content
stringlengths
0
129k
হামিদা খানের প্রতি শারীরিক আকর্ষন কিছুই বাকি নেই, হামিদা খানের বাবার সম্পত্তির জন্য বিবাহে রাজি হয়েছিলেন মাজেদ সাহেব
চল্লিশের পর পুরুষের সামান্য যৌবন ঢেউ আসে মনে, দুষ্টু রসিকতা, প্রেমালো আলাপের স্বাদ আহ্লাদগুলো মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে
অথচ বিগত যৌবনা স্ত্রীকে দেখে মাজেদ সাহেবের চোখে পানি চলে আসে
সম্পত্তির দিকে না তাকিয়ে অল্প বয়স্কা মিষ্টি একটা মেয়ে বিয়ে করা উচিত ছিল
পাশের বাসার রফিক সাহেবের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ছিল, রফিক সাহেব আর বাচ্চাদের দেখাশুনা করতো জুলেখা, কাজের মেয়ে জুলেখার সাথে রফিক সাহেবের ইটিশ পিটিশের খবর পাওয়া যায় তার স্ত্রী হাসপাতাল থেকে ফিরলে, উঠানে নেমে গড়ান দিয়ে কেঁদেছেন ভদ্রমহিলা, বাতের ব্যাথায় ভুগেছেন দীর্ঘদিন আর এখন স্বামী বেহাত হয়ে যাবার ম...
মাজেদ সাহেব সেদিন গলা খাকারি দিয়ে বলেছিলেন- রফিক মিয়া, নিকাহ করার নিয়ত করেছো ভালো কথা, আমাদের জানাইতা, আমরা ভালো পরিবার দেখে নিকাহ'র এন্তেজাম করতাম, তাই বলে কাজের মেয়েকে স্ত্রীর সতীন বানাইবা? কাজটা কি ভালো হইলো রফিক সাহেব?
চা নিয়ে আসে জুলেখা, নতুন বউয়ের শোল মাছের মতো চকচকে চামড়া, সুতি শাড়ির নীচে নরম মাংসের দাপাদাপি
মাজেদ সাহেবের কপাল থেকে সরু ঘাম বেয়ে পরে, মাজেদ সাহেবের অব্যবহিত বিজয় নিশানে বাতাস লাগে, বুকের মধ্যে দপদপ করে
এমন মেয়ে পেলে কে না নিকাহ করে, মাজেদ খানের সুযোগ থাকলে মাজেদ খান দশ বার করত
মাজেদ খান জুলেখাকে বলল, তা নতুন বউ একখানা ধাঁধা ভাঙাও দেখি
"আল্লাহর কি কুদরত
গাছের মাথায় শরবত"
কঠিন ধাঁধার প্রেশারে জুলেখার ঘোমটা খুলে যায়, রফিক সাহেব একটা জানোয়ার চাষী, কানে, গলায় নিশানা রেখে দিয়েছেন জুলেখার
কোনমতে উঠে দাঁড়িয়ে মাজেদ সাহেব বললেন- উত্তর হইল ডাব, বুঝলা নতুন বউ? জুলেখা দ্রুত মাথায় কাপড় দিয়ে চলে যায়, মাজেদ সাহেব নিজেকে রফিক চাষী ভাবতে ভাবতে কল্পনার জগতে হারিয়ে যান
কুদরত সাহেবের বাসায় এসে পত্রিকা খুলে বসলেন মাজেদ খান, কুদরত সাহেব এলাকার মাথা, বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছেন
মাঝে মাঝে এ বাসায় এসে কুদরত সাহেবের সাথে দেশ ও রাজনীতি নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন মাজেদ সাহেব
তবে সেটি মূলকথা নয়, কুদরত সাহেবের মেয়ে সীমা অতীব সুন্দরী, বাসায় আসলেই সীমা চা করে নিয়ে আসে
এটা ওটা নিয়ে গল্প করে
- সীমা, তোমার বাবা কোথায়?
- চাচা, উনারা তো কেউ নেই, বরিশাল গিয়েছেন ধান তুলতে
- বাসায় কেউ নেই?
- এক কাপ চা খাওয়াও দেখি
বাসায় কেউ নেই শুনে মাজেদ সাহেবের মন যুবকের মতো দোলা দিয়ে ওঠে, যুবককালে একবার ফাকা বাসায় পাশের বাড়ির মেয়েকে ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শোনানোর কথা বলে নিয়ে এসেছিলেন মাজেদ সাহেব, একটু উশখুশ করে মেয়েটার রানে হাত দিতেই মেয়েটি ডান হাতে বিশাল একটা চড় বসিয়ে দিয়েছিলো মাজেদ সাহেবের গালে, থাক সেসব পুরানো দিনের কথা
সীমা চা নিয়ে আসলো, কত আর বয়স ২৪-২৫, কি অপূর্ব লাগে দেখতে সীমাকে
সীমার পেছনটা নরোম খরগোশের পিঠের মতো নড়েচড়ে ওঠে, কোনমতে চা'য়ে চুমুক দিয়ে চোখ নামিয়ে নেন মাজেদ সাহেব
একদিনে অনেক বেশি হয়ে গেছে, বাসা ফাকা, সীমার পাজামাটাও বড্ড আঁটসাঁট- এ যেন পুরো একদিন টেস্ট খেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোন উইকেট না হারানো
সন্তর্পনে সীমার হাঁটুতে হাত রাখেন মাজেদ সাহেব, নরম গলায় পড়াশুনার কথা জিজ্ঞাস করেন, সীমা আরো সাবধানে হাত সরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল - চাচা আমি আমার বান্ধবীর বাসায় যাবো, ঘর তালা দিয়ে যাবো
এরপর আর কথা থাকে না, মাজেদ সাহেব রাস্তায় বেড়িয়ে আসেন, দূর থেকে দেখতে পান এলাকার মাস্তান লিমন সীমাদের বাড়িতে ঢুকছে
একটু ফাঁকা পেলেই এই হারামজাদা ফট করে ও বাড়িতে ঢুকে যায়, আরেকদিন জানালা দিয়ে দেখতে পান লিমনের কোলে বসে মোচড়া-মুচড়ি করছে সীমা
লিমনের কথা ভাবতেই নিজের কোল উত্তাল হয়ে ওঠে মাজেদ সাহেবের
বাড়িতে এসে পাঞ্জাবী খুলে আয়নার সামনে দাঁড়ান মাজেদ সাহেব, পেটটা সামনে বেড়িয়েছে, চুলেও পাক ধরেছে সামান্য, কানের মধ্যে দুই গোছা পশমেই সাদা পাক ধরেছে, চুলের কলপ উঠি উঠি করছে
রফিক সাহেবের যুবক দেহ, আর লিমনের তো পেটানো লম্বা শরীর- পরাজয়ের তিতা স্বাদ জিভের মাথায় অনুভব করেন মাজেদ সাহেব
সিদ্ধান্ত নিলেন কুদরত সাহেব ফিরলেই সীমা-আর লিমনের কোলে উঠাউঠির ব্যপারটা নালিশটা দেবেন
সাথে আরো দু-তিনজন মুরুব্বিকে নিয়ে যাবেন, মসজিদের ইমামকে পেলে আরো হয়, ইসলামি মহল্লায় এ কেমন বেল্ললেলাপনা? পেয়েছেটা কি?
আজ সীমাকে দু'দুবার করে ফোন করেও পাওয়া যায়নি, তৃতীয়বার ফোন ধরলো সে
মনে হয় মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে, ধরা ধরা গলা, এক সেকেন্ডে অন্য এক জগতে চলে গেলেন মাজেদ সাহেব, বিড়বিড় করে আবৃতি করে ফেললেন-
একদা রাতে নবীন যৌবনে
স্বপ্ন হতে উঠিনু চমকিয়া,
বাহিরে এসে দাঁড়ানু একবার
ধরার পানে দেখিনু নিরখিয়া
শীর্ণ হয়ে এসেছে শুকতারা,
পূর্বতটে হতেছে নিশি ভোর
আকাশ-কোণে বিকাশে জাগরণ,
ধরণীতলে ভাঙে নি ঘুমঘোর
ইচ্ছে হয় সারাদিন ফোন কানে ধরে সীমার গলা শুনতে, কি মনোহর
ভাটি অঞ্চলে আজ জোয়ার এসেছে, ফাটা মাটিতে মাথা তুলেছে নবীন ধানের শীষ
- সীমা কেমন আছো?
- চাচা, মোবাইলে কেন ফোন দিয়েছেন?
- বাসার ফোনে ফোন দেন, আব্বা বাসায় আছে
খুট করে লাইন কেটে দিলো মাজেদ সাহেব, বুকের মাঝে বাজিলো কি সুখের ব্যথা
একবার যদি পাওয়া যেত সীমাকে, একবার যদি হাতে হাত নিয়ে বসে থাকা যেতো
না পাওয়ার বিরক্তি নিয়ে টিভি খুলে বসলেন মাজেদ সাহেব, রেলমন্ত্রীর বিয়ে, হলুদের অনুষ্ঠান লাইভ দেখাচ্ছে, মাজেদ সাহেবের স্ত্রী হামিদা খান তার পাশে বসলেন
উত্তেজিত মাজেদ সাহেব বললেন
- দেখলা অবস্থা, বুড়ো বেটায় কি করতেছে?
- কি করতেছে?
- অল্প বয়স্কা মেয়েটারে ফুসলায়ে বিবাহ করতেছে
- মেয়ে ফুসলে গিয়ে বিয়ে করলে তোমার সমস্যা কি?
- একটা রীতি নীতি আছে না সমাজের? এইটা কোন কথা বুড়া ব্যাটা এই অল্প বয়স্কা মেয়েটারে বিবাহ করতেছে!
- তাতে তোমার কি? তাদের তো প্রেমের বিয়ে
- প্রেম না কচু, চল্লিশের পরে পুরুষের ঠ্যালা দেয়, তখন নতুন প্রেম, নতুন স্ত্রীর খোঁজ করে পুরুষ
- তোমার ও তো চল্লিশ পার হইছে, তুমিও খোঁজ করো নাকি? নাকি করা শেষ? কাউরে ফুসলাইতে পারো নাই নাকি?
- বাজে কথা বলা বন্ধ করো হামিদা, প্রেশারটা একটু হাই লাগতেছে, দ্রুত এক গ্লাস টক দই দাও
হামিদা খান উঠে গেলে মাজেদ সাহেব চোখ বন্ধ করে কল্পনায় একবার লিমন একবার রফিক সাহেবের চরিত্রে অভিনয় করতে থাকেন, আর স্ত্রীর ফিরে আসার পায়ের শব্দ পেয়ে বিড় বিড় করে বলেন- শালা বুড়া ভাম কোনখানকার, খাটাশ, বুড়া বয়সে বিয়ের শখ
১,৫২৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত লেখা বা মন্তব্য সম্পূর্ণভাবেই লেখক/মন্তব্যকারীর নিজস্ব অভিমত
এর জন্য ক্যাডেট কলেজ ব্লগ কর্তৃপক্ষকে কোনভাবেই দায়ী করা চলবেনা
২২ টি মন্তব্য : "দোদুল্যমান"
সামিউল(২০০৪-১০)
নভে. ৬, ২০১৪ @ ২:২৮ পূর্বাহ্ন
অফ চান্সে পরথম
এখন পইড়া আসি
... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!
সামিউল(২০০৪-১০)
নভে. ৬, ২০১৪ @ ২:৩৮ পূর্বাহ্ন
বরাবরের মতই অনেক ভাল লাগলো গল্পটা
মাজেদ খানের জন্য সমবেদনা
বয়স তো মাত্র চল্লিশ
আমাদের মন্ত্রীসাহেব ৬৭তে এসে পারলে উনি তো সে তুলনায় কোপা সামছু... 😛
... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!
তাওসীফ হামীম (০২-০৬)
নভে. ৬, ২০১৪ @ ৪:০৬ অপরাহ্ন
আসলে চল্লিশ পার হয়ে যাওয়া পুরুষ সবাইকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে থাকে, কিছুটা একাকীত্ব বোধ এবং একঘেয়ে সংসারের বাইরেও নতুন কিছুর লোভ তাদের চেপে ধরে, বিষয়টা যতটুকু শারীরিক ততটুকুই সাইকোলজিকাল
তবে এই অবস্থা থেকে পরস্ত্রীর প্রতি আক্রোশ এবং মুখর হয়ে ওঠা কাম্য নয়
চাঁদ ও আকাশের মতো আমরাও মিশে গিয়েছিলাম সবুজ গহীন অরণ্যে
সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)
নভে. ৬, ২০১৪ @ ৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
বরাবরের মতোই মুচমুচে লেখা... সাবাস! ::
তাওসীফ হামীম (০২-০৬)
নভে. ৬, ২০১৪ @ ৪:০৬ অপরাহ্ন
আপা ব্লগ বাড়িতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ
চাঁদ ও আকাশের মতো আমরাও মিশে গিয়েছিলাম সবুজ গহীন অরণ্যে
নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)
নভে. ৬, ২০১৪ @ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
ক্লাসিক ক্লাসিক!
এর বেশি কিছু বলার দরকার নাই
:: ::
তাওসীফ হামীম (০২-০৬)
নভে. ৬, ২০১৪ @ ৪:০৭ অপরাহ্ন
নূপুরদা অনেক ধন্যবাদ
আপনার কমেন্ট দেখলে লেখার আগ্রহ বাড়ে