content stringlengths 0 129k |
|---|
তারা নবীজীর কাছে আসার পর পুরো ঘটনা বলেন |
তখন নবীজী বলেন, তোমাদের কে বলল, এটি জাহেলী ঝাড়ফুঁক! তোমরা যা করেছ ঠিকই করেছ |
যাও, এগুলো তোমাদের মাঝে বণ্টন করে নাও আর আমাকেও এক অংশ দিয়ো |
-সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৭৪৯ |
ইমাম বুখারী রাহ. এ হাদীসের শিরোনাম দেন- |
باب النفث في الرقية |
খারিজা ইবনুস সালত তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন- |
أنه مر بقوم عندهم مجنون موثق في الحديد، فقال له بعضهم : عندك شيء تداوي هذا به، فإن صاحبكم قد جاء بخير؟ قال : فقرأت عليه فاتحة الكتاب ثلاثة أيام، كل يوم مرتين، فأعطاه مئة شاة، قأتى النبي صلى الله عليه و سلم، فذكر ذلك له، فقال له صلى الله عليه و سلم : كل، فمن أكل برقية باطل فقد أكلت برقية حق. |
তার চাচা একদা এক গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন |
দেখলেন, এক লোক উন্মাদ হয়ে গিয়েছে |
তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে |
তখন ঐ লোকের পরিবার খারেজার চাচার কাছে এসে বলল আমরা শুনেছি, তোমাদের রাজা (নবীজী) নাকি উত্তম কিছু নিয়ে এসেছেন |
তাই তোমার কাছে কি এ ব্যক্তির চিকিৎসার কিছু আছে? তখন তিনি তিন দিন তাকে সূরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়ফুঁক করলেন |
এতে লোকটি সুস্থ হয়ে গেল এবং তারা তাকে একশটি ছাগল হাদিয়া দিল |
তিনি নবীজীর কাছে এসে ঘটনা শোনালেন |
নবীজী বললেন, এ ছাগল তুমি খাও (এতে কোনো অসুবিধা নেই) |
অন্যরা বাতিল ঝাড়ফুঁক করে খায়, এগুলো তো তুমি সত্য ঝাড়ফুঁক করে পেয়েছ |
-মুসনাদে আহমাদ ৫/৩১১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৬১১০ |
উপরোক্ত হাদীস ও উলামায়ে কেরামের অভিমতগুলো থেকে পরিষ্কার যে, ইসলাম শিরককে কোনোভাবেই মেনে নেয় না |
মুসলমানদের জীবনের সকল ক্ষেত্র শিরকমুক্ত হবে |
তাওহীদই হল সবকিছুর মূল |
তাই নবীজী শিরক অনুপ্রবেশের সকল ছিদ্রপথ কঠোরভাবে চিহ্নিত করে দিয়েছেন |
আর সে অনুসারেই ঝাড়ফুঁকের সীমা নির্ধারণ করে দেন যে, শিরকসম্বলিত কোনো ঝাড়ফুঁকই মুসলমানদের জন্য জায়েয নেই, হারাম |
এতে তার ঈমান ধ্বংস হয়ে যাবে |
তবে যদি শিরকমুক্ত হয় তাহলে ঝাড়ফুঁক বৈধ |
তাই উলামায়ে কেরাম বলেছেন, আল্লাহর নাম-সিফাত, তাঁর কালাম ও হাদীসের দুআ ইত্যাদি দিয়ে ঝাড়ফুঁক মাসনূন |
তেমনি শিরকমুক্ত অন্য যে কোনো কথা দিয়েও ঝাড়ফুঁক জায়েয, তবে এর জন্য জরুরি হল, কী বলছে তার ভাষা বুঝা যেতে হবে |
তাতে 'মুনকার' কিছু না থাকতে হবে এবং এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহই সুস্থতা দানকারী |
যদি ভাষা বুঝা না যায় তাহলে উলামায়ে কেরাম এসব তন্ত্র-মন্ত্রকেও নাজায়েয বলেন |
আর যেহেতু নবীজী নিজেই বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দুআ যিকির দ্বারা ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং শিখিয়ে গিয়েছেন তাই অন্য সকল ঝাড়ফুঁক থেকে সেগুলোই শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ |
কিন্তু সমাজের চিত্র দেখলে মনে হয়, ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে যে ইসলামের এমন কঠোর বিধান আছে তা আমাদের অনেকেই জানে না |
মনে করে, যে কোনো ব্যক্তি থেকে ঝাড়ফুঁক নেওয়া যাবে |
সে কী দিয়ে ঝাড়ফুঁক করছে তার খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না; বরং সে বিধর্মী, মুশরিক (যেমন, হিন্দু), অগ্মিপূজক হলেও কোনো অসুবিধা মনে করে না |
অথচ জানা কথা তার তন্ত্র-মন্ত্র শিরকমুক্ত হবে না |
তার পরও বিনা দ্বিধায় তারা হিন্দু, মগ, চাকমা, বৌদ্ধ ইত্যাদি গণক ও মন্ত্রবিদের কাছে যায়; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুসলমানদের ঝাড়ফুঁকের চেয়ে তাদের ঝাড়ফুঁককে বেশি কার্যকর মনে করে (নাউযুবিল্লাহ) |
আমরা অনেকে মনে করি, সকল রোগই শারীরিক কারণে সৃষ্টি হয়, এখানে অন্য কোনো কিছু কার্যকর নয় |
অথচ বিষয়টি এমন নয় |
শয়তানও এসব সৃষ্টি করে, যাতে মানুষ শয়তানী মন্ত্রের চিকিৎসা নিয়ে মুশরিক হয়ে যায় |
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. একদিন তাঁর স্ত্রী যায়নাবকে হাদীস শোনান যে, নবীজী বলেছেন, নিশ্চয় জাহেলী ঝাড়ফুঁক শিরক |
তখন যায়নাব বলেন, বিষয়টি বুঝলাম না; আমার চোখ ফুলে যেত এবং পানি ঝরত |
তাই আমি এক ইহুদী নারী থেকে ঝাড়ফুঁক নিতাম |
ঝাড়ফুঁক করালেই সুস্থ হয়ে যেতাম |
তখন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, এটা শয়তানের কাজ |
সে তোমার চোখে খোঁচা দেয় আর তাতে তা ফুলে যায় ও পানি ঝরতে থাকে আর যখন সে ইহুদী নারী (মন্ত্র দিয়ে) ঝাড়ফুঁক করে তখন শয়তান থেমে যায় |
তোমার জন্য তো সে দুআটিই যথেষ্ট, যা নবীজী বলতেন- |
أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبّ النّاسِ، اشْفِ أَنْتَ الشّافِي، لَا شِفَاءَ إِلّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا. |
-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৭৯ |
তো এসব কারণে অনেক সময় শিরকী মন্ত্রে কাজ হয়, এটা শয়তানেরই চক্রান্ত |
কিন্তু কথা হল, ঈমান সবার আগে |
ঈমানের জন্যই বাঁচা |
শয়তানের নামে মন্ত্র পড়ে ঝাড়ফুঁক করে সুস্থ হলাম, কিন্তু শিরকে লিপ্ত হলাম |
শিরকওয়ালা জীবনের কী মূল্য? |
তাই অবশ্যকরণীয়- আমাদের ঈমান শুধরে নেওয়া |
বেশি বেশি আল্লাহর কুদরতের আলোচনা করার মাধ্যমে ঈমানকে মজবুত করা |
আর কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দুআসমূহকে নিজের ও পরিবারের জন্য রক্ষাকবচ জ্ঞান করা |
এসব দুআ সংকলিত হয়েছে এমন একটি কিতাবের নাম 'হিসনুল মুসলিম', যার অর্থ হল- মুসলিমের দুর্গ |
বাস্তবেই নবীজীর শেখানো দুআগুলো মুসলিমের দুর্গ |
উক্ত কিতাবের লেখকেরই আরেকটি কিতাবের নাম 'আদ দুআ মিনাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ' |
ইনশাআল্লাহ, আমরা এসব দুআ শিখব এবং দৈনন্দিন আমলে পরিণত করব |
প্রসঙ্গ : তাবীয |
পূর্বের আলোচনায় আমরা দেখেছি রোগ-বালাই ও মসিবতে নবীজী অনেক দুআ ও ঝাড়ফুঁক শিখিয়েছেন |
সেসব দুআসহ আল্লাহর নাম বা যে কোনো দুআ দ্বারা ঝাড়ফুঁক বৈধ বরং মুস্তাহাব |
এ ব্যাপারে সকল উলামায়ে কেরাম একমত এবং এর উপর সর্বযুগে আমল হয়ে আসছে |
যেহেতু আল্লাহর নাম, সিফাত, কালাম ইত্যাদির মাধ্যমে রোগ-বালাই ও বিপদ-আপদ দূর হয় তাই এসব দ্বারা যেমন ঝাড়ফুঁক করা হত, তেমনিভাবে অনেকে এক্ষেত্রে আরো একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতেন; আর তা হল, এসব দুআ-যিকির-আয়াত কাগজ ইত্যাদিতে লিখে তা রোগীর গায়ে লাগিয়ে দিতেন |
এ পদ্ধতিটি সাহাবা-তাবেয়ী যুগেও মওজুদ ছিল |
সামনে আমরা এ বিষয়ে আলোকপাত করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ |
আমরা দেখব, সাহাবী-তাবেয়ীযুগে তাবীজের ব্যবহার কেমন ছিল : |
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. হতে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- |
إِذَا فَزِعَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَقُلْ: بِسْمِ اللهِ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التّامّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ شَرِّ الشّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ. |
তোমাদের কেউ ঘুমে ভয় পেলে সে যেন এ দুআ পড়ে- |
بِسْمِ اللهِ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التّامّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ شَرِّ الشّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ. |
বর্ণনাকারী সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস তার প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদেরকে এ দুআটি শিখিয়ে দিতেন |
আর যারা অপ্রাপ্ত বয়স্ক তাদের জন্য দুআটি লিখে তাদের গলায় ঝুলিয়ে দিতেন |
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৩৫৪৭; মুসনাদে আহমাদ ২/১৮১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৮৯; জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫২৮; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ২০১০ |
قال الترمذي : حسن غريب. |
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, কোনো নারীর সন্তান প্রসব কঠিন হয়ে গেলে তার জন্য যেন এ দুআ ও এ দুটি আয়াত একটি থালায় লেখা হয় |
অতপর তা ধুয়ে সে নারীকে পান করানো হয় |
দুআটি হল- |
بِسْمِ اللهِ لا إِلهَ إِلاّ هُوَ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ السّموَاتِ السّبْعِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، كَأَنّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلّا عَشِيّةً أَوْ ضُحَاهَا. كَأَنّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، بَلَاغٌ فَهَلْ يُهْلَكُ إِلّا الْقَوْمُ الْفَاسِقُونَ. |
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২৩৯৭৫ |
عَنْ عَائِشَةَ: أَنّهَا كَانَتْ لَا تَرَى بَأْسًا أَنْ يُعَوّذَ فِي الْمَاءِ ثُمّ يُصَبّ عَلَى الْمَرِيضِ. |
হযরত আয়েশা রা. রোগীর জন্য পানিতে কিছু পড়ে তা রোগীর গায়ে ঢেলে দেওয়াতে কোনো অসুবিধা মনে করতেন না |
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২৩৯৭৫ |
আবু কিলাবা লাইস এবং মুজাহিদ রাহ. থেকে বর্ণনা করেন- |
أنهما لم يريا بأسا أن يكتب آية من القرآن ، ثم يسقاه صاحب الفزع. |
তারা উভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত রোগীর জন্য কোনো আয়াত লিখে তা ধুয়ে রোগীকে খাওয়ানোতে কোনো ধরনের অসুবিধা মনে করতেন না |
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২৩৯৭৬ |
হাজ্জাজ বলেন- |
أخبرني من رأى سعيد بن جبير يكتب التعويذ لمن أتاه، قال حجاج: وسألت عطاء فقال: ما سمعنا بكراهيته إلا من قبلكم أهل العراق. |
বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত সায়ীদ ইবনে জুবাইর নিজে তাবীজ লিখতেন |
বর্ণনাকারী হাজ্জাজ বলেন, আমি আতা ইবনে আবী রাবাহকে তাবীয বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন এতে কোনো অসুবিধার কথা আমরা শুনিনি |
কেউ কিছু বললে তোমাদের ইরাকের কেউ বলতে পারে |
-মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, বর্ণনা ২৩৯৭৭ |
(বিশিষ্ট তাবেয়ী) ইবরাহীম নাখায়ী বিষয়টি নিষেধ করতেন |
তিনি ইরাকের |
আতা ইবনে আবী রাবাহ সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন |
ইবনে আবী শাইবা রাহ. এখানে শিরোনাম দিয়েছেন- |
فِي الرّخْصَةِ فِي الْقُرْآنِ يُكْتَبُ لِمَنْ يُسْقَاهُ. |
আবু ইছমা বলেন- |
سألت سعيد بن المسيب عن التعويذ؟ فقال: لا بأس به إذا كان في أديم. |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.