content
stringlengths
0
129k
[৯] রাজনৈতিক পেশায় ইচ্ছুক একজন তরুণ নাগরিকের এই পদে দায়িত্ব পালন করা সমীচীন ছিল, যদিও তা আবশ্যক ছিল না
সেঞ্চুরিয়নগণ[সম্পাদনা]
"সেঞ্চুরিয়ন" পদটি ছিল সামরিক কর্মকর্তার পদের একটি শ্রেণীবিভাগ, যার মধ্যে উচ্চ ও নিম্ন কয়েকটি পর্যায় ছিল
অর্থ্যাৎ একজন সেঞ্চুরিয়নের পদোন্নতির ভাল সুযোগ ছিল
একটি লিজিওনের সর্বোচ্চ পদস্থ সেঞ্চুরিয়নকে বলা হত প্রাইমাস পিলাস (অর্থ: প্রথম বর্শা), যিনি ১ম কোহর্টের ১ম সেঞ্চুরির নেতৃত্ব দিতেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ১ম কোহর্টের নেতৃত্ব দিতেন
লিজিওনের ২য় থেকে ১০ম কোহর্টের প্রতিটির ১ম সেঞ্চুরির সেঞ্চুরিয়নকে বলা হত পিলাস প্রাইয়র, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তারা যার যার সম্পূর্ণ কোহর্টের নেতৃত্ব দিতেন
পিলাস প্রাইয়র-সেঞ্চুরিয়নগণের নিম্নপদস্থ ছিলেন ১ম কোহর্টের ২য়-৬ষ্ঠ সেঞ্চুরির সেঞ্চুরিয়নগণ, তাদের বলা হত প্রিমি অর্ডিনেস
রোমান সেঞ্চুরিয়নের সাজে সজ্জিত একজন অভিনেতা
একটি সাধারণ কোহর্টের (১ম কোহর্ট ব্যতীত অন্যান্য) ৬টি সেঞ্চুরি, অবস্থানের ক্রমানুসারে:
সম্মুখ হেসটাটি (সম্মুখভাগের বল্লমধারী)
পশ্চাৎ হেসটাটি (পশ্চাদভাগের বল্লমধারী)
সম্মুখ প্রিংকিপে (সম্মুখভাগের প্রধান সারি)
পশ্চাৎ প্রিংকিপে (পশ্চাদভাগের প্রধান সারি)
সম্মুখ ট্রিয়ারি (সম্মুখ থেকে ৩য় সারি)
পশ্চাৎ ট্রিয়ারি (পশ্চাদভাগের ৩য় সারি)
সেঞ্চুরিসমূহের নামের উৎস লিজিওনের পুরাতন তিন প্রকার সৈন্যবিভাগের নাম থেকে গ্রহণ করা হয়
প্রতিটি সেঞ্চুরি তাদের সারির মধ্যরেখা বরাবর অবস্থান নিত, যদিও সেঞ্চুরির এই বিভাগসমূহ নামকরণেই সীমাবদ্ধ ছিল
সেঞ্চুরির মধ্যকার ৩টি সারি পুনরায় নিজেদের মধ্যে সম্মুখ ও পশ্চাৎ ভাগে বিভক্ত হত
প্রাইমাস পিলাস, অর্থ- "প্রথম সারির বর্শা": প্রাইমাস পিলাস ছিলেন লিজিওনের ১ম কোহর্টের ১ম সেঞ্চুরির অধিনায়ক, সমগ্র লিজিওনের সর্বাপেক্ষা উচ্চপদস্থ সেঞ্চুরিয়ন ছিলেন তিনি
(লিজিওনের অন্যান্য কোহর্ট থেকে ১ম কোহর্টটি ব্যতিক্রমধর্মী ছিল, ১ম কোহর্টে সম্মুখ বল্লমধারী ও পশ্চাৎ বল্লমধারী থাকত না, তার পরিবর্তে এক সেঞ্চুরি বর্শাবাহী সৈন্য থাকত)
প্রাইমাস পিলাস পদোন্নতি পেয়ে ঘাঁটি প্রধান বা প্রিফেক্টাস ক্যাস্টোরিয়াম হওয়ার সুযোগ রাখতেন
প্রাইমাস পিলাস অবসর গ্রহণ করলে অশ্বারোহী শ্রেণীতে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হত
তার বেতন ছিল সর্বনিম্ন বেতনের ৬০ গুণ
অন্যান্য সেঞ্চুরিয়ন অপেক্ষা তার বেতন বেশি ছিল এবং "সরু ডোরার" ট্রিবিউনগণের বেতনের সমান ছিল
পিলাস প্রাইয়র: এঁরা ছিলেন লিজিওনের সম্মুখ সারির বা ১ম ১০টি সেঞ্চুরির সেঞ্চুরিয়নগণ, যার যার কোহর্টে তারা ছিলেন সর্বোচ্চ পদস্থ
যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান নেয়ার সময় পিলাস প্রাইয়রগণ যার যার কোহর্টের নেতৃত্ব দিতেন
প্রাইমাস পিলাসও ছিলেন একজন পিলাস প্রাইয়র এবং লিজিওনের সকল সেঞ্চুরিয়নগণের মধ্যে সর্বোচ্চ পদস্থ
পিলাস প্রাইয়র পদে আসীন থাকতেন বহুকালের সমর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যোদ্ধারা, যারা সাধারণ সৈনিক থেকে ক্রমে ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে আসতেন
এই পদটি ছিল প্রাইমাস পিলাস পদের অধীনে
প্রিমি অর্ডিনেস: এঁরা ছিলেন ১ম কোহর্টের ৫জন সেঞ্চুরিয়ন, যার অন্তর্গত ছিলেন প্রাইমাস পিলাস
প্রাইমাস পিলাস ব্যতীত অন্য ৪ জন সর্বনিম্ন বেতনের ৩০ গুণ বেতন পেতেন
তাদের পদমর্যাদা ছিল প্রাইমাস পিলাস এবং প্রাইমাস প্রাইয়র-এর পরেই
অন্যান্য সেঞ্চুরিয়নগণ: প্রতি লিজিওনে ৫৯ বা ৬০জন সেঞ্চুরিয়ন থাকতেন, যারা ১০টি কোহর্টের প্রতিটি সেঞ্চুরিতে এঁদের একজন করে নেতৃত্ব দিতেন
তারা ছিলেন পেশাদার রোমান সৈন্যবাহিনীর মেরুদণ্ডস্বরূপ
সারাজীবন তারা পেশাদার সৈন্য হিসেবে তারা অতিবাহিত করে আসতেন, সৈনিকদের মতই ছিল তাদের জীবনযাপন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তারাই যার যার সৈন্যদের নেতৃত্ব দিতেন
পদোন্নতি পেয়ে পেয়ে তারা সেঞ্চুরিয়নের পর্যায়ে আসতেন, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে সম্রাট বা কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কর্তৃক তাদের সরাসরি নিয়োগ দেয়া হত
কোহর্টসমূহ পদমর্যাদা অনুসারে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত থাকত, একইভাবে প্রতি কোহর্টে সেঞ্চুরিসমূহ ১ থেকে ৬ পর্যন্ত সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত হত, ১ম কোহর্টে কেবল ৫টি সেঞ্চুরি থাকত (লিজিওনে সর্বমোট ৫৯ জন সেঞ্চুরিয়ন এবং ১জন প্রাইমাস পিলাস থাকতেন)
একজন সেঞ্চুরিয়ন যে সেঞ্চুরির নেতৃত্ব দিতেন তা তার পদমর্যাদা নির্দেশ করত: ১ম কোহর্টের ১ম সেঞ্চুরির সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং ১০ম কোহর্টের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি সর্বনিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন ছিল
সাধারণ সেঞ্চুরিয়নগণ সর্বনিম্ন বেতনের ১০ গুণ বেতনপ্রাপ্ত হতেন
নিম্নস্থ পদসমূহ[সম্পাদনা]
অপটিও: প্রত্যেক সেঞ্চুরিয়নের অধীনে একজন (৫৯-৬০ জন), সেঞ্চুরিয়নগণ এদেরকে সৈনিকদের মধ্য থেকে নিজেদের সহকারী হিসেবে বাছাই করতেন এবং তাদেরকে মূল বেতনের দ্বিগুণ দেয়া হত
এদেরকে আধুনিক বাহিনীর ১ম সার্জেন্ট বা লেফটেনেন্ট এর সমমর্যাদাসম্পন্ন গণ্য করা যায়
টেসেরারিয়াস: প্রধান রক্ষী, প্রতি সেঞ্চুরিতে একজন থাকত
তারা অপটিওর অধীন ছিল এবং তাদের বেতন ছিল মূল বেতনের দেড়গুণ
প্রহরীদের সংকেত রক্ষী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহকারী, সেঞ্চুরির ৩য় প্রধান সেনা প্রভৃতি দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল
যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ছিল একজন সাধারণ সৈনিকের ন্যায় যদি না তাদের সেঞ্চুরি সম্মুখ ভাগে থাকত
তাদেরকে আধুনিক স্টাফ সার্জেন্টের সমতুল্য গণনা করা যায়
ডেক্যুরিয়ন: একটি অশ্বারোহী দল (ট্যুরমা)-কে নেতৃত্ব দিতেন, যার অধীনে ১০ থেকে ৩০ জন অশ্বারোহী যোদ্ধা থাকত
ডেকানাস: দশ জনের দল (কন্টুবার্নিয়াম)-কে নেতৃত্ব দিতেন, দলে ৮জন সৈন্য ও ২জন বেসামরিক সহকারী থাকত
আধুনিক সার্জেন্ট বা কর্পোরাল এর সমতুল্য
৪ সৈন্য বিশিষ্ট দলগুলোকে বলা হত কোয়াটারনিয়ন
বিশেষ দায়িত্বের পদসমূহ[সম্পাদনা]
অ্যাকুইলিফার: সমগ্র লিজিওনে একটি পদ থাকত
অ্যাকুইলিফার হলেন লিজিওনের পতাকা বাহক বা "রোমান ঈগল প্রতীক" সংবলিত ঝান্ডাবাহক
এই পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানের ছিল
ঈগল প্রতীকটি হারানো একটি লিজিওনের জন্যে অত্যন্ত অসম্মানজনক ছিল
তাই এই পদটি একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধাকে দেয়া হত যে লিজিওনের রণকৌশল সম্পর্কে অবগত
তার বেতন মূল বেতনের দ্বিগুণ ছিল
সিগনিফার: প্রতিটি সেঞ্চুরিতে একজন করে সিগনিফার থাকত (লিজিওনে মোট ৫৯ জন) এবং প্রতি কোহর্টের ১ম সেঞ্চুরির সিগনিফার ছিলেন সর্বোচ্চ পদস্থ
সে ছিল "সেঞ্চুরির চিহ্ন"-বাহক, চিহ্নটি ছিল একটি অলংকৃত বর্শাদন্ড যার অগ্রভাগে একটি "খোলা হাত"-চিহ্ন থাকত যা সেঞ্চুরিটির আনুগত্যকে নির্দেশ করত, এবং সেঞ্চুরির সৈন্যদের এই চিহ্নের দ্বারা পথ প্রদর্শন করা হত
চিহ্ন বহন ছাড়াও একজন সিগনিফার তার সেঞ্চুরির আয়-ব্যয়ের হিসাব রক্ষার দায়িত্বে থাকত
তাকে মূল বেতনের দ্বিগুণ প্রদান করা হত
কর্নিকেন (শিঙ্গা বাদক): যে সিগনিফারের সাথে কাজ করত এবং চিহ্ন-সংবলিত ঝান্ডার দিকে সৈন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত
তাছাড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশ তারা শব্দসংকেত আকারে বাহিনীর কাছে প্রেরণ করত
তারাও মূল বেতনের দ্বিগুণ বেতনপ্রাপ্ত হত
ইম্যাগিনিফার: সম্রাট অগাস্টাসের আমলে চালু হওয়া আরেকটি বিশেষ পদ
যে সম্রাটের চিত্র অঙ্কিত একটি পতাকা বাহন করত যার দ্বারা সৈন্যদের আনুগত্য কার প্রতি- তা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হত
এই ঝান্ডাবাহীকেও মূল বেতনের দ্বিগুণ প্রদান করা হত
ইম্যুনেস: লিজিওনারি সৈন্যদের মধ্যে কেউ কোন বিশেষ দক্ষতার অধিকারী হলে তাদেরকে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত করা হত, যার জন্যে তারা অতিরিক্ত বেতন পেত এবং কায়িক শ্রম, প্রহরা প্রভৃতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেত
এসকল বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন সেনাদের মধ্যে ছিল- প্রকৌশলী, গোলন্দাজ বিশেষজ্ঞ, বাদ্যবাদক, কেরাণী, ছাউনি সংগঠক, সেনা প্রশিক্ষক, অস্ত্র প্রশিক্ষক, কাঠমিস্ত্রী, শিকারী, চিকিৎসক এবং সামরিক পুলিশ প্রভৃতি
এরা সকলেই ছিল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈনিক, তবে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা ও গুণাগুণ প্রয়োজন অনুসারে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজে লাগানো হত
এভোক্যাটাস: অভিজ্ঞ সৈনিক যাদের বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্বকাল শেষ হবার পরেও তারা সেনাবাহিনীতে রয়ে যেত
এদেরকে দ্বিগুণ বেতন দেয়া হত এবং সাধারণ কর্তব্য যেমন কায়িক পরিশ্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হত
ডুপ্লিক্যারিয়াস: বিশেষ পুরস্কারস্বরূপ যেকোনো পদমর্যাদার সৈনিককে দ্বিগুণ বেতন প্রদান করা হত
বেতনাদি[সম্পাদনা]
সেনাপতি গাইয়াস ম্যারিয়াস এর পর থেকে, লিজিওনারিগণ বেতন হিসেবে বার্ষিক ২২৫ "দিনারি" বা রোপ্যমুদ্রা পেত, (যা ৯০০ "সেস্টেরটি" বা তাম্রমুদ্রার সমমূল্যের ছিল); সম্রাটের ডমিটিয়ানের শাসনামল পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত ছিল, তার আমলে এই মূল বেতন বৃদ্ধি করে ৩০০ দিনারি করা হয়
২য় শতাব্দীতে মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও এই বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি
অবশেষে সম্রাট সেপটিমিয়াস সেভেরাস মূল বেতন বৃদ্ধি করে বার্ষিক ৫০০ দিনারি-তে নিয়ে আসেন
তবে সৈনিকেরা সম্পূর্ণ বেতন হাতে পেত না, তাদের খাদ্য ও পোশাক বাবদ কিছু অর্থ কেটে রাখা হত
এর বাইরেও একজন সৈন্য যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ভাগ পেত, যেমন শত্রুসেনাদের মরদেহ থেকে প্রাপ্ত অস্ত্রাদি এবং শত্রু ঘাঁটি লুঠ করে প্রাপ্ত সম্পদ
এছাড়া যুদ্ধবন্দীদেরকে তারা দাস হিসেবে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত, যাদেরকে পরে তারা মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রয় করে দিত
এসব ছিল তাদের বাড়তি আয়ের উৎস
এছাড়াও লিজিওনারি সৈনিকেরা "প্রিমিয়া" বা "অবসর ভাতা" পেত, সেনাবাহিনীতে ২৫ বছরের কর্মজীবন সম্পূর্ণ করলে তারা ভাল অঙ্কের একটি ভাতা পেত
সম্রাট অগাস্টাসের আমলে এই ভাতা ছিল ৩,০০০ দিনারি (রৌপ্যমুদ্রা) এবং/অথবা একখন্ড চাষযোগ্য জমি (সেসময় ভাল জমির ব্যপক চাহিদা ছিল); অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদেরকে জমি প্রদানের ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলসমূহ এবং বিদ্রোহী প্রদেশসমূহের ওপর সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব সুসংহত হত
সম্রাট ক্যারাকালার আমলে এই অবসর ভাতা বৃদ্ধি করে ৫,০০০ দিনারি করা হয়
চিহ্নসমূহ[সম্পাদনা]
খ্রিষ্টপূর্ব ১০৪ সাল থেকে প্রতিটি লিজিওন তাদের জাতীয় প্রতীক হিসেবে "রোমান ঈগল প্রতীক" () ব্যবহার করত
যে সামরিক কর্মকর্তা যুদ্ধক্ষেত্রে এই প্রতীকটি বহন করতেন তাকে বলা হত অ্যাকুইলিফার, এই প্রতীকটি হারানো গেলে লিজিওনের জন্যে তা অত্যন্ত অসম্মানজনক গণ্য করা হত এবং কখনো ঐ লিজিওনটিকেই ভেঙে দেয়া হত
এর কারণ- ঈগল প্রতীকটি উদ্ধার করা যায়নি তার অর্থ হল লিজিওনটি এতই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যে তার আর যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই
১৫শ লিজিওন অ্যাপোলিনারিস ( )-এর সৈন্যবাহিনীর ভূমিকায় অভিনেতাগণ
সম্রাট জুলিয়াস সিজার কর্তৃক লিখিত "গলিক ওয়্যার" ( )-এর ৪র্থ পুস্তকের ২৫ নং অনুচ্ছেদে, সম্রাট বর্ণনা করেছেন খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫ সালে তার ব্রিটেন অভিযানের সময় ঈগল প্রতীকটি হারানোর আশঙ্কা রোমান সৈনিকদের কী পরিমাণ উদভ্রান্ত করে তুলত
সিজারের যোদ্ধারা এক পর্যায়ে ব্রিটনদের ভয়ে জাহাজ ত্যাগ করতে ইতস্তত করতে থাকলে ১০ম লিজিওন "জেমিনা"-র প্রতীক বাহক তার ঈগল প্রতীক সমেত জাহাজ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং একাই বীর বিক্রমে শত্রুবাহিনীর দিকে সাঁতার কেটে অগ্রসর হতে থাকে
এতে করে লিজিওনের অন্যান্য যোদ্ধারা অসম্মান এড়াতে তাদের ঝান্ডাবাহককে অনুসরণ করে এবং অন্যান্য জাহাজ সমূহ থেকেও সৈনিকেরা একে একে সাঁতরে তীরে উঠতে থাকে
রোমান সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তনের কালে সৈনিকদের মনে তাদের নেতা, রোমান সম্রাটের প্রতি একপ্রকার আনুগত্য ও বন্ধন অনুভব করতে থাকে
প্রতি লিজিওনে আরেকজন ঝান্ডাবাহক ইম্যাগিনিফার-কে দায়িত্ব দেয়া হয় সম্রাটের চিত্র বা প্রতীমা বহন করার
প্রতিটি লিজিওনে আরো থাকত একজন ভেক্সিলিফার, যে লিজিওনের নাম ও প্রতীক সংবলিত একটি পতাকা বহন করত, যা ঐ লিজিওনের নিজস্ব ছিল
প্রায়ই একটি লিজিওন অন্য লিজিওনকে সহায়তা করার জন্যে একটি সৈন্যদল প্রেরণ করত, সেক্ষেত্রে ঐ দলটির সাথে তাদের লিজিওনের পতাকা থাকত, কিন্তু ঈগল প্রতীকটি থাকত না, তাদেরকে তাই বলা হত ভেক্সিলাটিওনেস
সামরিক কর্মকর্তাদের অবসর বা বদলির সময় পদকস্বরূপ একটি ক্ষুদ্রাকৃতি "ভেক্সিলাম" প্রদান করা হত, যা ছিল রূপার ভিত্তিতে বসানো ঐ লিজিওনের প্রতীক সংবলিত পদক বিশেষ
বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকেও রোমান লিজিওনকে সাহায্য করার জন্যে পুরস্কৃত করা হত
তাদেরকে দেয়া হত ফলকবিহীন একটি তীর দন্ড, যাকে অত্যন্ত সম্মানের একটি প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হত