content
stringlengths
0
129k
মন্তব্য
এ বিভাগের আরো খবর
ফুলকপি কেন খাবেন
সারা দিন অফিস করেও ফিট থাকার উপায়
করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন কতটা বিপজ্জনক
ঘুমের আগে যা খাবেন না
সেন্ট মার্টিন যেতে প্রস্তুত বে ওয়ান জাহাজ
'আমার আইন, আমার অধিকার'-এ এবার 'নারী নির্যাতন বন্ধ করি কমলা রঙের বিশ্ব গড়ি'
কানের ব্যথায় যা করবেন
বেশি খাওয়ার অপরাধে নিষিদ্ধ
কষ্ট পেলেও বিভা কেন হাসেন?
সঞ্জয় দে, ডেস্ক
২৮ নভেম্বর, ২০২১ ১৬:৩২
আপডেট: ২৮ নভেম্বর, ২০২১ ১৮:০৭
লিংকডইনে শেয়ার করুন
ইমেইল করুন
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন
মানুষ সব সময় আনন্দের কারণে হাসে না, শোক বা কষ্টের সময়েও হাসির ছাপ পড়তে পারে মুখে
ছবি: নিউজবাংলা
যতই লোকনিন্দা হোক, কঠিন চাপের মুহূর্তে হেসে ফেলা সব সময় কিন্তু খারাপ নয়
বরং কখনও কখনও এটি আমাদের ভালো থাকার জন্যই প্রয়োজন
কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ আলবার্টার কাইনসিওলজি, স্পোর্ট অ্যান্ড রিক্রিয়েশন অনুষদের অধ্যাপক বিলি স্ট্রিয়ান বলছেন, 'আমার মনে হয় এমন অনেক কঠিন পরিস্থিতি রয়েছে যেখানে হালকা হওয়ার জন্য বেশি বেশি হাসা প্রয়োজন
এসব পরিস্থিতিতে হাসি এক ধরনের ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে
'
কথায় কথায় হাসিতে ভেঙে পড়া নুসরাত জাবীন বিভাকে নিয়ে অফিসের সহকর্মীদের রসিকতার কোনো শেষ নেই
কাজের মাঝে বিভার এই হাসির দমক মাতিয়ে রাখে সবাইকে
বিভাও চান আজীবন এভাবে হেসে যেতে, তবে এত হাসি নিয়ে খানিকটা দুঃখবোধও আছে এই তরুণীর
একবার পরিচিত এক নারী তার কষ্টের কথা বলছিলেন, সেই কথা কানে পৌঁছানোর আগেই বিভার মুখে ছড়িয়ে পড়ে স্বভাবসুলভ হাসি
কয়েক বছর আগের সেই ঘটনা মনে করে এখনও বিব্রত হন বিভা
বিজ্ঞান বলছে, মানুষ সব সময় আনন্দের কারণেই হাসে না
তীব্র শোক বা কষ্টের সময়েও অট্টহাস্যে ফেটে পড়েন অনেকে
উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, বিভ্রান্তি, এমনকি বিব্রতবোধের অনুভূতি থেকেও হাসির ছাপ পড়তে পারে মুখে
মৃত মানুষের দাফনের সময় শোকাবহ পরিবেশেও কেউ হেসে ফেলেছেন, এমন নজির অসংখ্য
তবে এই হাসি মোটেই আনন্দের নয়, বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুঃখের হাসিও মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং এ ধরনের ঘটনা হরহামেশা ঘটে আশপাশে
হাসিকে সাধারণভাবে একটি মানসিক প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ হিসেবে ধরে নেয়া হয়
মানুষ জন্মের তিন মাস বয়সেই হাসতে শেখে
এমনকি কোনো কোনো গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, গর্ভের শিশুর মুখমণ্ডলেও হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়
নবজাতকের মুখে কথা ফুটতে শুরুর আগেই হাসির রেখা দেখা যায় কেন- তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা
তারা বলছেন, হাসি সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কথার চেয়েও বড় ভূমিকা রাখে
এটি এক জনের সঙ্গে আরেক জনের সম্পর্কের প্রাথমিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে
গোমড়ামুখো মানুষের চেয়ে তাই হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা সমাজে অনেক বেশি
তবে হাসি অনেক সময়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে
শোকাবহ বা কষ্টের মুহূর্তেও কেন অনেকে হাসেন তা নিয়ে ১৯৬০ এর দশকে একটি গবেষণা করেছিলেন মনোবিজ্ঞানী স্ট্যানলি মিলগ্রাম
মিলগ্রাম অর্থের বিনিময়ে কিছু স্বেচ্ছাসেবক বেছে নিয়ে তাদেরকে 'শিক্ষক' মনোনীত করেছিলেন
এই শিক্ষকদের দায়িত্ব ছিল কিছু 'শিক্ষার্থীকে' প্রশ্ন করা
তবে শিক্ষার্থীরা আসলে ছিলেন একেকজন অভিনেতা, যা শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকদের অজানা ছিল
গবেষণার সময় বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীরা প্রশ্নের ভুল উত্তর দিলে তাদের ১৫ থেকে ৪৫০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দেয়া হবে
তবে বাস্তবে বিদ্যুতের তারে কোনো বিদ্যুৎপ্রবাহ ছিল না
স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকেরা প্রশ্ন শুরুর পর একের পর এক ভুল উত্তর দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা (অভিনেতা)
এসব ভুলের জন্য তাদের দেহে শিক্ষকেরা বিদ্যুতের তার স্পর্শ করলে তারস্বরে অভিনেতারা চিৎকার শুরু করেন
এটি যে অভিনয় সেটি মোটেই বুঝতে পারেননি স্বেচ্ছাসেবকেরা
এই গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫ ভাগ স্বেচ্ছাসেবক কিছুক্ষণ পরেই শিক্ষার্থীদের 'বৈদ্যুতিক শক' দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে ৬৫ ভাগ শকের মাত্রা বাড়াতে আগ্রহী ছিলেন
শিক্ষার্থীরা যখন আর্ত চিৎকারের অভিনয় করছিলেন, তখন অনেক স্বেচ্ছাসেবক ভয়ঙ্কর মানসিক চাপে ভুগলেও তাদের মুখ জুড়ে ছিল বিব্রতকর হাসি
মজার বিষয় হল, কথিত শিক্ষার্থীদেরকে 'শক' দেয়ার মাত্রা যত বাড়ছিল শিক্ষকদের মানসিক চাপজনিত হাসিও তত বাড়ছিল
এই গবেষণার ভিত্তিতে স্ট্যানলি মিলগ্রাম সিদ্ধান্তে পৌঁছান, অপ্রতিরোধ্য আবেগ মানুষকে একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়ার দিকে পরিচালিত করে, আর সেই প্রতিক্রিয়া হলো- 'হাসি'
হাসি যতটা সহজ, ততটাই জটিল
হাসতে দেখলেই মানুষ আনন্দে আছেন, এমন ভাবনা মাথা থেকে একদম ঝেড়ে ফেলাই ভালো
একই ভাবে কান্নার ক্ষেত্রেও দুঃখের ধারণাও সব সময় ঠিক নয়
এ কারণেই প্রিয় মানুষকে কাছে পেয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলার উদাহরণ অসংখ্য, আবার প্রিয়জনকে হারিয়ে হাহাকারের ভুলে অট্টহাসির ঘটনাও বিরল নয়
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক কষ্টের মাঝে হাসির কারণ নিয়ে গবেষণা করেছেন
সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নালে ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয় তাদের নিবন্ধ
এই গবেষক দলটির দাবি, মানবীয় আবেগের সংঘাতপূর্ণ অবস্থা 'নাটকীয় বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া'র জন্ম দেয় অথবা শরীরে যে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়ামূলক সংকেতকে (হাসি-কান্না) উসকে দিতে পারে
যেমন লটারিতে লাখ টাকা জয়ের আনন্দে যেখানে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কথা সেখানে আপনি কখনও কখনও চোখ পানিতে ভাসিয়ে ফেলতে পারেন, আবার প্রেমিকার চলে যাওয়ার কষ্টের মাঝেও আপনি হো হো করে হেসে উঠতে পারেন
ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষক দল বলছেন, দৃশ্যত এই 'অস্বাভাবিক' প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ হলো, অতিশক্তিশালী কিছু মানসিক উদ্দীপনা, যার প্রকাশ ঘটে অনিয়ন্ত্রিত ভঙ্গীতে
স্নায়ুবিজ্ঞানী ভি.এস. রামচন্দ্রন তার 'আ ব্রিফ ট্যুর অফ হিউম্যান কনসাসনেস' এ দাবি করেছেন, সাধারণ হাসি আর মানসিক চাপ-যন্ত্রণার মধ্যে হাসির মধ্যে শারীরবৃত্তীয় কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে
তার মতে, কষ্টের মধ্যে আমরা যে হাসি দিয়ে থাকি সেটি বেরিয়ে আসে গলার ভেতর থেকে, আর সাধারণ হাসির দমক আসে পেট থেকে
যে কারণে আনন্দের হাসির তোড়ে পেটে ব্যথা অনুভব করেন অনেকে
রামচন্দ্রন বলছেন, কষ্টের মধ্যে হাসিরও বেশ কিছু উপযোগিতা আছে
চাপের মধ্যে থেকেও এই এ ধরনের মৃদু বা অট্টহাসিতে আমরা অপরকে আশ্বস্ত হতে সংকেত দেই
আমরা অন্যকে জানাতে চাই- 'ঘাবড়াবেন না, আমি ভালো আছি
নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করছি
'
হাসি কি ভালো ওষুধ?
কঠিন পরিস্থিতিতে হাসিকে 'অগ্রহণযোগ্য' হিসেবে মনে করার সামাজিক প্রবণতা রয়েছে
এমন পরিস্থিতিতে হাসি আটকানোর চেষ্টাও যথেষ্ট বিব্রতকর
এ অবস্থা দূর করতে মেডিটেশনের মাধ্যমে মন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যেতে পারে
বিশেষ পরিস্থিতিতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মনকে চাপমুক্ত রাখা সম্ভব
এর ফলে অনিয়ন্ত্রিত হাসির বিড়ম্বনাও এড়ানো যায়
তবে যতই লোকনিন্দা হোক, কঠিন চাপের মুহূর্তে হেসে ফেলা সব সময় কিন্তু খারাপ নয়
বরং কখনও কখনও এটি আমাদের ভালো থাকার জন্যই প্রয়োজন
কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ আলবার্টার কাইনসিওলজি, স্পোর্ট অ্যান্ড রিক্রিয়েশন অনুষদের অধ্যাপক বিলি স্ট্রিয়ান বলছেন, 'আমার মনে হয় এমন অনেক কঠিন পরিস্থিতি রয়েছে যেখানে হালকা হওয়ার জন্য বেশি বেশি হাসা প্রয়োজন
এসব পরিস্থিতিতে হাসি এক ধরনের ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে
'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হাসি প্রাকৃতিক চাপমুক্তকরণ উপায় হিসেবে কাজ করে
হাসির মনোজাগতিক সুবিধার মধ্যে রয়েছে এটি উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং চাপ কমায়
'
আমেরিকান জার্নাল অফ লাইফস্টাইল মেডিসিন জার্নালে ২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধে দাবি করা হয়, হাসি বেশ কিছু শারীরবৃত্তীয় সুবিধাও দিয়ে থাকে
চিকিত্সকরা হাসিকে কীভাবে একটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন, সে বিষয়ে পরামর্শও দেয়া হয়েছে ওই নিবন্ধে
গবেষণায় বলা হয়, হাসির সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম, পেশীর প্রশান্তি এবং বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি
হাসি আমাদের শরীরে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ায় এবং এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে
এই প্রক্রিয়াটি হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের মতো অঙ্গগুলোকে উদ্দীপ্ত করে
মানসিক চাপের সঙ্গে দেহের দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
হাসি উদ্বেগ কমিয়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করে
গবেষণায় দেখা গেছে, অট্টহাসি রক্তের মধ্যে অ্যান্টিবডি এবং টি-কোষের সংখ্যা বাড়াতেও সহায়তা করে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির সময়ে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে বিষণ্নতা, এ অবস্থা কাটাতে বে-হিসাবী হাসির উপযোগিতাও বেড়েছে অনেক
বিলি স্ট্রিয়ান বলছেন, 'বিষণ্ন সময়ে আমরা যত বেশি জীবনের হালকা দিক খুঁজে পেতে পারি এবং হাসির সুযোগ তৈরি করতে পারি, তত আমরা ভালো থাকব
আপনি যদি হাসির সমস্ত সুবিধাগুলো একটি ট্যাবলেটে পুরে ফেলতে পারতেন, তবে নিঃসন্দেহে সেটি বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধের তালিকায় সবার ওপরে থাকত
'
আরও পড়ুন: