content stringlengths 0 129k |
|---|
অবাক হলেন? দেখুন, কনফ্লিক্ট হতে কী পজিটিভ ঘটতে পারে- |
১.বহুমতের উদ্ভব |
২.চেঞ্জ বা পরিবর্তন |
৩.ডায়নামিজম |
৪.কষ্ট ইফেকটিভনেস |
৫.কালেকটিভ বেনেফিট |
৬.নিরবচ্ছিন্ন কর্মপ্রবাহ |
৭.গণতন্ত্র |
৮.চেক এ্যান্ড ব্যালেন্স সৃষ্টি হয় |
৯.আর পরিবারে জায়া ও পতির দ্বন্দ্বের মধুর পরিণতির কথা কে না জানে? |
এখন প্রশ্ন হল, তবে আমরা কিভাবে দ্বন্দ্ব বা কনফ্লিক্টের মোকাবেলা বা সমাধান করব? সহজ |
আমরা যদি জানি যে, দ্বন্দ্বের উৎস কোথায় তবে তো সমাধান খুব সোজা-ওই উৎসটিকে বন্ধ করা |
এটা বোধহয় খুব সরলীকরন হয়ে গেল |
একটু ব্যখ্যা করে যদি বলি, তবে বলব, আমাদের দৈনন্দিন ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত জীবনের অধিকাংশ কনফ্লিক্টেরই সমাধান খুব সহজেই করে ফেলা যায় |
যদি আমরা মনে করি যে, দ্বন্দ্বের পরিণতি কারো জন্যই পজিটিভ রেজাল্ট বয়ে আনে না |
আমরা যদি মনে রাখি যে, প্রায় প্রতিটি দ্বন্দ্বমূলক বিষয়ের পিছনে একটি আপেক্ষিক সত্যি আছে আর এবসলুট বলে কিছু নেই-তাহলেই বিরোধ অনেকটা কমে যায় |
তবুও দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায় নিয়ে বলতে গেলে কিছু পথ বাতলে দেয়া যায়:- |
১.ওপেন ডায়লগ পলিসী অনুসরন করা যেখানে যেকোনো কনফিউশন নিয়ে মুক্ত মতের আলোচনা হয় |
২.যেকোনো কর্মপ্রক্রিয়াতে ট্রান্সপারেন্সি নিশ্চিৎ করা |
৩.যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা প্লাটফরমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিৎ করা |
৪.দ্রূত দ্বন্দ্বের কারন নিরূপন আর সমাধানের উদ্যোগ নেয়া |
৫.দ্বন্দ্ব জিইয়ে না রেখে যেকোনো রকমই হোক, সমাধান করা |
৬.দ্বন্দ্বের প্রকৃত কারন-ভিজিবল বা ভেস্টেড, তার স্বরূপ জানার চেষ্টা করা |
৭.শুধুমাত্র একটিমাত্র উপায় নিয়ে না থেকে সমাধানের একাধিক বিকল্প হাতে নিয়ে কাজ করা |
৮.উইন-উইন সিচুয়েশন রক্ষার চেষ্টা করা |
৯.সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে কালেকটিভ ডিসিশন নেবার সংস্কৃতি চালু করা |
১০.যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ডিসিপ্লিন ও হাইয়ারারকিসহ স্প্যান অব কন্ট্রোল নিশ্চিৎ করা |
১১.যেকোনো সমস্যা ও সমস্যার অভিযোগকারীকে গুরুত্ব দিয়ে হ্যান্ডেল করা |
১২.যেকোনো বক্তব্য, কাজ, উদ্যোগ, সিদ্ধান্ত নেবার আগে সেটির আপেক্ষিকতা, নিরপেক্ষতা এবং যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে নেয়া |
১৩.আমি যা ভাবছি বা আমি যেটা জানি/ভাবি-সেটাই একমাত্র সঠিক/সত্যি-এমন ভুল ধারনা থেকে বের হয়ে আসা |
১৪.গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তগ্রহন প্রক্রিয়া অনুসরন করা |
১৫.সমস্যা/সংশয়/দ্বন্দ্ব'র শুরুতেই সেটিকে এটেন্ড করা |
১৬.জুনিয়রদের মতামত ও আইডিয়াকে মূল্যায়ন করা |
১৭.রিজিড/স্ট্যাটিক ও কনভেনশনাল এ্রপ্রোচ ও এটিচুড নয় বরং ডাইনামিক, মডার্নাইজড ও ফ্লেক্সিবল পলিসী অনুসরন করা |
১৮.দ্বন্দ্ব বা কনফ্লিকট নিরসনে কাজ শুরু করার সময় কোনো প্রিজুডিসড/বায়াজড/প্রিসেট মেন্টালিটি বা প্রি-এজাম্পশন নিয়ে শুরু না করা |
১৯.কনফ্লিক্ট সৃষ্টি হবার পর তার রিএ্যাকটিভ সমাধানের চেয়ে প্রি-এজিউম ও ফোরকাস্টিং এর মাধ্যমে এবং বিভিন্ন মেথড অনুসরন করে কনফ্লিক্ট উদ্ভব হতে না দেয়া মানে প্রতিরোধ করাটাই সবচেয়ে ভাল সমাধান |
কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আমি সবসময় আমার চারপাশের লোকদের একটি গল্প বলি |
আমার মনে হয় মেন্টালিটি, এটিচুড আর এপ্রোচই হল কনফ্লিক্ট ক্রিয়েশন আর সমাধানের মূলমন্ত্র |
এই তিনের সুষ্ঠূ ম্যানেজমেন্টই হল কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের সূত্র |
গল্পটি পড়ুন |
এতেই আপনি সবচেয়ে ভাল গাইডলাইনটি পেয়ে যাবেন |
আকলমান্দকে লিয়ে ইশারাই কাফি |
একবার এক পশ্চিমা শহরে |
দুই দিকে দুটি পাহাড় |
দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তি পাদদেশে একটি |
তো একদিন সেই দুই পাহাড় হতে দু'জন ঘোড়সওয়ার পাহাড় হতে নেমে টির কাছাকাছি এলেন |
একজন পাবের ডানদিক হতে আরেকজন বাম হতে |
বামের ঘোড়সওয়ার বললেন, "কী সুন্দর এই রুপালী সেলুনটি" |
কিন্তু ডানের ঘোড়সওয়ার বললেন, "এই স্বর্নালী সেলুনটি অত্যন্ত সুন্দর" |
প্রথম ঘোড়সওয়ার দ্বিতীয় জনকে উদ্দেশ্য করে বলল, ওহে ভাই, ওই সাইনবোর্ডে পরিষ্কার লেখা আছে এটা সিলভার সেলুন |
তুমি কেন এটাকে গোল্ডেন বলছ? দ্বিতীয়জন বলল, কই, আমি তো পরিষ্কার লেখা দেখছি গোল্ডেন সেলুনে স্বাগত |
ব্যাস আস্তে ধীরে এই নিয়ে তর্কে জড়াল দু'জন |
সেলুনের নাম সিলভার সেলুন নাকি গোল্ডেন সেলুন |
দু'জনের ঝগড়া এক পর্যায়ে বন্দুক যুদ্ধের উপক্রম করল |
এমন সময় সেলুনের ব্যাটউউংডোর ঠেলে এক বৃদ্ধ বের হলেন |
তিনি দু'জন ঘোড়সওয়ারকে প্রায় যুদ্ধোদ্যত দেখে তাদের ঝগড়ার কারন জানতে চাইলে দু'জনে বিচার দিলেন দ্বিতীয়জনের ভুলের ব্যাপারে |
বৃদ্ধ একটু হেসে বামের ঘোড়সওয়ারকে ডানে নিয়ে গেলেন আর ডানের লোকটাকে বামে |
এবার পড়তে বললেন সাইনবোর্ড |
তারা দু'জনেই দু'জনের ভুল বুঝতে পারল |
আসলে সেলুনের মালিক মজা করার জন্য সেলুনের সাইনবোর্ডের দু'পাশে দু'রকম নাম দিয়েছে-গোল্ডেন ও সিলভার |
তার মানে দাড়াল কেউই ভুল না |
শুধুমাত্র আপেক্ষিকভাবে তাদের দু'জনের ধারনা ভুল আবার সঠিক দুটোই |
আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এমনি হাজারো আপেক্ষিক সত্য-মিথ্যা বিদ্যমান |
শুধু প্রয়োজন সমঝোতা, সহমর্মিতা, আপোষকামীতা, র্যাশনাল চিন্তাধারা আর গভীর দৃষ্টিভঙ্গি |
এতটুুকু মেনে চললে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অর্ধেক কনফ্লিক্টের উদ্ভবই হত না |
১৯৭১ সালে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা অর্জনের পর আজ ৪৭ বছর বয়সের এই বাংলাদেশের বর্তমান অর্থ ব্যবস্থা অনেকাংশেই তৈরী পোশাক নির্ভর |
যা একটি ভাল অর্থনীতির জন্য শুভ লক্ষন নয় |
সস্তা শ্রম নির্ভর এই শিল্পের আগামীর যে লক্ষ্যমাত্রা তাও বিভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন |
বিশেষ করে বিশ্ব বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, কাঁচামালের ক্ষেত্রে বিদেশ নির্ভরতা, প্রযুক্তির আবিষ্কার ও ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এবং দক্ষ কর্মীবাহিনীর অভাব ইত্যাদি কারণে আমরা কোন কোন ক্ষেত্রে বানরের তৈলাক্ত বাঁশে উঠার অংকের মত তিন কদম এগিয়ে যাই তো দুই কদম পিছাতে হয় |
এই অবস্থায় আমাদের সম্ভাবনাময় এই তৈরী পোশাক খাতকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করতে একদল মেধাবী ও সাহসী লোক নিরলস কাজ করে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য আশার আলো জাগাতে পারে |
আমরা এই অভিযাত্রীদের দলে থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে না পারলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়ী থাকতে হবে |
তৈরী পোশাক কারখানার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের নাম হল "স্টোর" () |
কোন কোন কারখানায় এটির নাম "ওয়ার হাউজ" () আবার কোথাও কোথাও বা গুদাম |
নামের ব্যবধান যাই হোক না কেন কাজ কিন্তু কম বেশি একই রকম |
যে কোন কারখানার প্রায় ৭০% - ৮০% চলতি মূলধন থাকে এই বিভাগের নিয়ন্ত্রণে, যার নিরাপত্তা ও সর্বোত্তম ব্যবহারের উপর নির্ভর করে একটি কারখানার পণ্য উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান |
স্টোর বিভাগের কার্যকর ভূমিকা যেমন উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে তেমনি এই বিভাগের দুর্বলতার কারণে হতে পারে বড় ধরণের আর্থিক এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি |
কিন্তু, অত্যন্ত পরিতাপের ও চিন্তার বিষয় হল এই বিভাগকে এখনো পর্যন্ত অনেক মালিক কিংবা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঠিক সেই ভাবে মূল্যায়ন করেন না যেভাবে তা করা উচিৎ |
স্টোরের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে অনেকেই যেমন এটাকে কারখানার হৃৎপিণ্ড বলে থাকেন তেমনি অনেকেই অবহেলা করতে গিয়ে মনে করে থাকেন অপ্রয়োজনীয় দুষ্টচক্র |
কারখানাতে প্রাকৃতিকভাবে একটাস্টোর থাকতেই হবে তাই রাখা হয়! এমনকি এখানে কিছু দারোয়ান মার্কা লোক বসিয়ে দিয়ে অনেকেকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করতে চান ! আমি মনে করি তারা বোকার স্বর্গেই বসবাস করেন |
কারণ, একজন ভাল কুক সে যত পরিপক্কই হোক না কেন, ভাল খাবার প্রস্তুতের জন্য তার দরকার ভাল উপাদান |
পচা মাছ দিয়ে একজন আন্তর্জাতিক মানের কুকও পারবেন না একটি ভাল খাবার তৈরী করতে |
আর এই ভাল কাঁচামালের জোগানের কাজটায় সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখতে পারে স্টোর বিভাগ |
একটা আদর্শ স্টোরের কি কি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে তা নিয়ে আমাদের দেশে কোন পলিসি আপাতত নেই বললেই চলে |
যাও বা কিছু নির্দেশনা আছে তা তাজরীন ফ্যাশন এবং রানা প্লাজার বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে প্রস্তুত করা হয়েছে শুধুমাত্র কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত |
যার উৎপাদনশীলতা বা কোয়ালিটি পণ্যের ক্ষেত্রে কোন ভুমিকা নেই |
এটি শুধুই শ্রমিক কিংবা কর্মরত জনবলের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট |
আমি এখানে সংক্ষেপে একটি আদর্শ স্টোরের বৈশিষ্ট্য সমূহ উল্লেখ করবো; |
আলাদা দালান বা সেডঃ একটা আদর্শ স্টোরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল স্টোর কারখানার মূল ভবন থেকে পৃথক হবে এবং বিএনবিসি কোড অনুযায়ী মিনিমাম দূরত্বে হতে হবে |
এতে করে মূল ভবনে কোন রকম দুর্ঘটনা হলেও কোম্পানীর কাঁচামাল অক্ষত থাকবে এবং দ্রুতই নিজেদেরকে আর্থিকভাবে গুছিয়ে নিতে পারবে |
তবে অবস্থাগত দিক বিবেচনা করে মূল কারখানার সাথে স্টোরের যাতায়াতের স্থানটুকু ছাউনি দেয়া যেতে পারে যা সহজেই অপ্রয়োজনীয় সময় সরিয়ে নেয়া যাবে |
পর্যাপ্ত আলো বাতাসঃ স্টোর হবে পর্যাপ্ত আলো বাতাস সমৃদ্ধ |
সম্ভব হলে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবস্থা রাখা স্টোরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় |
এক্ষেত্রে দিনের আলোয় স্টোরের কাজ সমাপ্ত করার মত পলিসি রাখতে হবে |
অন্যথায় কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং কোন অবস্থাতেই স্টোরের ভিতর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যাবেনা |
এমন কি স্টোর কর্মকর্তাদের অফিসও স্টোরের মূল দালান থেকে পৃথক হওয়া বাঞ্চনীয় |
অনেকেই তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকান্ডের পর কোন বিকল্প ব্যবস্থা না করেই বেশিরভাগ পোশাক কারখানার স্টোরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন |
যারা কারখানার অগ্নিকান্ড নিয়ে গবেষণা করেন তাদের কাছে প্রশ্ন, কয়টি কারখানায় স্টোর বিভাগে বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে আগুন লেগেছে? সঠিক পরিসংখ্যান নিলে দেখা যাবে যে কয়েক জায়গায় স্টোরে আগুন লেগেছে তার বেশিরভাগই পরিকল্পিত বা উদ্দেশ্য প্রণোদিত! |
পর্যাপ্ত স্থান বা জায়গাঃ প্রয়োজনীয় জায়গা না থাকা আমাদের দেশের পোশাক কারখানাগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে |
ফ্লোর থেকে শুরু করে স্টোর, কাটিং, ফিনিশিং, প্রিন্টিং, এমব্রয়ডারী, ওয়াশিং, আইডল মেশিন রাখার স্থান সবখানেই জায়গার অপ্রতুলতা এখন মহামারী রোগে পরিণত হয়েছে |
এতে একদিকে কোম্পানীর উৎপাদনে বিগ্ন ঘটছে অন্যদিকে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় এটার নেতিবাচক প্রভাব পরছে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.