content stringlengths 0 129k |
|---|
রেজিস্ট্রার সাহেব ঢাকায় ছিলেন |
তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসছেন |
তিনি এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন |
জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারি প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন |
অপমান সহ্য করতে না পেরে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নাজমুল হাসান তুহিন নামে এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন |
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তাল ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন |
ওইদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন |
ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয় |
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলতেই থাকে |
একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে আসেন শিক্ষার্থীরা |
এদিকে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি |
শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সিন্ডিকেট সভায় ওই প্রতিবেদনের আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল |
কিন্তু সিদ্ধান্ত ছাড়াই সিন্ডিকেট সভা শেষ হওয়ায় রাতেই ফের আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা |
বাংলাদেশ সময়: ১৪১৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৪, ২০২১ |
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন |
24. |
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না |
শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত |
'শিক্ষা কার্যক্রম যেভাবে চলছে, সেভাবেই থাকবে' |
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ |
শতবর্ষের অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবমুখর ঢাবি ক্যাম্পাস |
ফরিদপুরে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান |
রাবিতে জিল্লুর রহিম রিসার্চ ল্যাবরেটরি উদ্বোধন |
শতবর্ষে রঙিন উৎসবের সঙ্গে শিক্ষার মান বাড়ানোর প্রত্যাশা |
প্রবেশপত্র না আসায় পরীক্ষা অনিশ্চিত ৩৬ শিক্ষার্থীর |
শিক্ষা এর সর্বশেষ |
প্রবেশপত্র না আসায় পরীক্ষা অনিশ্চিত ৩৬ শিক্ষার্থীর |
শতবর্ষে রঙিন উৎসবের সঙ্গে শিক্ষার মান বাড়ানোর প্রত্যাশা |
৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ |
শতবর্ষের অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবমুখর ঢাবি ক্যাম্পাস |
ফরিদপুরে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান |
রাবিতে জিল্লুর রহিম রিসার্চ ল্যাবরেটরি উদ্বোধন |
'শিক্ষা কার্যক্রম যেভাবে চলছে, সেভাবেই থাকবে' |
আইএসইউর শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে সভা |
দৃষ্টিনন্দন চারতলা মসজিদ হবে শাবিপ্রবিতে |
এই বিভাগের সব খবর |
মোবাইল সার্ভিস |
সম্পাদক : জুয়েল মাজহার |
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪৩ ২১৮১, +৮৮০ ২ ৮৪৩ ২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০ ৯৬১ ২১২ ৩১৩১ নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০ ১৭২ ৯০৭ ৬৯৯৬, +৮৮০ ১৭২ ৯০৭ ৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪৩ ২৩৪৬ |
সৈকত চৌধুরী|2010-11-3002:37:40+06:00নভেম্বর 30, 2010|: গল্প, ধর্ম, মুক্তমনা, সমাজ, সংস্কৃতি|28 |
[লেখক পরিচিতিঃ আবুল মনসুর আহমদ ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহের ধানীখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন |
জীবনের প্রথম ভাগে তিনি সাংবাদিকতায় মন দিয়েছিলেন, পরে রাজনীতিজ্ঞ হিসেবেও খ্যাতিমান হন |
তিনি ১৯৭৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন |
আবুল মনসুর আহমদের "আয়না" ও "ফুড কনফারেন্স" গল্পগ্রন্থ হিসাবে বিশেষ সমাদৃত হয়েছে |
"আয়না"" গ্রন্থভুক্ত ""হুজুর কেবলা"" গল্পে গল্পকারের বেদনাদীর্ণ হৃদয়ের পরিচয় লক্ষণীয় |
খুবই ভাল লাগা এ গল্পটিকে সকলের সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যে আমার নিজ ব্লগে প্রকাশ করলাম-] |
এমদাদ তার সবগুলি বিলাতি ফিনফিনে ধুতি,সিল্কের জামা পোড়াইয়া ফেলিল; ফ্লেক্সের ব্রাউন রঙের পাম্প সুগুলি বাবুর্চিখানার বঁটি দিয়া কোপাইয়া ইলশা-কাটা করিল |
চশমা ও রিস্টওয়াচ মাটিতে আছড়াইয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিল; ক্ষুর স্ট্রপ,শেভিংস্টিক ও ব্রাশ অনেকখানি রাস্তা হাঁটিয়া নদীতে ফেলিয়া দিয়া আসিল;বিলাসিতার মস্তকে কঠোর পদাঘাত করিয়া পাথর-বসানো সোনার আংটিটা এক অন্ধ ভিক্ষুককে দান করিয়া এবং টুথক্রিম ও টুথব্রাস পায়খানার টবের মধ্যে ফেলিয়া দিয়া দাঁত ঘষিতে লাগিল |
অর্থাৎ এমদাদ অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করিল! সে কলেজ ছাড়িয়া দিল |
তারপর সে কোরা খদ্দের কল্লিদার কোর্তা ও সাদা লুঙ্গি পরিয়া মুখে দেড় ইঞ্চি পরিমাণ ঝাঁকড়া দাড়ি লইয়া সামনে-পিছনে সমান-করিয়া চুলকাটা মাথায় গোল নেকড়ার মতো টুপি কান পর্যন্ত পরিয়া চটিজুতা পায়ে দিয়া যেদিন বাড়িমুখে রওনা হইল,সে দিন রাস্তার বহুলোক তাকে সালাম দিল |
সে মনে মনে বুঝিল, কলিযুগেও দুনিয়ায় ধর্ম আছে |
কলেজে এমদাদের দর্শনে অনার্স ছিল |
কাজেই সে ধর্ম,খোদা,রসূল কিছুই মানিত না |
সে খোদার আরশ,ফেরেশতা,ওহী,হযরতের মেরাজ লইয়া সর্বদা হাসিঠাট্টা করিত |
কলেজ ম্যাগাজিনে সে মিল,হিউম,স্পেন্সার,কোমতের ভাব চুরি করিয়া অনেকবার খোদার অস্তিত্বের অসারতা প্রমাণ করিয়াছিল |
কিন্তু খেলাফৎ আন্দোলনে যোগদান করিয়া এমদাদ একেবারে বদলাইয়া গেল |
সে ভয়ানক নামাজ পড়িতে লাগিল |
বিশেষ করিয়া নফল নামাজ সে একেবারে তন্ময় হইয়া পড়িল |
গোল-গাল করিয়া বাঁশের কঞ্চি কাটিয়া সে নিজ হাতে একছড়া তসবিহ তৈরি করিল |
সেই তসবির উপর দিয়া অষ্টপ্রহর অঙ্গুলি চালনা করিয়া সে দুইটা আঙ্গুলের মাথা ছিঁড়িয়া ফেলিল |
কিন্তু এমদাদ টলিল না |
সে নিজের নধর দেহের দিকে চাহিয়া বলিল : হে দেহ,তুমি আমার আত্মাকে ছোট করিয়া নিজেই বড় হইতে চাহিয়াছিলে! কিন্তু আর নয় |
সে আবার দ্বিগুণ উৎসাহে তসবিহ চালাইতে লাগিল |
দিন যাইতে লাগিল |
ক্রমে এমদাদ একটা অস্বস্তি বোধ করিতে লাগিল |
বহু চেষ্টা করিয়াও সে এবাদতে তেমন নিষ্ঠা আনিতে পারিতেছিল না |
নিজেকে বহু শাসাইল,বহু প্রক্রিয়া অবলম্বন করিল;কিন্তু তথাপি পোড়া ঘুম তাকে তাহাজ্জতের নামাজ তরক্ করিতে বাধ্য করিতে লাগিল |
অগত্যা সে নামাজে বসিয়া খোদার নিকট হাত তুলিয়া কাঁদিবার বহু চেষ্টা করিল |
চোখের পানির অপেক্ষায় আগে হইতে কান্নার মতো মুখ বিকৃত করিয়া রাখিল |
কিন্তু পোড়া চোখের পানি কোন মতেই আসিল না |
সে স্থানীয় কংগ্রেস ও খেলাফৎ কমিটির সেক্রেটারি ছিল |
সেখানে প্রত্যহ সকাল-বিকালে চারিপাশের বহু মওলানা মৌলবী সমবেত হইয়া কাবুলের আমিরের ভারত আক্রমণের কতদিন বাকি আছে তার হিসাব করিতেন এবং খেলাফত নোট-বিক্রয় লব্ধ পয়সায় প্রত্যহ পান ও র্জদা এবং সময়-সময় নাশতা খাইতেন |
ইহাদের একজনের সুফী বলিয়া খ্যাতি ছিল |
তিনি এক পীর সাহেবের স্থানীয় খলিফা ছিলেন এবং অনেক রাত পর্যন্ত 'এলহু' 'এলহু' করিতেন |
অল্পদিন পূর্বে 'এস্তেখারা' করিয়া তিনি দেখিয়াছিলেন যে,চারি বৎসরের মধ্যে কাবুলের আমির হিন্দুস্থান দখল করিবেন |
তাঁহার কথায় সকলেই বিশ্বাস করিয়াছিলো;কারণ মেয়েলোকের উপর জিনের আসর হইলে তিনি জিন ছাড়াইতে পারিতেন |
এই সুফী সাহেবের নিকট এমদাদ তার প্রাণের বেদনা জানাইল |
সুফী সাহেব দাড়িতে হাত বুলাইয়া মৃদু হাসিয়া ইংরাজী-শিক্ষিতদের উদ্দেশ্য করিয়া অনেক বাঁকা বাঁকা কথা বলিয়া উপসংহারে বলিলেন : হকিকতান যদি আপনি রুহের তরক্কী হাসেল করিতে চান,তবে আপনাকে আমার কথা রাখিতে হইবে |
আচ্ছা;মাস্টার সাহেব,আপনি কার মুরিদ? |
এমদাদ অপ্রতিভভাবে বলিল : আমি ত কারো মুরিদ হই নাই |
সুফী সাহেব যেন রোগ নির্ণয় করিয়া ফেলিয়াছিলেন এইভাবে মাথা নাড়িতে নাড়িতে বলিলেন : হ-ম্,তাই বলুন |
গোড়াতেই গলদ |
পীর না ধরিয়া কি কেহ রুহানিয়ৎ হাসেল করিতে পারে? হাদীস শরীফে আসিয়াছে : [এইখানে সুফী সাহেব বিশুদ্ধরূপে আইন-গাইনের উচ্চারণ করিয়া কিছু আরবী আবৃত্তি করিলেন এবং উর্দুতে তার মানে-মতলব বয়ান করিয়া অবশেষে বাংলায় বলিলেন] : জযবা ও সলুক খতম করিয়া ফানা ও বাকা লাভে সমর্থ হইয়াছেন এরূপ কামেল ও মোকাম্মেল,সালেক ও মজযুব পীরের দামন না ধরিয়া কেহ জমিরের রওশনী ও রুহের তরক্কী হাসেল করিতে পারে না |
হাদীসের এই সুস্পষ্ট নির্দেশের কথা শুনিয়া এমদাদ নিতান্ত ঘাবড়াইয়া গেল |
সে ধরা-গলায় বলিল : কি হইবে আমার তাহা হইলে সুফী সাহেব? |
সুফী সাহেব এমদাদের কাঁধে হাত রাখিয়া বলিলেন : ঘাবড়াইবার কোন কারণ নাই |
কামেল পীরের কাছে গেলে একদিনে তিনি সব ঠিক করিয়া দিবেন |
স্বস্তিতে এমদাদের মুখ উজ্জ্বল হইয়া উঠিল |
সে আগ্রহাতিশয্যে সুফী সাহেবের হাত চাপিয়া ধরিয়া বলিল : কোথায় পাইব কামেল পীর? আপনার সন্ধানে আছে? |
উত্তরে সুফী সাহেব সুর করিয়া একটি ফরাসী বয়েত আবৃত্তি করিয়া তার অর্থ বলিলেন : জওহরের তালাশে যারা জীবন কাটাইয়াছে,তারা ব্যতীত আর কে জওহরের খবর দিতে পারে? হাজার শোকর খোদার দরগায়,বহু তালাশের পর তিনি জওহর মিলাইয়াছেন |
সুফী সাহেবের হাত তখনও এমদাদের মুঠার মধ্যে ছিল |
সে তা আরো জোরে চাপিয়া ধরিয়া বলিল : আমাকে লইয়া যাইবেন না সেখানে? |
সুফী সাহেব বলিলেন : কেন লইয়া যাইব না? হাদীস শরীফে আসিয়াছে : (আরবী ও উর্দু) যে ব্যক্তি আল্লাহ্র রাস্তায় আসিতে চায়, তার সাহায্য কর |
সংসারে একমাত্র বন্ধন এবং অভিভাবক বৃদ্ধা ফুফুকে কাঁদাইয়া একদিন এমদাদ সুফী সাহেবের সঙ্গে পীর-জিয়ারতে বাহির হইয়া পড়িল |
এমদাদ দেখিল : পীর সাহেবের একতলা পাকা বাড়ি |
বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন |
অন্দরবাড়ির সব ক'খানা ঘর পাকা হইলেও বৈঠকখানাটি অতি পরিপাটি প্রকাণ্ড খড়ের আটচালা |
সে সুফী সাহেবের পিছনে পিছনে বৈঠকখানায় প্রবেশ করিল |
দেখিল : ঘরে বহু লোক জানু পাতিয়া বসিয়া আছেন |
বৈঠকখানার মাঝখানে দেওয়াল ঘেঁষিয়া অপেক্ষাকৃত উচ্চ আসনে মেহেদি-রঞ্জিত দাড়ি বিশিষ্ট একজন বৃদ্ধ লোক তাকিয়া হেলান দিয়ে আলবোলায় তামাক টানিতেছেন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.