content stringlengths 0 209k |
|---|
সত্যি কথা বলতে; আমার এই কথা শুনে সে খুব বেশি হতাশ এবং আহত হয়েছিল |
সেটা ছিল, আমার জীবনের এক কঠিন সময় |
আমি মুসলিম ভাইবোনদের, এমনকি আমার ছেলে মেয়েদের জন্যও প্রার্থনা করি, যাতে কেউ গার্লফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড সম্পর্কে না জড়ায় |
কারণ, সত্যিকারার্থে এতে জড়িয়ে খুব একটা উপকার নেই |
বরং ক্ষতির দিকই বেশি |
এর মাঝে উপকারিতা বলতে, পারস্পরিক সান্নিধ্য উপভোগ করা...এতটুকুই |
অন্যদিকে, |
এই সম্পর্কে জড়িয়ে আপনার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে, আপনার স্বাভাবিক শান্তি না হবে |
আপনার স্বাভাবিক কাজকর্মে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে |
ঈর্ষা, হ, দ্বন্দ্ব- এই সম্পর্কের সবকিছুই জীবনের জন্য, মনের জন্য যন্ত্রণাদায়ক |
আমি মনে করি, কারও যদি কাউকে ভালো লাগে, তবে নিজেদের মধ্যে বিয়ে করে নেয়া উচিত |
বিয়ের মাধ্যমে আপনারা একে অন্যের সাথে সহাবস্থান করতে পারবেন |
একে অন্যের সাথে সুখ-দুঃখ পরস্পর ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন |
আর এর মাঝেই আছে আল্লাহ পাকের রহমত ও অনুগ্রহ |
যা বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কে আপনি পাবেন না |
এই কথাগুলো বলছি; কারণ, আমি সে সময় ইসলামের অনুশাসন মানা বন্ধ করে দিয়েছিলাম |
আমার মনে হয়েছিল, ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণ করলে, জীবনে অনেক কিছুই হারাব |
বিশেষ করে আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে ছেড়ে চলে যাবে |
আমার কাছে সে ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি |
আমি তাকে অনেক ভালোবাসতাম |
আমার সাথে তার সম্পর্ক আর বোঝাপড়াটাও ছিল চমৎকার |
অন্তত আমি তাই মনে করতাম |
এসব বিষয় ভেবে ভেবে ইসলাম থেকে এতটাই দূরে সরে গিয়েছিলাম, আমি আর নিজেকে মুসলিম বলেও পরিচয় দিতাম না |
একবার এক পার্টিতে গিয়েছিলাম |
মদের আসরে কয়েক পেগ খেয়ে আমার নেশা চড়ে গিয়েছিল |
বলতে গেলে আমি ছিলাম পুরোই মাতাল |
এ অবস্থায়ও আমি আমার টেবিলে থাকা ৫-৬ জনকে ইসলামের কথা বলছিলাম |
জড়ানাে গলায় বলছিলাম 'জানো, ইসলাম না অনেক সুন্দর একটা ধর্ম |
তোমাদের সবারই কুরআন পড়া উচিত |
তারা বেশ আগ্রহের সাথে আমাকে বলল, "তাই নাকি? তবে আমাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে আরও কিছু বল দেখি |
আমার তখন রীতিমতো পা টলছে, ঘুরছে পুরো দুনিয়া |
দেখছোনা, আমি এখন পুরোমাতাল! তোমরা নিজেরাই দেখে নিও", বলতে বলতে টেবিলে মাথা গুঁজে আমি পড়ে গেলাম |
তখন আমার জীবন ছিল এমনই |
আমি মনে মনে ইসলাম খুব ভালোভাবে বিশ্বাস করতাম কিন্তু বাস্তবে মানতে পারছিলাম না |
এই যে দ্বন্দ্ব, এই যে অশান্তি, অতৃপ্তি, এর চেয়ে পীড়াদায়ক আর কিছুই হতে পারে না |
আমি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই ভাবতাম, আজ থেকে আমি নিয়মিত নামাজ পড়ব |
কিন্তু বিভিন্ন কাজে কাজে |
আর পড়া হতো না |
গভীর এক অবসাদ আর বিষন্নতা আমাকে পেয়ে বসেছিল |
তত দিনে আমার গার্লফ্রেন্ডের সাথেও আমার সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল |
আমি দিনদিন মাদকে ডুবে গিয়ে নিজেকে কৃত্রিম স্বস্তিতে রাখার চেষ্টা করছিলাম |
এভাবেই চলল দুবছর |
আমার বন্ধবী তখন ছিল স্পেনে |
স্প্যানিশ ভাষার উপর সে পড়াশােনা করছিল |
আমি বুঝতে পারছিলাম, তত দিনে তার সাথে অন্য এক ছেলের কিছু একটা চলছে |
বুঝতে পারলেও নিজের কাছে স্বীকার করার সাহস হচ্ছিল না |
তার প্রতি আমি তখনো টান অনুভব করতাম |
আমার মা-বাবা মিসর ছেড়ে পর্তুগালে চলে গেলেন |
বাবা তত দিনে চাকরি থেকে রিটায়ার্ড করেছেন |
আমি আর এই দুর্বিষহ জীবন সইতে পারছিলাম না |
তাই লন্ডন ছেড়ে মা-বাবার সাথে থাকা শুরু করলাম |
কথা ছিল, আমার বান্ধবী আমার সাথে পর্তুগালে এসে দেখা করবে |
কিন্তু দু সপ্তাহ ধরে তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই |
না কোনো ফোন, না কোনো মেসেজ |
আমার সময়টা রীতিমতো দুর্বিষহ কাটছিল |
একদিন বাগানে আমি হাঁটছিলাম |
মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছিলাম, 'এন্থনি! তুমি জানো, ইসলামই সঠিক ধর্ম |
তুমি জানো, একজন মুসলিম হিসেবে তোমার পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া দরকার, অথচ তুমি পড়ছ না |
সঠিক জেনেও তুমি ইসলামের অনুসরণ করছ না |
তাই তো, তোমার জীবনটা আজ এতটা বিশৃঙ্খল ও এলোমেলো |
আপন মনে ভাবতে ভাবতে আমি আল্লাহর কাছে বললাম, "ইয়া আল্লাহ! আমি আর সইতে পারছি না |
এমন কোনো ব্যবস্থা কর, যাতে তার ফোন পাই |
কথা দিচ্ছি, আজ যদি সে আমাকে ফোন করে, তবে আজ থেকেই আমি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ব |
জীবনেও আর নামাজ ছাড়ব না |
দুপুরে খাবারের পর আমি আবার বাগানে ফিরে গেলাম |
এমন সময় আমার বাবা ডাক দিলেন, "এই এন্থ! তোমার ফোন |
সে ফোন করেছে |
নিজের কানকেও আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না |
বাগান থেকে, বলতে গেলে উড়ে উড়ে আমি ছুটে গেলাম ল্যান্ড ফোনের কাছে |
রিসিভার কানে দিয়ে আমি হাঁপাচ্ছিলাম |
মজার বিষয় হলো, সে কী বলছিল কিছুই আমার কান দিয়ে ঢুকছিল না |
আমি শুধু হু হা করে যাচ্ছিলাম |
আমার মাথায় কাজ করছিল, শপথ রক্ষা করে আমাকে এখন থেকে নিয়মিত নামাজ পড়তে হবে |
কথা শেষে ফোন রেখে আমি ছুটলাম বাথরুমের দিকে |
গোসল সেরে দাঁড়িয়ে গেলাম নামাজে |
আলহামদুলিল্লাহ, সেদিন থেকে বিনা কারণে এক ওয়াক্ত নামাজ আজ পর্যন্ত ছেড়ে দিইনি |
পরিশেষে আপনাদেরকে আমি কিছু কথা বলতে চাই |
একজন মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে বড় পার্থক্য হলো নামাজ |
নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মাধ্যমেই কেবল একজন মানুষ সত্যিকারে মুসলিম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে |
এ কারণেই , আমি নিজেকে সেদিন থেকে মুসলিম ভাবি, যেদিন থেকে আমি নিয়মিত নামাজ আদায় করছি |
সেদিন থেকে নয়, যেদিন আমি শাহাদাহ উচ্চারণ করে মুসলিম হবার ঘোষণা দিয়েছিলাম |
আগের অংশ টুকু পড়তে[এখানে ক্লিক করুন] পরের অংশ টুকু পড়তে[এখানে ক্লিক করুন] |
শেয়ার করুন |
: |
... |
শেয়ার |
পূর্ববর্তী আর্টিকেলআব্দুর রহিম গ্রিনের নওমুসলিম হবার গল্প |
পরবর্তী আর্টিকেলপ্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ |
রিলেটেড আর্টিকেলআরো আর্টিকেল পড়ুন |
ইখলাস |
প্রশ্ন-৯: আপনি কি জান্নাতের গাছগাছালি সম্পর্কে কিছু পড়েছেন? |
ইখলাস |
প্রশ্ন-৮: আপনি কি জানেন যে, জান্নাতে বাজার রয়েছে? |
আকীদাহ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.