content
stringlengths
0
129k
পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যে সব জিনিস এখানে আমদানি করা হতো, আলাদা হবার পর সে সব ভারত থেকে নিতে হবে
কিন্তু এর বদলে ভারত আমাদের জিনিস সমপরিমাণে নিতে পারবে না
কারণ রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের আমাদের প্রয়োজন নেই
ফলে আমরা অসম বাণিজ্যের সমস্যায় পড়ব এবং এদেশ কার্যত ভারতের বাজারে পরিণত হবে
নবমত
জামায়াত পূর্ণাংগ ইসলামী সমাজ কায়েমের মাধ্যমেই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সমাজিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যা এবং সকল বৈষম্যের অবসান করতে চেয়েছিল
জামায়াতের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে,আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন কায়েম হলে বে-ইনসাফী, যুলুম ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে এবং অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের সত্যিকার মুক্তি আসবে
এসব কারণে জামায়াতে ইসলামী তখন আলাদা হবার পক্ষে ছিল না
কিন্তু ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে এদেশে যারাই জামায়াতের সাথে জড়িত ছিল, তারা বাস্তত সত্য হিসাবে বাংলাদেশকে একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র বলে মেনে নিয়েছে
যে জামায়াত বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য, ইসলামের আদর্শকে উচ্চকিত রাখার জন্য পাকিস্তান ভাঙ্গনের বিরোধীতা করেছে সে জামায়াত কখনোই বাংলাদেশবিরোধী হতে পারে
এই ভূখণ্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের অভিভাবকের ভূমিকা গ্রহণ করেছে জামায়াত
এই ভূখণ্ডকে সব ধরণের অকল্যাণ থেকে রক্ষার জন্য জামায়াতের কর্মীরা জীবনবাজী রাখতে প্রস্তুত
স্বাধীনতার বিরোধিতা আর যুদ্ধাপরাধ এক জিনিস নয়
মনে রাখতে হবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করা আর যুদ্ধের সময় অপরাধ করা এক জিনিস নয়
যে কোন একটি কাজের বিরোধিতা করার অধিকার সকলেরই আছে
এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত
৪৭ এ ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের বিরোধিতা করেছিলেন অনেকেই, কিন্তু পাকিস্তান হয়ে যাবার পর তা মেনে নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে তারা পাকিস্তানের শাষন ক্ষমতায়ও এসেছেন, তারা মনে করেছিলেন পাকিস্তান ভাগ না হওয়াটাই ভাল হবে
এ ধরণের বিরোধিতা চিন্তা ও মত প্রকাশ স্বাধীনতারই অংশ
শেরে বাংলা লাহোর প্রস্তাব করলেও ৪৬ এর নির্বাচনে পাকিস্তানপন্থিদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন, পরবর্তীতে সেই পাকিস্তানেরই মন্ত্রী হয়েছেন
জনাব সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম বড় নেতা ছিলেন
কিন্তু শেষ দিকে যখন বঙ্গদেশ ও আসামকে মিলিয়ে "গ্রেটার বেংগল" গঠন করার উদ্দেশ্যে তিনি শরৎ বসুর সাথে মিলে চেষ্টা করেন
তাঁর প্রচেষ্টা সফল হলে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতো না
তিনি পশ্চিমবঙ্গের লোক
পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক মুসলমানের স্বার্থরক্ষা এবং কোলকাতা মহানগরীকে এককভাবে হিন্দুদের হাতে তুলে না দিয়ে বাংলা ও আসামের মুসলমানদের প্রাধান্য রক্ষাই হয়তো তাঁর উদ্দেশ্যে ছিল
কিন্তু পরে যখন তিনি পূর্ববঙ্গে আসেন, তখন তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে পাকিস্তানের দুশমন বলে ঘোষণা করা হয় এবং চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কোলকাতায় ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়
অবশ্য তিনিই পরে পাকিস্তানের উজিরে আযম (প্রধানমন্ত্রী) হবারও সুযোগ লাভ করেন
বলিষ্ঠ ও যোগ্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করার প্রয়োজনে দুর্বল নেতারা এ ধরনের রাজনৈতিক গালির আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে
কিন্তু এ ধরনের গালি দ্বারা কোন দেশপ্রেমিক জননেতার জনপ্রিয়তা খতম করা সম্ভব হয়নি
তাই '৭১-এর ভূমিকাকে ভিত্তি করে যে সব নেতা ও দলকে "স্বাধীনতার দুশমন" ও "বাংলাদেশের শত্রু" বলে গালি দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে যতই বিষেদাগার করা হোক, তাদের দেশপ্রেম, আন্তরিকতা ও জনপ্রিয়তা ম্লান করা সম্ভব হবে না
*অধ্যাপক গোলাম আযমের লিখিত "পলাশী থেকে বাংলাদেশ" বই থেকে সংকলিত
:
+
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
গল্প
অন্ধকারের গল্প
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭ 1
রহিমা... রহিমা...
ঘুম থেকে উঠেই এই ডাকটিই ডাকতে হয় ছেরাজ মিয়াকে
বাবা মা নামটা সিরাজ রাখলেও সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়ে এখন এটা ছেরাজে পরিণত হয়েছে
ছেরাজের চোখে আলো নেই
উঠেই স্ত্রীকে ডাকে সে
স্ত্রী রহিমা যেখানেই থাকে এই ডাকে সাড়া দিয়ে ছুটে আসে
ছেরাজের হাত ধরে বিছানা থেকে নামায়
টয়লেটে পৌঁছে দেয়, নাস্তা করায়
শীতের দিনে বাইরে হালকা রোদে একটি পিঁড়ি পেতে বসিয়ে দেয়
আর গরমের দিনে গাছের ছায়ায়
বৃষ্টির দিনে ক্ষয়ে যাওয়া বারান্দায়
সারাদিন ছেরাজ নীরবে বসে থাকে
কারো সাথে কথা বলে না
সত্য বলতে কি কেউ তার সাথে কথা বলতে আসে না
একটু দূরে স্টেশনে রহিমা চা বিক্রি করে
আমি এই স্টেশনের নিয়মিত যাত্রী
এই স্টেশনে নেমেই আমাকে কলেজে যেতে হয়
রহিমার দোকানের কোন নাম বা কোন সাইনবোর্ড না থাকলেও কলেজের সব ছাত্র রহিমা খালার দোকান বললে এক নামেই চেনে
ভালো চা বানায় রহিমা খালা
ট্রেন আসা পর্যন্ত আমি ঠায় বসে থাকি রহিমা খালার দোকানে
পুনঃ পুনঃ চা খাওয়া আমার অভ্যাস
চা এর সুবাধে খালার সাথে ভালো পরিচয় থাকলেও কোনদিন জানতে চাই নি খালার বৃত্তান্ত
রেললাইনের পাশে শত রহিমা খালার বসবাস
কে কার খবর রাখে?
একদিন পড়ন্ত বিকেলে বসে চা খাচ্ছি অলসভাবে
হঠাৎ এক রহিমা বলে আর্ত চিৎকার! তাকিয়ে দেখি এক প্রায় বৃদ্ধ লোক হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল
রহিমা খালা ছুটে গেল
হাত ধরে নিয়ে বস্তির একটি ঘরের ভেতর ঢুকে গেল
বুঝলাম, লোকটা অন্ধ
একটা হাহাকার সৃষ্টি হলো মনে
আমার কাছে মনে হয় অন্ধ লোকরাই পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায়
অন্ধ লোক দেখলেই শিউরে উঠি
অজান্তেই নিজের চোখে হাত চলে যায়
স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞ হই, আমার চোখে তিনি আলো দিয়েছেন
খালা বেরিয়ে এলেন বস্তি থেকে
আবার দোকানের কাজ করতে থাকলেন
জিজ্ঞাসা করলাম, খালা উনি কে? সলজ্জ মুখে খালা বললেন, সোয়ামী
কলেজের বেতন, পরীক্ষার ফি বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার
দ্বিগুণের চাইতেও বেশি
আমাদের মত টিউশনি করে চলা ছাত্রদের জন্য এটা ছিল বড় ধরণের ধাক্কা
ছাত্ররা সবাই বললো আন্দোলন হবে
এভাবে চললে আমাদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হবে
কলেজের কোন হোস্টেল নেই
থাকতে হয় মেস করে
সেখানেও ভাড়া বাড়ায় বাড়িওয়ালা
দ্রব্যমূল্যেতো হু হু করে বাড়ছে
এর মধ্যে বেতন বাড়ানো আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে গেল
নির্দিষ্ট দিনে সবাই ক্লাস বর্জন করলো
ছাত্ররা সবাই মিছিল নিয়ে রাস্তায় বের হলো
সবার সাথে আমিও বের হলাম
পুলিশ অতর্কিতে আমাদের উপর আক্রমণ করলো
টিয়ার শেল নিক্ষেপ হচ্ছে
ভীষণ ধোঁয়া
চারদিকে অন্ধকার
চোখ জ্বলছে
হঠাৎ আমার কপালে ভীষণ আঘাত পেলাম
পড়ে গেলাম রাস্তায়
এরপর আর মনে নেই
যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখি এক মাঝবয়সি লোক আমার মাথার পাশে বসা