content stringlengths 0 129k |
|---|
চিকিৎসক ওসমান গনি বলেন, 'ছকেল উদ্দিনের অবস্থা ভালো না |
দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে |
আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি |
দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া উচিত |
উন্নত চিকিৎসা হলে তাকে সুস্থ করা সম্ভব |
না হলে তাকে বাঁচানো যাবে না |
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীন জানান, ছকেল উদ্দিন যে অসুস্থ, তা তিনি জানেন না |
আবেদন করলে তার চিকিৎসার জন্য সাহায্য করবেন |
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, 'বিষয়টি জানা ছিল না, আমি হাসপাতালে খোঁজ নিচ্ছি |
একজন মুক্তিযোদ্ধা বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে- এটা তো হতেই পারে না |
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে অবশ্যই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে |
একসঙ্গে প্রাণ গেল নির্মাণশ্রমিক দুই ভাইয়ের |
শেয়ার করুন |
শুনানিতে আটকে আছে রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধার |
রফিকুল ইসলাম, রংপুর |
৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৮:৩০ |
আপডেট: ৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৯:২৭ |
লিংকডইনে শেয়ার করুন |
ইমেইল করুন |
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন |
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন |
বেগম রোকেয়ার বিশাল সম্পত্তির কিছুই এখন তার পরিবারের ভোগ দখলে নেই |
ছবি: নিউজবাংলা |
বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন স্থানীয় অনেকে |
অনেক জমির মালিকের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে |
রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফলতা আসেনি |
২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করা হলেও তার চূড়ান্ত শুনানি হয়নি ৯ বছর পরও |
বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার প্রবন্ধ নার্স নেলী-তে লিখেছেন, 'আমাদের অবস্থা সচ্ছল ছিল- আমার পরম সুখে খাইয়া পরিয়া গা-ভরা গহনায় সাজিয়া থাকিতাম |
আমাদের এ নিবিড় অরণ্যবেষ্টিত বাড়ির তুলনা কোথায়? সাড়ে তিন শ বিঘা লা-খেরাজ জমির মাঝখানে কেবল আমাদের এই সুবৃহৎ বাড়ি |
বাড়ির চতুর্দ্দিকে ঘোর বন, তাহাতে বাঘ, শূকর, শৃগাল- সবই আছে |
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তার লেখায় এভাবেই নিজের পরিবারের সাড়ে তিন শ বিঘা সম্পত্তির বর্ণনা দিয়েছিলেন |
তবে বিশাল সেই সম্পত্তির এখন কিছুই রোকেয়া পরিবারের ভোগদখলে নেই |
দীর্ঘদিন ধরে তা স্থানীয় অনেকে ভোগ করে আসছেন |
অনেক জমির মালিকের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে |
রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধারের চেষ্টাও সফল হয়নি |
২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করা হলেও তার চূড়ান্ত শুনানি হয়নি ৯ বছর পরও |
এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে উদযাপন করা হবে রোকেয়া দিবস |
দিনটি উপলক্ষে বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার, স্বজন ও অনুরাগীরা |
১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দের খোর্দ্দ মুরাদপুর গ্রামে জন্ম বেগম রোকেয়ার |
তার বাবার নাম জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ও মা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী |
বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি এ নারীবাদীর মৃত্যু হয় ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় |
১৯৭৪ সাল থেকে পায়রাবন্দবাসী বেগম রোকেয়ার স্মরণে রোকেয়া দিবস পালন করে আসছেন |
সরকারিভাবে ১৯৯৪ সাল থেকে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বেশ ঘটা করেই দিবসটি পালন করা হয় |
সারা দেশে দিনটি উদযাপন করা হয় রোকেয়া দিবস হিসেবে |
আগামী বৃহস্পতিবার রোকেয়া দিবসে তার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার, স্বজন ও অনুরাগীরা |
জানা যায়, বেগম রোকেয়ার বাবা জহির উদ্দিন আবু আলী হায়দার সাবের পায়রাবন্দের শেষ জমিদার ছিলেন |
১৯১৩ সালে তার মৃত্যু হয় |
জনশ্রুতি অনুযায়ী, তার মৃত্যুর আগেই জমিদারি শেষ হয়েছিল |
জমিদার জহির উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার জমিও ধীরে ধীরে দখলদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায় |
এমনকি পারিবারিক কবরস্থানটিও এখন প্রভাবশালীদের দখলে |
এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে রোকেয়া পরিবার, স্বজন ও অনুরাগীদের |
রোকেয়া পরিবারের জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১২ সালে |
ওই বছরের ২২ মার্চ 'হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ' নামের একটি সংগঠনের হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ |
তাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ জনকে বিবাদী করা হয় |
৮ এপ্রিল ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হুসাইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের বেঞ্চ রোকেয়া পরিবারের জমি কোথায় কী অবস্থায় আছে তা জানাতে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করে |
রুলের পর একই বছরের ২ মে পায়রাবন্দ ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রধান মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে বেগম রোকেয়ার পৈতৃক সম্পত্তির বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদন দেন |
সেই প্রতিবেদনে বেগম রোকেয়ার ওয়ারিশদের নামে সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ২৪৮ সি.এস. খতিয়ানে ৯ দশমিক ৯৫ একর এবং ৭২ খতিয়ানে ৬ দশমিক ৬৫ একর জমিসহ মোট ১৬ দশমিক ৬০ একর জমির হিসাব দেয়া হয় |
বাকি জমির কোনো হদিস দিতে পারেননি তিনি |
ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ১২ মে আরও একটি প্রতিবেদন জমা দেন |
সেখানে ৬ দশমিক ৭৯ একর জমিতে বেগম রোকেয়ার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্মৃতিকেন্দ্র, স্মৃতিস্তম্ভ, ডাকবাংলোসহ ৯টি প্রতিষ্ঠানের কথা জানানো হয় |
প্রতিবেদনে বেগম রোকেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৪ শতক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১ একর, এক বিঘা জমিতে ডাকবাংলা, ৩০ শতকে স্মৃতিফলক, ৩ দশমিক ১৫ একরে স্মৃতিকেন্দ্র, বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৬০ শতক, ৪২ শতক জমির ওপর বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, নারী কল্যাণ সংস্থার নামে ৩৩ শতক, স্মৃতি... |
বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল নিউজবাংলাকে বলেন, 'রোকেয়ার বাবা মারা যাবার পর রোকেয়ার পরিবার ও স্বজনরা এই জায়গাজমির প্রতি তাকায়নি |
এই অবস্থায় সিএস (৪০ সালের রেকর্ড) এর সময় কিছু ভূমিদস্যু রোকেয়ার জমিগুলো নিজ নামে রেকর্ড করে নেয় |
আজ পর্যন্ত তারা ভোগদখল করে খাচ্ছে |
তিনি আরও বলেন, 'তখন (৪০ সালের রেকর্ড) রোকেয়ার চার ভাই-বোন বেঁচে ছিলেন |
আইন অনুযায়ী, তাদের নামে জমিগুলো রেকর্ড হবার কথা ছিল |
কিন্তু হয়নি |
এ ক্ষেত্রে তৎকালীন অসাধু কিছু ভূমি কর্মকর্তা জড়িত বলে আমরা মনে করি |
এসব জমি উদ্ধারে একটি মামলা হয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি নেই |
কারণ সরকার পক্ষ চূড়ান্ত শুনানিতে এগিয়ে আসছে না |
বেগম রোকেয়ার ভাইয়ের মেয়ে রণজিনা সাবের বলেন, 'রোকেয়া পরিবারের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে তিন শ বিঘা জমি অন্যরা ভোগদখল করে খাচ্ছে |
বাজার, হাট, পুকুর, আবাদি জমি সবই রোকেয়ার |
'এসব জমি উদ্ধারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই |
এই জমিগুলো উদ্ধার করে সরকার সংরক্ষণ করতে পারে |
আমরা মনে করি, সরকার চাইলে দ্রুত জমিগুলো উদ্ধার হবে |
রোকেয়া পরিবারের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় সাড়ে তিন শ বিঘা জমি অন্যরা ভোগ দখল করে খাচ্ছে |
কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর চৌধুরী নামে স্থানীয় একজন বেগম রোকেয়ার কিছু জমিতে চাষ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে |
তিনি অবশ্য বলেন, 'জমিগুলো আমাদের দাদির নামে রেজিস্ট্রি |
৪০ ও ৬২ সালে তারই নামে রেকর্ড আছে |
তাহলে জমি রোকেয়ার হইল কেমনে |
এখনও মামলার কাগজ পাই নাই, পাইলে আমরাও আদালতে লড়ব |
আতাউর রহমান লেলিন নামে আরেকজন বলেন, 'মামলা হয়েছে কি না জানি না |
এগুলো আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি |
রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, 'বেগম রোকেয়ার যেসব সম্পত্তি রয়েছে তার মামলার কাগজ, ভুলভাবে রেকর্ড হওয়াসহ যে কথাগুলো আসছে সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি |
রোকেয়া দিবসে আমরা সে বিষয়টি সবাইকে জানাব |
একই সঙ্গে আগামী রোকেয়া দিবসের আগে এসব বিষয়ে অগ্রগতি করতে পারব |
সম্পত্তি উদ্ধারে রিট করা আইনজীবী মঞ্জিল মোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, 'বেগম রোকেয়ার যে সম্পত্তি আছে, সেগুলো সংরক্ষণের জন্য আমরা একটা রিট করেছিলাম |
কোর্টের একটা আদেশ ছিল, সে বিষয়ে তারা সময় চেয়ে আবেদন করেছিল |
চূড়ান্ত শুনানি এখনও হয়নি |
পেন্ডিং অবস্থায় আছে |
গভর্নমেন্ট এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি |
একসঙ্গে প্রাণ গেল নির্মাণশ্রমিক দুই ভাইয়ের |
শেয়ার করুন |
সাভারে সড়ক-মহাসড়কে হাঁটু পানি, যানজট |
ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাভার |
৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:২৪ |
আপডেট: ৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:৫৫ |
লিংকডইনে শেয়ার করুন |
ইমেইল করুন |
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.