলোনীতে বাসা বরাদ্দ পেতে সংশ্লিষ্ট অফিসে চলতো দৌড়ঝাপ। মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে সেই কলোনীটি এখন ঝোপঝাড়ের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে
হাতে গুনা মাত্র কয়েকটি পরিবারের বসবাস এই কলোনীতে এখন
তারাও চাচ্ছেন এই কলোনী থেকে চলে যেতে
কারণ রাত-দিন এই কলোনীর পরিত্যক্ত ভবণ গুলোতে বসে মাদকের আসর
মাদকসেবী ও চোরের অত্যাচারে এই কলোনী থেকে চলে গেছে অনেক পরিবার
সরেজজমিনে দক্ষিণ পৈরতলার কলোনীতে গিয়ে দেখা যায়, গণপূর্ত অফিসের অধিনস্থ এই কলোনীর নিরাপত্তা দেয়ালের ভেতরে পুরো এলাকা ভুতুড়ে পরিবেশ
রাতে তো দূরের কথা ভয়ে দিনের বেলাতেই কেউ আসবেনা এই কলোনীতে
গাছপালার ঝোপঝাড়ে এক প্রকার জঙ্গলে পরিণত হয়েছে এই কলোনী
এসব ঝোপঝাড়ের ভেতরেই রয়েছে দুতলা ও একতলা মিলিয়ে ৮টি ভবন
একটি ভবন ছাড়া বাকি ৭টিই এখন পরিত্যক্ত
এই ৭টি ভবনের কোনটিতে দরজা-জানালা নেই
পরিত্যক্ত ভাঙাচুরা এসব ভবনের প্রতিটি কক্ষেই ছরিয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে মাদক সেবনের আলামত।
কলোনীর ভেতরে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় পারভেজ নামের এক তরুণের সাথে
তিনি বলেন,আমার বাবা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার সুবাদে গত ৫বছর আগেও এই কলোনীতে আমরা বসবাস করেছি
এখন পাশের একটি ভবনে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছি
এই কলোনী ছেড়ে সবাই চলে যাওয়ার কারণ হচ্ছে, সরকার বেতন থেকে বাসা ভাড়া কেটে রাখে, এই টাকা দিয়ে বাইরে ভাল বাসায় থাকা যায়
এখানে কেন কোন প্রকার সুবিধা ছাড়া এই কলীনীতে বসবাস করবে সরকারি চাকরিজীবির পরিবার? একে একে সবাই চলে যাওয়ায় এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে এই কলোনী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর সরকারী কর্মচারীরা দক্ষিণ পৈরতলার এই কলোনীতে বসবাস করতেন
এখন মাত্র ৫টি পরিবার এই কলোনীর একটি ভবনে বসবাস করেন
এছাড়াও গণপূর্ত অফিসের অধিনে জেলা শহরের দাতিয়ারার অবকাশ এলাকায় সমনা, বিশাখা ও চিত্রা নামের তিনটি ভবণে প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তারা পরিবার নিয়ে বসবাস করেন
এই বিষয়ে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও করা সম্ভব হয়নি
তবে এই অফিসের কোয়ার্টারের ররক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,'জেলার শহরের অধিকাংশ সরকারি কোয়ার্টার আমাদের অধিনে রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকি
এরমধ্যে পৈরতলা কলোনীটি পরিত্যক্ত হয়ে গেছে
কারণ এই কলোনীতে যারা বসবাস করতেন তাদের অভিযোগ ছিল, সেখানে চোরের উপদ্রব বেশি ছিল
তারা বিভিন্ন সময় সেনিটারি পাইপ, জানালার গ্রিল খুলে নিয়ে যেত
এছাড়া ভবন গুলোর ছাদে তখন মাদকসেবীদের আড্ডা বসতো
এসব বিষয় জানার পর একাধিক বার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জানিয়েও কোন লাভ হয়
এই কলোনীতে কেউই বসবাস করতে চায় না
ফলে এটি জঙ্গলে পরিণত হয়ে গেছে
সরকারি যদি কোন আবাসন প্রকল্পের উদ্যোগ নেন, তাহলে আমরা পৈরতলা কলোনীর জায়গাটি প্রস্তাব করব'
রচনাদের বস্তির ঝুপড়িতে ঢুকে আমি আঁতকে উঠি
অতীতে কোনোদিন এমন বিষাদময় কক্ষে ঢুকিনি
কক্ষ নয় যেন নির্বোধের মতো সড়কের পাশে গড়ে তোলা বা ফেলে রাখা সিটি কর্পোরেশনের ইষ্টক বা অয়সনির্মিত খোলা ভাগাড়ের ঘনিষ্ঠতম আশপাশ
কাক-ইঁদুর আর পিঁপড়ে-কেঁচো ভাগাড় থেকে নানা ময়লারাশি এনে ছড়িয়ে দেয় যেখানে
আমার বাবা বলতেন - ভাগাড়পুর
ঝুপড়ির চারদিকে মরচে-ঝুরঝুরে চালুনি-ছ্যাঁদা টিনের চারটি বেড়া
টিনের এই বাধা উপেক্ষা করে ছ্যাঁদা দিয়ে অনর্গল বাইরের দুর্গন্ধ ভেতরে হানা দিচ্ছে
এটাই ঢাকা শহরের আসল চিত্র
নাক চেপে না-ধরে পারলাম না
জাহান্নম কি এর চেয়ে বিষাদময়!
স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে পিঁপড়ে আর তেলেপোকার দাপট
কেঁচোও দেখা গেল
কেঁচোর দল পিঁপড়ের ভয়ে দেওয়ালের পাশ দিয়ে সাবধানে চলাফেরা করছে
পশ্চিম কোনায় একটা উইয়ের ঢিবি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে
উই পোকারাও ভয় পায় পিঁপড়েকে
কয়েকটা কেঁচোকে পিঁপড়ের দল সন্ত্রাসীর মতো ঝাপটে ধরেছে
কেঁচোর হাড়বিহীন নরম শরীর - যন্ত্রণায় ছটফট করছে
উদ্ধারের কেউ নেই, সবাই বাঁচার তালে এবং বাঁচার জন্য অন্যকে মারার তালে
বামদিকে একদল পিঁপড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে বিশাল সাইজের এক তেলেপোকা
কয়েকটা টিকটিকি একসঙ্গে টিকটিক শব্দে ডেকে ওঠল
মনে হলে আমাকে উপহাস করছে - ছি ছি টিক টিক; ধিক ধিক ধিক ধিক
মেঝেতে একটা ছেঁড়া চাটাই
তার উপর তেলে তেলে ময়লা-কালো তেল-চিটচিটে চারটা বালিশ
ওপরে শতছিন্ন একটা কুৎসিত মশারি
এর নিচে ঘুমিয়ে আছে টুটুল
কতই বা বয়স - দুই হয়তো তিন
তার মুখে মায়া ঢালছে পঁচিশ ওয়াটের বাল্বের মিটমিট আলোর রুগ্‌ণ রশ্মির করুণ ছোঁয়া
আহ!
পোকার রাজ্যে কী শান্তিতে ঘুমাচ্ছে উলঙ্গ মানব শিশু টুটুল
চাটাইয়ের মাথায় টিনের একটি ছোটো বাক্স
পেছনে স্টোভ - তেল আর কালিতে কিম্ভূতকিমাকার
ডানপাশে কিছু বাসন-কোসন এলোমেলো পড়ে আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত হরিয়ানার পৌরাণিক কুরুক্ষেত্রের মতো
উত্তর কোনায় বাঁশের তৈরি একটা আলনা, ওটায় ফাঁসি খাওয়া বালিকার মতো সন্ত্রস্ত ভঙ্গিমায় ঝুলছে খানকয়েক মেয়েলি কাপড়
দক্ষিণ কোনায় একটা টেবিল টিনের দেওয়ালের সঙ্গে ঠেসে
তাকে ঘিরে প্লাস্টিকের তিন-পায়া তিনটে চেয়ার যেন ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় অনেক কষ্টে দাঁড়িয়ে আছে
টেবিলটা পুরানো হলেও যত্নের জন্য চকচক করছে
টেবিলের উপর প্লাস্টিকের একটা জগ
জগের গা ঘেঁষে একটি বাংলা কোরআন শরিফ
তার পাশে একটি বাইবেল; নিকটে একটি গীতা
টিনের সঙ্গে লাগানো কিছু পাঠ্যবই; সবগুলো পোস্টার দিয়ে বাঁধানো
গীতবিতানও দেখলাম, দেখলাম গল্পগুচ্ছ
সৈয়দ মুজতবা আলীর শবনমও দেখলাম
টেবিলের নিচে কয়েকটি ইটের উপর বেশ কিছু বই অতি যত্নে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে
এগুলো কী?
রাকু বলল, রবীন্দ্র রচনাবলি
বস্তিতে একসঙ্গে তিনটি ভিন্ন ধর্মের গ্রন্থ পাশাপাশি দেখে আমার চোখ বিস্ময়ে কপালে
জানার আগ্রহকে প্রবল চাপে চেপে রেখে দিলাম
জানার সময় যথেষ্ট আছে
রাকু আমার দিকে তাকিয়ে বলল, দেখুন স্যার - কয়েকদিন না-থাকায় ঘরটাকে কেমন নরক বানিয়ে ফেলেছে
তিনজন মিলে সারাদিন শুধু দুষ্টামি করে
বাবা মারা যাবার পর আরও সাংঘাতিক হয়ে গেছে