content
stringlengths 0
209k
|
|---|
'
|
'ধোনিই প্রথম মানুষ, যিনি ওই কঠিন পরিস্থিতিতেও আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন
|
আমি ঠিক কী ধরনের মানুষ, সেটা উনি জানতেন
|
অন্যদের তুলনায় উনি আমাকে অনেকটাই বেশি চিনতেন
|
মাহি ভাই আমার হৃদয়ের সবথেকে কাছে রয়েছে
|
একমাত্র ওনার কথাতেই আমি শান্ত হতাম
|
'
|
হার্দিক আরও যোগ করেন, 'যখন এইসব বিতর্ক চলছিল, উনি ভালো করেই জানতেন আমার একটা সাহায্য দরকার ছিল
|
আমার একটা ভরসার কাঁধ দরকার ছিল
|
ক্রিকেট কেরিয়ারে উনি বহুবার সেই কাঁধটা আমার জন্য বাড়িয়ে দিয়েছেন
|
আমার কাছে ধোনি কোনও কিংবদন্তি ক্রিকেটার নন, মাহি আমার দাদা
|
'
|
আরবের মরুদুলাল শেষনবী মুহাম্মদ (ছাঃ) মক্কায় জন্মগ্রহন করেন
|
তাই আমরা প্রথমে আরবদেশ সম্পর্কে আলোকপাত করব
|
তাই আমরা প্রথমে আরবদেশ সম্পর্কে আলোকপাত করব
|
আরবের অবস্থান স্থল:
|
মক্কাকে পৃথিবীর নাভীস্থল বলা হয়
|
কুরআনে একে "উম্মুল ক্বোরা" বা "আদি জনপদ" বলা হয়েছে (আনআম ৬/৯২; শূরা ৪২/৭)
|
তিনদিকে সাগর বেষ্টিত প্রায় ১৩ লক্ষ বর্গমাইল ব্যপী আরব উপদ্বীপ কেবল পুথিবীর মধ্যস্থলেই অবস্থিত নয়, বরং এটি তখন ছিল চতুর্দিকের সহজ যোগাযোগস্থল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রভূমি
|
বর্তমানে ফ্রান্সের প্রায় দ্বীগুণ এই বিশাল ভূখণ্ডটির অধিকাংশ এলাকা মরুময়
|
অথচ এই ধূসর মরুর নীচে রয়েছে আল্লাহর রহমতের ফাল্গুধারা, বিশ্বের মূল্যবান তরল সোনার সর্বোচ্চ রিজার্ভ
|
এর পশ্চিমে লোহিত সাগর, পূর্বে আরব সাগর এবং উত্তরে সিরিয়া ও ইরাকের ভূখণ্ড
|
পানিপথ ও জলপথে আরব উপদ্বীপ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ তিনটি মহাদেশের সাথে যুক্ত
|
আদি পিতা আদম, নূহ, ইদ্রিস, ছালেহ, ইব্রাহীম, লূত, ইসমাঈল, ইসহাক্ব, ইয়াকুব. শুয়ায়েব, মূসা, দাউদ, সুলায়মান, ইলিয়াস, যাকারিয়া, ইয়াহহিয়া, ঈসা (আঃ) এবং আমাদের সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (ছাঃ) সহ সকল নবী ও রাসূলের আবির্ভাব ও কর্মস্থল ছিল এই পবিত্র ভূখণ্ড
|
এর প্রথম কারণ ছিল অনুর্বর এলাকা হওয়ার কারণে পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার সঙ্গে আরবদের নিয়মিত বাণিঝ্যিক যোগাযোগ থাকায় এখানে নবুঅতের দাওয়াত দিলে তা সাথে সাথে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত
|
দ্বিতীয় কারণ: এই ভূখণ্ডে ছিল দুটি পবিত্র স্থানের অবস্থিতি
|
প্রথমটি এবং সর্বশ্রেষ্ঠটি ছিল মক্কার বায়তুল্লাহ বা কা'বা শরীফ
|
যা হযরত আদম (আঃ) কতৃক প্রথম নির্মিত হয়
|
অতঃপর ইবরাহীম ও তৎপুত্র ইসমাঈলের হাতে পুনঃনির্মিত হয়
|
দ্বিতীয়টি ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস, যা কা'বা গৃহের চল্লিশ বছর পর আদম পুত্রের কারো হাতে নির্মিত হয়
|
অতঃপর ইব্রাহীমের পৌত্র ইয়াকূব বিন ইসহাক (আঃ) কতৃক নির্মিত হয়
|
অতঃপর দাউদ ও সুলাইমান (আঃ) কতৃক পুন:নির্মিত হয়
|
ইব্রিাহীম পুত্র ইসমাঈল -এর বংশধরগণ মক্কা এলাকা আবাদ করেন এবং বংশ পরম্পরায় তাঁরাই বায়তুল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণ, হাজী ছাহেবদের জানমালের হেফাযত, তাদের পানি সরবরাহ ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেন
|
অন্যদিকে ইবরাহীমের কনিষ্ঠ পুত্র ইসহাক (আঃ) -এর বংশধরগণ বায়তুল মুকাদ্দাস তথা আজকের ফিলিস্তীন এলাকায় বসবাস করেন
|
ইসহাকপুত্র ইয়াকুব (আঃ) -এর অপর নাম ছিল ইসরাঈল
|
সেকারণে তাঁর বংশধর বনু ইসরাঈল নামে খ্যাত
|
এভাবে আরব উপদ্বীপের দুই প্রধান এলাকা সহ পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র ইবরাহীমের বংশধর বনু ইসমাঈল ও বনু ইসরাঈল কর্তৃক তাওহীদের দাওয়াত প্রসার লাভ করে
|
সাথে সাথে তাদের সম্মান ও প্রতিপত্তি সর্বত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে
|
আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ নির্বাচন করেছেন আদম ও নূহকে এবং ইবরাহীম পরিবার ও ইমরান পরিবারকে জগত বাসীর মধ্য হতে
|
তাঁরা একে অপরের সন্তান
|
আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ" (আলে ইমরান ৩/৩৩-৩৪)
|
রাজনৈতিক অবস্থা:
|
এই সময়ে আরবের দক্ষিণাংশে ছিল হাবশার সম্রাজ্য, পূর্বাংশে ছিল পারসিক সম্রাজ্য এবং উত্তরাংশের ভূখণ্ড সমূহ ছিল রোমক সম্রাজ্যের করতলগত
|
সম্রাট শাসিত এইসব অধিবাসীগণ সবাই ছিল ধর্মের দিক দিয়ে খৃষ্টান
|
যদিও প্রকৃত ধর্ম বলে সেখানে কিছুই ছিল না
|
মক্কা ও ইয়াছবির (মদিনা) সহ আরবের বাকি ভূখণ্ডেল লোকেরা স্বাধীন ছিল
|
তাদের কোন কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা ছিল না
|
তবে তারা গোত্রপতি শাসিত ছিল
|
তাদের মধ্যে দুঃসাহসিকতা ও বেপরোয়া ভাবটা ছিল বেশী
|
তাদের মধ্যে যেমন অসংখ্য দোষ-ত্রুটি ছিল, তেমনি ছিল অনন্য সাধারণ গুণাবলী, যা অন্যত্র কদাচিত পাওয়া যেত
|
তাদের সৎসাহস, আমানতদারী, সত্যবাদিতা, কাব্য প্রতিভা, স্মৃতিশক্তি, অতিথিপরায়ণতা ছিল কংবদন্তিতুল্য
|
বছরে চার মাস তাদের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল
|
মক্কার লোকেরা ইহুদি বা খৃষ্টান ছিল না
|
তারা নিজেদেরকে ইবরাহীম (আঃ) এর একান্ত অনুসারী হিসাবে 'হানীফ' (একনিষ্ঠ একত্ববাদী) বলত
|
মক্কা ছিল সমগ্র আরব ভূখণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু এবং সম্মান ও মর্যাদায় শীর্ষস্থানীয়
|
সেকারণে খৃষ্টান রাজারা এর উপরে দখল কায়েম করার জন্য বারবার চেষ্টা করত
|
এক সময় ইয়েমেনের নরপতি আবরাহা নিজ রাজধানীতে স্বর্ণ-রৌপ্য দিয়ে কাবা গৃহের আদলে একটি সুন্দর গৃহ নির্মাণ করেন এবং সবাইকে সেখানে হজ্জ করার নির্দেশ জারি করেন
|
কিন্তু জনগণ তাতে সাড়া দেয় নি
|
বরং কে একজন গিয়ে ঐ নকল কাবা গৃহে (?) পায়খানা করে আসে
|
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে প্রায় ৬০,০০০ সৈন্য ও হস্তিবাহিনী নিয়ে মক্কায় অভিযান করে কাবা গৃহকে ধংস করার জন্য
|
অবশেষে আল্লাহর গযবে তিনি নিজে তার সৈন্যসামন্ত সহ ধংস হয়ে যান
|
এতে মক্কার সম্মান ও মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পায় এবং এ ঘটনা বণিকদের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে
|
শেষনবী মুহাম্মদ (ছাঃ) এর ৫০ বা ৫৫ দিন পূর্বে এই অলৌকিক ঘটনা ঘটে
|
বস্তুতঃ এটা ছিল শেষ নবীর আগমনের আগাম শুভ সংকেত
|
সমস্ত আরব ভূখণ্ডে মক্কার ব্যবসায়ীদের মর্যাদা ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত
|
তারা শীতকালে ইয়েমেনে ও গ্রষ্মকালে শাম বা সিরিয়ায় ব্যবসার জন্য যাতায়াত করত
|
কিন্তু এই দীর্ঘ সফরে কখনো তাদের কাফেলা লুট হতো না
|
হারাম শরীফের মর্যাদার কারণে আপামর জনগণের কাছে তাদের মর্যাদা এমন ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল যে, চোর-ডাকাতেরাও তাদের সমীহ করত
|
এটাই যেখানে বাস্তবতা সেখানে তাদেরকে 'জাহেলী আরব' কেনো বলা হয়? এর কারণ সম্ভবত এটাই ছিল যে, তারা ইবরাহীম (আঃ) -এর অনুসারী হবার দাবীদার হওয়া সত্বেও আল্লাহর বিধানকে অগ্রাহ্য করেছিল এবং খোদ আল্লাহর ঘরেই মূর্তি পূজা শুরু করেছিল
|
তারা শেষ নবীকে চিনতে পেরেও তাঁকে অস্বীকার করেছিল
|
নিঃসন্দেহে এটা ছিল সবচেয়ে বড় জাহেলিয়াত ও সবচেয়ে বড় মূর্খতা
|
আর একারণেই তো "জ্ঞানের পিতা" আবুল হেকাম -কে "মূর্খতার পিতা" আবু জাহলকে দেওয়া হল
|
এক্ষনে আমরা মক্কার শিরক প্রসারের ইতিবৃত্য সংক্ষেপে বর্ণনা করব :-
|
মক্কার ধর্মীয় অবস্থা (শিরকের প্রচলন):
|
মক্কার লোকেরা মূলতঃ হযরত ইসমাঈল (আঃ) -এর বংশধর ছিল এবং তারা জন্মগতভাবেই তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতে বিশ্বাসী ছিল
|
তারা কাবা গৃহকে যথার্থভাবেই আল্লাহর গৃহ বা বায়তুল্লাহ বলে বিশ্বাস করত এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ করত
|
তারা এখানে নিয়মিতভাবে তাওয়াফ, সাই ও হজ্জ করত এবং বহিরাগত হাজীদের নিরাপত্তা ও পানি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করত
|
কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত কোন নবী না আসায় শয়তানী প্ররোচনায় তাদের সমাজ নেতা ও ধনিক শ্রেনীর অনেকে পথভ্রষ্ট হয়ে যায় এবং তাদের মাধ্যমেই মূর্তি পূজার শিরকের সূচনা হয়, যেভাবে ইতিপূর্বে নুহ (আঃ) -এর সমাজে হয়েছিল
|
োর-ডাকাতেরাও তাদের সমীহ করত
|
এটাই যেখানে বাস্তবতা সেখানে তাদেরকে 'জাহেলী আরব' কেনো বলা হয়? এর কারণ সম্ভবত এটাই ছিল যে, তারা ইবরাহীম (আঃ) -এর অনুসারী হবার দাবীদার হওয়া সত্বেও আল্লাহর বিধানকে অগ্রাহ্য করেছিল এবং খোদ আল্লাহর ঘরেই মূর্তি পূজা শুরু করেছিল
|
(১) কুরায়েশ বংশের বনু খোযা'আহ গত্রের সর্দার আমর বিন লুহাই অত্যন্ত ধার্মিক, দানশীল এবং দরবেশ স্বভাবের লোক ছিলেন
|
লোকেরা তাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করত এবং অন্ধভক্তি পোষন করত
|
তাকে আরবের শ্রেষ্ঠ আলেম ও অলি-আউলিয়াদের মধ্যে গণ্য করা হত
|
অতএব শয়্তান তাকেই বেছে নিল তার কার্যসিদ্ধির জন্য
|
একবার তিনি শামে গিয়ে দেখলেন যে, সেখানকার লোকেরা জমকালো আয়োজনের সাথে "হোবল" নামক মূর্তির পূজা করে
|
এর অসীলায় তারা বৃষ্টি প্রার্থনা করে
|
আমর ভাবল অসংখ্য নবী-রাসূলের জন্ম ও কর্মভূমি এই শামের ধার্মিক লোকেরা যখন এই হোবল মূর্তির অসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করে তখন আমরাও এটা করলে উপকৃত হব
|
ফলে বহু মুল্যের বিনিময়ে আমর একটা হোবল মূর্তি খরিদ করে নিয়ে গেল এবং মক্কার নেতাদের রাজি করিয়ে কা'বাগৃহে স্থাপন করল
|
কথিত আছে যে, একটা জীন আমরের অনুগত ছিল
|
(২) আর সেই তাকে খবর দেয় যে, নূহ (আঃ) -এর সময়কার অদ, সুওয়া, ইয়াগূছ, ইয়াউক্ব, নাসর (নূহ ৭১/২৩) প্রতিমাগুলো জেদ্দার অমুক স্থানে মাটিতে গ্রোথিত আছে
|
আমর সেখানে গিয়ে সেগুলো উঠিয়ে এনে তেহামায় রেখে দিলো
|
অতঃপর হজ্জ এর মৌসুমে সেগুলিকে বিভিন্ন গোত্রের হাতে সোপর্দ করে দিলো
|
এসব মূর্তি ছাড়াও আরবের প্রাচিনতম মূর্তি ছিল লোহিত সাগরের নিকটবর্তী মুসাল্লাল নামক স্থানের "মানাত", ত্বায়েফের "লাত" এবং নাখলা উপত্যকার " ওয্যা" সবচাইতে প্রসিদ্ধ
|
এভাবে আস্তে আস্তে আরবের ঘরে ঘরে মূর্তির প্রচলন ঘটে
|
ফলে মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কা'বা গৃহে ৩৬০টি মূর্তি দেখতে পান এবং সবগুলো বের করে এনে ভেঙ্গে গুড়ো করে দেন ও কা'বাগৃহ পানি দিয়ে ধুয়ে সাফ করে ফেলেন
|
বিদআতের প্রচলন:
|
মূর্তিপূজা সত্ত্বেও তারা ধারণা করত যে, তারা দ্বীনে ইবরাহীমের উপর দৃঢ়ভাবে কায়েম আছে
|
কেননা আমর বিন লুহাই তাদের বুঝিয়েছিল যে, এগুলি ইবরাহীমী দ্বীনের বিকৃতি নয়, বরং 'বিদআতে হাসানাহ'
|
অর্থাৎ ভালো কিছুর সংযোজন মাত্র
|
এজন্য সে বেশ কিছু ধর্মীয় রীতি-পদ্ধতি আবিস্কার ও চালু করেছিল
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.