content
stringlengths
0
129k
এই একটি জিনিস না থাকার কারণেই জান্নাতবাসীদের শান্তি বহুগুণে বেড়ে যাবে
এই আয়াত থেকে আমরা একটি উপদেশ পাই
বাজে কথা থেকে দূরে থাকলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়
আমরা যদি দুনিয়াতে বাজে কথা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি, তাহলে আমরা দুনিয়াতেই অনেক বেশি মানসিক শান্তিতে থাকবো
নিজেদের মুখকে নিয়ন্ত্রণ করে আমরা যেমন নিজেকে এবং অন্যেকে মানসিক শান্তি দেবো, ঠিক একইভাবে বাজে কথা, অনর্থক কথা বলে বেড়ায় এমন মানুষদের থেকে বুদ্ধি খাটিয়ে নিজেকে দূরে রেখে নিজেদেরই মানসিক শান্তি বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে পারব
মনোবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে, টেলিভিশন এবং সামাজিক গণমাধ্যম (যেমন ফেইসবুক) থেকে মানুষ যখন নিজেকে দূরে রাখতে পারে, তখন তার মানসিক শান্তি বহুগুনে বেড়ে যায়
এর কারণ এগুলো হচ্ছে বাজে কথার অনন্ত উৎস
কুটনামি, গালাগালি, কাঁদা ছোড়াছুড়ি, ফাঁকা গলাবাজি, ভুয়া খবর, প্রতারণা, মিথ্যা - এই সবকিছুর বাজার হচ্ছে টিভি এবং ফেইসবুক
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের এগুলোর প্রতি ঝোঁক থাকে, কারণ এগুলো থেকে তারা একধরনের সাময়িক উত্তেজনা পায়
ঠিক যে ধরনের উত্তেজনা মানুষ অল্প পরিমাণে মাদক নিলে পায়
টিভি এবং ফেইসবুক দুটোই মানুষের মস্তিষ্কে সেই একই কেমিক্যাল 'ডোপামিন' নিঃসরণ করে, যা কোকেইন (মাদক) নিলে নিঃসরণ হয়
কিন্তু এই ডোপামিন হচ্ছে আসক্তির অন্যতম কারণ
[৪১১] যার কারণে যখন টিভি এবং ফেইসবুক বন্ধ হয়ে যায়, একধরনের বিষণ্ণতা, ক্লান্তি এসে ভর করে, যা কাটানোর জন্য আবার কখন টিভি এবং ফেইসবুকে যাবে, তার জন্য অস্থিরতা চলে আসে
এভাবে মানুষ এক ধরনের 'উত্তেজনা-হতাশা-অস্থিরতা-উত্তেজনা' চক্রে পড়ে যায়
এই চক্র থেকে সে আর সহজে বের হতে পারে না
- এই অসুস্থ চক্র জীবনে অশান্তি নিয়ে আসে
মানুষকে নিরন্তর উত্তেজনার দাস বানিয়ে ফেলে
ঠিক এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে উত্তেজনা আসক্তির ফাঁদে ফেলার বাণিজ্যের উপর দাড়িয়ে আছে টিভি এবং ফেইসবুক
এই আসক্তিই তাদের ব্যবসা, তাদের আয়ের অন্যতম উৎস
বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সফল মানুষদের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে যে, তারা কেউ নিয়মিত টিভি এবং ফেইসবুক করেন না
তাদের এগুলোর ব্যবহার যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ
মাত্র ৯% ফেইসবুক ব্যবহারকারী যোগাযোগ করার জন্য ফেইসবুক ব্যবহার করেন
আর বাকি ৯১% ব্যবহারকারী ঘন ঘন উত্তেজনার ডোজ নেওয়ার জন্য নিয়মিত ফেইসুক ব্যবহার করেন
এরা একদিনও ফেইসবুক ভুলে থাকতে পারে না
ফেইসবুকের যতই উপকারিতা থাকুক না কেন, বাস্তবতা হলো পুরো একটি প্রজন্মের চিন্তার গভীরতা নষ্ট করে দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা তৈরি করছে এটি
মাত্র কয়েক বছরে এটি কোটি মানুষের মধ্যে নারসিসিজম নামক একটি মানসিক ব্যাধির মহামারী ছড়িয়ে দিয়েছে, যা হচ্ছে অন্যের কাছে নিজেকে সুখী, সফল, গুণবান হিসেবে জাহির করে এক প্রতারণায় ভরা জীবন পার করার অন্ধ মোহ
[৪১২][৪১৩]
তোমার রবের পক্ষ থেকে পুরস্কার, এক যথার্থ উপহার
আমাদের কোনো বিশেষ অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী যখন নিজে আমাদেরকে পুরস্কার দেবেন বলে আমন্ত্রণ জানান, তখন আমাদের খুশি দেখে কে? আমাদের নিকট আত্মীয়রা গর্ব করে বলে বেড়ায়, "ওকে প্রধানমন্ত্রী নিজে পুরস্কার দেওয়ার জন্য ডেকেছেন! আমাদের চৌদ্দগুষ্টিতে কেউ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার পায়নি
কত বড় সম্মান আমাদের!" আর এই আয়াতে আল্লাহ تعالى বলছেন যে, মুত্তাকিরদের পুরস্কার আসবে তাঁর কাছ থেকে
কিয়ামতের দিন তাদেরকে তিনি تعالى নিজে সেই পুরস্কার দেবেন
বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজে এসে পুরস্কার দেওয়া কী বিরাট ব্যাপার হতে পারে, সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারবো না
কিয়ামতের দিন এই সৌভাগ্যবান মানুষগুলোর কোনো ভয় থাকবে না, যেদিন আমরা সবাই ভয়ে, আতঙ্কে থরথর করে কাঁপতে থাকবো
যেদিন আমরা দুনিয়ায় করা হাজারো ভুলের জন্য দুঃখে, আফসোসে মরে যেতে চাইবো, সেদিন এই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠদের আনন্দের কোনো সীমা থাকবে না
তারা থাকবেন আল্লাহর تعالى একান্ত সান্নিধ্যে, চিরসুখী
তাঁর পক্ষ থেকে, যিনি আকাশগুলো এবং পৃথিবী সহ এদের মধ্যে যা কিছুই আছে, তার সবকিছুর প্রতিপালক; অত্যন্ত দয়ালু তিনি
কারো কোনো ক্ষমতাই থাকবে না তাঁর সামনে কিছু বলার
সেদিন রুহ এবং ফেরেশতারা সারি-সারি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে
পরম দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন সে ছাড়া কেউ কোনো কথাই বলতে পারবে না এবং শুধুই সঠিক কথা বলবে
এবার দৃশ্যপট ফিরে গেলো কিয়ামতের দিনে
এক ভিন্ন জগতে মানুষ আবার জন্ম নিয়েছে
দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল সমতল ভূমিতে
উপরে আকাশ এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত চিঁড়ে ফাকা করা
তার ভেতরে দিয়ে উপরের জগত থেকে অতি উন্নত সত্তারা উড়ে এসে সারি সারি হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছে
বিরাট একটা কিছু ঘটানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এক সুশৃঙ্খল বাহিনী
এরপর এক বিশাল আকৃতির একজনের আবির্ভাব হলো পুরো দিগন্ত জুড়ে
তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে তিনি সেই অতিজাগতিক বাহিনীর প্রধান
তিনি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছেন
পুরো বাহিনী নিঃশব্দে অপেক্ষা করছে
সবাই অপেক্ষা করছে আকাশের উপরে অদৃশ্য যিনি আছেন, সেই সর্বপ্রধান, সর্বশক্তিমানের নির্দেশের
তাঁর নির্দেশ পাওয়া মাত্র শুরু হয়ে যাবে শেষ আদালত
নিচে অজস্র মানুষ উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছে কখন সেই আদালতে তার ডাক পড়বে
"এগুলো সব গালগপ্প
কীভাবে মানুষ এই সব গাঁজাখুরি কাহিনী বিশ্বাস করে? মানুষ মরে মাটিতে মিশে যায়
তার দেহ পচে গলে পোকামাকড়, উদ্ভিদের খাবার হয়ে যায়
কীভাবে আবার সেই মানুষ হুবহু আরেকবার জন্ম নেওয়া সম্ভব? মানুষের প্রতিটি কথা নাকি রেকর্ড করা হচ্ছে? কোথায়? আশেপাশে কিছুই তো দেখতে পাচ্ছি না
মানুষের হাত-পা নাকি সাক্ষী দেবে? হাত-পা আবার কথা বলতে পারে নাকি? এই সব বাচ্চাদের গল্প বড় মানুষরা বিশ্বাস করে কীভাবে?"
- কিছু মানুষের কাছে মৃত্যুর পরে পুনরুত্থান, কিয়ামতের দিনের বিচার, জান্নাত-জাহান্নাম এসব হচ্ছে গালগপ্প, অশিক্ষিত মানুষের বিশ্বাস
অত্যাচারিত মানুষের জন্য ফালতু সান্ত্বনার কথা
দুনিয়াতে যারা কিছু পায় না, তাদের বুঝ দেওয়ার জন্য
এরা অবাক হয় যে, ধর্ম কোনো বুদ্ধিমান মানুষ বিশ্বাস করতে পারে নাকি? তাও আবার এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে?
এদের জন্য এই সুরাহ্‌'য় শেষ সাবধান বাণী -
সেদিনটি অনিবার্য
তাই যে চায়, সে তার রবের কাছে আশ্রয় খুঁজে নিক
আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সাবধান করে দিলাম
যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি দেখবে সে কী করে এসেছে, আর অস্বীকারকারী বিলাপ করবে, "হায়, আমি যদি ধুলোয় মিশে যেতাম!"
- ওমর আল জাবির
[১] বাইয়িনাহ এর কু'রআনের তাফসীর
[২] ম্যাসেজ অফ দা কু'রআন - মুহাম্মাদ আসাদ
[৩] তাফহিমুল কু'রআন - মাওলানা মাওদুদি
[৪] মা'রিফুল কু'রআন - মুফতি শাফি উসমানী
[৫] মুহাম্মাদ মোহার আলি - [৬] সৈয়দ কুতব - [৭] তাদাব্বুরে কু'রআন - আমিন আহসান ইসলাহি
[৮] তাফসিরে তাওযীহুল কু'রআন - মুফতি তাক্বি উসমানী
[৯] বায়ান আল কু'রআন - ড: ইসরার আহমেদ
[১০] তাফসীর উল কু'রআন - মাওলানা আব্দুল মাজিদ দারিয়াবাদি [১১] কু'রআন তাফসীর - আব্দুর রাহিম আস-সারানবি [১২] আত-তাবারি-এর তাফসীরের অনুবাদ
[১৩] তাফসির ইবন আব্বাস
[১৪] তাফসির আল কুরতুবি
[১৫] তাফসির আল জালালাইন
[১৬] লুঘাতুল কুরআন - গুলাম আহমেদ পারভেজ
[১৭] তাফসীর আহসানুল বায়ান - ইসলামিক সেন্টার, আল-মাজমাআহ, সউদি আরব [১৮] কু'রআনুল কারীম - বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর - বাদশাহ ফাহাদ কু'রআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স
[১৯] তাফসির আল-কাবির
[২০] তাফসির আল-কাশ্‌শাফ
[৪১০] 14 . (2017). .. 24 2018, ://..//14---------.
[৪১১] '- ' (2018). . 24 2018, ://..//-//2017/12/12/-------------/?=&_=.10863213
[৪১২] () (2018). .. 24 2018, ://..//20180303203555/://./2013/06/-------2/
[৪১৩] . (2018). . 24 2018, ://..///-----/201603/------
ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২০
২ পড়তে ১০ মিনিট সময় লাগবে
ই-মেইল নিউজলেটার
নতুন পোস্টগুলো আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
শুধুমাত্র নতুন পোস্ট প্রকাশিত হলে ই-মেইল পাবেন
প্রতিদিন সর্বোচ্চ একবার
এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট
আল্লাহকে দর্শন
মার্চ ৪, ২০২০
আকাশকে খুলে দেওয়া হবে - আন-নাবা ১৭-৩০