content
stringlengths 0
129k
|
|---|
তিনি তখন বাওয়ানীর শ্রমিক নেতা ছিলেন
|
' নরসিংদী থেকে আগরতলা যাওয়ার ভীষণ বেদনাঘন যাত্রাটির বর্ণনা দিয়েছেন লেখক খুব নির্মোহভাবে; কিন্তু আমি পড়তে গিয়ে এর সঙ্গে আশ্চর্য সাদৃশ্য পেলাম অধ্যাপক রেহমান সোবহানের আত্মজীবনী : বইটির সঙ্গে
|
অধ্যাপক সোবহান, অধ্যাপক আনিসুর রাহমান এবং জামিল চৌধুরী প্রায় একই পথ ধরে নবীনগরের ভেতর দিয়ে আগরতলায় পৌঁছেছিলেন
|
এই দীর্ঘ বন্ধুর পথে তাঁদেরও বর্তমান লেখকের মতোই ভীষণ কষ্টের অভিজ্ঞতা হয়েছিল
|
শুধু গভীর দেশপ্রেম এবং তারুণ্যের শক্তি তাঁদের বেঁচে থাকতে এবং সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে উজিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল
|
'বিকেল হয়ে এসেছিল তখন
|
শহীদুল্লাহ বললেন আমরা সীমান্তের কাছাকাছি চলে এসেছি
|
সামনে যে পাহাড়ি অঞ্চল, একটু হেঁটে গেলেই ত্রিপুরা
|
স্বস্তি পেলাম; উদ্বেগ কেটেছিল
|
... গোড়ালি ফুলে তখন ঢোল হয়ে গেছে
|
আমার মতো দুপায়ে যন্ত্রণা কারোর হয়নি
|
পায়ে ও শরীরে বল নেই, তখন শেষ রাতে শহীদুল্লাহ চৌধুরীর বাড়িতে ভাত খেয়েছিলাম
|
হাঁটাপথে কখন যে হজম হয়ে গেছে
|
পথে দু-একটি গ্রামে কলা, মুড়ি, চিড়া খাওয়া যেত
|
কিন্তু পথ নির্দেশক আমাদের থামতে দেননি
|
হাঁটো আর হাঁটো, সীমান্তের দিকে দ্রুত চলুন - এই ছিল তাঁর নির্দেশ
|
আমরা সকলে তাঁর নির্দেশ পালন করেছিলাম সেদিন
|
... ২৫ মার্চের পর প্রায় কুড়িদিন যে সীমাহীন অনিশ্চয়তা, যন্ত্রণা ও নৈরাশ্যের সময় কেটেছিল তা থেকে মুক্তি পেয়েছিল মন
|
সীমান্ত অতিক্রম করার পর মায়ের কথা খুব মনে পড়ল
|
চোখ অশ্রুসিক্ত হল
|
' বাড়ি থেকে যুদ্ধে যাওয়ার সময় মায়ের জলে ভরা চোখ, নিষ্পলক তাকিয়ে থাকা, আর যুদ্ধকালীন বিভিন্ন বেদনার্ত সময়ে মাঝে মাঝে মায়ের মুখখানি মনে পড়া এই লেখকের অন্তর্গত হৃদয়ের একটি ভিন্ন ছবি পাঠকের সামনে উপস্থিত করে
|
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ছিলেন তাঁর মায়ের মতো কোমল - ও শিল্পী-হৃদয়
|
বারবার জেলে যাওয়ার সময় মায়ের জন্য তাঁর খুব কষ্ট হতো
|
তিনি ঠিক এমন একটি কথা তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন
|
তিরিশের দশকের গোড়ায় তাঁর বাবার মৃত্যুর পর কয়েকদিন বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার পর কিছু পারিবারিক দায়িত্ব সমাপ্ত করেছেন, এমন একদিন পুলিশ তাঁর বাড়ি আসে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে
|
তিনি পুলিশের গাড়িতে উঠতে গিয়ে দেখেন তাঁর মা বাড়ির গেটে বিষণ্ন চোখে দাঁড়িয়ে আছেন, যা আগে কোনোদিন করেননি
|
এর কয়েকদিন পর তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়
|
তিনি লিখেছেন, 'সেই বিষণ্ন চোখ দুটি আমাকে অনেকদিন তাড়া করে ফিরেছে
|
' আবুল হাসনাতের মায়ের বিষয়ে এই কথাকটি নেহেরুর সেই কথাকেই মনে করিয়ে দেয়
|
ষাটের দশকে তৃতীয় বিশ্বের কয়েকটি দেশের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা প্রায় একই
|
ভিয়েতনাম বা অন্যান্য দেশে যুদ্ধের সময় দেশপ্রেমিক তরুণদের যুদ্ধে যাওয়ার যে-বর্ণনা তাঁদের স্মৃতিকথা থেকে পাওয়া যায় তা প্রায় একই রকম শংকা, উদ্বেগ এবং যন্ত্রণার ইতিহাস
|
আগরতলায় বাংলাদেশের শরণার্থীদের অবস্থা নিয়ে অনেকেই লিখেছেন
|
কিন্তু এই বই ভিন্ন একটি রাজনৈতিক চিত্র এঁকেছে
|
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যে-ভূমিকা পালন করেছে তা ভারত ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের বয়ানে কম পাওয়া যায়
|
একমাত্র বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের লেখায় এর কিছু বিবরণ রয়েছে, আর রয়েছে ভারতের মহাফেজখানায় রক্ষিত কিছু সরকারি নথিতে
|
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের মধ্যে মণি সিংহ, মোহাম্মদ ফরহাদসহ অন্য কয়েকজন কী ঐতিহাসিক ভূমিকা সে-সময়ে পালন করেছেন রুশ সরকারকে এই যুদ্ধে সাহায্য করার ক্ষেত্রে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে, তা সত্যিই বিস্মিত করে পাঠককে
|
আবুল হাসনাত লিখেছেন, এই ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের পৌঁছানোর পর আগরতলায় কমিউনিস্ট পার্টির আপিসে তাঁদের দুদিন থাকার ব্যবস্থা করা হয়
|
এরপর তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় আগরতলা কলেজ হোস্টেলে
|
কলেজটি বন্ধ থাকায় সেখানে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হয় কিছুদিন
|
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শুরু থেকেই ছাত্র ইউনিয়ন এবং কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপের সদস্য এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি
|
কংগ্রেস একটি মধ্যপন্থী দল, যদিও কমিউনিস্ট পার্টির এই দলের সঙ্গে একটি সমঝোতার সম্পর্ক ছিল
|
আওয়ামী লীগও মধ্যপন্থী দল; কিন্তু তখনো এই দলটির নেতৃত্ব কমিউনিস্ট পার্টি বা ন্যাপের বিষয়ে তাঁদের নীতিমালা কী হবে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ছিলেন না
|
তাজউদ্দীন আহমদ এবং আরো কয়েকজন নেতা এই বামপন্থীদের বিষয়ে সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং এই যুদ্ধকে একটি জনযুদ্ধে রূপ দিতে চেয়েছিলেন সবাইকে যৌথভাবে এক মঞ্চে এনে; কিন্তু আওয়ামী লীগের সবাই সেই নীতিমালা সমর্থন করেননি সেদিন
|
তাছাড়া ভারত সরকারের অধিকাংশ নেতা ছিলেন দক্ষিণপন্থী
|
তাদের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এই বামপন্থীদের ভূমিকা বিষয়ে খুব সতর্ক ছিল
|
তাছাড়া নকশালসহ কয়েকটি উগ্রপন্থী দল বাংলাসহ কয়েকটি প্রদেশে বেশ শক্তিশালী ছিল
|
এসব বিবেচনা করে শুরু থেকেই ইন্দিরা গান্ধী এবং ভারত সরকার খুব সতর্ক ছিল, যাতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনোভাবেই বামপন্থী যুদ্ধে রূপ না নেয়
|
সে-কারণে ছাত্র ইউনিয়ন এবং কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী ও নেতাদের যুদ্ধে প্রশিক্ষণ নেওয়া বিলম্বিত হচ্ছিল
|
আবুল হাসনাতের এই লেখায় তার ছায়া লক্ষ করা যায়
|
তিনি জানিয়েছেন, ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা ঊর্ধ্বতন মহল এবং ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ করছিলেন যাতে ছাত্র ইউনিয়নের তরুণদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় দ্রুত
|
'মুক্তিযুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়ন কীভাবে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেবে তা তখনও স্থির হয়নি
|
পার্টি নেতৃবৃন্দ সিপিআই নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রতিদিনই কথা বলছিলেন
|
আমাদের আগরতলায় প্রেরণের একদিন পর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ এক এক করে কেউ বিলোনিয়া, কেউ অন্য কোনো সীমান্ত দিয়ে আগরতলা এলেন
|
পরের দিন তাঁরা সারাদিন মিটিং করলেন
|
সেসময় তাঁদের সঙ্গে সিপিআই নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ গণহত্যা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অংশগ্রহণ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই কথা বলে যাচ্ছিলেন
|
দিল্লিতে সিপিআই নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীদের জন্য খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন
|
তবে কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা আগরতলা এবং কলকাতা থেকে তাঁদের যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং কর্মকাণ্ড সুচারু রূপেই পরিচালনা করছিলেন
|
অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কথা তেমন জানা যায় না, একমাত্র আওয়ামী লীগ একাত্তরের মার্চের আগে ভারতের কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য কিছু নীতিমালা তৈরি করে রেখেছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে
|
এরকম অনেকের লেখায় উঠে এসেছে
|
বিশেষ করে ছাত্রলীগের ঊর্ধ্বতন নেতারা সে-বিষয়ে ভারত থেকে কর্মপন্থা সৃষ্টি করবেন বা পরিচালনা করবেন, যদি পাকবাহিনী দেশের ওপর আক্রমণ করে
|
কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টি একাত্তরের মার্চের আগে পরিস্থিতি উপলব্ধি করে সিপিআই নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল
|
দলীয় ইতিহাসে এসব যোগাযোগের প্রমাণ আছে; কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ-বিষয়ে কম লেখা হয়েছে
|
আবুল হাসনাত জানান, 'বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ সীমান্ত অতিক্রম করেন এপ্রিলের মাঝামাঝি
|
গণহত্যা শুরু হয়ে যাবার পর পার্টিল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জেলা পর্যায়ের যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল
|
মার্চ থেকে জেলা পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়
|
এবং চূড়ান্তভাবে ভারতে আশ্রয় গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়
|
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে মার্চ মাসের গোড়ার দিকে বাংলাদেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রয়োজনে ভারতে আশ্রয় গ্রহণের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করে রেখেছিলেন
|
(পৃ ১১৭) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
|
আমাদের কোনো রাজনৈতিক দল এমনভাবে ভারতের কোনো দলের সঙ্গে ১৯৭১ সালের মার্চের গোড়ায় যোগাযোগ করে প্রয়োজনে সেদেশে আশ্রয় গ্রহণের কোনো বার্তা দিয়েছে - এমন ঘটনা কম ঘটেছে
|
তাহলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের বাইরে দেশের কমিউনিস্টরা অনেক বেশি সচেতন ছিলেন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে
|
শুধু কমিউনিস্ট পার্টি নয়, তার অঙ্গসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নও স্বাধীনতা নিয়ে অনেক আগে থেকেই সচেতন হয়ে উঠেছিল, তা আমাদের ইতিহাসে কম আলোচিত হয়েছে
|
যেমন '৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পালনের সময় মোহাম্মদ ফরহাদ আত্মগোপন অবস্থায় কিছু নির্দেশ দেন একান্ত নিজের উদ্যোগে দেশের স্বাধীনতা বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে
|
'একুশে ফেব্রুয়ারি পালন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে এক সভা আহূত হয়েছিল
|
ব্যাপক জমায়েত যাতে হয় তার জন্য ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ উদ্যোগ ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল
|
সেদিন ছিল সোমবার; আমরা সভার প্রস্তুতি ও অন্যান্য কাজের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিকেলে সমবেত হয়েছিলাম
|
আকস্মিকই শামসুদ্দোহা, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও আমার কাছে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মোহাম্মদ ফরহাদের কাছ থেকে জরুরি চিঠি আসে
|
তিনি আত্মগোপন অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের দৈনন্দিন কাজ সম্পর্কে খবর রাখতেন এবং খুঁটিনাটি নির্দেশ দিতেন
|
চিঠির বিষয় পাঠ করে আমরা বিস্মিত, আনন্দিত এবং রীতিমত উত্তেজিত হয়ে পড়ি
|
তিনি নির্দেশ দেন, এই সভা থেকে যেন স্বাধীনতার ডাক দেয়া হয় এবং এই পরিবর্তিত নীতি ও পন্থা পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় যেন পাশ করিয়ে নেওয়া হয়
|
চিঠি পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের জরুরি সভা আহ্বান করেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
|
সভা অনুষ্ঠিত হয় শহীদ মিনারের গর্ভগৃহে
|
শিল্পী হামিদুর রাহমানের ম্যুরাল সজ্জিত এই গর্ভগৃহটি এখন আর নেই
|
মোহাম্মদ ফরহাদ প্রেরিত চিঠির আলোকে এই গর্ভগৃহেই সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আলোচিত হয় এবং অনুষ্ঠিতব্য ছাত্র ও জনসভায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়
|
সম্পাদকমণ্ডলীতে যারা কমিউনিস্ট ছিলেন ভেবেছিলাম তাঁরা পটভূমি বা প্রেক্ষিত জানতে চাইবেন, তেমন কিছুই হয়নি সেদিন
|
' (পৃ ১০৭) এ-বিষয়টি সামান্য হলেও আমাদের ইতিহাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
|
মোহাম্মদ ফরহাদ এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন নিজের দায়িত্বে, কমিউনিস্ট পার্টি তখনো স্বাধীনতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি
|
১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে ছাত্র ইউনিয়ন আহূত সেই সভায় সভাপতিত্ব করেন আবুল হাসনাত
|
সেদিনের সভাটি আমাদের রাজনীতি ও সংস্কৃতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ
|
এই সভায় সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সূচনা বক্তব্য রাখেন
|
বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি এক প্রাঞ্জল বক্তৃতা দেন এবং সকল প্রতিকূল অবস্থার জন্য ছাত্রসমাজকে প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানান
|
'তিনি এই সভায় বক্তৃতায় সকল বঞ্চনা, পীড়ন ও ঔপনিবেশিক শোষণের নিরসনকল্পে স্বাধীনতা ছাড়া যে গত্যন্তর নেই সে কথা উচ্চকণ্ঠে উচ্চারণ করলেন
|
' (পৃ ১০৮)
|
হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে বইটির অতি উজ্জ্বল অধ্যায় কলকাতায় ১৯৭১ সালে লেখক, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবী সমাজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যে অসাধারণ মানবিক ভূমিকা পালন করেছিলেন তার বর্ণনা
|
বাংলাদেশের সমাজ খুব একটা অসাম্প্রদায়িক সমাজ নয়
|
এখানকার যে এক কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের অনেকে স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে কলকাতাসহ ভারতের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে অনেক কথা বলেছে, যা কিছুটা অকৃতজ্ঞতার ছাপ রেখে যায়
|
আমাদের সাধারণ মানুষের ভারতের জনগণের মিতব্যয়ী জীবনযাপন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করার একটা প্রবণতা রয়েছে
|
কিন্তু আমাদের যেসব লেখক-সাহিত্যিক সে-সময়ে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁদের অধিকাংশের অভিজ্ঞতা একেবারে ভিন্ন
|
অর্থনৈতিক দিক থেকে সাধারণ মানুষের সে-সময় কলকাতা বা আশেপাশের এলাকায় খুবই দরিদ্র অবস্থায় দিন কাটত, কিন্তু তার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আগত এই মানুষের প্রতি যে-গভীর দরদি আচরণ করেছেন তার কোনো তুলনা হয় না
|
এর মধ্যে সিপিআই এবং অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্য, বিশেষ করে কমিউনিস্ট পার্টি এবং এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার একাধিক নেতা-নেত্রী সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন লেখক
|
এছাড়া লেখক-বুদ্ধিজীবী-শিল্পীরা যে অসাধারণ মমতার পরিচয় দিয়েছেন সেই দীর্ঘ সময়ে, তার ছবি আঁকা আছে এ-বইয়ে
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.