content
stringlengths 0
209k
|
|---|
যেমন-
|
(১) তারা মূর্তির পাশে বসে তাকে উচ্চকণ্ঠে আহবান করত ও তাদের অভাব মোচনের জন্য অনুনয় বিনয় করে প্রার্থণা জানাতো
|
তারা ধারণা করত যে, এই মূর্তি তাদের আল্লাহর নৈকট্যশীল করবে (যুমার ৩৯/৩) এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট সুফারিশ করবে (ইউনুস ১০/১৮)
|
(২) তারা মূর্তির উদ্দেশ্যে হজ্জ করত, তাওয়াফ করত, তার সামনে প্রণত হত ও সিজদা করত
|
(৩) তারা মূর্তির জন্য নযর-নেয়ায নিয়ে আসত
|
সেখানে মূর্তির নামে কুরবানী করত (মায়েদাহ ৫/৬)
|
(৪) তারা মূর্তিকে খুশি করার জন্য গবাদি পশু ও তাদের জন্য চরণক্ষেত্র মানত করত
|
যাদের কেউ ব্যবহার করতে পারত না (আনআম ৬/১৩৮-১৪০)
|
(৫) তারা তাদের বিভিন্ন কাজের ভালো-মন্দ ফলাফল ও ভাগ্য নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন প্রকার তীর ব্যবহার করত
|
যাতে হ্যা, না, ভালো, মন্দ ইত্যাদি লেখা থাকত
|
হোবল দেবতার খাদেম সেগুলো একটি পাত্রের মধ্যে ফেলে অতঃপর তাতে ঝাকুনি দিয়ে তীরগুলি ঘুরিয়ে ফেলত
|
অতঃপর যে তীরটা বেরিয়ে আসত, সেটাকেই তারা ভাগ্য মনে করত
|
(৬) এতদ্ব্যতীত তারা জোতিষীদের কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করত এবং বিশেষ বিশেষ নক্ষত্রকে মঙ্গল-অমঙ্গলের কারণ মনে করত
|
(৭) তারা পাখি উড়িয়ে দিয়ে কাজের শুভাশুভ ও ভাল-মন্দ নির্ধারণ করত
|
দ্বীনে ইবরাহীমে উক্ত শিরক ও বিদআতসমূহ চালু করার পরেও তাদের অহংকার ছিল এই যে, (১) আমরা ইবরাহীম (আঃ) -এর দ্বীনে হানীফের খাটি অনুসারী
|
তারা কা'বা গৃহের সংরক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক
|
অতএব তাদের সমকক্ষ আরব ভুখণ্ডে কেউ নেই
|
তাদের এই বড়ত্ব ও আভিজাত্যের অহংকার এতদূর পৌছে গিয়েছিল যে, তারা যেহেতু "হুমস" অর্থাৎ "সবচাইতে বড় বীর ও বড় ধার্মিক" অতএব তাদের পক্ষে "হারাম" -এর সীমানার বাইরে কোন হালাল এলাকায় যাওয়াটা মর্যাদাকর নয়
|
তারা যেহেতু "ক্বাতীন" বা " আহলুল্লাহ" অর্থাৎ " আল্লাহর ঘরের বাসিন্দা" সেকারণে হজ্জের মৌসুমে "মুযদালিফায়" অবস্থান করত, যা ছিল হারাম এলাকার অভ্যন্তরে
|
হারামের বাইরে হওয়ার কারণে তারা আরাফাতের ময়দানে যেত না বা সেখান থেকে মক্কায় ফিরে আসা অর্থাৎ "তাওয়াফে আফাযাহ" করত না
|
যা ছিল হজ্জের সবচেয়ে বড় রুকন
|
তারা মুযদালিফায় অবস্থান করত এবং সেখান থেকে মক্কায় ফিরে আসত
|
সেজন্য আল্লাহ নির্দেশ দেন, " অতঃপর তোমরা ঐ স্থান থেকে ফিরে এসো তাওয়াফের জন্য, যেখান থেকে লোকেরা ফিরে আসে (অর্থাৎ আরাফাত থেকে)
|
(বাক্বারাহ ২/১৯৯)
|
(২) এতদ্ব্যতীত তারা নিজেরা ধর্মীয় বিধান রচনা করেছিল যে, বহিরাগত হাজীগণ মক্কায় এসে প্রথম তাওয়াফের সময় তাদের পরিবেশিত ধর্মীয় কাপড় পরিধান করবে
|
সম্ভবতঃ এটা তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থদুষ্ট বিদআত ছিল
|
যদি কেউ (আর্থিক কারণে বা অন্য কারণে) তা সংগ্রহে ব্যর্থ হয়, তবে পুরুষরা সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে এবং মেয়েরা সব কাপড় খুলে রেখে কেবল ছোট্ট একটা কাপড় পরে তাওয়াফ করবে
|
এতে তাদের দেহ এক প্রকার নগ্নই থাকত
|
এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন, "হে বনু আদম! প্রতিবার মসজিদে উপস্থিত হবার সময় তোমাদের পোষাক পরিধান কর" (আরাফ ৭/৩১)
|
তাদের কাছ থেকে "হুমস" কাপড় কিনতে বাধ্য করার জন্য তারা এ বিধানও করেছিল যে, যদি বহিরাগত কেউ উত্তম পোষাকে এসে ত্বাওয়াফ করে, তাহলে ত্বাওয়াফ শেষে তাদের ঐ পোষাক খুলে রেখে যেতে হবে
|
যার দ্বারা কেউ উপকৃত হত না
|
(৩) তাদের বানানো আরেকটা বিদআতী রীতি ছিল এই যে, তারা এহরাম পরিহিত অবস্থায় স্ব স্ব বাড়ীর সম্মুখ দিক দিয়ে প্রবেশ করবে
|
কিন্তু বাকী আরবরা সকলে স্ব স্ব বাড়ির পিছন দিকের সরু পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করবে
|
সম্মুখ দরজা দিয়ে নয়
|
এভাবে তারা তাদের ধার্মিকতার ক্ষেত্রে বৈষম্যগত শ্রেষ্ঠত্যের গৌরব সারা আরবের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিয়েছিল
|
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,
|
" আর পিছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোন মঙ্গল নেই
|
বরং মঙ্গল রয়েছে আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে
|
তোমরা ঘরে প্রবেশ কর সম্মুখ দরজা দিয়ে" (বাক্বারা ২/১৮৯)
|
উপরোক্ত আলোচনায় তৎকালীন আরবের ও বিশেষ করে মক্কাবাসীদের মধ্যে প্রচলিত শিরক ও বিদআতসমূহের একটা চিত্র পাওয়া গেল
|
যা তারা ইবরাহীম (আঃ) -এর একত্ববাদী দ্বীনে হানীফের মধ্যে ধর্মের নামে চালু করেছিল
|
ইয়াছরিবের ইহুদী-নাছারাদের অবস্থা:
|
অপর পক্ষে যারা ইহুদী-নাছারা ছিল, যারা প্রধানতঃ ইয়াছরিবে (মদীনায়) বসবাস করত, যারা অত্যাচারী রাজা বখত নছর কতৃক কেনআন (ফিলিস্তিন) থেকে উৎখাত হওয়ার পর ইয়াছরিবে এসে বসবাস শুরু করেছিল এই উদ্দেশ্যে যে, তারা বায়তুল মুকাদ্দাস হারিয়েছে, অতএব তারা এখন বায়তুল্লাহর নিকটবর্তী থাকবে এবং নিয়মিত হজ্জ-ওমরাহর মাধ্যমে পরকালীন পথেয় হাছিল করবে
|
দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল যে, আখেরী নবীর আবির্ভাব যেহেতু মক্কায় হবে এবং তার আবির্ভাবের সময় আসন্ন, অতএব তারা দ্রুত তার দ্বীন কবুল করবে এবং তার নেতৃত্বে আবার বায়তুল মুক্বাদ্দাস দখল করবে
|
তবে তাদের ধারণা ছিল আখেরী নবী অবশ্যই তাদের বংশ থেকে হবেন
|
কিন্তু তা না হওয়াতেই হল যত বিপত্তি
|
তাদের মধ্যে তাওরাত-ইঞ্জিলের কোন শিক্ষা অবশিষ্ট ছিল না
|
তাদের ধর্ম ও সমাজ নেতারা ভক্তদের কাছে "রব" এর আসন দখল করেছিল
|
ইহুদীরা ওযায়েরকে আল্লাহর বেটা বানিয়েছিল এবং নাছারারা মসীহ ঈসাকে একইভাবে দাবী করেছিল (তওবাহ ৯/৩০-৩১)
|
বরং তারা মারিয়াম, ঈসা ও আল্লাহকে নিয়ে তিন উপাস্যের সমন্বয়ে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী হয়ে পড়েছিল (মায়েদাহ ৫/৭৩)
|
তাদের পীর-দরবেশরা বাতিল পন্থায় ধর্মের নামে মানুষের অর্থ-সম্পদ লুট করত এবং তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতো (তওবাহ ৯/৩৪)
|
আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তারা তা হারাম করত না (তওবাহ ৯/২৯)
|
এক কথায় তাওরাত-ইঞ্জিলের বাহক হবার দাবীদার হলেও তারা ছিল পূরা সেচ্ছারী দুনিয়াদার
|
আরবের সামাজিক অবস্থা:
|
(ক) নারীদের অবস্থা: তৎকালীন আরবে বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন বাস করত
|
সেখানকার অভিজাত শ্রেণির লোকদের অবস্থা তুলনামূলকভাবে খুবই উন্নত ছিল
|
পুরুষ প্রধাণ সমাজ ব্যবস্থা থাকলেও নারীদের ছিল মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান
|
পরিবারে পুরুষ ও মহিলাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল মর্যাদা ও নায় ভিত্তিক ব্যবস্থার উপর প্রতিষ্ঠিত
|
বহু ব্যপারে মহিলাদের স্বাধীনতা দেওয়া হত
|
তাদের যুক্তিসঙ্গত কথাবার্তার যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হত
|
অভিজাত পরিবারের মহিলাদের রক্ষণাবেক্ষন ও তাদের মান সম্মান অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারে সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখা হত
|
তাদের মর্যাদা হানিকর কোন অবস্থার উদ্ভব ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে তরবারি কোষমুক্ত হয়ে যেত
|
মহিলাদের মর্যাদা এতই উচুতে ছিল যে, বিবদমান গোত্রগুলিকে একত্রিত করে সন্ধিচুক্তি মম্পাদনেও তারা সক্ষম হত
|
পক্ষান্তরে তাদের উত্তেজিত বক্তব্যে ও কাব্য গাথায় যেকোন সময় দুই গোত্রে যুদ্ধ বেধে যেতে পারত
|
ওহুদের যুদ্ধে আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা তার সাথী মহিলাদের নিয়ে মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে এই কাজটিঈ করেছিল
|
তাদের মধ্যে বিবাহ পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত উচু মানের
|
উভয় পক্ষের অভিভাবকগণের সম্মতি ও কনের স্বীকৃতি লাভের পর বর কনেকে নির্ধারিত মোহরানা দিয়ে বিয়ে করতে পারত
|
বিয়েতে ও সন্তানের আক্বীকাতে সমাজ নেতাদের দাওয়াত করে ধুমধামের সাথে অনুষ্ঠান করা তাদের সামাজিক রেওয়াজ ছিল
|
অপরপক্ষে সাধারণ ও দরিদ্র শ্রেণির আরবদের মধ্যে ছিল এর বিপরীত চিত্র
|
তাদের মধ্যে চার ধরনের বিবাহ চালু ছিল
|
এক ধরনের ছিল অভিজাত শ্রেণীর মত পারস্পরিক সম্মতি ও মোহরানা বিনিময়ে বিবাহ পদ্ধতি
|
কিন্তু বাকী তিনটাকে বিবাহ না বলে স্পষ্ট ব্যভিচার বলা উচিত
|
যা ভারতীয় হিন্দু সমাজে রাক্ষস বিবাহ, গান্ধর্ব্য বিবাহ ইত্যাদি নামে আধুনিক যুগেও চালু আছে বলে জানা যায়
|
আরবীয় সমাজে স্বাধীনা ও দাসী দুই ধরনের নারীদের অস্তিত্ব ছিল
|
দাসীদের অবস্থা ছিল মানবেতর
|
তারা বাজার-ঘাটে বিক্রয় হত
|
মনিবের মনোরঞ্জনই ছিল তাদের প্রধান কাজ
|
স্বাধীনাগণ সমাজে সম্মানিতা হিসাবে গণ্য হতেন
|
(খ) গোত্রীয় সমাজ ব্যবস্থা: আরবদের সমাজ ব্যবস্থা গোত্র প্রধান হওয়ার কারনে বংশীয় ও আত্বীয়তার সম্পর্ককে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হত
|
মারামারি ও হানাহানিতে জর্জরিত উক্ত সমাজে কেবল গোত্রীয় ঐক্যের সুদৃঢ় বন্ধনের উপর নির্ভর করেই তাদের টিকে থাকতে হত
|
নায়-অন্যায় সবকিছু নির্ণিত হত গোত্রীয় স্বার্থের নিরিখে
|
আজকালকের কথিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সমাজ ব্যবস্থায় যে উৎকট দলতন্ত্র আমরা লক্ষ্য করছি, তা জাহেলী আরবের সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে অনেকটা তুলনীয়
|
বরং তাদের চাইতে নিম্নতর স্তরের দিকে আমরা ধাবিত হচ্ছি
|
কেননা তখনকার যুগের ক্ষয়-ক্ষতির চাইতে আজকের যান্ত্রিক যুগের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অকল্পনীয়ভাবে বেশী
|
গোত্রসমূহের মধ্যে প্রায়ই যুধ-বিগ্রহ লেগে থাকত
|
সেকারণে তারা অধিক সংখায় পুত্র সন্তান কামনা করত
|
অধিক সংখ্যক ভাই ও পুত্র সন্তানের মালিককেই সবাই সমীয় করত
|
যুদ্ধে পরাজিত হলে নারীদের বেইযযতি ও তাদের লুট করে নিয়ে যাওয়ার ভয়ে অথবা দারিদ্রতার কারণে অনেকে কন্যা সন্তানকে শিশুকালেই হত্যা করে ফেলত
|
তাদের কোন গোত্রীয় আর্থিক রিজার্ভ ছিল না
|
যুদ্ধ শুরু হলে সবাই প্রয়োজনীয় ফান্ড গোত্র নেতার কাছে জমা করত ও তা দিয়ে যুদ্ধের খরচ মেটাত
|
তবে পূর্ব থেকেই ধর্মীয় রীতি চলে আসার কারণে তারা বছরে চারটি সম্মানিত মাসে (যুল-ক্বাদাহ, যুলহিজ্জাহ, মুহাররম ও রজব) যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধ রাখতো
|
এটা ছিল তাদের জন্য অতিব গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় রক্ষাকবচ
|
গোত্র নেতারা একত্রে বসে সামাজিক শান্তি-শৃংখলা রক্ষা করা, কোন গোত্রের সাথে যুদ্ধ শুরু বা শেষ করা কিংবা সন্ধিচুক্তি করা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করত
|
মক্কার "দারুন নাদওয়া" ছিল এজনয় বিখ্যাত [#১]
|
তাদের মধ্যে মদ্যপানের ব্যপক প্রচলন ছিল
|
যুদ্ধ ও পেশীশক্তি-ই জয় লাভের মানদন্ড ছিল
|
আরবের সামাজিক অবস্থাকে এক কথায় বলতে গেলে "জোর যার মুল্লুক তার" নীতিতে পরিচালিত হত
|
আজকের বিশ্ব ব্যবস্থা তার চাইতে মোটেই উন্নত নয়
|
[ #১ "দারুন নাদওয়া" ছিল মসজিদে হারাম সংলগ্ন কুছাই বিন কেলাবের বাড়ী
|
ইসলামী যুগে এটি মসজিদুল হারামের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.