content
stringlengths
0
129k
গল্পটা মন ছুঁয়ে গেল
অনেক পরিপক্ক লেখনি
ধন্যবাদ এমন লেখা উপহার দেবার জন্য
মোজাফফর হোসেন অক্টোবর 12, 2010 11:01 অপরাহ্ন -
@আফরোজা আলম, ধন্যবাদ
বেশ ভাল লাগলো শুনে
মোজাফফর হোসেন অক্টোবর 10, 2010 7:27 পূর্বাহ্ন -
কিন্তু মাহফুজ ভাই, পরিবর্তনটা আসা যে খুবই দূরহ কাজ ! আমরা কি সত্যিই চাই পরিবর্তন হউক !!
মাহফুজ অক্টোবর 10, 2010 6:19 পূর্বাহ্ন -
বিয়ে আগে: আমার না মাঝে মাঝে হিমু হতে ইচ্ছে করে!
বিয়ের পরে: আয়নার সামনে বসতে মোটেও ভাল লাগে না, তবুও বসে থাকি ঘন্টার পর ঘন্টা
যখন আগ পিছ বলে কিছু নেই: খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি আমার;-ভালো ছিলাম, ভালোই আছি!
সমাজে সাধারণ নারীর গতানুগতিক চিত্র
বেশ ভালোই লাগলো
নিজেদের পারিবারের চিত্রই ফুটে উঠলো চোখে
কিন্তু পরিবর্তন দরকার
ব্যাপক পরিবর্তন চাই
নারী শুধু আয়নার সামনে থাকবে না ঘন্টার পর ঘন্টা
বিয়ের পর অনেক ইচ্ছারই মৃত্যু ঘটে
নাচ বন্ধ হয়, কবিতা বন্ধ হয়, গান বন্ধ হয়
তারপরও বলে 'ভালোই আছি'
হায়রে নারী জীবন!!!
জবাব বাতিল
অনুসন্ধান করুন
:
নতুন ব্লগ লিখুন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
নারীই বন্ধ প্রকাশনায়
মিসিং লিংক কি সত্যিই মিসিং? প্রকাশনায় অনিন্দ্য পাল
অশ্লীল ভিডিওটি দেখলে কেন? প্রকাশনায় বিধান
নারীই বন্ধ প্রকাশনায় বিধান
বিষণ্ণতায় আমি, এবং কারণ খুঁজে দেখার চেষ্টা প্রকাশনায়
বিষয় অনুযায়ী লেখা
বিষয় অনুযায়ী লেখা একটি বিভাগ পছন্দ করুন অতিমারী (4) অনন্ত বিজয় (24) অনুবাদ (94) অভিজিৎ বিজ্ঞান (12) অভিজিৎ বিতর্ক (10) অভিজিৎ সাহিত্য (4) ই-বই (150) আমার চোখে একাত্তর (22) দ্য গ্রান্ড ডিজাইন (9) ভালবাসা কারে কয়? (67) ইতিহাস (356) উদযাপন (143) ডারউইন দিবস (78) ওয়াশিকুর বাবু (7) কবিতা (481) আবৃত্তি (79) ছড়া (25) খে...
আকাশ মালিক|2012-06-1207:47:08+06:00ডিসেম্বর 10, 2010|: ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি|53
পুরনো দিনের কাহিনি
আকাশ মালিক
আজ ০৪-১২-২০১০ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকার একটি সংবাদ ছিল 'পীরের উদ্ভট চিকিৎসা কেড়ে নিল ছাত্রীর প্রাণ'
সদ্য এইচ এস সি পাশ, পীরের হাতের ঔষধ খেয়ে, জিনে ধরা সিলেটের এক কিশোর তরুণীর মৃত্যুর খবর পড়ে, বহু দিনের পুরনো একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল
তখন ছোট ছিলাম, মাদ্রাসায় পড়তাম
টুকটাক যাদু-টোনা, মন্ত্র-তন্ত্র শিখেছি, দু-এক যায়গায় সাক্সেসফুল তায়-তদবিরও করেছি
ইংল্যান্ড থেকে আমার এক চাচাতো ভাই হারুন রশিদ পাঁচ বৎসর পর আজ বাড়ি এসেছেন
তার চোখে ঘরের ভিতরে দিনের বেলাও ঝাপসা অন্ধকার লাগে, মানুষগুলো দেখতে ছোটছোট লাগে, খানা-পিনায় সব বালিবালি লাগে, গ্লাস-বাটি ময়লা ময়লা লাগে, রাস্তাঘাট ভুলে গেছেন, বিশেষ করে নৌকায় উঠলে মাথা ঘুরায়, সুতরাং আমি তার সার্বক্ষণিক বডিগার্ড
গায়ে শ্যামবর্ণের কোন লক্ষণই নেই, একেবারে ছায়ায় ঢাকা ঘাসের মত সাদা দবদবে চেহারা
কাপড়ে চোপড়ে স্বর্গীয় সুবাস, স্পেশিয়েলি তার আফটারশেইভ আর সিগারেটে
বাপরে বাপ, এমন বড় সোনালী আর লাল রঙে মিশেল করা সিগারেটের প্যাকেট আমি জীবনেও দেখি নাই
এমনিতেই লম্বা সিগারেট, এর মাঝে তার পাছায় তুলা লাগানো
রশিদ ভাই লম্বা সিগারেটের অর্ধেকটা খেয়ে বাকিটুকু ফেলে দিতেন
এই ফেলে দেয়ারও আলাদা একটা স্টাইল ছিল
ক্যারম খেলার স্ট্রাইক মারার মত বুড়ি আঙ্গুল আর শাহাদত আঙ্গুলের মাঝখানে সিগারেট রেখে এমন ভাবে ছোঁড়ে মারতেন যে, সিগারেট বিশ হাত দূরে গিয়ে পড়তো
মনে মনে ভাবতাম, বিলেত বোধ হয় বেহেস্তের কাছাকাছি কোথাও অবস্থিত
রশিদ ভাই আই এ পাশ, উচ্চতায় সাত ফুট না হলেও সাড়ে ছয় ফুট অবশ্যই হবেন
সদাহাস্য, বলিষ্ট দেহের আর সুন্দর চেহারার মানুষ
দু একটা সিগারেট যে তার চুরি করি নাই, এ কথা বললে বড় সাইজের গোনাহ হবে
একমাস পরে আজ রশিদ ভাইয়ের বিবাহের দিন
ভাবী হাজেরা খাতুন আমার এক সময়ের পুতুল খেলা, এক্কা-দুক্কা খেলা, চীনা বরতনের ভাঙ্গা টুকরা দিয়ে খেলা, ছনের খড়ে, বাঁশ ঝাড়ের আড়ালে লুকোচুরি খেলার সাথী
আমাদের বাড়ি থেকে তিন বাড়ি উত্তরে তাদের বাড়ি
বিয়ের সময় হাজেরার বয়স ছিল নয় বৎসর আর ভাইয়ের বয়স ২৫
ভাবী, ভাইয়ের আপন মামাতো বোন
গত একমাস যাবত হাজেরা কেন তার ফুফুর বাড়ি আসলোনা, তা বুঝতে পারলাম তার বিয়ের পরে
আকদের আসরে আমি মৌলভী সাহেবের পাশেই ছিলাম
একসময় তিনি যখন প্রশ্ন করলেন, 'মোছাম্মাত হাজেরা খাতুন সা'বালেগা না লা'বালেগা'? একজন উত্তর দিলেন, 'কন্যা লা-বালেগা'
আমার কাছে ব্যাপারটা খুব একটা স্পষ্ট ছিলনা
মাদ্রাসায়ও এই বালেগ-না'বালেগ, হায়েজ-নেফাস, বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাঝেমাঝে আমাকে নিয়ে হুজুর বড় বিপদে পড়ে যেতেন
একদিন তো হুজুর মধ্যপথে জামাত (ক্লাশ) বাদ দিতেই বাধ্য হয়েছিলেন
ফার্সী ভাষায় লেখা কিতাব, সঙ্গমের মাসায়েল পড়ানো হবে
বিষয়- 'সঙ্গম উপুড় হয়ে, না চিৎ হয়ে, সম্মুখ থেকে, না পেছন থেকে হবে' এ নিয়ে শরিয়তের বিধান কী, তা শেখানো হচ্ছে
সঙ্গে আছে নারী পুরুষের বীর্যের স্পিড, ঘনত্ব, আয়তন, দৈর্ঘ, প্রস্থ, আরো আছে লুঙ্গি, বিছানা-চাদর ভেজা-ভেজির ব্যাপার স্যাপার
ফার্সীতে ( مقاربت از جلو یا پشت ) আমি از جلو এর অর্থ 'সম্মুখ থেকে' یا پشت এর অর্থ 'অথবা পেছন থেকে' বুঝি কিন্তু مقاربت এর অর্থ কিছুতেই বুঝিনা
এ নিয়ে জামাতের ভেতরে তুমুল অট্টহাসি শুরু হয়ে যায়
হুজুর নিজেও আর হাসি বন্ধ করতে পারছেন না
এক পর্যাযে ক্লাশ কেনসেল
এর পরে বেশ কিছুদিন আমি জামাতে ঢুকলেই বয়স্ক ছাত্ররা ঐ শব্দ দুটি নিয়ে পুশতু-পুশতু (পেছন-পেছন) বলে হাসাহাসি করতো, এমনকি হুজুরও ক্লাশে ঢুকেই প্রথমে বাঁকা চোখে আমার দিকে তাকাতেন, আমি বড়ই লজ্জা পেতাম
বিয়ের আসরে মৌলভি সাহেব রশিদ ভাইকে লক্ষ্য করে দুইবার বললেন, জোরে কবুল বলুন, আমরা শুনছিনা
তৃতীয়বারে বরের সমবয়সী তার এক বন্ধু বললেন 'দামান্দ কবুল বলেছেন, আপনারা সবাই বলুন আলহামদুলিল্লাহ'
কেউ শুনেছিল কি না জানিনা, অন্তত আমি কিছু শুনি নাই
সবাই হাত উঠালেন, মৌলভি সাহেব লম্বা একটা দোয়া করলেন
আল্লাহ যেন এই স্বামী-স্ত্রীকে আদম-হাওয়া, ইউসুফ-জুলেখা, আইয়ুব-রহিমা, ইব্রাহিম-হাজেরার জুড়ি বানায়
হাজেরা খাতুনের ঘরে যেন ইসমাইলের মত ঈমানদার সন্তান হয় ইত্যাদি
সবাই আমিন বললেন, বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল
বাসর ঘরে ঘোমটা পরা, পালংকের উপর চোখ বুঁজে বসা হাজেরাকে দেখলাম
বড় অপরিচিত মনে হল
রশিদ ভাই ঘরে ঢুকলেন, ভাবীকে নিচে নামানো হল, স্বামীর সামনে মাথা নত করে পা ছুঁয়ে সালাম করতে হবে
দাঁড়ানো অবস্থায় হাজেরাকে দেখে মনে হল, নয় বৎসরে হাজেরা যত লম্বা হয়নি, একমাসে তার চেয়ে বেশী হয়েছে
রশিদ ভাই এই বিয়েতে মোটেই রাজী ছিলেন না
প্রথম থেকেই তার আপত্তি ছিল কন্যার বয়সের উপর
তারপর তিনি বলতেন, আপন মামাতো, খালাতো, চাচাতো ভাই-বোন, নিজের সহোদর ভাই বোনের মত, এবং নিকটতম সম্পর্কের সাথে বিয়ে, সাস্থ্য ও আগন্তক শিশুর জন্যে ক্ষতিকর
কে শুনে, কে বিশ্বাস করে তার কথা? বড় চাচা, মেজো চাচা, চাচী, মামী বাড়িশুদ্ধ মানুষ জড়ো হলেন, লম্বা লম্বা ওয়াজ নসিহত করা হল
মা-বাবার পছন্দের উলটা গেলে, অবাধ্য হয়ে মরলে বেহেস্ত নসিব হয়না, সংসারে বরকত আসেনা, আরো কত কী বলা হল, ছোটরা তার অনেক কিছুই বুঝলোনা
রশিদ ভাই নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে বাধ্য হলেন
বাড়িতে পাঞ্জেগানা মসজিদ আছে
সাধারণত নামাজের জামাত শুরু হওয়ার আগে রশিদ ভাইয়ের জন্যে অপেক্ষা করা হয়, তিনি নামাজী মানুষ
বিয়ের পরের দিন আজ ফজরের জামাতে কেউ তার জন্যে অপেক্ষা করলোনা
আমি বিষয়টা তুলায় মুরুব্বি একজন বললেন, তার নাকি শরীর ভাল নয়
নামাজ শেষে আমি রশিদ ভাইয়ের উঠোনে পায়চারি করছি
হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, ভোর বেলা নাইটগাউন পরা অবস্থায় রশিদ ভাই ঘর থেকে বেরিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে একা বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছেন
আমাকে দেখেই হঠাৎ হু-হু করে কান্না শুরু করে দেন
আমি ভয়ে ভয়ে পাশে গিয়ে জিজ্ঞেস করি- 'কী হয়েছে, আপনি কাঁদছেন কেন'? আমার হাতে ধরে অবুঝ অসহায় বালকের মত হাউমাউ করে বলতে থাকেন, ' আমি কেন দেশে আসলাম, আমি কেন দেশে আসলাম, হায় আল্লাহ, এ আমার কোন পাপের শাস্তিগো'
আওয়াজ শুনে চাচী বেরিয়ে আসলেন
ধীরেধীরে বাড়ির নারী-পুরুষ প্রায় সবাই উঠোনে এসে জড়ো হলেন