content
stringlengths
0
129k
কিন্তু মানুষ ভাবে এক তো হয় আরেক
কারণ, কেজিবিও খুব শীঘ্রই অত্যাচারের জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে
১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর-এ, কেজিবি এবং ওমন (বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত পুলিশ ইউনিট) কে কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়া সোভিয়েত বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলনকে দমন করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল
দ্বন্দ্বের প্রকৃত উত্থান তখন শুরু হয় যখন মস্কো সাবেক কাজাখ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের নেতা দ্বীনমুহাম্মদ কুনায়েভ এর স্থলে নেতৃত্বে গেননাডি কোলবিন কে বসিয়ে দেয়
কোলবিন জাতিগত রাশিয়ান ছিল তবে কাজাখস্তান বা এখানে বসবাসরত লোকেদের সাথে তার দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোন সম্পর্ক ছিল না
দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসাবে কুনায়েভ কে অপসারণ করা হয়েছে এমনটি ছিল রাশিয়ার দাবী
কিন্তু এটি ছিল পুরোপুরি ভাবে বিতর্কিত এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত
যে সিদ্ধান্ত প্রতিহত করার জন্য হাজার হাজার মানুষ আলমাটির রাস্তায় আন্দোলনে নামে
ডিসেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া এই আন্দোলনটি ইতিহাসের পাতায় "জেলতোখসন" ("ডিসেম্বর" মাসের কাজাখ প্রতিশব্দ) নামে পরিচিত
যদিও কাজাখাস্তানিরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নেমেছিল কিন্তু রাশিয়ানরা একে গণ বিক্ষোভ বলে অভিহিত করে
ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ থামানোর নামে, কেজিবি এবং ওমোন সহিংস তৎপরতা চালায়
বিদ্রোহ দমন করার নামে শত শত কাজাখাস্তানিকে গ্রেপ্তার করা হয়
কথিত রয়েছে, অপারেশন চলাকালীন প্রায় ২৫০ জন কাজাখ কে হত্যা করা হয়েছিল এবং অন্য ১০০০ জনকে কারাদন্ডে দন্ডিত করে শ্রম শিবির (লেবার ক্যাম্প)- এ পাঠানো হয়েছিল
'আয়রন ফেলিক্স'
সোভিয়েত রাশিয়ার ইতিহাসে আরেক নিন্দিত চরিত্রের নাম ফেলিক্স সের্জিনজস্কি
শীর্ষ অনেক সোভিয়েত কর্মকর্তার মতই ফেলিক্স জাতিগতভাবে পুরোপুরি রাশিয়ান ছিলেন না
তিনি ছিলেন পোলিশ-বেলারুশীয় বংশোদ্ভুত এবং প্রথম জীবনে হতে চেয়েছিলেন একজন ক্যাথলিক পুরোহিত
তবে পরবর্তীতে, তার স্বপ্ন বদলে যায় যখন সের্জিনজস্কি সেন্ট পিটার্সবার্গে কলেজ ছাত্র থাকাকালীন মার্কসবাদে আগ্রহী হয়ে পড়েন
১৯১৭ সালের রাশিয়ান বিপ্লব এর সময়, সের্জিনজস্কি-কে 'চেকা'র (রাশিয়ান গুপ্ত পুলিশ) প্রথম প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল
লেনিনের অধীনে এই ভয়ঙ্কর গোপন পুলিশ বাহিনীর পদচারনা ছিল
১৯১৮ সালের ৩০ আগস্ট সংঘটিত গণহত্যার পিছে দায়ী "আয়রন ফেলিক্স" নামটি আজ অবধি ত্রাসের সাথে স্মরণ করা হয়
ইতিহাসের এই দিনে নিষ্ক্রিয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সদস্য ফ্যানি কাপলান মস্কো কারখানার বাইরে লেনিন কে হত্যার চেষ্টা করেছিল
কাপলান তার সহযোগীদের নাম বলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায়, চেকা- ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯১৮ সালে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে
পরবর্তীকালে, সের্জিনজস্কি দেশটিতে সোভিয়েত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের জন্য সন্ত্রাসের ব্যবহার সম্পর্কে প্রিন্ট মিডিয়ায় তর্ক শুরু করেন
দৈনিক নোভোয়াজ্জিন্সের পাতায়, সের্জিনজস্কি লিখেন যে চেকা "সংগঠিত সন্ত্রাসের দমনে প্রতিষ্ঠিত"
তিনি সোভিয়েত নাগরিকদের একে অপরের প্রতি গুপ্তচরবৃত্তি করার এবং যতক্ষণ সম্ভব সম্ভাব্য প্রতিবিপ্লবী কার্যকলাপ সম্পর্কে চেকাকে অবহিত করার আহবান জানান
সের্জিনজস্কি মতামত থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট ছিল যে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে চেকা' যাদেরকেই বিপ্লবী হিসেবে সন্দেহ করেছে তাকেই হত্যা করেছে
সের্জিনজস্কি'র অধীনে "লাল সন্ত্রাস" নামক এক প্রচারাভিযান চালানো হয় যার ফলে ৮০০ লোককে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়
চেকা হাজার হাজার শ্বেত রাশিয়ান সৈন্যও হত্যা করেছিল, বিশেষত রাশিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সোভিয়েত রেড আর্মি যাদের গ্রেপ্তার করেছিল
এটি নিশ্চিতভাবেই বলা যেতে পারে যে "আয়রন ফেলিক্স" সোভিয়েত রাশিয়ায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের নীল নকশা তৈরি করেছিল
দ্য আরদাখঃ
অনেকেই বলেন যে রাশিয়ান-চেচেন সংঘাতের শিকড় খুঁজে পেতে উনিশ শতকের দিকে ফিরে যেতে হবে
সংঘর্ষের সূত্রপাত যা নিয়েই ঘটুক না কেন তা কখনোই থেমে থাকে নি
১৯৪০-এর দশকে রাশান-চেচেন সংঘর্ষের আরেকটি উৎস হচ্ছে "আরদাখ" যার মানে চেচেন ও ইঙ্গুশ মুসলমানদের অভিবাসনে বাধ্য করা
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েও সোভিয়েত রাষ্ট্র জোরপূর্বক অর্ধ মিলিয়ন চেচেন এবং ইঙ্গুশ নাগরিকদের তাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার সময় খুঁজে পেয়েছিলো
এই পুরো অপারেশনটির তত্ত্বাবধানে ছিলো এন কেভিডি
চেচেনরা বিশেষ করে ককেশীয় মুসলমানরা জার্মান নাজীদের সহায়তা করছে এই অভিযোগ তুলে শাস্তি স্বরূপ চেচেন ও ইঙ্গুশ নাগরিকদের বিতারন করা হয়
যদিও এই তথ্যটি অনেকাংশেই সত্যি ছিল যে যে সোভিয়েত ইউনিয়নের অনেক সংখ্যালঘু ইউক্রেনীয়, লাটভিয়ান, এস্টোনীয় এবং ককেশীয় মুসলিম -জার্মান ওয়াফেন-এসএস-এর সৈন্য হিসেবে কাজ করেছিল
সোভিয়েতরা এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে সমগ্র চেচেনের এক-তৃতীয়াংশ ককেশীয় ও ইঙ্গুশ মুসলিম নাগরিককে মধ্য এশিয়ায় বিতাড়িত করে
সোভিয়েত রেকর্ড হতে জানা যায় ১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই শুধু ৪০৭৬৯০ জন চেচেন এবং ৯২০৭৪ ইঙ্গুশ মুসলমানকে কাজাখাস্তান ও কিরঘিজিস্তানে বিতাড়িত করা হয়
অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতির মতই ভলগা'র জার্মান, ক্রিমিয়ার তাতারসহ চেচেন ও ইঙ্গুস'রা ১৯৮০ সালের পূর্ব পর্যন্ত তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাবার সুযোগ পান নি
মধ্য এশিয়ায় যাওয়ার পথে ঠিক কতজন লোক মৃত্যুর কবলে ঢলে পড়ে তা সঠিকভাবে জানা সম্ভব নয়
ইতিহাসবিদ নিকোলায় বুয়েগে উল্লেখ করেন কাজাখিস্তানে যাওয়ার পথেই ১,০০,০০০ এর উপর মানুষ মারা যায়, আর উজবেকিস্তানে যাওয়ার পথে ১৬000 এর উপর মানুষ অনাহারে ও রোগে ভুগে মারা যান
আরেকটি উৎস থেকে জানা যায় প্রায় ২,০০,০০০ মানুষ শ্রম শিবিরে মারা যায়
"আয়রন লাযার"
স্ট্যালিনের শাসনামলে মৃত্যুদাতা জল্লাদ হিসেবে যে মানুষটির নাম বারে বারে উঠে আসে তার নাম 'আয়রন লাযার বা লাযার কাগারোভিচ
' তিনি ১৮৯৩ সালে ইউক্রেনের এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করে
তরুণ বয়সেই তিনি বলশেভিকদের দলে যোগ দেন যা সে সময়ের জার শাসকদের চোখে অফিসিয়ালি অপরাধি হিসেবে স্বীকৃত ছিল
রাশিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় কাগারোভিচ প্রথম ক্ষমতার স্বাদ পান যখন তিনি একটি প্রচার অভিযানের মূল দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন
কিন্তু তার রক্ত পিপাসা প্রথম আলোর মুখ দেখে ১৯৩০ সালে স্ট্যালিনের হাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যায়
সে সময় কাগানোভিচ সম্পর্কে কথিত ছিল -"সে স্ট্যালিনের স্টালিনত্ব কে হার মানিয়েছিলেন
ইউক্রেনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম মহাসচিব হিসাবে, কাগানোভিচ ১৯২৫ এবং ১৯২৯ সালের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে জোরপূর্বক খামারের ফসল দখল করে নেয়
পরবর্তীতে, ১৯৩৫ হতে এবং ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত তিনি পরিবহন, ভারী শিল্প, এবং জ্বালানী শিল্পের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন
এই ক্ষমতার বলে, কাগানোভিচ বাধ্যতামূলক শ্রম শিবিরের সহায়তায় শিল্পায়নে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এবং সোভিয়েত অর্থনীতির ব্যপক উন্নয়ন ঘটায়
তাদের প্রকল্পের ভারে শত শত হাজার হাজার শ্রমিক মারা গিয়েছিল এবং আরও অনেককে গুলাগে পাঠানো হয়েছিল
অনেককেই "স্যাবোটার" হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল
কাগানোভিচ স্ট্যালিন পরবর্তী সময়েও নির্দ্বিধায় জীবন যাপন করেন ও ১৯৯১ সালে ৯৭ বছর বয়সে স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেন
লেভেরেন্তি বারিয়ার রাজনৈতিক হত্যাকান্ডঃ
১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে এন কেভিডির প্রধান ছিলেন লেভেন্টি বেরিয়া
মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিলেন
শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবেই নন বরং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও বহু অপরাধে লিপ্ত ছিলেন
আবার, সোভিয়েত যুগের বেশীরভাগ কুখ্যাত শীর্ষ কর্মকর্তার (মতভেদে কশাইয়ের মতো) বারিয়াও জন্মগত ভাবে পুরোপুরি রাশিয়ান ছিলেন না
জর্জিয়ান অর্থোডক্স নিষ্কাশন এর সময়, বারিয়াও তার সমসাময়িক কাগানোভিচের ন্যায় স্ট্যালিনের ছত্রছায়ায় প্রভাবিত হয়েছিলেন
পরবর্তীতে নিজের নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার প্রমাণ দিয়ে তিনি স্ট্যালিনকে খুশি করে তোলেন এবং স্ট্যালিন কর্তৃক একজন নির্মম হত্যাকারীর ক্ষমতা লাভ করেন
এনকেভিডির শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে ১৫ বছরের রাজত্বের সময় বারিয়া লক্ষ লক্ষ রাশিয়ানদের মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করেন, যার মধ্যে অজ্ঞাত সংখ্যক কিছু লোককে কুখ্যাত লুবিয়াঙ্কা কারাগারে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল
তার অধীনে, এন কে ভিডি পোল্যান্ড এবং ইউক্রেনে গনহত্যা ও ত্রাসের ধ্বংস লীলা কায়েম করে
কাতিন গণহত্যায় ও তার হাত ছিল
বারিয়ার ভয়ঙ্কর নৃশংসতা ছিল কিংবদন্তিতুল্য, স্ট্যালিনের নিকটতম রাজনৈতিক সঙ্গীরাও তাকে "রক্ত পিপাসু বামন" বলে ডাকতো
জীবদ্দশায় এই ডাক নামের সার্থকতা তিনি পুরোপুরি দেখিয়েছেন
বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন তার এন কে ভিডি এজেন্টরা অনেক রাশিয়ান নাগরিককে গুলাগে পাঠিয়েছিল অথবা কাজের চাপে শ্রম শিবিরে তাদের মৃত্যু নিষেধ করেছিল
জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েতরা জিতবে তা নিশ্চিত করতেই চলে মৃত্যুর এই তান্ডব লীলা
লেভেন্টি বেরিয়া-যৌন শিকারিঃ
বেশ কয়েকটি গণঅভ্যুত্থান ও হত্যাকান্ডের নায়ক ল্যাভেন্টি বেরিয়া' ছিলেন একজন সুপরিচিত ধর্ষক ও যৌন শিকারি; যিনি অনাহুত সংখ্যক নারী ও মেয়েকে নিজের লালসার শিকার বানিয়েছিলেন
আর নিজের নিরাপত্তা রক্ষার্থে নিজের সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন
১৯৫০ এর দশকে তাঁর বিচারের সময় অনেক এনকেভিডি অফিসার সাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন যে বেরিয়া মস্কোতে যুবতীদের রাস্তা থেকে তুলে নেওয়ার জন্য নিয়মিত তার প্যাকার্ড লিমোজিন ব্যবহার করত
এই একই সাক্ষ্যপ্রমাণ দাবি করে যে বেরিয়া তার শব্দহীন অফিসে ধর্ষণের আগে বন্দীদের ওয়াইন এবং খাবার খাওয়াতেন
পরবর্তীতে মস্কোতে বেরিয়া কার্যালয়ের পরিদর্শন প্রকাশ করে যে এন কেভিড অফিসিয়াল তার অফিস ডেস্কে অশ্লীল সরঞ্জাম সংগ্রহে রাখতো
বিখ্যাত অভিনেত্রী এমন কি সদ্য মা হওয়া নারীরাও তার লালসার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতেন না
এই সকল অপরাধ সহ আরও অনেক অপরাধের জন্য, সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ ১৯৫৩ সালে বেরিয়াকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করায়
তিনি অবশেষে দেশদ্রোহী সহ (বেরিয়াকে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগে), সোভিয়েত বিরোধী কার্যকলাপ ও সহিংস অপরাধের সাথে জড়িত বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন (তিনি ১৯১৮ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নে বিভেদ সৃষ্টিতে আজারবাইজান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের জন্য কাজ করেন, এবং ১৯৪১ সালে সোভিয়েত ...
কথিত রয়েছে বেরিয়ার বিচারকার্যের সময় তার সমর্থনে কেউ এগিয়ে আসেন নি
জেনেরিক ইয়্যাগোডাঃ
জেনেরিক গ্রিগোরিভিচ ইয়্যাগোডা ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত এন কেভিডের শীর্ষ ব্যক্তি ছিলেন
মাঝারি আকারের রাশিয়ান শহরের একজন ইহুদি জহুরীর (জুয়েলারের) পুত্র, ইয়্যাগোডা যুব বয়সেই নাস্তিক্যবাদে সম্পৃক্ত হন এবং ১৯০৭ সালে বলশেভিকদের সাথে যোগ দেন
১৯২০এবং ১৯৩৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে, ইয়্যাগোডা সোভিয়েত গোপনীয় পুলিশের হয়ে গুলাগের পরিচালক হিসেবে কাজ করে
এই জোরপূর্বক কাজ করানো শ্রম শিবিরে লক্ষ লক্ষ সোভিয়েত নাগরিককে হত্যা করা হয়, যাদের অধিকাংশই পানিশূন্যতা, ক্লান্তি, রোগ বা ক্ষুধার কারণে মারা গিয়েছিল
এই সকল ঘটনা ইয়্যাগোডা 'র কর্মজীবন এর সম্ভাবনাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করেনি, এবং ১৯৩৪ সালে, তিনি নতুন ভাবে সৃষ্ট এন কে ভিডি এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন
১৯৩৭ সালে, ইয়্যাগোডা নাটকীয়ভাবে রাষ্ট্রপক্ষের সুদৃষ্টি হারা
সেই সময়ে, চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছিল এবং জোসেফ স্ট্যালিনের পরিবর্তে লিওন ট্রটস্কির সমর্থনে সন্দেহভাজন যে কাউকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছিল এবং তার পরপরই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল
একই ঘটনা ইয়্যাগোডা'র ক্ষেত্রেও ঘটেছে, যার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৫ মার্চ, ১৯৩৮
একজন গুরুত্বপূর্ণ সোভিয়েত কর্মকর্তা হিসাবে তাঁর সংক্ষিপ্ত কর্মকাণ্ডের সময়, ইয়্যাগোডা লাল বাহিনীর বিশুদ্ধতা (একটি অনুমিত নাৎসি বিশুদ্ধতা যেখানে ৩০,০০০ অফিসারকে গ্রেফতার করা হয় এবং হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করা হয়) অভিযান চালান
তিনি এবং কাগরোভিচ ইউক্রেনে জোরপূর্বক দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে যা "হোলোদোমোর" নামে পরিচিত
১৯৩২ ও ১৯৩৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে, সোভিয়েত খামারগুলিকে সরকারিকরনের জন্য স্ট্যালিন নানা ধ্বংসাত্বক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন
মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদকে নষ্ট করে দেয়া
এর ফলশ্রুতিতে শস্য দানা, শস্য, বীজ প্রভৃতি -স্বাধীন ইউক্রেনীয় এবং মধ্য এশিয়ার কৃষকদের কাছ থেকে জোর পূর্বক জব্দ করা হয়
শস্য সংগ্রহ করার সময়ে অনেক কৃষককে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়
এই কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে ছয় থেকে সাত মিলিয়ন ইউক্রেনীয় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে
"হোলোদোমোর" নামক কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সমগ্র পৃথিবীতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়
অনেক রাশিয়ানরা এমনকি তার অস্তিত্ব স্বীকার করতেও অস্বীকার করে
যদিও এই ঘটনা অনেক জাতির কাছে গণহত্যা হিসাবে স্বীকৃত, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতামত এই ক্ষেত্রে পরিস্কার নয়