content
stringlengths
0
129k
এর মানে এ নয় যে, তারা দুজন অভিন্ন
যতই একরকম হোক ভিন্ন দেহধারীর ব্যক্তির মতো ভিন্ন বানানধারী শব্দের প্রয়োগাচরণেও কিছু না কিছু পার্থক্য থেকে যায়
বাংলায় দুটি শব্দেরই প্রয়োগ আছে
শব্দ দুটি প্রায় সমার্থক
পার্থক্যের মধ্যে এই যে সম্মেলন শব্দের প্রধান অর্থ সভা লোকসমাগম; ;, সম্মিলন শব্দের প্রধান অর্থ মিলন;সমন্বয়, সংযোগ, . হরিচরণ সম্মেলন কে সংস্কৃত বলেছেন; সম্মিলন কে নয়
রবি ঠাকুর সম্মিলন শব্দটি চুটিয়ে ব্যবহার করেছেন; জনপ্রিয় করছেন
সূত্র: সুভাষ ভট্টাচার্য
অনুচর এবং সহচর অর্থ কী? এদের মধ্যে পার্থক্য জানাবেন
অনুচর: দাস, ভৃত্য; সহচর: সঙ্গী, সাথী
অনুচর আপনার অধীনে চলবে, সহচর আপনার সঙ্গে
অনুচর হচ্ছে অনুগমনকারী, সঙ্গী, ভৃত্য
সহচর হচ্ছে একত্রে বা সঙ্গে বিচরণকারী, সঙ্গী, সাথী, সখা, বন্ধু, সহকর্মী, অভিন্ন উদ্দেশ্যে অর্জনে নিয়োজিত সহকর্মী
ঠিক এবং সঠিক এর মধ্যে পার্থক্য কি?
বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা 'সঠিক' শব্দের অর্থ - নির্ভুল, প্রকৃত প্রভৃতি
সংস্কৃত 'স্থিত' শব্দ থেকে উদ্ভূত তৎসম 'ঠিক' শব্দের অর্থ সত্য, নির্ভুল, স্থিরকৃত, সম্পূর্ণ, হুবহু, প্রস্তুত, পরিপাটি প্রভৃতি
সুতরাং উভয় শব্দ সমার্থক
অনেকে মনে করেন (একসময় আমিও মনে করতাম), 'সঠিক' শব্দটি শুদ্ধ নয়; বাহুল্য এবং অপপ্রয়োগ
তাঁদের মতে, 'সঠিক' শব্দের 'স' একটি উপসর্গ
আসলে এ ধারণা সঠিক নয়
'ঠিক' ও 'সঠিক' দুটি ভিন্ন শব্দ এবং সমার্থক
তাই শব্দ হিসেবে 'সঠিক' অবশ্যই ঠিক
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানেও 'সঠিক' শব্দটি প্রমিত হিসেবে পৃথক ভুক্তিতে স্থান পেয়েছে
প্রবেশ আর অনুপ্রবেশ এর মধ্যে পার্থক্য কি?
অনুপ্রবেশ অর্থ: ভিতরে বা অন্তরে প্রবেশ; মর্মগ্রহণ
গোপনে বা অবৈধভাবে প্রবেশ
প্রবেশ অর্থ: ভিতরে গমন, ঢুকিবার ক্ষমতা বা অধিকার
ধোয়া তুলসিপাতা- কথাটির অর্থ জানতে চাইছি
ধোয়া তুলসীপাতা কথাটি ব্যাবহার হয় একেবারে খাঁটি বা নির্ভেজাল বুঝাতে
হিন্দুধর্মে তুলসী গাছ পবিত্র হলেও ধর্মীয় মিথ অনুযায়ী তার কিছু দোষ বা কলঙ্ক রয়েছে, যা ধুয়ে ফেললেই শেষ হয়ে যায় না
আর মানুষ সেটা থেকেই ধোয়া তুলসী পাতা বলে ব্যঙ্গ করে
তুলসী: • তুল-এর শেষ যাহাতে, তাহার সক্রিয় আধার যে; অথবা, সকল তুলনার শেষ যাহাতে; অথবা, যাহার সহিত তুলনা করার ন্যায় আর কিছুই নাই
যাহাকে দেখিয়া আর্য্যগণ তাহার তুলনা দিতে অক্ষম হন
অতুলনীয়া, 'বেনজির', শঙ্খচূড় দানবের স্ত্রী, জলন্ধর-স্ত্রী; (সাদৃশ্যে) তুলসী গাছ
'সন্তুষ্ট ও সন্তুষ্টি, ব্যবহারের পার্থক্য কি?
সন্তুষ্ট বিশেষণ, সন্তুষ্টি বিশেষ্য
তিনি আমার প্রতি #সন্তুষ্ট (বিশেষণ)
আমি তার #সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই (বিশেষ্য)
বাংলা ডাকসাইটে অর্থ - (বিশেষণে) দোর্দণ্ড প্রতাপশালী, বিখ্যাত, প্রসিদ্ধ
ডাকসিদ্ধ হতে ডাকসাইটে
ডাকসিদ্ধ অর্থ - (বিশেষণে) পিশাচ যার আজ্ঞাবহ; (বিশেষ্যে) তন্ত্রবিদ্যায় সিদ্ধিপ্রাপ্ত ব্যক্তি; ডাকের বচনের শ্রষ্টা হিসেবে খ্যাত ডাক
হিন্দু শাস্ত্রমতে ডাক বা পিশাচ শিবের আজ্ঞাবহ অনুচর
শিব প্রচণ্ড প্রতাপশালী ও ক্ষমতাবান
তাই শিবের পক্ষে ডাক বা পিশাচের মতো মহা ক্ষমতাধরকে আজ্ঞাবহ অনুচরে পরিণত করে ডাকসিদ্ধ হওয়া সম্ভব হয়েছে
আবার এমনও মনে করা হয় যে, প্রাচীন বাংলার খ্যাতিমান ও প্রভাবশালী বচনকার ডাক পুরুষ নামে খ্যাত ডাক থেকে ডাকসাইটে কথাটির উদ্ভব
ডাক তৎকালে এমন খ্যতিমান ছিল যে, এক ডাকে বা এক নামে তাঁকে সবাই চিনত
তিনি তন্ত্রবিদ্যায়ও সিদ্ধিপ্রাপ্ত ছিলেন
কথিত হয়, খ্রিষ্টীয় অষ্টম থেকে একাদশ শতক পর্যন্ত উত্তর ভারতে খনার বচনের চেয়েও ডাকের বচন অধিক জনপ্রিয় ছিল
ডাক ছিলেন একজন গোপ
স্বর্গধামে গমন করে স্বর্গ থেকে প্রয়োজনীয় উপদেশ এবং জ্ঞান নিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফেরত আসতেন বলে তাঁর নাম 'ডাক পুরুষ' যার অন্তর্নিহিত নাম ডাকসিদ্ধ পুরুষ
মহাপ্রাজ্ঞ হিসেবে খ্যাত বচনকার ডাক যেমন ছিলেন পরিচিত তেমনি ছিলেন প্রতাপশালী
এসব সূত্রে ডাকসিদ্ধ হতে উদ্ভূত ডাকসােইটে শব্দটি দোর্দণ্ড প্রতাপশালী, বিখ্যাত, প্রসিদ্ধ প্রভৃতি অর্থ ধারণ করে
অধুনা শব্দটি দিয়ে প্রতাপ, প্রভাব, ক্ষমতা ও খ্যাতি প্রভৃতির বিস্তৃতি বুঝানো হয়
যেমন - ডাকসাইটে লেখক, ডাকসাইটে খেলোয়াড়, ডাকসাইটে নেতা, ডাকসাইটে শিল্পী, ডাকসাইটে অভিনেতা, ডাকসাইটে সুন্দরী প্রভৃতি
এই পোস্টের সংযোগ - √
://./আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ/
@ এই চিহ্ন টার উচ্চারণ কি হবে?
, বলা হয়
সাধারণ ও সহজভাবে বিশ্বব্যাপী ''
বাংলাদেশে বেশি প্রচলিত
বিশিষে করে ইমেইল ঠিকানায়
'চৌপর' শব্দের অর্থটা কেউ বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ ..!?
চার প্রহর মানে পুরো দিন = ১২ ঘন্টা
কাপড় চোপড়
চৌ মানে চার,পর হলো প্রহর
দিন চার প্রহর,রাত চার প্রহর
মোট অষ্টপ্রহর
চব্বিশ ঘণ্টা
লোকনিরুক্তি বা লোক-নিরুক্তি
অপরিচিতি বা ব্যুৎপত্তিগত বিস্মৃতির কারণে কিংবা প্রচলিত বিশ্বাস, জ্ঞান বা অনুমান বশত অনেক সময় মানুষ তার পরিচিত, প্রায়োগিক অর্থে সমতুল ও প্রায়-সমোচ্চারিত কোনো-কোনো শব্দের বানান বা উচ্চারণ পরিবর্তন করে অনুরূপ অর্থের নতুন শব্দ সৃষ্টি করে
এটি হচ্ছে লোকনিরুক্তি
অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণ জ্ঞান, বিশ্বাস, অনুমান, লোকশ্রুতি, প্রবীণদের মন্তব্য, অভিজ্ঞতা, সংস্কার, কুসংস্কার প্রভৃতির উপর নির্ভর করে মূল শব্দের যে ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে লোক-নিরুক্তি বলে
লোকনিরুক্তির ক্ষেত্রে আদি বানান ও পরিবর্তিত বানানের শব্দ বা শব্দগুচ্ছের বানান পরিবর্তিত হলেও অর্থ অভিন্ন থেকে যায়
যেমন: ঊর্ণবাভ থেকে ঊর্ণনাভ, কালজার থেকে কালাজ্বর, টাকার কুবের থেকে টাকার কুমির, আর্ম চেয়ার থেকে আরাম কেদারা, বিস্ফোটক থেকে বিষফোড়া ইত্যাদি
সহজ কথায়, সাধারণ মানুষের ব্যবহার থেকে সৃষ্টি হওয়া শব্দকে লোকনিরুক্তি বলা যায়
উচ্চারণ: তড়াগ্; উৎস: তৎসম বা সংস্কৃত √তড়্‌+আক; অর্থ: দিঘি; গভীর জলাশয়; বৃহৎ পুষ্করিণী; উদাহরণ: "ডুবে গেছি বিস্মৃতির অতল তড়াগে", মোহিতলাল মজুমদার
কলকাতার চৌরঙ্গির কাছে ময়দানে এক দিঘির নাম মনোহরদাস তড়াগ
চেষ্টা বনাম প্রচেষ্টা
'চেষ্টা' ও 'প্রচেষ্টা' উভয় শব্দের অর্থ অভিন্ন হলেও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কিছু তফাত আছে
'চেষ্টা' অর্থ অভীষ্ট সাধনের নিমিত্ত যত্ন
যেমন :'লক্ষ্যস্থলে পৌঁছতে আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব
' এ বাক্য দ্বারা যত প্রকার উপায় আছে সব নিবেদিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে
অন্যদিকে 'প্রচেষ্টা' শব্দের অর্থ নিয়ন্ত্রিত বা সীমিত চেষ্টা বা এমন চেষ্টা যা প্রকৃত অর্থে পূর্ব হতে নির্ধারিত
প্রকৃত- চেষ্টা (নির্দিষ্ট) হচ্ছে প্রচেষ্টা
চেষ্টা বহুমুখী ও বিস্তৃত কিন্তু প্রচেষ্টার বিস্তার অপেক্ষাকৃত সীমিত
যেমন : ছেলেটিকে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসকের সব প্রচেষ্টা বিফলে গেল
' এ বাক্য দ্বারা এটাই প্রকাশ করা হচ্ছে যে, একজন চিকিৎসক একটি শিশুকে নির্দিষ্ট রোগ হতে মুক্ত করার জন্য চিকিৎসা-বিজ্ঞানের যত কৌশল তার জ্ঞানের আয়ত্তে ছিল সবগুলো প্রয়োগ করেও ব্যর্থ হয়েছে
যদি বাক্যটি এমন হতো : 'মা-বাবা অনেক চেষ্টা করেও শিশুটিকে বাঁচাতে পারল না
' তাহলে শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞান বা কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসকের প্রচেষ্টা ছাড়াও মানুষ বাঁচার জন্য বা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঈশ্বর-মন্দির থেকে শুরু করে যে সকল প্রয়াস নিতে পারে সব বুঝানো
উপরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, চেষ্টা ও প্রচেষ্টার প্রয়োগে পার্থক্য
বাক্য শব্দ-দুটোর প্রয়োগে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব
মাইকেলি ধাতু কী
ব্যাকরণের আলোচনায় বাংলা ধাতুগণের নির্দিষ্ট শ্রেণিভাগ রয়েছে
কর্, মার, মিটা, উঠ্, লিখ্, মুচড়া, চাহ্, খা, শু, হ প্রভৃতি সেসব ধাতুগণের কয়েকটি
এসব ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষ অনুসারে বিভক্তি (প্রত্যয়) যুক্ত করে বাক্যে ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়
বাংলা ভাষায় এই নির্দিষ্ট ধাতুশ্রেণির বাইরে আরও একপ্রকার ধাতু রয়েছে, যা 'মাইকেলি ধাতু' নামে পরিচিত
মাইকেল মধুসূদন দত্ত এধরনের ধাতুর ব্যবহার প্রচলন করেন বলে তাঁর নামানুসারে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে
মাইকেলি ধাতু প্রকৃতপক্ষে কোনো ধাতু নয়, মূলত এগুলো কতিপয় বিশেষ্য ও বিশেষণ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত সেসব বিশেষ্য-বিশেষণের সঙ্গে ধাতুর অনুকরণে কাল ও পুরুষ অনুসারে বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলে এধরনের শব্দ 'মাইকেলি ধাতু' তকমা পেয়ে গিয়েছে
পবিত্র থেকে পবিত্রি (পবিত্র করি), লক্ষ থেকে লক্ষি (লক্ষ করি/করে), উত্তর থেকে উত্তরিলা (উত্তর দিল/দিলো), ইচ্ছা থেকে ইচ্ছি (ইচ্ছে /করি/করে/হচ্ছে) প্রভৃতি এই শ্রেণিভাগের প্রকৃষ্ট উদাহরণ
নিম্নে মাইকেল মধুসূদন দত্তের "বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ" থেকে দুইটি পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করা হলো, যেখানে শব্দের এরূপ প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে -