content
stringlengths
0
129k
সমালোচনা আছে সংস্থাটির নেতৃত্বের প্রশ্নেও
৭২ বছর বয়সী জাতিসংঘের বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে আগ্রহের কমতি নেই
কিন্তু সংগঠনটির প্রয়োজনীয় চৌকস নেতৃত্ব কিংবা সংস্কারের বিষয়টিতে কারো নজর নেই
জাতিসংঘের ব্যর্থতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্বপরাশক্তিরা
সামরিক বা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর হাতেই আছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব
আর বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সবকিছুতেই মেরুকরণের প্রবণতা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ জটিল করে তুলছে
বিভিন্ন দেশে বিশৃঙ্খলায় বিশ্বশক্তিরা সংঘর্ষে লিপ্ত দুই বা ততোধিক গোষ্ঠীকে প্রকাশ্যে বা গোপনে অস্ত্র বা অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে
নিরাপত্তা পরিষদের ৫ পরাশক্তি ভেটো ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় জাতিসংঘ এক্ষেত্রে অথর্ব
তাই ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের বর্বর হামলায় বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব উত্থাপনে আমেরিকা যখন বাদ সাধে, জাতিসংঘের তখন নির্বাক না থেকে আর উপায় নেই
আবার রোহিঙ্গাদের উপরে মিয়ানমার গণহত্যা চালালে জাতিসংঘের নিন্দা বিবৃতিও আটকে যায় চীনের ভেটোর কারণে
মূলত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ী দেশগুলোর সমন্বয়ে
সেক্ষেত্রে তারা নিজেদের স্বার্থ দেখবে এটাই স্বাভাবিক
এখানে বিশ্ব তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়
বরং সারাবিশ্বে বিশৃঙ্খলা, যুদ্ধ, মানবিক বিপর্যয় লাগিয়ে দিয়ে সেই ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত পরাশক্তিরা
শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫ রাষ্ট্রকেই দেখা যায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ লাগিয়ে রাখতে
জাতিসংঘের জন্মের পর থেকেই দুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত-সংঘর্ষ দেখা দিতে থাকে
জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রথম উদাহরণ হচ্ছে ইসরাইল নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি
১৯৪৮ সালের ১৪ মে প্যালেস্টাইন ভূমিতে ইসরাইল নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল জাতিসংঘেরই একটি প্রস্তাবে
সেই রাষ্ট্রটিকে দ্রুত স্বীকৃতিও দিল জাতিসংঘ
ইসরাইল এখন জাতিসংঘের একটি সদস্যরাষ্ট্র
কিন্তু সদস্যরাষ্ট্র নয় প্যালেস্টাইন!! মধ্যপ্রাচ্যে এ সংকটটি সৃষ্টির পেছনে জাতিসংঘেরও একটি প্রবল ভূমিকা রয়েছে
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানকে সঙ্গে নিয়ে প্যালেস্টাইনকে ভাগ করল, ইসরাইলকে বানাল, আর আমেরিকানরা তখন থেকেই এ ইসরাইলের গডফাদার হিসেবে দুনিয়ার জনমতকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রটিকে রক্ষা করেও চলেছে
তারপর কোরীয় যুদ্ধ, কিউবার বিরুদ্ধে আমেরিকার হুমকি-হামলা, ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ, আরব-ইসরাইল যুদ্ধ এবং সর্ব সাম্প্রতিক আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনে সংঘাত-সংঘর্ষ, আরাকানে গণহত্যা
জাতিসংঘ এসব দেশে শান্তি স্থাপনে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি, পারছেও না
১৯৯৪-এ রুয়ান্ডাতে ১০০ দিনে ১০ লাখ টুটসিকে হত্যা করল হুটিরা, জাতিসংঘ তা থামাতে পারল না
জাতিসংঘের এ ব্যর্থতাটিকে কেউ কেউ সংস্থাটির কলংক হিসেবে দেখে থাকেন
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অগ্রগতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যও কেমন বাড়ছে, অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনে তা স্পষ্ট
প্যালেস্টাইনিদের সন্ত্রাসী হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে
যেমনিভাবে সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়া হয়েছিল নেলসন ম্যন্ডেলাকে
জাতিসংঘে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন যে, বিশ্বে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং বিশ্বজুড়ে দ্বন্দ্ব শেষ হবে
তিনি আরও যোগ করেন যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ প্রবণতা এবং অভিবাসন সংকট শেষ হওয়ার জন্য জাতিসংঘের ভূমিকা প্রয়োজন
ইউএন মহাসচিব বান কি মুন জোর দিয়ে বলেছিলেন যে বিশ্বব্যাপী চলমান নিরাপত্তা সমস্যা এবং চরমপন্থী সহিংসতা শেষ হতে চলেছে
কিন্তু মোটেই তা হচ্ছে না
হেইট ক্রাইম, জাতিগত বিদ্বেষ, সংখ্যালঘুদের নির্মূলকরণ ইত্যাদি বেড়েই চলেছে
তার্কি প্রেসিডেন্ট রিসেফ তায়িপ এরদোয়ান এসব টোটাল বিষয়কে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, "জাতিসংঘের কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে, এটি কোন কাজের না
বিশ্বের পাঁচটি দেশের তুলনায় বিশ্ব অনেক বড়"
পাঁচটি রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার প্রতিষ্ঠানের নাম ইউনাইটেড নেশন হতে পারেনা
ইউনাইটেড নেশন স্বার্থ রক্ষা করবে সমগ্র পৃথিবীর
আমাদের আবার নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে
পাঁচটি রাষ্ট্রের কাছে সারাবিশ্ব জিম্মি থাকতে পারে না
বিশ্ব অবশ্যই পাঁচটি রাষ্ট্রের চাইতে বড়
আমাদের ৭২ বছরের ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের বিকল্প চিন্তা করার সময় এসে গেছে
#5
:
+
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
১৯৭১, ইতিহাস, রাজনীতি
জামায়াতে ইসলামী কেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙ্গনের বিরোধীতা করেছিল?
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭
জামায়াতে ইসলামীর অতীত ও বর্তমানের ভূমিকা থেকে একথা সুস্পষ্ট যে, আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী আপোসহীন
দুনিয়ার কোন স্বার্থে জামায়াত কখনও আদর্শ বা নীতির বিসর্জন দেয়নি
এটুকু মূলকথা যারা উপলব্ধি করে, তাদের পক্ষে ৭১-এ জামায়াতের ভূমিকা বুঝতে কোন অসুবিধা হবার কথা নয়
প্রথমত
মানুষের বেঁচে থাকার, বিশ্বাস অনুযায়ী চলার, পছন্দমত কাজ করার এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বাধীনতাই হচ্ছে প্রকৃত স্বাধীনতা
১৯৭১ সালে যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়েছিল তখন অন্য অনেকের মতই জামায়াতে ইসলামীও চিন্তা করেছিল এই সংগ্রাম পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা আনার পরিবর্তে বিশ্বাস ও কাজের যতটুকু স্বাধীনতা ৪৭ এর পাকিস্তান অর্জনের মাধ্যমে এসেছিল, তাও হাতছাড়া হয়ে যায় কিনা
এই আশংকা থেকেই জামায়াত ওই সময়ের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করতে পারেনি
শুধু জামায়াত নয়, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামীসহ অনেক দল এবং জনগণের বড় একটি অংশও স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেনি
বলাই বাহুল্য, পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াত সে সময় অতি ক্ষুদ্র একটি দল ছিল
দ্বিতীয়ত
বস্তুত বাংলাদেশ নামক যে জনপদে বর্তমানে আমরা বাস করছি, এই জনপদকে শুধু ১৯৭১ থেকে চিন্তা করলে হবেনা, এর ইতিহাস হাজার বছরের
সেই আর্য, পাল, সেন, সুলতানী, শাহী থেকে শুরু করে শায়েস্তা খান, ইসলাম খান, সিরাজুদ্দৌলা, ইংরেজ অতঃপর ৪৭ এর পাকিস্তান হয়ে বর্তমানের বাংলাদেশ
এর প্রতিটি ধাপেই বহুবার এই ভূখন্ডের মানচিত্র পরিবর্তন হয়েছে, নামের পরিবর্তন হয়েছে, শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, মানুষ কখনো স্বাধীনতা পেয়েছে, কখোনো বঞ্চিত হয়েছে
৪৭ এর পাকিস্তান-ভারত বিভাজনের আগে এই অঞ্চলের মানুষগুলো চরমভাবে নিষ্পেষিত ছিল ব্রিটিশ শাসক আর হিন্দু শেঠ ও জমিদারদের হাতে
৭১ এ বহু মানুষ বেঁচে ছিলেন যাদের স্মৃতিতে তখনও বৃটিশ-হিন্দুদের নিষ্পেষণ জ্বলজলে ছিল
৭১ এ ভারতের সহায়তায় যুদ্ধ করে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দূর্বল পূর্ব পাকিস্তান আদৌ পৃথক একটি রাষ্ট্র গঠিত হতে পারবে নাকি ভারতের মত চানক্যবাদী রাষ্ট্রের করাল গ্রাসে বিলিন হতে হবে তা নিয়ে আশংকা ছিল সচেতন মানুষের মনে
জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ ৪৭ এর অর্জন নস্যাত হয়ে ভারতের গোলামীতে পুনরায় ফিরে যাবার আশংকা থেকেই ৭১এর স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দিতে পারেনি
যে ইসলামী আন্দোলন এ ভূখন্ডে ইসলামী রাষ্ট্র দেখতে চায় তা ব্রাহ্মণবাদী ভারতের সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব তা পাগলেও বিশ্বাস করবে না
তৃতীয়ত
জামায়াত মনে করেছিল শেখ মুজিব যেমন পশ্চিম পাকিস্তানের আস্থা অর্জন করতে পারেনি তেমনি ভূট্টোও পূর্ব পাকিস্তানের আস্থা অর্জন করতে পারেনি
সুতরাং সমগ্র পাকিস্থানের একক কোন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি না থাকায় দুই দেশ পার্লামেন্টের মাধ্যমে এমনিতেই ভাগ হয়ে যেত
অনেক দেশই শান্তিপূর্নভাব স্বাধীন হয়ে গিয়েছে
ভারত-পাকিস্থান তার প্রকৃত উদাহরণ
জামায়াত মূলত এটাই চেয়েছিল
তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ছিল ভারতের সহায়তায় এদেশ স্বাধীন হলে এদেশ অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণভাবে ভারতের বাজারে পরিণত হবে যাকে কখনোই প্রকৃত স্বাধীন বলা যাবে না
এ কারনেই কিছুদিন আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন "জামায়াত যে আশঙ্কায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেনি, দেশ এখন সেদিকেই যাচ্ছে
"
চতুর্থত
আদর্শগত কারণেই জামায়াতের পক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও সমাজতন্ত্রের ধারক ও বাহকগণের সহযোগী হওয়া সম্ভব ছিল না
যারা ইসলামকে একটি পূর্ণাংগ জীবন বিধান বলে সচেতনভাবে বিশ্বাস করে, তারা এ দুটো মতবাদকে তাদের ঈমানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী মনে করতে বাধ্য
অবিভক্ত ভারতে কংগ্রেস দলের আদর্শ ছিল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ
জামায়াতে ইসলামী তখন থেকেই এ মতবাদের অসারতা বলিষ্ঠ যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছে
বাংলাদেশে যারা ভাঙ্গনের পক্ষে কাজ করেছিল তাদের অধিকাংশই ছিল সমাজতন্ত্রের ধারক ও বাহক
আর সমাজতন্ত্রের ভিত্তিই হলো ধর্মহীনতা
পঞ্চমত
পাকিস্তানের প্রতি ভারত সরকারের অতীত আচরণ থেকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ইন্দিরা গান্ধীকে এদেশের এবং মুসলিম জনগণের বন্ধু মনে করাও কঠিন ছিল
ভারতের পৃষ্ঠপোষকতার ফলে সঙ্গত কারণেই তাদের যে আধিপত্য সৃষ্টি হবে এর পরিণাম মংগলজনক হতে পারে না বলেই জামায়াতের প্রবল আশংকা ছিল
ষষ্ঠত
জামায়াত একথা বিশ্বাস করত যে, পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় বেশি হওয়ার কারণে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হলে গোটা পাকিস্তানে এ অঞ্চলের প্রাধান্য সৃষ্টি হওয়া সম্ভব হবে
তাই জনগণের হাতে ক্ষমতা বহাল করার আন্দোলনের মাধ্যমেই জামায়াত এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার অর্জন করতে চেয়েছিল
সপ্তমত
জামায়াত বিশ্বাস করত যে, প্রতিবেশী সম্প্রসারণবাদী দেশটির বাড়াবাড়ি থেকে বাঁচতে হলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্রভুক্ত থাকাই সুবিধাজনক
আলাদা হয়ে গেলে ভারত সরকারের আধিপত্য রোধ করা পূর্বাঞ্চলের একার পক্ষে বেশি কঠিন হবে
মুসলিম বিশ্ব থেকে ভৌগলিক দিক দিয়ে বিচ্ছিন্ন এবং ভারত দ্বারা বেষ্টিত অবস্থায় এ অঞ্চলের নিরপত্তা প্রশ্নটি জামায়াতের নিকট উদ্বেগের বিষয় ছিল
অষ্টমত
জামায়াত একথা মনে করত যে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যাপারে ভারতের সাথে সমমর্যাদায় লেনদেন সম্ভব হবে না