content
stringlengths
0
129k
আমার কপাল তিনি ভিজা রুমাল দিয়ে মুছে দিচ্ছেন
লোকটি কালো সানগ্লাস পরা
আরেকটু ভালো করে খেয়াল করতে যেই মাথা একটু তুলেছি বুঝতে পেরেছি মাথায় ভীষণ চোট
উহ শব্দ করে উঠলাম
লোকটি বললো, তুমি জেগেছ বাবা? জ্ঞান ফিরেছে বাবা? রহিমা... রহিমা...
চট করে বুঝে ফেললাম, লোকটা রহিমা খালার অন্ধ স্বামী
রহিমা খালা তখন উচ্চস্বরে কারো সাথে ঝগড়া করছে বলে মনে হচ্ছে
কান পেতে বুঝার চেষ্টা করলাম
পুলিশ সন্দেহ করছে রহিমা খালার ঘরের মধ্যে কোন প্রতিবাদকারী ছাত্র লুকিয়ে আছে
তারা সেই লুকিয়ে থাকা প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করতে চায়
কিন্তু রহিমা খালা মিথ্যা বলে আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন
অবশেষে সফল হলেন রহিমা খালা
পুলিশদের সাথে ঝগড়া করে তাদের ফিরিয়ে দিলেন
ঢুকতে দিলেন না ঘরে
রহিমা খালা আমাকে লুকিয়ে ফেললেন চৌকির ওপাশে ছোট্ট একটু জায়গা করে
জানতে পারলাম গোলাগুলি দেখে রহিমা খালা ছুটে যান
দেখেন আমি পড়ে আছি রাস্তায়
তিনি আরো কয়েকজনের সহায়তায় আমাকে তার বাড়িতে টেনে নিয়ে আসলেন
এভাবে ছিলাম দুই দিন
এই দুই দিনে আমার একান্ত সঙ্গি ছিলেন ছেরাজ মিয়া
স্বল্পভাষী ছেরাজ মিয়ার সবচেয়ে বেশি যে শব্দটা উচ্চারণ করেন তা হল "রহিমা"
দুদিন পর আমি অনেকটা সুস্থ
ছেরাজ মিয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি চোখ হারালেন কী করে?
বলতে শুরু করলেন ছেরাজ মিয়া
সেদিন ছিল শুক্রবার
রহিমার বাবা দাওয়াত দিলেন আমাদের
দুপুরের খানা খেতে
আমি তখন ছোট্ট মুদি দোকান করি টাঙ্গাইলে
শ্বশুর বাড়ি পাশের গ্রামেই
সকালে রওনা হই শ্বশুর বাড়ি
আমি রহিমা আর আমাদের ছোট্ট মেয়ে শরিফা
বিকালে ফিরতে চাইলে শাশুড়ি জোর করে বললো একদিন থেকে যেতে
অগত্যা থেকে গেলাম
সন্ধ্যায় রহিমা বললো শরিফার জন্য দুধ কিনে আনতে
বাড়িতে দুধ নাই
বের হতে যাব এমন সময় দেখলাম একদল পুলিশ আসছে
তারা বহুদিন ধরেই আমার শ্বশুরের কাছে চাঁদা চেয়ে আসছে
সেই চাঁদা নিতেই রহিমাদের বাড়ি আসলো
শ্বশুর তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন, তাদের দাবীকৃত এত টাকা দেয়ার সামর্থ নেই
কিন্তু কে শোনে কার কথা! তারা আমার শ্বশুরকে এরেস্ট করতে চাইলো
আমি বাধা দিলাম
প্রতিবাদ করলাম তাদের এই ডাকাতির
তারা অবশেষে আমাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেল
এবার টাকার অংক আরো বেড়ে গেল
পাঁচ লাখ টাকা চাইলো
আমরা গরীব মানুষ পাঁচ লাখ টাকা দূরের কথা এক লাখ টাকা দেয়ারও সামর্থ ছিল না
রহিমা এর ওর কাছ থেকে ধার করে পঞ্চাশ হাজার টাকা পুলিশকে দিয়েছিল
কিন্তু আমি প্রতিবাদ করে যে অপরাধ করেছি তার কোন প্রায়শ্চিত্য এই টাকায় হবে না
সারারাত ধরে চললো নির্যাতন
মার খেতে খেতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি
আবার জ্ঞান ফিরে
আমার মার খাই
আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলি
জ্ঞান ফিরলেই শুনি বাইরে রহিমা আর আমার মেয়ে শরিফা কান্না করছে
মাফ চাই পুলিশের পা ধরে
আর কোনদিন পুলিশের সাথে বেয়াদবি করবো না এসব কথা বার বার বলি
তবুও মাফ হয় না আমার অপরাধের
অবশেষে শেষরাতে থানার ওসি আসলো
আমি ভাবলাম পা ধরে মাফ চাইলে তিনি হয়তো আমাকে মাফ করে দিবেন
আমি আমার দোকান বিক্রি করে সব টাকাও দিতে চাইলাম
কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না
ওসি একটা স্ত্রু ড্রাইভার নিয়ে এলেন
নিজ হাতেই গেলে দিলেন আমার ডান চোখ
ভীষণ যন্ত্রনায় চিৎকার করলাম
গগনবিদারী সেই চিৎকারে থানার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা রহিমা আর মেয়ে শরিফা ছুটে এলো
একনজর তাদের দেখলাম
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া
তিনি আমাকে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে রহিমা আর শরিফার চেহারা দেখালেন
এই দু'টি চেহারাই আমার দুনিয়াতে সবচেয়ে প্রিয়
বাবা-মাকে কবে হারিয়েছি মনে নেই
বড় হয়েছি এতিমখানায়
আমার স্বজন বলতে এই রহিমা আর শরীফাই
ডান চোখের ভয়ংকর যন্ত্রনা সামলাতে না সামলাতেই ওসির সেই ভয়ানক স্ক্রু ড্রাইভার এবার আক্রমণ করলো আমার বাম চোখ
দপ করে আমার আলো নিভে গেল
সেদিন থেকে অন্ধকার
ভীষণ অন্ধকার
আজ বাংলাদেশে শুধু আমি অন্ধ নই, স্বৈরাচারের দেশে গোটা দেশই যে আজ অন্ধ
:
+
নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম
ফেসবুক পাতা
টুইটারে সাথে থাকুন
@_
বহুলপঠিত
কালো পঁচিশ কি আসলেই কালো?
২৫ মার্চের আলোচনায় যাওয়ার আগে একটা ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি
আপনারা জানেন চট্টগ্রামে ছাত্রশিবির এবং জামায়াতের ব্যপক প্রভাব
চট্টগ্রামের আ. ল...
১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী কারা?
১৯৭১ সালে নিহতদের মধ্যে যারা বুদ্ধিজীবী হিসেবে চিহ্নিত এরকম আছেন প্রায় ৩৬ জন
এদের মধ্যে আঠার জন ১৪ই ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেছেন
বা...
৭ নভেম্বর কী হয়েছিল? কারা ঘটিয়েছিল? কেন ঘটিয়েছিল?
খালেদ মোশাররফ, কর্নেল তাহের, জিয়াউর রহমান ২ থেকে ৭ নভেম্বর
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কুয়াশাচ্ছন এবং ঘোলাটে অধ্যায়