content
stringlengths
0
129k
হযরত আয়েশা রা.আরো বলেন-
كان رسول الله صلى الله عليه و سلم يأمرني أن أسترقي من العين.
নবীজী আমাকে বদ নযরের জন্য ঝাড়ফুঁক নিতে বলেছিলেন
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১৯৫
একবার উম্মে সালামার বাদীর মুখ হলদে বর্ণ হয়ে যায়, তখন নবীজী বলেন-
بها نظرة فاسترقوا لها.
এর প্রতি কারো বদ নযর লেগেছে, তাই বদ নযরের ঝাড়ফুঁক করাও
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১৯৭
শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ বলেন-
دخل علي رسول الله صلى الله عليه و سلم وأنا عند حفصة فقال لي " ألا تعلمين هذه رقية النملة (النملة قروح تخرج في الجنبين ) كما علمتها الكتابة؟
একদা আমি হাফসা রা.-এর কাছে বসা ছিলাম
নবীজী ঘরে আসলেন এবং আমাকে বললেন, তুমি হাফসাকে যেভাবে লেখা শিখিয়েছ তাকে 'নামলা' (এক ধরনের গোটা বিশেষ)-এর ঝাড়ফুঁক শিখিয়ে দাও
-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৮৭
যেহেতু এতে পঠিত কথাগুলোতে শিরক নেই এবং এর দ্বারাও মানুষের উপকার হয়, তাই হাফসাকে তা শিখিয়ে দিতে বললেন
সাহাবী উমায়ের বলেন-
عرضت على النبي صلى الله عليه و سلم رقية كنت أرقي بها من الجنون فأمرني ببعضها ونهاني عن بعضها وكنت أرقي بالذي أمرني به رسول الله صلى الله عليه و سلم.
আমি উন্মাদের ঝাড়ফুঁক করতাম
নবীজীকে আমার পঠিত কথাগুলো শোনালাম
তখন নবীজী কিছু বাক্যের অনুমোদন দিলেন (অর্থাৎ এগুলো পড়ে ঝাড়ফুঁক করা যাবে) আর কিছু বাক্য থেকে নিষেধ করলেন (এগুলো পড়ে ঝাড়ফুঁক করা যাবে না)
নবীজী যেগুলোর অনুমতি দিয়েছিলেন পরবতীর্তে আমি শুধু তা দিয়েই ঝাড়ফুঁক করতাম
-শরহু মাআনিল আসার, হাদীস ৭০৪৫
কুরায়ব আলকিন্দি বলেন-
أخذ بيدي علي بن الحسين، فانطلقنا إلى شيخ من قريش يقال له : ابن أبي حثمة يصلي إلى أسطوانة، فجلسنا إليه، فلما رأى عليا انصرف إليه، فقال له علي : حدثنا حديث أمك في الرقية قال : حدثتني أمي أنها كانت ترقي في الجاهلية فلما جاء الإسلام قالت : لا أرقي حتى أستأذن رسول الله صلى الله عليه و سلم فأتته فاستأذنته.
একদা আলী ইবনুল হাসান আমাকে কুরায়শের এক বৃদ্ধ লোকের কাছে নিয়ে যান
তিনি তখন মসজিদের এক খুঁটির কাছে নামায পড়ছেন
আমরা তার কাছে গিয়ে বসলাম
আলীকে দেখার পর তিনি তার দিকে ফিরলেন, তখন আলী তাকে বললেন, আপনি আমাদেরকে ঝাড়ফুঁকের বিষয়ে আপনার আম্মার হাদীসটি শোনান
তিনি বললেন, আমার আম্মা আমাকে বলেছেন, তিনি জাহিলিয়্যাতের যুগে ঝাড়ফুঁক করতেন
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি বললেন, আমি নবীজী থেকে অনুমতি নেওয়া ব্যতীত আর কোনো ঝাড়ফুঁক করব না
তাই তিনি নবীজীর কাছে আসলেন, এবং বিষয়টি বললেন
তখন নবীজী উত্তরে বললেন-
ارقي ما لم يكن فيها شرك.
শিরক-কুফর ব্যতীত অন্য সবকিছু দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে থাক
-সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৬০৯২
ইমাম ইবনে হিব্বান রাহ. এই হাদীসের শিরোনাম দেন-
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدّالِّ عَلَى أَنّ الرّقَى الْمَنْهِيّ عَنْهَا إِنّمَا هِيَ الرّقَى الّتِي يُخَالِطُهَا الشِّرْكُ بِاللهِ جَلّ وَعَلَا دُونَ الرّقَى الّتِي لَا يَشُوبُهَا شِرْكٌ.
আপাতত এখানে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেই এ প্রসঙ্গ সমাপ্ত করা হচ্ছে
হাদীসের কিতাবে এ সংক্রান্ত আরো বহু হাদীস আছে, যা উদ্ধৃত করলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে
এসব হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, যেসব ঝাড়ফুঁকে শিরক আছে তা হারাম ও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ আর যে সবে কুফর-শিরক নেই সেসব দিয়ে ঝাড়ফুঁক জায়েয
বিষয়টি যেহেতু হাদীসের মধ্যেই ফয়সালাকৃত তাই এটাই পরবর্তী সকল ইমামদের মত
ইমাম মুহাম্মদ রাহ. লেখেন-
لا بأس بالرقي بما كان في القرآن و ما كان من ذكر الله، فأما ما كان لا يعرف من الكلام فلا ينبغي أن يرقى به.
কুরআনের আয়াত এবং আল্লাহর যিকির দ্বারা ঝাড়ফুঁক করতে অসুবিধা নেই
হাঁ, যেসব শব্দাবলীর অর্থ অস্পষ্ট তা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা নিষেধ (কেননা তা শিরকমুক্ত কি না জানা নেই)
-মুয়াত্তা মুহাম্মাদ, পৃ. ৩৭৩-৩৭৪
ইমাম তহাবী রাহ. লেখেন-
فدل ذلك أن كل رقية لا يشرك فيها فليست بمكروهة
(এসব) হাদীস প্রমাণ করে, যেসব ঝাড়ফুঁকে শিরক নেই তা বৈধ
-শরহু মাআনিল আসার ৪/১৫৩
ইমাম বায়হাকী রাহ. লেখেন-
وهذا كله يرجع إلى ما قلنا من أنه إن رقى بما لا يعرف أو على ما كان أهل الجاهلية من إضافة العافية إلى الرقى لم يجز، وإن رقى بكتاب الله أو بما يعرف من ذكر الله متبركا به وهو يرى نزول الشفاء من الله تعالى فلا بأس به، وبالله التوفيق.
যেসব হাদীসে ঝাড়ফুঁক করতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে সেসব হাদীস উল্লেখ করার পর ইমাম বায়হাকী রাহ. বলেন, এসব হাদীসের অর্থ হল, যদি অস্পষ্ট কোনো শব্দাবলি দ্বারা ঝাড়ফুঁক করে অথবা জাহেলী যুগের মনোভাব নিয়ে ঝাড়ফুঁক করে যে, আল্লাহ নয় এ ঝাড়ফুঁকই রোগ ভালো করে তাহলে তা জায়েয নেই
হাঁ, যদি কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর যিকিরের দ্বারা ঝাঁড়ফুক করে এবং এটা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহই সুস্থতা দানকারী তাহলে এ ঝাড়ফুঁকে কোনো অসুবিধা নেই
-সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৯/৫৮০
ইমাম বায়হাকী এ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের শিরোনাম দেন এভাবে-
باب إباحة الرقية بكتاب الله عز وجل وبما يعرف من ذكر الله.
আল্লামা ইবনে আবদুল বার রাহ. বলেন-
لا أعلم خلافا بين العلماء في جواز الرقية من العين أو الحمة، وهي لدغة العقرب وما كان مثلها، إذا كانت الرقية بأسماء الله عزوجل، ومما يجوز الرقي به.
এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মাঝে কোনো মতভেদ নেই যে, বদনযর সাপ-বিচ্ছুর দংশন বা এ ধরনের আরো যত বিষয় আছে সেগুলোতে ঝাড়ফুঁক করা বৈধ
যদি সে ঝাড়ফুঁক আল্লাহর নাম দ্বারা হয় অথবা এমন কথা দিয়ে হয়, যা দিয়ে ঝাড়ফুঁক বৈধ
-আলইসতেযকার ৮/৪০৫
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন-
وقد أجمع العلماء على جواز الرقي عند اجتماع ثلاثة شروط: أن يكون بكلام الله أو بأسمائه وبصفاته. وباللسان العربي أو بما يعرف معناه من غيره، وأن يعتقد أن الرقية لا يؤثر بذاتها بل بذات الله تعالى...
এ ব্যাপারে সকল উলামায়ে কেরাম একমত যে, তিনটি শর্তে ঝাড়ফুঁক বৈধ
এক. আল্লাহর কালাম বা তাঁর নাম-সিফাত দিয়ে হতে হবে
দুই. (আল্লাহর নাম-সিফাত বা আল্লাহর কালাম দিয়ে না হলে) আরবী ভাষায় বা এমন শব্দাবলী দ্বারা হতে হবে, যার অর্থ বুঝা যায় (এবং তাতে 'মুনকার' কিছুও নেই)
তিন. এমন বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহই সুস্থতা দানকারী, ঝাড়ফুঁক নয়
-ফাতহুল বারী ১০/২৪০
আল্লাহর যাত-সিফাত, নাম-কালাম দিয়ে স্বয়ং নবীজীও ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম করলে তার সমর্থনও করেছেন
হাদীসের কিতাবে নবীজী ও সাহাবায়ে কেরামের ঝাড়ফুঁক বিষয়ক বহু বর্ণনা ও ঘটনা উল্লেখ আছে
নমুনা স্বরূপ কয়েকটি উল্লেখ করা হল
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أن النبي صلى الله عليه وسلم كان ينفث على نفسه في المرض الذي مات فيه بالمعوذات، فلما ثقل كنت أنفث عليه بهن وأمسح بيد نفسه لبركتها.
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর সময় অসুস্থ হলে সূরা ফালাক ও নাস পড়ে উভয় হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বুলিয়ে দিতেন
যখন অসুস্থতা এত বেড়ে যেত যে, নিজে নিজে তা করতে পারছেন না তখন আমি নিজেই পড়ে তাঁর গায়ে দম করতাম এবং তাঁর হাত তাঁর গায়ে বুলিয়ে দিতাম
-সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৭৩৫
ইমাম বুখারী রাহ. এ হাদীসের শিরোনাম দিয়েছেন-
باب الرقي بالقرآن والمعوذات
তিনি আরো বলেন-
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا آوى إلى فراشه نفث في كفيه بـ "قل هو الله أحد" وبالمعوذتين جميعا، ثم يمسح بهما وجهه وما بلغت يداه من جسده. قالت عائشة: فلما اشتكى كان يأمرني أن أفعل ذلك به.
নবীজী যখন রাতে শোয়ার জন্য বিছানায় আসতেন তখন সূরা ইখলাস-ফালাক-নাস পড়ে দু'হাতে ফুঁ দিতেন
অতপর উভয় হাত, মুখ ও শরীরের যে পর্যন্ত পৌঁছে সে পর্যন্ত বুলাতেন, ইন্তেকালের পূর্বে যখন নবীজী অসুস্থ হন তখন আমাকে তা পড়ে তাঁর গায়ে এমন করে দিতে বলতেন
-সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৭৪৮
ইমাম বুখারী রাহ. এ হাদীসের শিরোনাম দিয়েছেন-
باب النفث في الرقية
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,-
أن رهطا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم انطلقوا في سفرة سافروها، حتى نزلوا بحي من أحياء العرب، فاستضافوهم فأبوا أن يضيفوهم، فلدغ سيد ذلك الحي، فسعوا له بكل شيء، لا ينفعه شيء، فقال بعضهم لو أتيتم هؤلاء الرهط الذين قد نزلوا بكم، لعله أن يكون عند بعضهم شيء، فأتوهم فقالوا: يا أيها الرهط إن سيدنا لدغ فسعينا له بكل شيء...
সাহাবীদের এক কাফেলা একবার সফরে বের হন
পথিমধ্যে তারা আরবের একটি গোত্রের এলাকায় পৌঁছেন এবং তাদের মেহমান হতে আবেদন করেন, কিন্তু গোত্রবাসী তাদের মেহমানদারী করতে অসম্মতি জানায়
এ সময় গোত্রপ্রধানকে সাপ বা বিচ্ছু দংশন করে এবং গোত্রবাসী বিষ নামানোর জন্য সর্বপ্রকার চেষ্টা করে
কিন্তু কোনো কাজ হয় না
অবশেষে তারা সাহাবীদের কাছে এসে বলল, আমাদের গোত্রপ্রধান দংশিত হয়েছেন, আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি, কিন্তু ফল হচ্ছে না; তোমাদের কাছে কি কিছু আছে? এক সাহাবী বললেন, হাঁ, আমি ঝাড়ফুঁক জানি, কিন্তু আমরা তোমাদের কাছে মেহমানদারীর আবেদন করেছি তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছ
তাই আল্লাহর শপথ তোমরা বিনিময় নির্ধারণ করার আগ পর্যন্ত আমি কোনো প্রকার ঝাড়ফুঁক করব না
অবশেষে তারা এক পাল ছাগল দিতে সম্মত হল
সে সাহাবী সূরা ফাতিহা পড়ে ঐ ব্যক্তির গায়ে ফুঁ দিতে লাগলেন
ধীরে ধীরে সে এমন সুস্থ হয়ে গেল, যেন সে এইমাত্র বাঁধনমুক্ত হল এবং এমনভাবে হাঁটতে লাগল যেন তার কোনো কষ্টই নেই
অতপর তারা তাদের ওয়াদাকৃত বিনিময় দিল
তখন একজন সাহাবী বললেন, এগুলো আমরা ভাগ করে নিই
তখন যে সাহাবী ঝাড়ফুঁক করেছেন তিনি বললেন, না, নবীজীকে জিজ্ঞেস করা ছাড়া তা হবে না
তিনি যা বলেন তাই করব