content
stringlengths
0
209k
কিন্তু নাহ্! এই থিওরিও নাকচ হয়ে গেছে
২০০৫-এ নতুন একরকমের স্পেকট্রোস্কোপিক পদ্ধতির সাহায্যে দেখানো হয়েছে যে 'স্মৃতি' বা যেটুকু 'রেশ' থাকে জলে দ্রবীভূত পদার্থের একটিও অণু না থাকার থাকার পরে সেটিও মুছে যায় 'এক ফেমটো সেকেন্ড'-এর মধ্যে (ফেমটোসেকেন্ড হলো ১০-১৫ সেকেন্ড)
কাজেই সেই 'মারাত্মক' ক্ষমতাকে বোতলবন্দি করে ধরে রাখার কোনও প্রশ্নই উঠছে না
সাইলেসিয়া ২০০ খেলে শোনা যায় গলায় ফুটে থাকা মাছের কাঁটা গলে যায়
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ঘোষ সাইলেসিয়া ২০০ ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষণের উদ্দেশ্যে কাঁচের প্লেটে সাইলেসিয়া ২০০ নিয়ে তাতে দিনের পর দিন মাছের একটা ছোট্ট কাঁটা ডুবিয়ে রেখে দেখেছিলেন- কাঁটা যেমনকে তেমনই রইল!
আমরা বলতেই পারি হোমিওপ্যাথি একটি লুপ্ত বিজ্ঞান- যদি বা তা আদৌ কোনওদিন বিজ্ঞান বলে পরিগণিত হয়ে থাকত, আজ সেই ভুল ভেঙে গেছে
তার একটা বড় কারণ প্রায় দুশো বছর ধরে এই বিজ্ঞান স্থবির হয়ে রয়েছে
এটা নিয়ে কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি
যা হয়েছে তাতে বরং পুরনো ধারণাগুলো ভুলই প্রমাণিত হয়েছে
পুরনো জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানের ধর্ম
যখন আর এগোনো যাচ্ছে না, তখন বুঝতে হবেNআর এগোনোর মতো বা ধারণাগুলোকে প্রমাণ করার মতো কোনও তথ্য নেই, কোনও তত্ত্ব তাই খাড়া করা যাচ্ছে না
তখন বিজ্ঞানের ধারাটির সেখানেই মৃত্যু ঘটে
যেমন ঘটেছে জ্যোতিষ নামক বিদ্যার
জার্মানির ক্যাসেল ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান বিভাগের কুটশেরা নামে এক স্কলার মজা করে বলেছেন, আজ যদি হ্যানিম্যান আধুনিক যুগের হোমিওপ্যাতি পরীক্ষায় বসেন, ফুল মার্কস পেয়ে পাশ করে যাবেন, কারণ তিনি তখন যা জানতেন, এখনও তার উপর আর নতুন কোন সংযোজন হয়নি
কিন্তু চার্লস ডারউন যদি বিবর্তনবাদ নিয়ে পরীক্ষায় বসেন, ডাহা ফেল করবেন
এখন তার চৎরহপরঢ়ষব ড়ভ উবংপবহঃ রিঃয গড়ফরভরপধঃরড়হ নু ঘধঃঁৎধষ ংবষবপঃরড়হ ধারণাটা আরও গতি পেয়েছে, আরও উন্নত আরও জটিল হয়েছে
ডারউইন সাহেব সব প্রশ্ন বুঝতেই পারবেন না, কারণ নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক শব্দগুলোই তাঁর অজানা ঠেকবে
তা সত্ত্বেও ডারউইন তাঁর সময়ে যা প্রমাণ করেছিলেন ও প্রশ্ন তুলেছিলেন তা মানবসমাজের সামনে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল, তিনি পথপ্রদর্শক হয়ে রয়েছেন বিজ্ঞানের এই নতুন শাখাটির
'হোমিওপ্যাথি' বিষয় হিসাবে তাই বদ্ধ, স্থবির
"একটা ওষুধ যত কম দেবে তত বেশি কাজ হবে
এক্কেবারে না দিলে সবচেয়ে ভালো কাজ হবে
" এর থেকে হাস্যকার যুক্তি আর কী হতে পারে! তাই বিজ্ঞানের সিলেবাসে হোমিওপ্যাথির স্থান নেই
এরপরও হোমিওপ্যাথির সমর্থকরা এতো জটিল সব কথার অবতারণা করেন, যেমন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, প্রাণ-রসায়নের বাইরে না-কী 'স্পিরিচুয়াল' 'এনার্জেটিক' নামের শক্তি আছে, যদিও বিজ্ঞান কখনো এগুলোর অস্তিত্ব স্বীকার করে না
সোজা কথায় যা বোঝায়, আমাদের সব দৈহিক শক্তির মূলে আছে সঠিক খাওয়া ও ব্যায়াম করা, আর প্রয়োজনে ঔষধ খাওয়া
এর জন্যে শরীরবিজ্ঞানকে জানতেই হবে; অন্য কোন শর্টকাট পথ নেই
এই শরীরবিজ্ঞানের আধুনিকতম প্রয়োগ আজকের এ্যালোপ্যাথি মেডিসিন
২৫০ বছর আগের অবস্থা থেকে আমাদের জ্ঞান অনেক এগিয়েছে
এখন আমরা জানি শুধু 'জল' বা 'অ্যালকোহল' এমন কোনো 'অলৌকিক' শক্তি ধরে রাখতে পারে না, যা শরীরে কাজ করবে অথচ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ধরা পড়বে না
তাই হোমিওপ্যাথির গোড়াতেই গলদ রয়েছে
'স্পিরিচুয়াল স্পিরিট' বা আত্মা বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই
তবু যদি স্পিরিট বলতে মন বুঝি বা মানসিক বলে কিছু ধরে নেই, তাহলে বলতে হয়, ঔষধ বা ডাক্তারে ওপর বিশ্বাস বা ভরসা
এটার অবশ্যই কিছু প্রভাব আছে
এটাই চরম অবস্থায় 'প্ল্যাসিবো' চিকিৎসা, যা মানসিক বা সাইকোসোমাটিক রোগ সারাতে পারে
আর শারীরিক অসুখের ক্ষেত্রেও ডাক্তার এর ওপর আস্থা অনেক কাজ করতে পারে
কিভাবে? ঠিকমত ডাক্তারের কথা মেনে চলা, 'আমি সুস্থ হবোই' এই প্রত্যয় থেকে সবরকম চেষ্টা করে যাওয়া ইত্যাদি কারণে
এর বেশি আর কোন 'স্পিরিচুয়াল' কাজ ঔষধ করতে পারে না
এরপরও প্রশ্ন উঠতে পারে, তবু কেন এত মানুষ 'হোমিওপ্যাথি' ঔষধে ভরসা করে?
১. ডাক্তারকে সব জায়াগায় পাওয়া যায় না, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে
২. চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখানো বেশি খরচসাপেক্ষ ব্যাপার
৩. ডাক্তার অনেক সময় বেশি ডোজের ঔষধ দিচ্ছেন, ভুল ঔষধ, কড়া বা অপ্রয়োজনীয় ঔষধ দিচ্ছেন
তারচেয়ে হোমিও-তে- একদম বসে না থেকে কিছু চেষ্টা অন্তত করা হল
একথা ঠিক দুর্নীতিগ্রস্থ ডাক্তাররা ফার্মেসি বা ঔষধ কোম্পানি থেকে বেশি কমিশন পাবার আশায় অতিরিক্ত ঔষধ দিতে চান
আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, খুব ভাল ডাক্তাররা খুব কম ঔষধ দেন
আমার মেয়ের চার বছর বয়সে এক অ্যালোপ্যাথ এর ওভারডোজ গ্রহণের ফলে সাংঘাতিক অসুস্থ হয়
হাম (সবধংষবং)-এর তেমন কোন ঔষধ নেই; কিন্তু আমার মেয়েকে যেই ডাক্তার দেখিয়েছিলাম তিনি এমন কড়া এন্টিবায়োটিক এডাল্ট ডোজ দিয়েছিলেন, যে বেচারার সারা মুখ-নাক-চোখে ঘা হয়ে গিয়েছিল বিষক্রিয়া থেকে
অন্য দেশে ডাক্তারদের এমন ভুল প্রেসক্রিপশন প্রদান করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়
হোমিওপ্যাথি ঠিক এই জায়গাতেই 'শূন্যস্থান পূরণ' করছে
আপনারা বাড়িতে চেষ্টা করে দেখুন- হোমিওপ্যাথি ঔষধের বদলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় কটা মিচড়ির বা চিনির দানা আর জল খাওয়ানNভালোই ফল পাবেন
কম ঔষধ আর সঠিক ডায়েট/পথ্যে ভরসা রাখুন
আর ডাক্তার (অ্যালোপ্যাথি)-এর ডিগ্রি না দেখে আগে মানুষ ভালো কি-না, আন্তরিকতা আর সেবার মানসিকতা নিয়ে রোগী দেখেন কি-না সে খোঁজ নিন
মুক্তমনায় লেখকের অন্যান্য লেখা
মানুষের ধর্ম মানবতা ::
স্বেচ্ছামৃত্যু (যুক্তি পত্রিকায় প্রকাশিত) ::
আমরা যুক্তিবাদী
পোস্ট শেয়ার করুন
: সুমিত্রা পদ্মনাভন
লেখক, ভারতীয় হিউম্যানিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি
শুভ জন্মদিন অভিজিৎ রায়
শুভ জন্মদিন অভিজিৎ রায়
সেপ্টেম্বর 11, 2021 | 2
কৃতজ্ঞতা সমাচার
কৃতজ্ঞতা সমাচার
জুলাই 30, 2021 | 0
ঈশ্বর কি সর্বশক্তিমান???
ঈশ্বর কি সর্বশক্তিমান???
ফেব্রুয়ারী 27, 2021 | 1
সকলের হৃদয় ডঃ অভিজিৎ রায়ের বাসস্থান
সকলের হৃদয় ডঃ অভিজিৎ রায়ের বাসস্থান
ফেব্রুয়ারী 27, 2021 | 3
মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি কি এখনই সম্ভব? মঙ্গল অভিযান!
মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি কি এখনই সম্ভব? মঙ্গল অভিযান!
ফেব্রুয়ারী 14, 2021 | 0
105
মারুফ অক্টোবর 13, 2020 6:52 পূর্বাহ্ন -
খুবই একপেশে লেখা
অ্যালোপ্যাথী, হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, যেটাই হোক না কেন সুস্থতাই আসল
এসব নিয়ে চুড়ান্ত বাদি অবস্থানের সুযোগ নেই
সবচেয়ে কুযুক্তি হল চিনি আর পানি গুলে খাবার পরামর্শ
যদি হোমিওপ্যাথি শুধুই চিনি আর পানির প্লাসিবো ইফেক্ট হয়, তবে মানুষের কিডনির পাথর কিভাবে হোমিওপ্যাথি খেয়ে ভাল হচ্ছে?
কিভাবে অপারেশন ছাড়া দীর্ঘদিনের টিউমার ভাল হচ্ছে?
ছোট বেলা থেকেই আমার ইনহেলেশন অ্যালার্জি ছিল, অ্যাজমায় প্রচন্ড কষ্ট পেতাম, সাইনুসাইটিস ছিল
বাইরে বের হলে সামান্য ধুলা উড়লেই কাশি হত মারাত্বক
সব ২০১৭ সাল থেকে ৬/৭ মাস হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেবার পর সম্পুর্ন ভাল হয়ে গেছে
আর কোন অ্যালোপ্যাথী অষুধই আমার খেতে হয় না গত ২/৩ বছর
এগুলো সবই কি প্লাসিবো? নাকি চিনি আর পানি গুলে একটু পর পর খেলেই এগুলো সেরে যেত?
সব অ্যাজমা আর অ্যালার্জির রোগিদের কেই না হয় চিনি আর পানি গুলে খেতে বলেন
তবে এতে রোগি মারা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে কাজটা সম্পুর্ন নিজ দায়িত্বে করবেন
আগস্ট 24, 2020 7:39 পূর্বাহ্ন -
ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ায় অশনিসংকেত দেখতে পাচ্ছে এলোপ্যাথি ডাক্তার এবং তার সহযোগীরা
বুঝতে পারছি না এরা এর ন্যায় গভীর কোন ঔষধের উচ্চশক্তি তাদের দেহে অপপ্রয়োগ করতে চাইলে ভয়ে পালিয়ে যায় কেন? ঔষধে যদি কিছুই না থাকে তবে খেতে অসুবিধা কোথায়?
মো: বদিউজ্জামান ডিসেম্বর 27, 2019 9:14 পূর্বাহ্ন -
কোন সত্য সন্দ্বানী ন্যায় নিষ্ঠ ব্যক্তির পক্ষে হোমিওপ্যথিকে অবিশ্বাস করা অসম্ভব
কোটি কোটি মানুষ হোমিওপ্যথি ঔষধ খেয়ে সুস্থতার সাক্ষ্য দিচ্ছে
বাস্তব এ সত্যকে স্বীকার না করে গুটি কতেক কল্পনাশ্রয়ী ব্যক্তির হোমিওর বিরুদ্বে মিথ্যা প্রচার জনগণ বিশ্বাস করবে না