content
stringlengths
0
129k
أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ لِيْ مَالاً وَوَلَدًا وَإِنَّ وَالِدِيْ يَحْتَاجُ مَالِيْ قَالَ أَنْتَ وَمَالُكَ لِوَالِدِكَ إِنَّ أَوْلَادَكُمْ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِكُمْ، فَكُلُوْا مِنْ كَسْبِ أَوْلَادِكُمْ-
'একজন লোক রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার সম্পদ ও সন্তান আছে
আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী
তিনি বললেন, তুমি ও তোমার সম্পদ উভয়ই তোমার পিতার
তোমাদের সন্তান তোমাদের জন্য সর্বোত্তম উপার্জন
সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানের উপার্জন থেকে খাও'
[17]
প্রবীণদের যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা মুসলমানদের দায়িত্ব
তাদের প্রয়োজন পূরণ করা সকলের কর্তব্য
বিশেষ করে নিকটাত্মীয়দের এটা মানবিক দায়িত্বও বটে
এমনকি কেউ যদি মনে করে যে, আমার উপার্জিত সম্পদ আমারই, পিতা-মাতাকে কেন দিব? এর জবাব রাসূল (ছাঃ) আগেই দিয়ে রেখেছেন, 'তুমি ও তোমার সম্পদ সবই তোমার পিতার'
সুতরাং তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে সন্তান বাধ্য
চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন : সাধারণত প্রবীণদের অসুস্থতার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে তার সন্তান-সন্ততি অথবা আত্মীয়-স্বজন
কারো যদি দায়িত্ব গ্রহণ করার মত আত্মীয় না থাকে তবে এলাকার সমাজপতি, মেম্বার, চেয়ারম্যান অথবা যে কোন বিত্তশালী ব্যক্তি দায়িত্ব গ্রহণ করবে
তবে বার্ধক্যের কোন ঔষধ নেই
যেমন ওসামা বিন শারীক বলেন,
قَالَتِ الْأَعْرَابُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَلَا نَتَدَاوَى قَالَ نَعَمْ يَا عِبَادَ اللهِ تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلاَّ وَضَعَ لَهُ شِفَاءً أَوْ قَالَ دَوَاءً إِلاَّ دَاءً وَاحِدًا قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَمَا هُوَ قَالَ الْهَرَمُ-
'বেদুঈনরা বলেছিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি চিকিৎসা গ্রহণ করব না? তিনি বললেন, হ্যঁা, আল্লাহর বান্দারা! চিকিৎসা গ্রহণ কর
কারণ আল্লাহ এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার চিকিৎসা বা ঔষধ তৈরী করেননি
তবে একটি রোগ ব্যতীত
তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! সেটা কি? তিনি বললেন, বার্ধক্য'
[18] কিন্তু তাই বলে বৃদ্ধদের বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা যাবে না
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
সালামে অগ্রাধিকার : রাসূল (ছাঃ) বলেন,يُسَلِّمُ الصَّغِيْرُ عَلَى الْكَبِيْرِ وَالْمَارُّ عَلَى الْقَاعِدِ وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيْرِ- 'ছোটরা বড়দের, চলমান ব্যক্তি বসা ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম প্রদান করবে'
[19]
ছালাত আদায়ে বিশেষ সুবিধা প্রদান : দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে অক্ষম প্রবীণ ব্যক্তিদের সুবিধাজনকভাবে ছালাত আদায়ের অনুমতি প্রদান করেছে ইসলাম
ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) বলেন, আমি অর্শ্ব রোগে ভুগছিলাম
এমতাবস্থায় রাসূল (ছাঃ)-কে ছালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম
তিনি বললেন,صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ، 'দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় কর
যদি অক্ষম হও তবে বসে পড়
যদি তাতেও অক্ষম হও তবে শুয়ে শুয়ে পড়'
[20] এমনকি প্রবীণদের সম্মানে রাসূল (ছাঃ) ইমামকে ছালাত সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন
আবূ মাস'ঊদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ رَجُلاً قَالَ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّي لَأَتَأَخَّرُ عَنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ مِنْ أَجْلِ فُلَانٍ مِمَّا يُطِيْلُ بِنَا فَمَا رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَوْعِظَةٍ أَشَدَّ غَضَبًا مِنْهُ يَوْمَئِذٍ ثُمَّ قَالَ إِنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِيْنَ فَأَيُّكُمْ مَا صَلَّى بِالنَّاسِ فَلْيَتَجَوَّزْ فَإِنَّ فِيْهِمْ الضَّعِيْفَ وَالْكَبِيْرَ وَذَا الْحَاجَةِ-
'একজন ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আল্লাহর কসম আমি অমুকের কারণে ফজরের ছালাতে অনুপস্থিত থাকি
তিনি ছালাতকে খুব দীর্ঘ করেন
আবূ মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে নছীহত করতে গিয়ে সেদিনের ন্যায় এত অধিক রাগান্বিত হ'তে কখনো দেখিনি
অতঃপর তিনি বলেন, তোমাদের মাঝে বিতাড়নকারী বা বিরক্তকারী রয়েছে
তোমাদের মধ্যে যে কেউ ছালাতে ইমামতি করবে, সে যেন সংক্ষেপ করে
কেননা তাদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোকও থাকে'
[21]
ইমামতিতে অগ্রাধিকার : ইমাম হওয়ার দিক দিয়ে রাসূল (ছাঃ) প্রবীণদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন
আবূ মাসঊদ (রাঃ) বলেন,
قَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللهِ وَأَقْدَمُهُمْ قِرَاءَةً فَإِنْ كَانَتْ قِرَاءَتُهُمْ سَوَاءً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً فَإِنْ كَانُوْا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَكْبَرُهُمْ سِنًّا-
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে বললেন, আল্লাহর কিতাব কুরআন মাজীদের জ্ঞান যার সবচেয়ে বেশী এবং যে কুরআন তিলাওয়াতও সুন্দরভাবে করতে পারে, সে-ই ছালাতের জামা'আতে ইমামতি করবে
সুন্দর কিরাআতের ব্যাপারে সবাই যদি সমান হয় তাহ'লে তাদের মধ্যে যে হিজরতে অগ্রগামী সে ইমামতি করবে
হিজরতের ব্যাপারেও সবাই যদি সমান হয় তাহ'লে তাদের মধ্যে যে বয়সে প্রবীণ সেই ইমামতি করবে'
[22]
ছওম পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রদান : অতি বৃদ্ধ বা প্রবীণ ব্যক্তি ছওম পালনে অক্ষম হ'লে প্রতিদিনের ছওমের বিনিময়ে একজন করে মিসকীনকে খাদ্য খাওয়াবে
আত্বা (রহঃ) বলেন, তিনি ইবনু আববাস (রাঃ)- কে পাঠ করতে শুনেছেন যে, তিনি পাঠ করছিলেন,
وَعَلَى الَّذِينَ يُطَوَّقُونَهُ فَلاَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : لَيْسَتْ بِمَنْسُوخَةٍ هُوَ الشَّيْخُ الكَبِيرُ، وَالمَرْأَةُ الكَبِيرَةُ لاَ يَسْتَطِيعَانِ أَنْ يَصُومَا، فَيُطْعِمَانِ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينًا-
'আর যাদের জন্য এটি (ছিয়াম পালন) খুব কষ্টকর হবে, তারা যেন এর পরিবর্তে একজন করে অভাবীকে খাদ্য দান করে'- এর ব্যাখ্যায় ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, 'ছিয়াম পালনে অক্ষম বৃদ্ধ-বৃদ্ধার প্রত্যেক দিনের (প্রতিটি ছিয়ামের) পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য খাওয়ানোর বিধান সম্বলিত উক্ত আয়াতটি রহিত হয়নি'
[23]
হজ্জের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ : অক্ষম প্রবীণ বা বৃদ্ধ ব্যক্তির পক্ষ থেকে সক্ষম ব্যক্তির মাধ্যমে হজ্জ করানো ইসলামে বৈধ
ইবনে আববাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন,
جَاءَتْ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ فَرِيْضَةَ اللهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِيْ شَيْخًا كَبِيْرًا لَا يَسْتَطِيْعُ أَنْ يَسْتَوِيَ عَلَى الرَّاحِلَةِ فَهَلْ يَقْضِيْ عَنْهُ أَنْ أَحُجَّ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ-
'বিদায় হজ্জের বছর খাছ'আম গোত্রের একজন মহিলা এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর তরফ হ'তে বান্দার উপর যে হজ্জ ফরয হয়েছে তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমন সময় ফরয হয়েছে যখন তিনি সওয়ারীর উপর ঠিকভাবে বসে থাকতে পারেন না
আমি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করলে তার হজ্জ আদায় হবে কি? তিনি বললেন, হবে'
[24]
রাসূল (ছাঃ)-এর নৈকট্যে অগ্রাধিকার : রাসূল (ছাঃ) বলেন,لِيَلِنِي مِنْكُمْ أُولُو الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ- 'তোমাদের মধ্যকার প্রবীণ ও জ্ঞানী লোকেরা যেন আমার কাছাকাছি দাঁড়ায়
তারপর পর্যায়ক্রমে দাঁড়াবে যারা তাদের কাছাকাছি, তারপর দাঁড়াবে যারা তাদের কাছাকাছি তারা'
[25]
বসার দিক দিয়ে অগ্রাধিকার : ওবায়দুল্লাহ বিন ওমর বলেন,
كُنْتُ عِنْدَ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيٍّ، فَدَخَلَ شَيْخٌ مِنْ قُرَيْشٍ، فَقَالَ سُلَيْمَانُ : انْظُرَ الشَّيْخَ، فَأَقْعِدْهُ مَقْعَدًا صَالِحًا-
'আমি সুলায়মান বিন আলীর নিকট ছিলাম
এ সময় কুরাইশ গোত্রের জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি প্রবেশ করল
সুলায়মান বললেন, এই প্রবীণ ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য কর, তাকে উপযুক্ত আসনে বসাও'
[26]
কথা বলায় অগ্রাধিকার : একবার আব্দুল্লাহ ইবনু সাহ্ল ও মুহাইয়াছা খাদ্যের অভাবে খায়বারে আসেন
ঘটনাক্রমে আব্দুল্লাহ নিহত হ'লে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট ঘটনাটি বলার জন্য মুহাইয়াছা অগ্রসর হয়
তখন রাসূল (ছাঃ) মুহাইয়াছাকে বললেন, كَبِّرْ كَبِّرْ يُرِيْدُ السِّنَّ 'বড়কে কথা বলতে দাও বড়কে কথা বলতে দাও
তিনি এতে উদ্দেশ্য করেছেন বয়সে প্রবীণ ব্যক্তিকে'
[27] এতে বুঝা যায়, বৈঠকে কথা বলার সময় বড় বা প্রবীণ ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে
বৃদ্ধ বয়সে প্রবীণদের করণীয় : বৃদ্ধ বয়সে ইবাদতে মশগূল থাকা আবশ্যক
এ সময় অনেকাংশে প্রবীণদের মেজায খিটখিটে থাকে
তাই সর্বদা ইবাদতে মশগূল থাকলে মনের অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার রাস্তা খুলে যেতে পারে
এ সময় বেশী বেশী তাসবীহ-তাহলীল, দো'আ-দরূদ, ইসতিগফার পাঠ করতে হবে
মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا تُوْبُوْا إِلَى اللهِ تَوْبَةً نَصُوْحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللهُ النَّبِيَّ وَالَّذِيْنَ آمَنُوْا مَعَهُ نُوْرُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُوْرَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ-
'হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর, খাঁটি তওবা
আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, নবী ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না
তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে
তারা বলবে, 'হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান' (তাহরীম ৬৬/৮)
রাসূল (ছাঃ) বলেন,كُلُّ بَنِيْ آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِيْنَ التَّوَّابُوْنَ، 'প্রত্যেক বনী আদমই ভুলকারী
আর উত্তম ভুলকারী হচ্ছে তওবাকারীগণ'
[28] আল্লাহ বলেন,إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِيْنَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِيْنَ 'নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদেরকে ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে' (বাক্বারাহ ২/২২২)
মুস'আব ইবনু সা'দ ও আমর ইবনু মায়মূন হ'তে বর্ণিত, তারা উভয়ে বলেন,كَانَ سَعْدٌ يُعَلِّمُ بَنِيْهِ هَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ كَمَا يُعَلِّمُ الْمُكَتِّبُ الْغِلْمَانَ وَيَقُوْلُ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَعَوَّذُ بِهِنَّ دُبُرَ الصَّلَاةِ- 'সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) তার সন্তানদেরকে নিম্নোক্ত বাক্যগুলো এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে মক্তবে শিক্ষক শিশুদেরকে শিক্ষা দেন
আর তিনি বলতেন, রাসূল (ছাঃ) ছালাতের পর এগুলো দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْجُبْنِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْبُخْلِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ،
'হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি ভীরুতা হ'তে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে কৃপণতা হ'তে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে অতি বার্ধক্যে পৌঁছার বয়স হ'তে আশ্রয় চাই এবং তোমার কাছে দুনিয়ার ঝগড়া-বিবাদ ও কবরের শাস্তি হ'তে আশ্রয় চাই
[29]
এছাড়াও প্রবীণদের কর্তব্য হ'ল আত্মীয়-স্বজনদের যথাসম্ভব খোঁজ-খবর নেওয়া ও দো'আ করা
যেমন ইবরাহীম (আঃ) বৃদ্ধ অবস্থায় তাঁর ছেলে ইসমাঈল (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করতে যান
এক সাথে কা'বা ঘর নির্মাণ করেন এবং তাদের জন্য ও পরবর্তী বংশধরের জন্য দো'আ করেন
[30]
উপরোক্ত আলোচনায় প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদার সংক্ষিপ্ত বিবরণ পেশ করা হয়েছে
প্রত্যেককে প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদা এবং তাদের প্রতি করণীয় সম্পর্কে সচেতন হ'তে হবে
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে প্রবীণদের যথাযথভাবে সম্মান করার এবং তাদের অধিকার প্রদানের মাধ্যমে জান্নাতবাসী হওয়ার তাওফীক দান করুন-আমীন!
নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্রতি সদাসতর্কদের জন্যই রয়েছে চূড়ান্ত সফলতা - বাগানের পর বাগান, আঙ্গুরের সমাহার, আকর্ষণীয় মানানসই জুটি, উপচে পড়া পানপাত্র
সেখানে তারা কোনো ধরনের ফালতু কথা বা মিথ্যা কথা শুনবে না - তোমার রবের পক্ষ থেকে পুরস্কার, এক যথার্থ উপহার