content
stringlengths
0
129k
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্নোত্তর
শিশু কিশোর কর্নার
নারী কর্নার
হিফজুল কুরআন
আল কুরানের সরল অনুবাদ
উলুমুল কুরআন
তাফসিরুল কুরআন
হাদিসের গ্রন্থাবলী
জামে তিরমিযী
বোখারী শরীফ
মুসলিম শরীফ
সুনানে আবু দাউদ
সুনানুন নাসায়ী
সুনানে ইবনে মাযা
ফিকাহর গ্রন্থাবলী
ইসলামের ইতিহাসের গ্রন্থাবলী
ইসলামী গল্প
ইসলামী দর্শন
দক্ষতা উন্নয়ন
প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য
ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী
দক্ষতা উন্নয়ন বিভাগ/দফতরসমূহ
রেজিস্ট্রেশন
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ
ইমাম প্রশিক্ষণ নিবন্ধন ফর্ম
দক্ষতার গল্প
পূর্ববর্তী সংস্করণ
হালাল উপার্জন
হালাল উপার্জন
.
রিযক অর্থাৎ পার্থিব সহায় সম্বল ও সচ্ছলতা এ জগতের এক অপরিহার্য বস্তু ও বিষয়
এ রিযক ব্যতীত পার্থিব জীবন অচল, অস্পূর্ণ বরং অসম্ভব
কম বেশী সবারই রিযক প্রয়োজন
সবাই এ রিযক অন্বেষণ করে
কেউ বৈধ পন্থায় কেউ বৈধ-অবৈধ উভয় পন্থায়ই রিযকের পিছনে দৌড়ে
জীবনের জন্যই রিযক, কিন্তু এই রিযকের জন্য অনেকের জীবন পর্যন্ত চলে যায়
সবার রিযক সমান নয়, সবাই সমান রিযক উপার্জন করতে পারে না
আল্লাহর হিকমতের দাবিও তাই, কারণ সবার রিযক যদি সমান হয়, সবাই যদি সমান অর্থ-সম্পদের মালিক হয়, তাহলে দুনিয়ার আবাদ ও বিশ্ব পরিচালনা ব্যাহত বরং ভঙ্গুর ও স্থবির হয়ে পড়বে
তাই এর বণ্টন আল্লাহ নিজ দায়িত্বে রেখেছেন, তিনি নিজ হিকমত ও প্রজ্ঞানুযায়ী সবার মাঝে তা বণ্টন করেন
এটা কোন সম্মান বা মর্যাদার মাপকাঠি নয়, আবার হতভাগা বা অশুভ লক্ষণের আলামতও নয়
কী অনুগত কী অবাধ্য, কী মুমিন কী কাফের সকলকেই জোয়ার-ভাঁটার ন্যায় প্রাচুর্য ও অভাব, সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতা স্পর্শ করে
এর মাধ্যমে আল্লাহ অবাধ্য ও কাফেরকে অবকাশ দেন, অনুগত ও মুমিনের পরীক্ষা নেন
প্রাচুর্য ও সচ্ছলতার সময় একজন মুমিন যাকাত-সাদকা প্রদান করে আল্লাহ শোকর আদায় করবে, অভাব ও অসচ্ছলতার সময় ঈমান ও ধৈর্যের পরিচয় দেবে
অভাব বা প্রাচুর্য উভয় মুমিনের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গলজনক
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ"
'মুমিনের বিষয়টি আশ্চর্য জনক, তার প্রত্যেকটি বিষয় কল্যাণকর, এটা মুমিন ব্যতীত অন্য কারো ভাগ্যে নেই, যদি তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, আল্লাহর শোকর আদায় করে, এটা তার জন্য কল্যাণকর, আর যদি তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর
' মুসলিম : (৫৩২২)
অতএব একজন মুমিনের উচিত অভাব-অসচ্ছলতার সময় আল্লাহর ফয়সালাকে মেনে নেয়া, তার উপর তাওয়াক্কুল করা এবং সর্বাবস্থায় তার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা
দোয়া ও আনুগত্যসহ তার দিকেই মনোনিবেশ করা
বৈধ ও হালাল পন্থায় রিযক অন্বেষণের আসবাব গ্রহণ করা এবং আল্লাহর উপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস পোষণ করা
কারণ আল্লাহর অবাধ্য হয়ে তার নিআমত ভোগ করা সম্ভব নয়
অভাবের সময় অনেকে অধৈর্য ও ভেঙ্গে পড়ে, নানা অভিযোগ উত্থাপন করে, কখনো আল্লাহ সম্পর্কে আবার কখনো নিজের সম্পর্কে অযাচিত কথা মুখ থেকে বের করে, তার উপর আল্লাহর অন্যান্য নিআমত ভুলে যায়, যা আদৌ কোন মুমিনের জন্য উচিত নয়
অত্র নিবন্ধে আমি বৈধ পন্থায় রিযক উপার্জনে উদ্বুদ্ধ, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও অভাবের সময় ধৈর্য ধারণের উপায় ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করার প্রয়াস পাব
রিযক হ্রাস-বৃদ্ধি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় :
রিযকের বৃদ্ধি-হ্রাস আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়
প্রত্যেকের রিযক আল্লাহর কুদরত ও ফয়সালা দ্বারাই নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :
'আর প্রতিটি বস্তুরই ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে আমার কাছে এবং আমি তা অবতীর্ণ করি কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণে
' সূরা হিজর : (২১) তিনি আরো বলেন :
'আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা করেন রিয্ক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা সীমিত করে দেন
নিশ্চয় আল্লাহ সকল বিষয়ে সম্যক অবগত
সূরা আনকাবুত : (৬২)
তিনি আরো বলেন :
তারা কি জানে না, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন রিয্ক প্রশস্ত করে দেন আর সঙ্কুচিত করে দেন? নিশ্চয় এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে
সূরা যুমার : (৫২)
তাওবা করা:
পার্থিব ধন-দৌলত আল্লাহর এক মহান নিআমত, এ নিআমত নাফরমানি করে অর্জন করা যায় না
কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত পাপ সকল অনিষ্টের মূল
এ কারণেই মানুষ নানা ধরণের মুসিবতে পতিত হয়, যদি সে তাওবা না করে
আল্লাহ তাআলা বলেন:
আর তোমাদের প্রতি যে মুসীবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল
আর অনেক কিছুই তিনি মা করে দেন
সূরা শুরা : (৩০)
অন্যত্র তিনি বলেন :
আর অবশ্যই আমি তাদেরকে গুরুতর আযাবের পূর্বে লঘু আযাব আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে
সূরা সাজদাহ : (২১)
প্রত্যেক মুমিনের উচিত সর্বদা তাওবা করা এবং বেশী বেশী নেক আমল করা ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য তলব করা
কারণ গুনাই সবচেয়ে বড় সমস্যা, সবচেয়ে বড় মুসিবত
বান্দা যখন তাওবা করে, আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন এবং তাকে নিশ্চিত সফলতা দান করেন
তিনি বলেন :
হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার
সূরা নুর : (৩১)
তিনি অন্যত্র বলেন:
নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালবাসেন এবং ভালবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে
সূরা বাকারা : (২২২)
আর আল্লাহ যাকে ভালবাসেন, তিনি তার মনোবাসনা পুরো করেন এবং ভয় থেকে তাকে তিনি নিরাপত্তা দান করেন
আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
إن الله قال: من عادى لي وليا فقد آذنته بالحرب، وما تقرب إلي عبدي بشيء أحب إلي مما افترضته عليه، وما يزال عبدى يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها، ورجله التي يمشي بها، وإن سألني لأعطينه، ولئن استعاذني لأعيذنه .... رواه البخاري
'আল্লাহ তাআলা বলেছেন : আমার বান্দার সাথে যে বিদ্বেষ পোষণ করে, আমি তার সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দেই
আমি আমার বান্দার উপর যা কিছু ফরজ করেছি, তা ব্যতীত অন্য কোন জিনিসের মাধ্যমে সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করতে পারে না
আমার বান্দা নফলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, এক সময় আমি তাকে মহব্বত করি
আমি যখন তাকে মহব্বত করি, তখন আমি তার কার্ণে পরিণত হই, যে কান দিয়ে সে শোনে, আমি তার চোখে পরিণত হই, যে চোখ দিয়ে সে দেখে, আমি তার হাতে পরিণত হই, যে হাত দিয়ে সে ধরে, আমি তার পায়ে পরিণত হই, যে পা দিয়ে সে চলে, সে যদি আমার কাছে প্রার্থনা করে, আমি তাকে দান করি, আর সে যদি আমার কাছে পানাহ চায়, আমি তাকে পানাহ দেই
পাপ ও আল্লাহর অবাধ্যতা মানুষকে রিযক থেকে বঞ্চিত করে দেয়, যেমন মুসনাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
إن الرجل ليحرم الرزق بالذنب يصيبه.
বান্দা তার কৃত পাপের কারণে রিযক থেকে মাহরুম হয়
সুদ ত্যাগ করা:
সুদ হারাম, সুদি কারবার হারাম, এতে লিপ্ত ব্যক্তি নিজের উপর অভিসম্পাতের দ্বার উম্মুক্ত করল