content
stringlengths
0
209k
]
অর্থনৈতিক অবস্থা: ব্যবসা ছিল তাদের প্রধান অবলম্বন
ত্বায়েফ, সিরিয়া, ইয়ামন প্রভৃতি উর্বর এলাকা ছাড়াও অন্যত্র পশু-পালন জনগণের অন্যতম প্রধান অবলম্বন ছিল
উট ছিল বিশেষ করে দুরপাল্লার সফরের জন্য একমাত্র স্থল পরিবহন
গাধা ও খচ্চর মূলতঃ স্থানীয় পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হত
মক্কার ব্যবসায়ীগণ শীতকালে ইয়ামনে ও গ্রীষ্মকালে সিরিয়ায় দুরপাল্লার ব্যবসায়ীক সফর করত
আর্থিক লেনদেনে সূদের প্রচলন ছিল
তারা চক্রবৃদ্ধি হারে পরস্পরকে সূদভিত্তিক ঋণ দিত
রাস্তা-ঘাটে প্রায়ই ব্যবসায়িক কাফেলা লুট হত
সেজন্য সশস্ত্র যোদ্ধাদল নিয়ে ব্যবসায়ী কাফেলা রওয়ানা হত
তবে কাবা গৃহের খাদেম হওয়ার সুবাদে মক্কার ব্যবসায়িক কাফেলা বিশেষভাবে মর্যাদামন্ডিত ছিল এবং সর্বত্র নিরাপদ থাকত
বছরের আট মাসে লুটতরাজের ভয় থাকলেও বাকী চার মাস তারা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করত
এই সময় ওকাযের মেলা ছাড়াও আরবের বিভিন্ন প্রান্তে আরো অনেকগুলি বড় বড় মেলা বসত
এইসব বানিজ্য মেলায় বেচাকেনার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা লাভবান হত
তাদের মধ্যে বস্ত্র, চর্ম ও ধাতব শিল্পের প্রচলন ছিল
ইয়ামন, হীরা ও সিরিয়া প্রভৃতি অঞ্চল এইসব শিল্পে সমৃদ্ধ ছিল
তবে গৃহের আঙিনায় বসে সূতা কাটার কাজে অধিকাংশ আরব মহিলাকে নিয়োজিত দেখা যেত
কোন কোন এলাকায় কৃষি কাজ হত
ছোলা, ভুট্টা, যব ও আঙ্গুরের চাষ হত
মক্কা-মদীনায় গমের আবাদ ছিল না
আমীর মুআবিয়ার খেলাফতকালে প্রথম সিরিয়া থেকে মদীনায় গম রফতানী করা হয়
খেজুর বাগান ব্যপক হারে দেখা যেত
খেজুর ছিল তাদের অন্যতম প্রধান উপজীবিকা
তাদের কোন গোত্রীয় অর্থনৈতিক ফান্ড ছিল না
সেকারণে সমাজের লোকদের দারিদ্র্য ও রোগব্যাধি দুরিকরণে ও স্বাস্থসেবার কোন সমন্বিত কর্মসূচি ও কর্মপরিকল্পনা ছিল না
পারস্পরিক দান ও বদান্যতার উপরেই তাদের নির্ভর করতে হত
নিখাদ পূজিবাদী অর্থনীতি চালু ছিল
যার ফলে সমাজে এক দল উচ্চবিত্ত থাকলেও অধিকাংশ লোক বিত্তহীন ও মানবেতর জীবন যাপন করত
সাধারন অবস্থা ছিল এই যে, আরবদের সহায়-সম্পদ তাদের জীবন্মান উন্নয়নে ব্যয়িত না হয়ে সিংহভাগই ব্যয়িত হত যুদ্ধ-বিগ্রহের পিছনে
ফলে ক্ষুধা ও দারিদ্র‍্য ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী
আজকের বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এর চেয়ে মোটেই উন্নত নয়
আরবীয় সমাজে উচ্চবিত্ত লোকদের মধ্যে মদ, জুয়া ইত্যাদির ব্যপক প্রচলন ছিল
সেখানে বিত্তহীনরা দাস ও দাসীরুপে বিক্রয় হত ও মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হত
নৈতিক অবস্থা: উদার মরুচারী আরবদের মধ্যে নৈতিকতার ক্ষেত্রে দ্বিমুখী ধারা পরিলক্ষিত হত
একদিকে যেমন তাদের মধ্যে মদ্যপান, ব্যভিচার, মারামারি-হানাহানি লেগে থাকত
অন্যদিকে তেমনি দয়া, উদারতা, সততা, পৌরুষ, সৎসাহস, ব্যক্তিত্ববোধ, সরলতা ও অনাড়ম্বতা, দানশীলতা, আমানতদারী, মেহমানদারী, প্রতিজ্ঞা পরায়ণতা ইত্যাদি সৎ গুণাবলীর সমাবেশ দেখা যেত
তাদের কাব্য প্রিয়তা এবং উন্নত কাব্যালংকারের কাছে আধুনিক যুগের আরবি কবি-সাহিত্যিকরা কিছুই নয়
তাদের স্মৃতিশক্তি এত প্রখর ছিল যে, একবার শুনলেই হুবহু মুখস্ত বলে দিত
বড় বড় ক্বাদীছা ও দীর্ঘ কবিতাগুলি তাদের মুখে মুখেই চালু ছিল
লেখাকে এজন্য তারা নিজেদের জন্য হীনকর মনে করত
দুর্বল স্মৃতির কারণে আজকের বিশ্ব লেখাকেই অধিক গুরুত্ব দেয়
অথচ লেখায় ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু তৎকালীন আরবদের স্মৃতিতে ভুল কদাচিৎ হত
সম্ভবতঃ এইসব সদ গুণাবলীর কারণেই বিশ্বনবীকে আল্লাহ বিশ্বকেন্দ্র মক্কাতেই প্রেরণ করেন
যাদের প্রখর স্মৃতিতে কুরআন ও হাদীছ অবিকৃত অবস্থায় নিরাপদ থাকে এবং পরবর্তীতে তা লিখিত আকারে সারা বিশ্বে প্রচারিত হয়
যদিও কুরআন ও হাদীছ লিখিত ভাবেও তখন সংকলিত হয়েছিল
উপসংহার:
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল আরব ভুখন্ডের মরুচারী মানুষেরা বিভিন্ন মানবিক দুর্বলতার অধিকারী হলেও তাদের মধ্যে উন্নত মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঈর্ষণীয়ভাবে পরিদৃষ্ট হত
আদি পিতা-মাতা আদম ও হাওয়ার অবতরনস্থল হওয়ার কারণে এই ভুখণ্ড থেকেই মানব সভ্যতা ক্রমে পৃথিবীর অন্যান্য ভুখণ্ডে বিস্তার লাভ করেছে... এই ভুখণ্ডে আরাফাত -এর না'মান উপত্যকায় সৃষ্টির সূচনায় আল্লাহ পাক সমস্ত মানবকূলের নিকট হতে তাঁর প্রভুত্বের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন (আরাফ ৭/১৭২-১৭৩)
একই সাথে তিনি সকল নবীর কাছ থেকে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) -এর উপরে ঈমান আনা ও ত্ঁাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতার অঙ্গীকার নেন (আলে ইমরান ৩/৮১)
এই ভুখণ্ডে হাযার হাযার নবী ও রাসূলের আগমন ঘটেছে
এই ভুখণ্ডেই আল্লাহর ঘর কা'বাগৃহ অবস্থিত
এই ভুখণ্ড বানিজ্যিক কারণে সারা বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু ছিল
জান্নাতের ভাষা আরবী এই ভুখণ্ডের কথিত ও প্রচলিত ভাষা ছিল
সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবনযাত্রা, প্রখর সৃতিশক্তি এবং সততা ও আমানতদারীর অনুপম গুণাবলীর প্রেক্ষাপটে আরব ভূমির কেন্দ্রবিন্দু মক্কাভূমির অভিজাত বংশ কা'বা গৃহের তত্বাবধায়ক ও রক্ষণাবেক্ষণকারীদের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ (ছাঃ) -এর নিকটেই আল্লাহ মানবজাতির কল্যাণে প্রেরিত শ্রেষ্টতম নে'মত কুরআন ও সুন্নাহর আমানত সমর্পণ করেন
ফালিল্লা-হিল হামদ
এক্ষণে আমরা নবীজীবনের মূল আলোচনায় অগ্রসর হব
শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ -১:
(১) বিশ্বনবী ও শেষনবী হবার কারণেই বিশ্বকেন্দ্র মক্কাতে মুহাম্মাদ (ছাঃ) -কে প্রেরণ করা হয়
(২) সারা বিশ্বে তাওহীদের দাওয়াত দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তৎকালীন বিশ্বের সেরা বাণিজ্য কেন্দ্র ও যোগাযোগ কেন্দ্র আরব ভূখণ্ডে শেষনবী প্রেরিত হন
(৩) তাওরাত-ইঞ্জিল হিব্রু ভাষায় নাযিল হয়
কিন্তু কুরআন নাযিল হয়েছে জান্নাতী ভাষা আরবীতে
তাই আল্লাহর ঘরের তত্ত্বাবধায়ক শুদ্ধভাষী আরব তথা কুরায়েশ বংশে শেষনবীর আগমন ঘটে
(৪) আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র সে যুগে ছিল না
তাই প্রখর স্মৃতিধর আরবদের নিকটেই কুরআন ও সুন্নাহর অমূল্য নে'মত সংরক্ষণের আমানত সমর্পণ করা হয়
(৫) আরবরা ছিল আজন্ম স্বাধীন ও বীরের জাতি
তাই তৎকালীন রোমক ও পারসিক পরাশক্তির মুকাবিলায় ইসলামী খেলাফতের বাস্তবায়নের জন্য শেষনবীর আগমনস্থল ও কর্মস্থল হিসাবে আরব ভূখণ্ডকে নির্বাচন করা হয়
শেয়ার করুন:
:
...
...
:
() ( )
()
. . ( / )
. ( / )
. ( / )
. ( / )
%
.
.
Δ
. .
আপনার এ প্র‌তি‌নিয়ত আপ‌ডেট পে‌তে নি‌চের বাট‌নে ক্লিক করুন
আপনার এ প্র‌তি‌নিয়ত আপ‌ডেট পে‌তে নি‌চের বাট‌নে ক্লিক করুন
আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক! মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের শ্বাশত বাণী ছড়িয়ে দিন
আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখা ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদি ওয়েবসাইটে শেয়ার করুন এবং সকলকে জানার সুযোগ করে দিন
নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ -এ লাইক করুন