content
stringlengths 0
209k
|
|---|
ভাইরাসকে কেউ জড় বলতে পারেন, আবার জীবিত বলতেও বাঁধা নেই
|
এমনিতে ভাইরাস 'মৃতবৎ', তবে তারা 'বেঁচে' ওঠে অন্য জীবিত কোষকে আশ্রয় করে
|
ভাইরাসে থাকে প্রোটিনবাহী নিউক্লিয়িক এসিড
|
এই নিউক্লিয়িক এসিডই ভাইরাসের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের আধার
|
উপযুক্ত পোষক দেহ পাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা 'ক্রিপ্টোবায়টিক স্টেট'-এ জীবনকে লুকিয়ে রাখে
|
আর তারপর উপযুক্ত দেহ পেলে আবারো কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অমরত্বের খেলা চালিয়ে যেতে থাকে
|
কাজেই দেখা যাচ্ছে 'মৃত্যু' ব্যাপারটি সব জীবের জন্যই অত্যাবশ্যকীয় নিয়ামক নয়
|
ভাইরাসের আনবিক সজ্জার মধ্যেই আসলে লুকিয়ে আছে অমরত্বের বীজ
|
এই অঙ্গসজ্জাই আসলে ডিএনএর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় তারা কখন ঘাপটি মেরে 'ক্রিপ্টোবায়টিক স্টেট'-এ পড়ে থাকবে, আর কখন নবজীবনের ঝর্ণাধারায় নিজেদের আলোকিত করবে
|
সে হিসেবে ভাইরাসেরা আক্ষরিক অর্থেই কিন্তু অমর - এরা স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করে না
|
তবে মানুষের নিজের প্রয়োজনে রাসায়নিক জীবাণুনাশক ঔষধপত্রাদির উদ্ভাবন ও তার প্রয়োগে জীবাণুনাশের ব্যাপারটি এক্ষেত্রে আলাদা
|
ঔযধের প্রয়োগে আসলে এদের অংগসজ্জা ভেঙে দেওয়া হয়, যেন তারা আবার পুনর্জীবন প্রাপ্ত হয়ে রোগ ছড়াতে না পারে
|
ঠিক একই রকম ভাবে অত্যধিক বিকিরণ শক্তি প্রয়োগ করেও ভাইরাসের এই দেহগত অঙ্গসজ্জা ভেঙে দেওয়া যেতে পারে
|
এর ফলে এদের আনবিক গঠণ বিনষ্ট হবে এবং এদের জীবনের সুপ্ত আধার হারিয়ে যাবে
|
ফলে উপযুক্ত পরিবেশ পেলেও এরা আর পুনর্জীবনপ্রাপ্ত হবে না
|
যারা জীবন-মত্যুর ব্যাপারটিকে আরো ভালমত বিজ্ঞানের গভীরে গিয়ে বুঝতে চান তারা আনবিক জীববিজ্ঞানী উইলিয়াম সি ক্লার্কের লেখা ' ' বইটি পড়তে পারেন ৬
|
আমার আর ফরিদের লেখা 'মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে' (অবসর প্রকাশনা, ২০০৭) বইটির প্রথম অধ্যায়েও বেশ কিছু আকর্ষনীয় উদাহরণ হাজির করে জীবন-মৃত্যুকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে
|
উৎসাহী পাঠিকেরা পড়ে নিতে পারেন
|
চলবে ...
|
অভিজিৎ এর ব্লগ
|
৭৩৮বার পঠিত
|
মন্তব্য
|
১ | লিখেছেন সবজান্তা (তারিখ: রবি, ০৬/০১/২০০৮ - ২:০৮অপরাহ্ন)
|
বিপ্লব মানে একদম ভয়াবহ বিপ্লব আপনাকে !!
|
একদিকে যেমন আত্মাকে অমর অক্ষয় বলা হচ্ছে, জোর গলায় প্রচার করা হচ্ছে আত্মাকে কাটা যায় না, পোড়ানো যায় না, আবার সেই আত্মাকেই পাপের শাস্তিস্বরূপ নরকে ধারলো অস্ত্র দিয়ে কাটা, গরম তেলে পোড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে
|
দুর্দান্ত !
|
আমাদের খাওয়া, দাওয়া, শয়ন, ভ্রমণ, মৈথুন, কিংবা হিমু্র 'বালিকা দংশন' কিংব সন্যাসীর 'কামরাঙ্গা কবিতা' পাঠের আনন্দ - সব কিছুর পেছনেই থাকে মোটা দাগে কেবল একটি মাত্র উদ্দেশ্য -ফেইথফুলি এনট্রপি বাড়ানো - সেটা আমরা বুঝতে পারি আর নাই পারি!
|
আরো দুর্দান্ত !
|
আমি ব্যক্তিগত জীবনে একজন তড়িৎ প্রকৌশল বিদ্যার ছাত্র
|
মাধ্যমিক শ্রেনীতেই জীববিদ্যার সাথে শেষ দেখা, উচ্চমাধ্যমিকে সেই স্থান নিয়েছিল পরিসংখ্যান
|
তাই জীববিজ্ঞানের অনেক কিছুই জানতাম না
|
কিন্তু আপনার লেখা পড়ে অনেক দারুন ব্যাপার জানতে পারলাম ( যেমন হেফ্লিক লিমিট, ক্রিপ্টোবায়োটিক স্টেট ইত্যাদি )
|
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে
|
আরো পড়ার প্রত্যাশায় থাকলাম
|
-------------------------------------------------------
|
অলমিতি বিস্তারেণ
|
অলমিতি বিস্তারেণ
|
জবাব
|
২ | লিখেছেন অভিজিৎ (তারিখ: রবি, ০৬/০১/২০০৮ - ৯:৪৭অপরাহ্ন)
|
সবজান্তা,
|
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ লেখাটি আগ্রহভরে পড়বার এবং মন্তব্য করবার জন্য
|
বন্যার কাছে আপনার কথা শুনেছি
|
বুয়েটে পড়েন তা শুনেছিলাম, তড়িৎ প্রকৌশলের ব্যাপারটা জানতাম না
|
ভাল লাগল জেনে
|
আমি পড়েছিলাম মেকানিকালে, তাও বুয়েট ছেড়েছি -প্রায় এক যুগ হতে চলল
|
আমারো উচ্চমাধ্যমিকে জীববিজ্ঞান ছিল না, ছিল পরিসংখ্যান
|
হ্যা, হেফ্লিক লিমিট, ক্রিপ্টোবায়োটিক স্টেটের ব্যাপারগুলো আমাদের অনেকের কাছেই নতুন
|
জীববিজ্ঞানে জেনেটিক্স-এর গবেষণা যত এগুচ্ছে, ততই আমরা এ ধরণের নতুন নতুন অনেক কিছু জানতে পারছি
|
প্রতিদিনই আমরা আসলে নতুন নতুন জ্ঞানের আলোয় নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছি
|
আপনাকে আবারো ধন্যবাদ সঙ্গে থাকার জন্য
|
=============================
|
পান্ডুলিপি পোড়ে না
|
-- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)
|
পান্ডুলিপি পোড়ে না
|
-- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)
|
জবাব
|
৩ | লিখেছেন সংসারে এক সন্ন্যাসী (তারিখ: রবি, ০৬/০১/২০০৮ - ১০:৫৯অপরাহ্ন)
|
জটিল কোনও বিষয়ের ক্লাসে গর্দভ-টাইপ ছাত্রের মতো আমি আপনার লেখাগুলো পড়ে যাই প্রশ্ন- বা মন্তব্যহীন
|
তবে আজকের লেখায় যখন জানলাম. আমার ছড়াও এনট্রপি বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয় , দু'লাইন লেখার লোভ নিবৃত্ত করতে পারলাম না
|
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
|
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু?
|
জবাব
|
৪ | লিখেছেন অভিজিৎ (তারিখ: সোম, ০৭/০১/২০০৮ - ১:০৬পূর্বাহ্ন)
|
হাঃ হাঃ, আপনার মন্তব্যও আপনার লেখার মতই সরস
|
আপনি বহাল তবিয়তে জীবিত থেকে আপনার কাব্য প্রতিভা প্রদর্শনের মাধ্যমে আরো এন্ট্রপি বাড়িয়ে যান, সেই কামনা করি
|
=========================
|
পান্ডুলিপি পোড়ে না
|
-- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)
|
পান্ডুলিপি পোড়ে না
|
-- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)
|
জবাব
|
৫ | লিখেছেন সবজান্তা (তারিখ: সোম, ০৭/০১/২০০৮ - ১:৩৯পূর্বাহ্ন)
|
আপনার কথা শুনেতো আমি অন্যরকম একটা অনুপ্রেরণা পেলাম
|
একজন যন্ত্রকৌশল এর মানুষ হয়ে এত চমৎকার বিবর্তন, ধর্ম এবং যুক্তি নিয়ে লেখেন ! এতদিন আমি ভাবতাম, এসব নিয়ে গভীরতম চিন্তার কাজ সমাজবিজ্ঞানী, দর্শন কিংবা তত্ত্বীয় বিজ্ঞানের ছাত্রদের
|
একজন প্রায়োগিক বিজ্ঞানের লোক হয়েও এত চমৎকার লিখেন আপনি , অভাবনীয় !
|
----------------------------------------------------
|
অলমিতি বিস্তারেণ
|
অলমিতি বিস্তারেণ
|
জবাব
|
৬ | লিখেছেন স্নিগ্ধা (তারিখ: সোম, ০৭/০১/২০০৮ - ৫:৪৪পূর্বাহ্ন)
|
অভি, আমার ধারণা ছিলো চার্বাক একজন ঋষির নাম, কিন্তু লেখাটা পড়ে মনে হচ্ছে এটা কোন বিশেষ মতানুসারীদের কেও বোঝাতো
|
এরা কি চার্বাকের শিষ্য ছিলো? চার্বাক যুক্তিসিদ্ধ ছিলো জানি, কিন্তু কৌটিল্যের মত তাঁর কি কোন একটা দিকে বুৎপত্তি ছিলো? থাকলে সেটা কি একটু বোলো তো সময় পেলে
|
(একটু অফফ দ্যা টপিক প্রশ্ন হয়ে গেল ঃ) )
|
জবাব
|
৭ | লিখেছেন অভিজিৎ (তারিখ: সোম, ০৭/০১/২০০৮ - ৯:১৯পূর্বাহ্ন)
|
অভি, আমার ধারণা ছিলো চার্বাক একজন ঋষির নাম, কিন্তু লেখাটা পড়ে মনে হচ্ছে এটা কোন বিশেষ মতানুসারীদের কেও বোঝাতো
|
এরা কি চার্বাকের শিষ্য ছিলো?
|
আসলে এটির উত্তর দিতে গেলে অনেক কিছু বলতে হয়
|
কোত্থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না
|
'চার্বাক' কথাটা কোত্থেকে এল - এ নিয়ে কিছু বলি
|
অনেক দার্শনিকের মতে 'চারু+বাক্' থেকে চার্বাক কথাটা এসেছে
|
মানুষের স্বাভাবিক ভোগপ্রবৃত্তির কথা মাথায় রেখে যে দর্শন 'চারু' বা 'সুন্দর' কথার জাল বুনে 'ইহজগতেই সব কিছু শেষ, মৃত্যুর পরে অন্য কোন জগৎ বলে কিছু নেই, অতএব ভোগ কর' বলে মানুষের চিত্ত আকর্ষন করেছে, সেই দর্শনই 'চারু বাক' বা চার্বাক
|
অন্য আরেকটি মতে, 'চর্ব' (অর্থাৎ চর্বণ) করে যে- এই অর্থে চার্বাক্ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে
|
এই ব্যাখ্যাকারীরাও খানা-পিনার মাধ্যমেই জীবনের পরম সার্থকতা খুঁজে পায় যে দর্শন - তাকে চার্বাক দর্শন বলে অভিহিত করতে চেয়েছেন
|
এই ব্যাখ্যার মধ্যে চার্বাকদের সম্বন্ধে অন্তর্নিহিত হেয়কারী ভাবটি খুব সহজেই লক্ষ্যনীয়
|
প্রবীর ঘোষ তার 'অলৌকিক নয়, লৌকিক' বইয়ের প্রথম খন্ডে এই দুটো মতকেই বাতিল করেছেন
|
আসলে ব্যাকরণ মানতে গেলে তাই করতে হয়
|
চারু+ বাক্ থেকে চারুবাক্ বা চার্ বাক্ বা চার্বাক্ হতে পারে চার্বাক (হসন্ত নেই)নয়
|
অথচ, প্রাচীন সমস্ত লেখায় যেখানে চার্বাকদের কথা জানা যায় কোথাওই হসন্ত ব্যবহৃত হয়নি
|
আবার যে চর্বন করে তাকে বলা উচিৎ চর্বক, চার্বাক নয়
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.