content
stringlengths
0
129k
নিজেকে একেবারে আড়াল করে শুধু নীরবে কাজটাই করে যান
তাঁরা জীবিত অবস্থায় খুব কমই আলোর সামনে আসেন; কিন্তু তাঁদের কাজগুলো থেকে যায় এবং একটি সমাজকে একটু উন্নততর বাসযোগ্য ভূমিতে পরিণত করে
সেসব একেবারে কার্যকারণহীন নয়
হয়তো গভীরভাবে খুঁজলে তাঁদের জীবনের বিভিন্ন বাঁকবদলও ধরা থাকে তাঁদের কাজের মাঝে
আবুল হাসনাত, যিনি কবিতা লিখতেন মাহমুদ আল জামান নামে, তিনি তাঁর আত্মজীবনী হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে গ্রন্থের মাধ্যমে নিজের জীবনের কথার আড়ালে আসলে একটি জাতির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের কয়েক দশকের চিত্র লিপিবদ্ধ করার প্রয়াস নিয়েছেন
ঢাকা ছিল একেবারেই একটি ছোট শহর পঞ্চাশের দশকে
আবুল হাসনাত তখন নবাবপুর স্কুলের ছাত্র, সে-সময় থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, এবং ষাটের ও পঞ্চাশের দশকের রাজনৈতিক চিত্র তাঁর লেখায় স্থান পেয়েছে
তিনি একজন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মী, একজন সাংবাদিক এবং সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে সমাজকে দেখেছেন এবং তার ছবি এঁকেছেন
গ্রন্থটি শুরু হয় তাঁর ছেলেবেলার সামান্য কিছু কথা দিয়ে, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তিনি চলে যান ১৯৭১ সালের ভয়ংকর দিনগুলোতে
তিনি তখন একদিকে দৈনিক সংবাদের সাংবাদিক এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি
একাত্তর সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারির টালমাটাল দিনগুলোতে কী ভয়ংকর উদ্বেগ এবং আশংকা কাজ করছিল কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র ইউনিয়নের সিনিয়র কর্মীদের মাঝে তা তাঁর লেখায় অনুপুঙ্খ বর্ণিত
কিন্তু যে-বিষয়টি সাধারণত আমাদের দেশের লেখকদের স্মৃতিকথায় দুর্লভ সেটি হলো, নিজের সম্পর্কে, নিজের জীবন এবং অর্জন সম্পর্কে প্রায় কিছুই না বলা, বা সামান্য বললেও তা একেবারে ক্ষীণস্বরে বলার চেষ্টা করা যা একজন উন্নত রুচি এবং শিল্পিত মানুষের পক্ষেই সম্ভব
একাত্তরের কথা বলতে গিয়ে সেবারের একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের তিনি একটি চিত্র দিয়েছেন
অন্যবারের চেয়ে '৭১ সালের একুশে পালন ছিল একটু ভিন্ন আঙ্গিকের
এটার রাজনৈতিক কারণ যেমন ছিল, তেমনি সাধারণ সংস্কৃতিকর্মীদের চিন্তায় একটি নতুন উদ্দীপনা এবং মাত্রা যোগ হয়েছিল, সেটা বোঝা যাচ্ছিল
কয়েক সপ্তাহ আগে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, মানুষের মাঝে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশা সঞ্চারিত হয়েছে
তারা কিছুটা নিশ্চিত যে, বাঙালিরা এবার তাদের নিজেদের মতো ভাগ্য গড়ার সুযোগ পাবে; কিন্তু পাকিস্তানের শাসক শ্রেণির মাঝে যে ভিন্ন ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা ছিল, তা প্রগতিশীল রাজনীতিকদের অনেকের মনেই উঁকি দিয়েছিল
আবুল হাসনাত তাঁর বর্ণনায় লিখেছেন, 'স্বাধীনতা ব্যতিরেকে কোনো পথ নেই - এরকম ধারণা তরুণ এবং যুবসমাজের মধ্যে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রবল হয়ে উঠেছে
পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রলীগের একাংশ স্বাধীনতার দাবিতে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে
পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের একটি বৃহৎ গ্রুপ কখনো প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বলে চলেছে, স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া কোনো শোষণ ও বঞ্চনার অবসান হবে না
এ সময় কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে সরাসরি স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন নিয়েও দ্বিধা ছিল এবং তাঁরা কোনো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারছিলেন না
বিচ্ছিন্নতার অধিকারসহ সকল জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি উচ্চারিত হচ্ছিল কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত সকল বাম মহল থেকে
' অর্থাৎ সে-সময়ের রাজনীতিতে দলীয় উচ্চ নেতৃবৃন্দ ও তাঁদের কর্মকাণ্ড কিছুটা হলেও তরুণ ও যুবসমাজ বা ছাত্রদের চিন্তাভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছিল, সেটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান সারাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাঝে একটা পরিবর্তন এনে দেয়
গ্রন্থটির শুরুতেই '৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২২ তারিখে শহিদ মিনারে ছাত্র ইউনিয়ন-আয়োজিত এক সভায় স্বাধীনতার দাবি তোলা হয়, সে-বিষয়ে বিশদ বর্ণনা আছে
এই বর্ণনার মধ্য দিয়ে তখনকার ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীদের মাঝে যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়
নীরব স্বল্পভাষী লেখক জানান যে, তখনকার ছাত্র ইউনিয়ন সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি স্বাধীনতার জোরালো দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন
আমাদের ইতিহাসের অনেক অজানা এবং স্বল্পজানা ঘটনা তিনি জানিয়েছেন
'মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শেখর দত্ত, নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শামসুদ্দোহা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলে আজকের খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. কামাল উদ্দিনের ১০৮ নম্বর কক্ষে রাতে অবস্থান করতেন
অর্থের দিক থেকে আমরা কেউ সচ্ছল ছিলাম না
টাকা ভাগাভাগি করে দুপুরে একসঙ্গে খেতাম
' এই চিত্র অধিকাংশ ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীর সেদিনের জীবনের ছবি
সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলসহ বিভিন্ন জায়গায় গোপন বাসের অনেক কথা জানা যায়, কিন্তু এই তরুণদের জীবন যে কী ভয়ানক কষ্টের মধ্যে কেটেছে সেসব দিনে তারও কিছুটা ছবি ধরা আছে
মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র শহীদ ইকবাল, ডা. তাজুল ইসলাম, ডা. রশীদ রেজা খানের হোস্টেল কক্ষও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত হতো
ষাটের দশকের মধ্যভাগে রেজা আলী, সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিক, সারওয়ার আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে তাঁরাও মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলে আত্মগোপন করে ছিলেন অনেকদিন
অর্থাৎ আমাদের ষাটের ছাত্র আন্দোলন, যা পরে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়, তার অনেক নেতাকর্মী মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে
মেধাবী তরুণদের অনেকের মধ্যেই রাজনৈতিক চেতনা অনেক বেশি ছিল আজকের দিনের চাইতে
ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরে মেধাবী ছাত্রদের অধিকাংশই ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী ছিলেন
যে-কারণে ২৫ মার্চের পর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যান
লেখক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের ১ মার্চের ঘোষণার পর অর্থাৎ সংসদ অধিবেশন স্থগিত করার পর সারাদেশে যে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয় তার বিশদ বর্ণনা দেন; কিন্তু সেই বিবরণের আগে লেখক ২৫শে মার্চ রাতের এবং পরের দুয়েক দিনের এক বেদনাঘন বিবরণ দেন
সংবাদ অফিসে কী ভয়ংকর উৎকণ্ঠা এবং উদ্বেগে তাঁদের প্রতিটি মিনিট অতিবাহিত হয়েছে, তা এই লেখা থেকে অনুধাবন করা যায়
'২৫ মার্চ আলী আকসাদ রাত দশটার দিকে চলে গেলেন
পত্রিকার শিরোনাম কী হবে, কোন খবর কোথায় যাবে এ স্থির করে দিয়েছিলেন তিনি
অপারেশন সার্চ লাইট তখন শুরু হয়ে গেছে
তাঁকে যেতে বারণ করেছিলাম আমরা সবাই
তিনি আমাদের কথা শোনেননি
তিনি যে কীভাবে সেই রাতে পুরনো ঝক্কড়মার্কা দুই দরোজার ফিয়াট গাড়িটি নিয়ে মোহাম্মদপুরে তাঁর আবাসে পৌঁছেছিলেন এ-গলি সে-গলি করে, বহুদিন বাদে তাঁর কাছে সে গল্প শুনেছিলাম
... টেলিপ্রিন্টার ও রেডিও থেকে জানা গেল, ইয়াহিয়া খান ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে
সংবাদ আপিসে সেকালে কোন টেলিভিশন ছিল না
কাজ শেষ হল রাত একটায়
আমাদের মধ্যে অনেকেই ছাদে গেলেন গতিক বুঝে নেয়ার জন্য
প্রুফ বিভাগের আমাদের এক সহকর্মী বললেন, আমাদের আপিস থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত বংশাল পুলিশ ফাঁড়িতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আক্রমণ করেছে
সামান্য প্রতিরোধ হলেও মুহূর্তেই তা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে
রাত দশটার দিকে টেলিফোনটি ডেড হয়ে গেল
মেশিনগান থেকে গগনবিদারী শব্দ ভেসে আসছিল এবং শূন্যে ছোড়া গোলার বিরতিহীন আগুনও আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম
ট্যাঙ্ক ও ভারী যানবাহন চলাচলের শব্দও পাচ্ছিলাম
কেউ চেয়ারে হেলান দিয়ে, কেউ শহীদুল্লা কায়সারের কামরায় সংবাদপত্রের ফাইল মাথায় দিয়ে ঘুমুবার চেষ্টা করছিলেন
কিন্তু ঘুম কারো চোখে ছিল না
আমি শেষ রাতে সংবাদের ফাইল মাথায় দিয়ে শুয়ে শুয়ে ভেবেছি, কীভাবে নবাবপুর অতিক্রম করে মহাজনপুর লেন দিয়ে বাড়ি পৌঁছবো
সারারাত প্রায় জেগেই ছিলাম
মা-বাবা ভাই-বোনরা কেমন আছেন, কী করছেন সারাক্ষণ এ-চিন্তায় দিশাহারা ছিলাম
সকালের আলো যখন সামান্য ফুটেছে এবং কাগজ ছাপা প্রায় শেষ, উপস্থিত আমরা তখন ভাবছি সংবাদ থেকে বেরিয়ে যাব কেমন করে
রাস্তাও সুনসান
মাঝরাতে সকলে নিশ্চিত হয়েছে ও জেনেছে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে
সেই ভয়াবহ রাতও এক সময় ভোর হয়, বাড়িতে মা-ভাইবোনদের জন্য উৎকণ্ঠিত মন নিয়ে খুব ভোরে আলো ফোটার আগে বাড়ির দিকে রওনা দেন লেখক
সংবাদের একজন দরদিহৃদয় পিয়ন তাঁকে বিভিন্ন গলি পেরিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে দেন
এরপর দুদিন বাড়িতে খুবই উদ্বেগের মধ্যে কাটান, কী হবে দেশের, বন্ধুদের, কমিউনিস্ট পার্টি এবং ছাত্র ইউনিয়নের সতীর্থ বন্ধুদের
২৭ তারিখে কারফিউ কিছুটা বিরতি দিলে এক বন্ধুর গাড়িতে দুজনে শহরের ভয়ংকর অবস্থা কিছুটা নিজ চোখে অবলোকন করেন
সে-ছবি ধরা আছে এ-লেখায়
পার্টির নির্দেশে এপ্রিলের গোড়ায় ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যান
সেখান থেকেই যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য মধ্য এপ্রিলে ভারতের আগরতলার দিকে রওনা দেন
গ্রামে যাওয়ার আগে ঘর ছাড়ার দিনের দৃশ্যটি লেখক বর্ণনা করেছেন অশ্রুসিক্ত কলমে
তাঁর মা দোতলার বারান্দা থেকে এক দৃষ্টিতে তাঁর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলেন
ভীষণ হৃদয়বিদারক সে-চিত্র
সীমান্ত পেরিয়ে যুদ্ধে যাত্রার বিষয়টি লেখক বিবৃত করেছেন, 'এ-গ্রামে সে-গ্রামে আশ্রয় নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে একাত্তরের ১৪ এপ্রিল নরসিংদীর গ্রামের একটি বাড়িতে আমরা সমবেত হয়েছিলাম
নরসিংদীর এই এলাকায় কৃষক সমিতির চেষ্টায় এবং কৃষক নেতা খোন্দকার ফজলুল হকের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টি সাংগঠনিক দিক থেকে দুর্গ গড়ে তুলেছিল
খোন্দকার ভাইয়ের সঙ্গে এই অঞ্চলে কৃষক সমিতির বিভিন্ন ধারার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জিতেন ঘোষ
... নরসিংদীর যে বাড়িটিতে সমবেত হয়েছিলাম সে বাড়িটি ছিল খোন্দকার ফজলুল হকের
বিরাট বাড়ি, দুপুরে উঠানে বসে খেলাম
শুধু ভাত ও ডাল
বাড়ির অন্দরমহলে বড় বড় ডেকচিতে রান্না হচ্ছিল আমাদের জন্য
কমিউনিস্ট পার্টির বহু কর্মী সেদিন সকাল থেকেই জমায়েত হচ্ছিল
সকলের জন্য খাবার আয়োজন করছিলেন খোন্দকার ভাই
সেদিন খাবার খেয়ে খুবই তৃপ্তি পেয়েছিলাম
যদিও দুবেলাতেই শুধু ডাল ও গরম ভাত খেয়েছিলাম
ডালে টমেটো ছিল
এই ডালের স্বাদ আজও ভুলিনি
অবরুদ্ধ ঢাকা এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় গণহত্যার পর যারা নানা জায়গায় লুকিয়ে ছিলেন তারা এই বাড়িতে জমায়েত হলেন পার্টির নির্দেশে
সংশ্লিষ্ট বহু কর্মীকে নানা সূত্র ধরে খবর পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা যেন এই গ্রামে চলে আসেন
' এই বর্ণনায় মানুষের উদারতা, সাধারণ গ্রামবাসীর সহমর্মিতা এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা কিছুটা অজানা ইতিহাসের দিকে আলো ছড়ায়
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি রাজনৈতিক দলের বয়ানই বেশি দেখা যায়
ভারত ও বাংলাদেশের সরকারি এক ধরনের ন্যারেটিভ আছে, যুদ্ধ বা স্বাধীনতা বলতে শুধু তা-ই জানানো হয়েছে জনগণকে
কিন্তু সেই বয়ানের বাইরে এই যুদ্ধ এবং স্বাধীনতার যে ভিন্ন ইতিহাস এবং মাত্রা রয়েছে - এই বই সে-চিত্র অনেক গভীরভাবে এঁকেছে
'১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের আগের দিন অতি প্রত্যুষে আমরা ষোলজন শ্রমিক নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে রওয়ানা দিলাম আগরতলা সীমান্তের দিকে
এই দলে আমাদের অগ্রজতুল্য কমিউনিস্ট নেতা ডা. খলিল উল্লাহ, ফয়জুল আকবর, ডা. সারওয়ার আলী, আলমগীর কবির, শামসুদ্দোহা, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুল কাইয়ুম মুকুল, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ ছিলেন
শেখর দত্তকে পাঠানো হল সিলেটে
সিলেট পার্টি সে অঞ্চলের সহযাত্রী এবং ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে নির্দেশনা পায় শেখর দত্তের মারফত
তাদের বলা হয়েছিল, তারা অচিরে সীমান্ত অতিক্রম করে যেন আগরতলা চলে যায়
... আগরতলার পথে আমাদের এক রাত্রি যাত্রা বিরতি হবে শহীদুল্লাহ চৌধুরীর গ্রামের বাড়িতে
... শহীদুল্লাহ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি নবীনগর থানার কনিকাকায়