content
stringlengths
0
129k
এই নিয়ম সেই বৃটিশ আমল থেকে চলে আসছে
তখন অবশ্য এতো কড়াকড়ি ছিল বড়লাটের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য
এখনও নিরাপত্তার জন্যই সেই কড়াকড়ি চালু আছে কি না সেটা অবশ্য বলা যায় না
তাহলে ঘড়িবাবু কখন রাজ্যপালের শয়নকক্ষের ঘড়িতে দম দেন? যখন রাজ্যপাল নিজের স্নান পর্ব সারতে যান, তখনই সুযোগ বুঝে ঘড়িবাবু তাঁর খাস বেয়ারার হুকুম নিয়ে তাঁর শয়নকক্ষের ঘড়িতে চাবি দিয়ে আসেন
এই কাজটা কিন্তু ঘড়িবাবুকে প্রায় রেসের ঘোড়ার মতন ছোটাছুটি করে সারতে হয়
কারণ হিসেব মাঝে মাঝে একটু এদিক-ওদিক হয়ে গেলেই তাঁকে প্রায়ই অপ্রস্তুততে পড়তে হয় ও তখন তাঁর কপালে রাজ্যপালের ধমক জোটাও বিচিত্র নয়
এই প্রসঙ্গে ১৯৬০ সালের একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করতে হয়
তখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন 'শ্রীমতী পদ্মজা নাইডু'
সেই সময় কলকাতা রাজভবনের ঘড়িবাবু ছিলেন 'মিঃ খামারু'
তিনি ছিলেন রাজভবনের পুরানো কর্মচারী
অতি পাকা পোক্ত লোক
কর্মঠ ও কায়দাকেতায় তাঁকে এক কথায় পাক্কা 'নেটিভ সাহেব' বলা যেত
তিনি অনর্গল ইংরেজী বলতে পারতেন, তবে তাঁর বিদ্যা যে নন ম্যাট্রিক - প্যারীচরণ সরকারের ফার্স্ট বুকের ঘোড়ার পাতা পর্যন্ত ছিল - সেটা তিনি সৎভাবে স্বীকার করতেন
তিনি বৃদ্ধ ছিলেন, কিন্তু কোন ইংরেজ লাট সাহেব কবে কেমন করে হেসেছিলেন, কেমন করে কোঁদেছিলেন, কী কী কথা বলেছিলেন -সে সবই ছিল তাঁর নখাগ্রে
কোন লাট কী ফল ভালবাসতেন বা কোন ব্রিটিশ লাট প্রজাপতি নিয়ে কালচার করতেন - সেগুলিও ছিল তাঁর মুখস্থ
কথায় অকথায় তিনি গর্ব করে বলতেন, ''আমি হচ্ছি মিঃ জি. খামারু
এই পশ্চিমবাংলার বাঙালীর মধ্যে বিচিত্র আমার পদবী
আর সেন্টারে আছেন মিঃ নেহেরু
এঁরাই তো দেশকে চালাচ্ছেন
'' এই কথা বলার ভেতর তাঁর বেশ দাম্ভিকতা থাকতো
তবে তিনি যে তাঁর রাজভবনের জীবনে অত্যন্ত কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান মানষ ছিলেন তা রাজভবনের পুরানো কর্মচারীরা আজও স্বীকার করেন
এবারে আসল ঘটনায় আসা যাক
ঘটনার দিন সকালে, শ্রীমতী পদ্মজা নাইডু স্নান করতে তাঁর স্যুইটের লাগোয়া স্নানঘরে ঢুকেছিলেন
সেই সময়ে, ঘড়িবাবু মিঃ খামরু, যথারীতি টুক করে তাঁর শোয়ার ঘরে ঢুকে সেখানকার ঘড়িতে দম দিচ্ছিলেন
হঠাৎ শ্রীমতী পদ্মজা কেন জানি কী কারণে ভিজে চুলে ঘরে ফিরে এসেছিলেন
উভয়েই অপ্রস্তুত হওয়ার আগেই ঘড়িবাবু তড়িঘড়ি হুট করে স্যুইটের পাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন
কিন্তু পদ্মজা ততক্ষণে সেই ঘরে থাকা বিরাট আয়নাতে কার যেন ছায়া দেখতে পেয়েছিলেন
এরপরেই শুরু হয়েছিল হৈ হৈ ব্যাপার
রাজভবনে তোলপাড় পড়েছিল
রাজ্যপালের তৎকালীন খাস বেয়ারা 'হাকিম মহম্মদ' কিছুতেই মানতে চাইছিলেন না যে তাঁর চোখের সামনে দিয়ে কেউ রাজ্যপালের ঘরে ঢুকেছিলেন
কিন্তু তিনিও মনে প্রাণে জানতেন যে তিনি মিথ্যে কথা বলছেন
কারণ, তখন তিনি অন্য করিডরে দাঁড়িয়ে অন্য বেয়ারার সঙ্গে দেশওয়ালী কথাবার্তা বলছিলেন
ওদিকে শ্রীমতী পদ্মজাও তাঁর কথা কিছুতেই মেনে নিতে রাজি ছিলেন না
কারণ, তিনি স্বচক্ষে দেখেছিলেন যে আয়নাতে ছায়া পড়েছে কোন এক অজানা লোকের
তাই শুরু হয়েছিল খোঁজ
কে রাজ্যপালের শয়নকক্ষে ঢুকেছিল তার খোঁজ
পদ্মজার ছিল ভীষণ গোঁসা
সেদিন তাঁর ভয়ে গোটা রাজভবন নিঃশ্চুপ ছিল
শেষ পর্যন্ত দিনের শেষে মিঃ খামরু ভয়ে ভয়ে রাজ্যপালের তৎকালীন সেক্রেটারী 'পিনাক রঞ্জন সিনহা'র কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছিলেন
তাঁকে তিনি প্রায় কাঁদো কাঁদো মুখে বলেছিলেন - '' , ''. রাজ্যপালের সেক্রেটারী শ্রীমতী পদ্মজাকে সব ব্যাপার খুলে বলেছিলেন
শ্রীমতী পদ্মজা রাজভবনের সেই বৃদ্ধ কর্মচারীটিকে খুব ভালবাসতেন
তিনি সব কথা শুনে একটু হেসেছিলেন
সেখানেই সেই পর্ব শেষ হয়েছিল
এরপরেও একই কাণ্ড অন্য কোন রাজ্যপালের সাথে ঘটেছিল কিনা সেটা জানা যায় না
তবে রাজভবনের চাবি ও ঘড়িবাবুকে কেউ আবার হেলাফেলা ভাববেন না
সেই কবে ব্রিটিশ আমল থেকে তাঁদের জন্য রাজভবনে পদ রয়েছে
সেই ট্রাডিশন এখনও চলেছে
তাঁদের জন্যই রাজভবনের একশোটি দুষ্প্রাপ্য ঘড়ির কাঁটা আজও ঘুরে চলছে
বেশির ভাগ সময় গৃহিণীরা স্বামী, সন্তান কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের পছন্দের খাবারই রান্না করেন
নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দেন না
কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার খেতে হবে
ঘরের কাজ সামলানো খুবই কঠিন বিষয়
যেটি একজন গৃহিণী প্রতিনিয়ত করে থাকেন
আর ঘর সামলাতে গিয়ে তারা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়েন
অনেকে আবার স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়ার সময়ই পান না
ফলে নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়ে পড়েন
তবে খুব সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই এসব সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব
খাবার
প্রতিদিন কী খাবেন তা দিনের শুরুতেই ঠিক করে ফেলুন
খাবারের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স রাখতে চেষ্টা করুন
যদি সকালে ভারী খাবার খান, তবে দুপুরে একটু কম, রাতে একেবারেই কম খাবেন
সারা দিন কত ক্যালরি খাবেন তা ঠিক করুন
সে অনুযায়ী সকাল, দুপুর এবং রাতের ডায়েট চার্ট ঠিক করুন
পরিমাণমতো ক্যালরি গ্রহণ
শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালরি গ্রহণ করুন
প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরের ওজন বাড়ায়
তাই ক্যালরি গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করুন
পানি
প্রচুর পানি পান করুন
সকালে নাশতা করার আগে ২ গ্লাস পানি পান করবেন
দুপুর এবং রাতের খাবারের পরও পর্যাপ্ত পানি পান করুন
বেশিক্ষণ তৃষ্ণা নিয়ে থাকবেন না
এতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখা যাবে
ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে থেকে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিন
একঘেয়েমি কাটাতে অতিরিক্ত খাবার খাবেন না
অনেকেই একঘেয়েমি কাটাতে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে থাকেন
এটি গৃহিণীদের ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ
বেশি ক্ষিধা পেলে সবজি, ফলমূল কিংবা চর্বিহীন প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে পারেন
শরীরচর্চা
সারা দিন বাসায় থাকার ফলে শরীরে মেদ জমে যায়
ফলে অনেকেই স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেন
তাই ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ কিংবা ইয়োগা করুন
এ ছাড়া সময় পেলেই হাঁটার চেষ্টা করুন
এতে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি পুড়ে যাবে
পছন্দের খাবার
বেশির ভাগ সময় গৃহিণীরা স্বামী, সন্তান কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের পছন্দের খাবারই রান্না করেন
নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দেন না
কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার খেতে হবে
পর্যাপ্ত ঘুম
যেকোনো মানুষের সুস্থ থাকার অন্যতম নিয়ামক হলো ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেও শরীরের ওজন বেড়ে যায়, দেখা দেয় অন্যান্য নানা সমস্যা
তাই প্রতিদিনের ঘুম যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে হয়, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে
আরও পড়ুন:
শিশুদের বোঝার চেষ্টা করুন
মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে কী করবেন
অনলাইন মিটিংয়ে যে বিষয়গুলো মেনে চলবেন
ওজন কমার ছয়টি কারণ
কাপড় ধোয়ার নিয়মকানুন
টিপস
শেয়ার করুন