content
stringlengths
0
129k
অনশনে খাবার খাওয়ায় বিএনপি নেতাদের ধুয়ে দিলেন মেজর (অব.) হাফিজ
বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.11.2021
নিউজ ডেস্ক : দলীয় চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে গণ-অনশন করেছে বিএনপি
২০ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে পৃথক স্থানে এ অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়
এদিকে বিএনপির এই অনশনের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
তিনি বলেছেন, অনশন ও মানববন্ধন করে কোনো লাভ নেই
যতদিন দলের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভাজন দূর করা না যাবে ততদিন কোন কর্মসূচি দিয়ে লাভ হবে না
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসায় বিদেশ গমনের দাবিতে হওয়া 'গণ-অনশন' কর্মসূচিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনেই শীর্ষ নেতাদের সমালোচনা করেন তিনি
হাফিজ বলেন, এখন জাতীয় জীবনের দুঃসময় পার করছি আমরা
দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া গুলশানে অবরুদ্ধ
অথচ আমরা একের পর এক লোক দেখানো কর্মসূচি করছি, মানববন্ধন করছি
আন্দোলন-বিক্ষোভের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে ডাকা হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায় না
দলীয় নেতৃত্ব কুক্ষিগত রাখা এবং ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য কর্তৃত্ব ধরে রাখতে তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, দলের মধ্যে একটি শক্তি বিভেদ তৈরি করে রেখেছেন
গণঅনশন, মানববন্ধন ডেকে ম্যাডামের মুক্তির জন্য কেবল লোক হাসাচ্ছেন
খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে দলের অভ্যন্তরেই বিভক্তি তৈরি করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব
সে অবস্থা থেকে উত্তরণে যে ঐক্যবদ্ধ দলীয় শক্তি প্রয়োজন তা কিন্তু আমাদের নেই
সুতরাং এই জায়গাটি আগে মেরামত করুন
নইলে এইসব অনশন দিয়ে কিছু হবে না
মেজর হাফিজের এমন বক্তব্যকে যৌক্তিক বলে সমর্থন দিয়ে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরে যে বিশৃঙ্খলা চলছে তা এই প্রথম মেজর হাফিজ স্পষ্ট করলেন
বিএনপির মধ্যে তৈরি হওয়া এই অনৈক্য দূর করতে না পারলে সত্যিই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না বিএনপি
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি লাঠি দিয়ে বাঘ মারার চেষ্টা করছে
এই ধারণা পরিবর্তন করে তাদের বাস্তবে আসতে হবে
কল্পনায় এসব হয় না
তিন কিস্তি বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ০১ সঞ্চয়ী বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ০২ সঞ্চয়ী বীমা (লাভবিহীন) - চার্ট ০৩ প্রিমিয়াম ফেরৎ বীমা (নিশ্চিত লাভযুক্ত) - চার্ট ০৪ পাচঁ কিস্তি বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ০৫ শিশু নিরাপত্তা বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ০৬ শিশু নিরাপত্তা বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ০৬ দ্বিগুণ প্রদান একক সঞ্চয়ী বীমা - চার্...
শিক্ষা ব্যয় বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ০৮ হজ্ব বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ০৯ হজ্ব বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ০৯ দেনমোহর বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ১০ দেনমোহর বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ১০ পেনশন বীমা (লাভবিহীন) - চার্ট ১১ পেনশন বীমা (লাভবিহীন) - চার্ট ১১ মাসিক সঞ্চয়ী বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ২০ মাসিক সঞ্চয়ী বীমা (লাভযুক্ত) - চার্ট ২...
© 2013-2021 ® . .
১৯৬৪ সালে ৬২ বছর বয়স্ক ইমামকে তুরস্কে নির্বাসনে পাঠানো হয়
সেক্যুলার টার্কিশ গভর্নমেন্ট প্রথমেই ইমামের পাগড়ি পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে
নিষিদ্ধ করা হয় ধর্মীয় পোশাক পরাকেও
বড় ছেলে মুস্তাফাকে চিঠি লেখেন ইমাম, যার গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে তুলে ধরছি-
"প্রিয় সাইয়্যেদ মুস্তাফা! আল্লাহ তোমার সাহায্যকারী হোন এবং তাঁর সন্তুষ্টির দিকে তোমাকে পরিচালিত করুনN আলহামদুলিল্লাহ ! আমি নিরাপদে আঙ্কারায় পৌঁছেছি গত সোমবার
আলহামদুলিল্লাহ! আমার স্বাস্থ্য ভালো আছে, চিন্তার কিছু নেই
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য কোনো অনিষ্টকে পূর্বনির্ধারিত করে দেন না
এইখান থেকে আমি আমার পরিবারের সকল সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনকে শুধু আল্লাহর দ্বারস্থ হতেই উপদেশ দিচ্ছি এবং তারা যেনো আর কারো সাহায্যপ্রার্থী না হয়
আর আমি তোমাকে ধৈর্য ধরার ও দৃঢ় থাকবার উপদেশ দিচ্ছি
আল্লাহর ইচ্ছা অবশ্যই পূর্ণ হবে
এ দিকে টার্কিশ সরকার একটা নিরিবিলি জায়গা খুঁজছিলো, যেখানে ইমাম তাঁর বাকি জীবন কাটাতে পারবেন
কিন্তু ইমাম টার্কিশ ভাষা শেখার সিদ্ধান্ত নিলেন
তুরস্কের ভাষা শিখলে সাধারণ মানুষের সাথে ইমামের যোগাযোগ সম্ভব হবে, এই আশঙ্কায় গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তাঁকে আরেক শহরে নিয়ে গেলেন এবং সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখলেন, যেনো ইমাম খোমেনি টার্কিশ ভাষা শিখতে না পারেন
নির্বাসনে থেকেই ইমাম বিভিন্ন ধর্মীয়-রাজনৈতিক ইস্যুতে দেশের জনগণকে বার্তা পাঠাতেন, ফতোয়া জারি করতেন
ইসলামবিদ্বেষী এই সরকারের সাথে যেকোনোরূপ সহযোগিতা করা, সরকারের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা, সরকারের কর্মকাণ্ড প্রচার করাকে হারাম ঘোষণা করলেন তিনি
ইমামের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হলে তিনি মসজিদে যেতে শুরু করলেন
সবাইকে অবাক করে দিয়ে তুর্কি ভাষায় মসজিদে এক ভাষণ দিলেন ইমাম, যার ফলশ্রুতিতে ভীত টার্কিশ সরকার তাকে দেশে রাখতে অস্বীকৃতি জানালো
৫ অক্টোবর ১৯৯৫ সালে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে ইমাম খোমেনি প্লেনে উঠলেন
তুরস্কে ইমাম ও তার ছেলে আহমদ (পেছনে)
পাগড়ি খুলে নেয়া হয়েছে
ইরাকের বাগদাদ এয়ারপোর্ট পৌঁছালেন ইমাম খোমেনি
শুরু হলো ইরাকে দীর্ঘ নির্বাসন জীবন
ইমাম খোমেনির আগমনের সংবাদ পেয়ে নাজাফ ও কারবালাসহ ইরানের বিভিন্ন স্থান থেকে দ্বীনি ছাত্ররা তার সাথে দেখা করতে এলেন
কিছুদিন পর কারবালায় পৌঁছালে সেখানের আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ আল শিরাজির অতিথি হিসেবে কিছুদিন থাকেন এবং সেখানেও নামাজের নেতৃত্ব দেন
এরপর ইমাম নাজাফে থাকার সিদ্ধান্ত নেন
নির্বাসন জীবনের ১৩ বছর ইমাম এখানেই ছিলেন
আর নাজাফ ছিলো ইসলাম ধর্মচর্চার এক বিখ্যাত কেন্দ্র
সেখানেও ইমাম শিক্ষকতাসহ আলেমগণের মাঝে তার বৈপ্লবিক চেতনার প্রচার করেন
ইমামের স্ত্রী এবং বড় ছেলেও তার সাথে সেখানে এসে থাকেন
ইরান সরকার ভেবেছিলো যে প্রচলিত ধারার রাজনীতি থেকে দূরে থাকা নাজাফি আলেমগণের মাঝে ইমাম খোমেনির থাকাটা ইরান সরকারের পক্ষে সুবিধাজনক হবে
কিন্তু ইমাম নিজস্ব হাওজা খুলে বসলেন এক মসজিদে এবং সেখানে ফিকাহ শিক্ষা দিতে শুরু করেন
বছরখানেকের মাঝেই তার বিপ্লবী চিন্তাধারা, বেলায়েতে ফকিহ, অর্থাৎ ইসলামী সরকার নিয়ে লেকচার দেয়া শুরু করেন
এসব লেকচার থেকেই পরবর্তীতে ইরানের সংবিধানের মূলনীতি তৈরি করা হয়
পলিটিক্যাল ইসলাম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইমাম বলেন-
"ইসলাম শুধুমাত্র মানুষের সাথে স্রষ্টার সম্পর্কের আলোচনায় সীমিত নয়
ইসলাম একটি পলিটিক্যাল ধর্ম
ইসলামের পলিটিক্স এর অন্যান্য নিয়ম-নীতি ও ইবাদতের সাথে জড়িত
যেহেতু সরকারের একটি পলিটিক্যাল দিক আছে, ইসলামেরও বিভিন্ন পলিটিক্যাল দিক আছে
ইরাকে অতি সতর্কতার সাথে নিজের হাওজা পরিচালনা করেন ইমাম
সেখানের কোনো আলেম কিংবা কারো যেনো এটা মনে না হয় যে তিনি সেখানে কর্তৃত্বশীল হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন, সে জন্য ইমাম তার শিক্ষকতা ও অন্যান্য বক্তব্যকে সুকৌশলী করেন এবং মূলত ইরানের সাথে যোগাযোগ রেখে বিপ্লব পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন
তা সত্ত্বেও তার চিত্তাকর্ষক বক্তব্যের কারণে এমনকি নাজাফেও ছাত্রের সংখ্যা বাড়তে লাগলো এবং ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে, এমনকি ইন্ডিয়ানরা পর্যন্ত তার ক্লাসে আসতে শুরু করলেন
ইরানে ২৫০০ বছরের রাজতন্ত্র উদযাপনে গ্র্যান্ড প্যারেড
ইমাম খোমেনি তার কঠোর নিয়মতান্ত্রিক জীবনের জন্য নাজাফে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন
সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও তিনি নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করতেন
চারটায় তাহাজ্জুদ নামাজ ও কোরআন পড়া থেকে শুরু করে ফজর পার করে ছয়টা পর্যন্ত ইবাদতে মশগুল থাকতেন
এরপর আধঘণ্টার মত বিশ্রাম নিয়ে মসজিদে চলে যেতেন, যেখানে তার হাওজা (শিক্ষাদান কেন্দ্র)
সেখানে লেকচার দেয়া শেষে সাড়ে এগারোটায় ঘরে ফিরে খাবার খেতেন ও বিশ্রাম নিতেন
এরপর ছাত্রদের উদ্দেশে দেয়া লেকচারগুলো নিজে লিপিবদ্ধ করতেন
তারপর ভিজিটরদেরকে সময় দিতেন পাঁচ থেকে দশ মিনিট করে
জোহরের নামাজ তিনি মসজিদে আদায় করতেন
একটার দিকে বাসায় ফিরে দুপুরের খাবার খেতেন
এরপর আধাঘন্টা থেকে পৌনে এক ঘন্টা ঘুমাতেন
চারটার দিকে নিজ হাতে বানানো চা খেতেন
সোয়া চারটায় ছাদে কিংবা পেছনের উঠানে আধাঘণ্টা হেঁটে পড়াশুনায় বসতেন
সন্ধ্যায় নামাজ শেষে বাড়ির উঠানে ৪৫ মিনিট একাকী বসতেন
রাত একটার দিকে হযরত আলীর কবরে যেতেন এবং ফিরে এসে দুটো পর্যন্ত স্টাডিতে সময় কাটাতেন
এরপর দু-ঘন্টা ঘুমিয়ে তিনি আবার চারটা থেকে দিন শুরু করতেন
সর্বমোট চার ঘন্টারও কম ঘুমাতেন তিনি
ইরাক থেকে শুরু করে জীবনের শেষ পর্যন্ত এই রুটিন অনুসরণ করেছিলেন ইমাম
এ দিকে ইরানে ২৫০০ বছরের রাজতন্ত্র উদযাপন করতে শাহ ব্যাপক আয়োজন করলো
১৯৭১ সালে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বহু রাষ্ট্রপ্রধান, রাজাসহ উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলো
গ্র্যান্ড প্যারেড শেষে ভোজসভার আয়োজন করা হলো
সেখানে ৬৯টা দেশের ৫০০ অতিথির খাবারের আয়োজন করা হয়েছিলো
সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন ইমাম খোমেনি
শাহ তার স্বৈরশাসন চালিয়ে যেতে লাগলো
ওদিকে ইরাকের নাজাফে বসে ইমাম খোমেনি শাহের সাথে লড়াই করতে থাকেন
আর এই লড়াই অস্ত্রের মাধ্যমে ছিলো না
এই লড়াই ছিলো জনগণকে সচেতন করার লড়াই
মুসলমানদের সচেতন করতে করতে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা, যেনো শাহের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও ধোঁকাবাজিতে প্রতারিত হওয়ার মত একটি মানুষও না থাকে
আর সেই পর্যায়ে পৌঁছালে শাহের উৎখাত ও ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়ে পড়ে স্বতঃস্ফূর্ত একটি প্রক্রিয়া
ইমামের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বিপ্লব চলতে লাগলো একাধারে ইমামের নির্দেশনা ও কোমে তাঁর ছাত্রদের উদ্যোগে
আয়াতুল্লাহ বেহেশতি, আয়াতুল্লাহ মুতাহারি, আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি, হাশেমি রাফসানজানিসহ আরো অনেক আলেম বিভিন্ন শহর ও গ্রামে যেতেন, মানুষকে সচেতন করতেন সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে এবং জানাতেন শাহ কর্তৃক ইমাম খোমেনিকে বহিষ্কারের ঘটনা