content
stringlengths
0
129k
← বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশের অধ্যাপকের নাম → ব্যাংক থেকে 'উধাও' মাহমুদার ২৫ বছরের জমানো সব টাকা
95.5 কিলোগ্রাম মধ্যে , 95.5 মধ্যে , 95.5 কিলোগ্রাম মধ্যে পাউন্ড, 95.5 মধ্যে , 95.5 কিলোগ্রাম মধ্যে
মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দেশে বিজেপিকে একা করে দিন
যারা দেশবাসীকে তাড়াতে চায়, ভারতে তাদের জায়গা নেই
তিনি বলেন, ১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে
আর ওরা আন্দোলন করতে পারবে না? ছাত্রছাত্রীদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে বিজেপি সরকার
হোস্টেলে ঢুকে মারধর করছে তারা
এনআরসি করে দেশ থেকে তাড়ানোর চেষ্টা চলছে
আমাদের এমপিদের লখনউতে ঢুকতে দেওয়া হল না
এদিকে বিজেপি রাজ্যে একের পর এক মিছিল করে চলেছে
তাহলে দেখুন গণতন্ত্র কোথায় আছে? এই আন্দোলন সব রাজ্যে হচ্ছে
এই আন্দোলন আপনার ঠিকানার আন্দোলন
সবাই একজোট হন, বিজেপিকে একা করে দিন
বিজেপির বিরুদ্ধে অন্য সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সোমবার পুরুলিয়ার ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল মোড়ে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন
মমতা আরও বলেন, এনআরসির নামে দেশের মানুষকে তাড়ানোর চক্রান্ত চলছে
সবাইকে বলব, এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে জোট বাঁধুন, তৈরি হোন
শুধু বাংলায় নয়
সারা ভারতে যে যেখানে এই আন্দোলন করছেন, তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি
এটা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন, মাথার উপরের আশ্রয় রক্ষার আন্দোলন
ঠিকানা রক্ষার আন্দোলন
রোববার ঝাড়খন্ডে অবিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চে দেশের বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তৃণমূলনেত্রীর এই আহ্বানে রাজনৈতিক শক্তির নতুন বিন্যাসের সম্ভাবনা দেখছে রাজনৈতিক মহল
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, 'দেশে ১৩০ কোটি মানুষই নাগরিক
তার মধ্যে ১০০০জনকে নাগরিকত্ব দেবে
বাকিরা কি ললিপপ খাবে
দেশে শুধু বিজেপি থাকবে? আমরা সবাই নাগরিক
এক একটি রাজ্যের ভাষা আলাদা
কিন্তু সবটা মিলিয়ে আমাদের দেশ হিন্দুস্তান
বিতর্কিত এনপিআর এবং নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করবেন না বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবারও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এই এলাকায় এমন মানুষ আছেন, যারা ব্যবসা করেন, চাকরি করেন
তাদের কেউ গুজরাটের, কেউ উত্তরপ্রদেশে, পাঞ্জাব, বিহার, রাজস্থানের বাসিন্দা
এনআরসির নাম করে সব লোকেদের ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়নের জঘন্য চক্রান্ত চলছে
মমতা বলেন, 'আদিবাসী ভাইবোনেরা তাদের জায়গা যাতে কেউ কেড়ে না নেয়, তা নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'ভোটার লিস্টে নাম ভাল করে তুলুন
ভোটার লিস্টে অনেক ভুল করেছে
কারও বাবা-মার নাম ভুল হয়ে যায়, কারও ঠিকানা ভুল হয়ে যায়
ভালও করে মিলিয়ে নিন
আপনারা শুধু এটুকু করুন
কাউকে আমরা বাংলা ছেড়ে যেতে দেব না
এ আমার অঙ্গীকার
এদিকে একই দিন তৃণমূলের সমালোচনা করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ''লোকসভা ভোটের আগেও ব্রিগেডে হাত ধরাধরি করে মোদী হঠাও স্লোগান শুনেছিলাম
মানুষ যোগ্য জবাব দিয়েছ
দিদিমনি তাদের হাত ধরে আবার টেনে আনছেন
. . .
পোস্ট এডিট
কোজাগরী পূর্ণিমার সেই সব রাত
20, 2021
সুদীপ জোয়ারদার
সে সব রাত ছিল জ্যোৎস্নার
মায়াময়, স্নেহময় জ্যোৎস্নার
এমন জ্যোৎস্না যে পৃথিবীর শিশুদের ঘরে আটকে রাখাই দায়
তবে ছোটদের পৃথিবীটা তখন বড়ই ছোট
উত্তরে এক ভয় ধরানো নিমগাছ, দক্ষিণে এক বন্ধুবট আর পুবে, পশ্চিমে বোসবাড়ি আর আমাদের বাড়ির পিছনের গাম্ভিল গাছটা
পৃথিবীর চৌহদ্দি এটুকুই
কিন্তু এর মধ্যেই ছোটদের ওই চাঁদের আলোয় মধুর কলতান, লাফালাফি, ছোটাছুটি
আবার কখনও চাঁদের দিকে চেয়ে গেয়ে ওঠা, 'এমন চাঁদের আলো/মরি যদি...'
ওদিকে এমন চাঁদনি রাতে কোজাগরী লক্ষ্মী বসেছেন আসনে
'দোলপূর্ণিমা নিশি নির্মল আকাশ/ মন্দ মন্দ বহিতেছে মলয় বাতাস/ লক্ষ্মীদেবী বামে করি বসি নারায়ণ/কহিতেছে নানা কথা, সুখে আলাপন
' দেবীর পাঁচালী পড়া হচ্ছে ঘরে ঘরে
শঙ্খের আওয়াজ আসছে সরকার বাড়ি, ব্যানার্জি বাড়ি, বোস এবং আরও নানা বাড়ি থেকে
জ্যোৎস্নাময় সন্ধ্যাটা ওদের পৃথিবীজুড়ে পুজোময়
এমন কল্যাণী-রাতে মরার কথা কি মানায়! কিন্তু কী করা যাবে? চাঁদ নিয়ে তখন ওই একটা গানই যে বুকে শিস দিয়ে চলেছে!
গ্রামের রাস্তা ধরে পুরোহিত চলেছেন
যতই জ্যোৎস্না হোক, পথের ধারে গাছগাছালি তো কম নেই
ঝোপঝাড়ের পাশে এলেই জ্বলে উঠছে তাঁর দু'ব্যাটারির টর্চখানা
রেলের পরিত্যক্ত ঘরখানা পেরোতেই তাঁকে নিয়ে হুড়োহুড়ি
এ বলে 'আগে আমাদের বাড়ি' তো ও বলে 'আগে আমাদের' আবার কেউ গলা উঁচিয়ে বলে, 'কথা কিন্তু ছিল, সবার আগে আমাদের বাড়ি বসবেন
দে বাড়ির প্রসাদ খেয়ে ছোটরা আবার ছোটে ব্যানার্জি বাড়ি
'আয় আয় সবাই আয়' বলে ছোটদের ডেকে নেন সে বাড়ির স্নেহময়ী মেজদি
এখানে ভোগ বেশি, প্রসাদ কম
মিষ্টি জিনিস দু'বাড়িতে খেয়ে খেয়ে মনও এখন ভোগমুখী
কলাপাতা চেটেপুটে খায় সবাই
এখনও কয়েক বাড়ি বাকি
কিন্তু পেটে আর বেশি কিছু ধরবে কি? আর এক বাড়ির পর থেকেই দল ছোট হতে থাকে
পুরোহিত মশায় ধন্দে পরেন
পরে ঠিক হয়, একেবারে পিছনের ব্যানার্জি বাড়ি থেকে সারতে সারতে সামনে আসবেন
এরই মধ্যে শোনা যায়, সরকার বাড়ির পুজো শেষ
ওদের অবশ্য অন্য পুরোহিত
ছোটরা ছোটে জ্যোৎস্না ভেদ করে
গিয়ে দেখে লম্বা লম্বা সতরঞ্চি তিন ভাঁজ করে বিছানো হয়েছে আসন
বসেও পড়েছে সমবয়সী কয়েকজন
দুপুরের পর রাতের খাওয়ার আগে পর্যন্ত তখন কেই বা কিছু খেত! আজ মা দিদিদের ভোগের আয়োজন, আর নাড়ুর ভিয়েন পাকাতেই দিন কাবার
অত তরিবত করে খাওয়া হয়নি দুপুরের আহারও
খিদে-পেটে প্রসাদের সব কিছুই যেন অমৃত
তবু প্রসাদে পেয়ারার কুচি পড়লেই সযত্নে সরিয়ে রাখে শিশু ভোলানাথেরা
ছোটদের মুখ এমনিতেই পিঁপড়ে
শুধু মিষ্টি খোঁজে
আজ রয়েছে হরেক মিষ্টির আয়োজন
নাড়ু, নকুলদানা, পায়েস, আরও কত কী! যতই খিদে থাক, পেয়ারা কি এত মিষ্টি স্বাদের খাবার পেলে আর মুখে ওঠে!
লক্ষ্মী-রাতে পেঁচার দর্শন পাওয়া সৌভাগ্যের
তবু কেউ কেউ তা পেয়েও যায় এক আধবার
কখনও সরকার বাড়ির পেয়ারা গাছে, কখনও বড় পুকুরের ধারের পোড়ো বাড়ির ছাদে
সে বার পেঁচার দেখা পাওয়া গেল ব্যানার্জি বাড়ির কুলগাছে
সৌভাগ্যের প্রতীক, কিন্তু সে বার ব্যানার্জি বাড়িতেই ঘোর অঘটন
ছোট মেয়ে ঠাকুরের সামনেই পড়ে গেল অচৈতন্য হয়ে
পুজো মাথায় উঠল
জল ঢালা, পাখার বাতাস করা শুরু হয়ে গেল তাকে ঘিরে
একটু পরে চোখ মেলল সে
উপবাস নাকি অন্য কারণ? কে একজন বলল, 'মৃগী নয় তো!' এত কিছুর মধ্যে ছোটরা থাকতে রাজি নয়
তারা আবার ছুটল দে বাড়ির দিকে
দে বাড়ি মানে রেলের কোয়ার্টার
ওখানে বাঁধানো উঠোনে, চিলতে বারান্দায় প্রসাদ খাওয়ার জন্য আসন পাতা