content
stringlengths
0
129k
স্রোতহীন, আগাছা সমৃদ্ধ সমুদ্রের ওই অংশকে সারােগাসাে সি বা শৈবাল সাগর বলে
উদাহরণ : () আটলান্টিক মহাসাগরীয় শৈবাল সাগর, () প্রশান্ত মহাসাগরীয় শৈবাল সাগর
2. গ্র্যান্ড ব্যাংক কী?
উত্তর : গ্র্যান্ড ব্যাংক হল বিশ্বের বৃহত্তম মগ্নচড়া
অবস্থান - উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগর, নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিকট অবস্থিত
উৎপত্তির কারণ - শীতল লাব্রাডার স্রোতের সঙ্গে আসা হিমশৈল উয় উপসাগরীয় স্রোতের সংস্পর্শে গলে গিয়ে সমুদ্র তলদেশে নুড়ি, কাকর, বালি, পলি, কাদা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে
বাণিজ্যিক মৎস্য আহরণের জন্য বিখ্যাত
3. সমুদ্রস্রোতের চক্ৰগতি বা জায়র () বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : পৃথিবীর প্রধান তিনটি মহাসাগরে সমুদ্রস্রোতের গতিপথ অনুসরণ করলে দেখা যায় যে সেগুলি চক্রাকারে ঘুরে জলাবর্ত সৃষ্টি করে
একে সমুদ্রস্রোতের চক্রগতি বা জায়র বলে
কোরিওলিস বলের প্রভাবে এটি হয়
এই চক্রগতিতে সমুদ্রস্রোত উত্তর গােলার্ধে দক্ষিণাবর্তে এবং দক্ষিণ গােলার্ধে বামাবর্তে ঘুরতে থাকে
4. গ্র্যান্ড ব্যাংক মগ্নচড়াটি বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র হিসাবে
খ্যাতি লাভ করেছে কেন?
উত্তর : কারণগুলি হল - () এখানে সমুদ্র অগভীর হওয়ায় সূর্যরশ্মি তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে
ফলে এখানে মাছের খাদ্য প্ল্যাঙ্কটন প্রচুর পরিমাণে জন্মায়
() উয় ও শীতল স্রোতের মিলনের ফলে এখানে প্রচুর সামুদ্রিক মাছের সমাবেশ ঘটে
() এখানকার নীতিশীতােয় জলবায়ু মাছ শিকার, মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অনুকূল
() এখানে কৃষিজমির অভাব থাকায় মৎস্য আহরণ এখানকার অধিবাসীদের অন্যতম জীবিকা
5. উয়স্রোত ও শীতলস্রোতের মধ্যে পার্থক্যগুলি লেখাে
উত্তর : উয়স্রোত ও শীতলস্রোতের মধ্যে পার্থক্যগুলি হল-
উয়ুস্রোত শীতলস্রোত
() ক্রান্তীয় ও উপক্ৰান্তীয় সমুদ্র () মেরু সমুদ্রে এর উৎপত্তি হয়
() জলের উয়তা প্রবাহিত অঞ্চলের জলের উয়তা অপেক্ষা বেশি
() জলের উয়তা প্রবাহিত অঞ্চলের জলের উয়তা অপেক্ষা কম
() সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের উয়তা বাড়ায়
উচ্চ নাতিশীতােয় অঞ্চলের উপকূলে বরফ জমতে দেয় না
() উয়তা কমায়
উয় অঞ্চলের উপকূলে মনােরম অবস্থা সৃষ্টি করে
6. মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে পার্থক্য আলােচনা করাে
উত্তর : মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে পার্থক্যগুলি হল-
বিষয় মুখ্য জোয়ার গৌণ জোয়ার
সংজ্ঞা পৃথিবী আবর্তনরত অবস্থায় ভূ-পৃষ্ঠের যে অংশ চাদের সম্মুখীন বা সর্বাপেক্ষা নিবর্তী হয়, সেই স্থানের জলরাশি চন্দ্রের আকর্ষণে অধিকমাত্রায় ফুলে উঠে যে জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে মুখ্য বা চন্দ্র জোয়ার বলে
ভূ-পৃষ্ঠের পৃথিবীর যে অংশে মুখ্য জোয়ার হয় তার বিপরীতে প্রতিপাদ স্থানে প্রধানত পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে যে জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে গৌণ জোয়ার বলে
কার্যকরী বল চাদের আকর্ষণ বল মুখ্য ভূমিকা পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল মুখ্য ভূমিকা নেয়
পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল মুখ্য ভূমিকা
জোয়ারের প্রাবল্য মুখ্য জোয়ারের প্রাবল্য গৌণ জোয়ারের তুলনায় অনেক বেশি
গৌণ জোয়ারের প্রাবল্য মুখ্য জোয়ারের তুলনায় বেশ কম
ভরকেন্দ্রের দূরত্ব পৃথিবীর ভরকেন্দ্র থেকে মুখ্য জোয়ার স্থানের দূরত্ব কম অর্থাৎ চাদের অধিকতর নিকটবর্তী
পৃথিবীর ভরকেন্দ্র থেকে গৌণ জোয়ার স্থানের দূরত্ব পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব অপেক্ষা প্রায় 4800 কিমি অধিক হওয়ায় ওই স্থানে পৃথিবীর আকর্ষণ বল কম, তাই কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবেই গৌণ জোয়ার হয়
7. পূর্ণিমা অপেক্ষা অমবস্যার জোয়ার প্রবল হয় কেন তা ব্যাখ্যা করাে
উত্তর : পূর্ণিমা তিথিতে চঁাদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করায় পৃথিবীর যে অংশ চাদের ঠিক সামনে আসে সেখানে হয় মুখ্য চান্দ্র জোয়ার এবং প্রতিপাদ স্থানে হয় মুখ্য সৌর জোয়ার
ফলে পূর্ণিমা তিথিতে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয় তা পূর্ণিমার ভরা জোয়ার বা ভরা কোটাল বলে
অন্যদিকে অমাবস্যা তিথিতে একই সরলরেখায় পৃথিবীর একই দিকে চাঁদ ও সূর্য অবস্থান করলে তাদের মিলিত আকর্ষণ বল পৃথিবীর একই স্থানে হওয়ায় ওই স্থানে জলরাশি অতি প্রবলমাত্রায় স্ফীত হয় এবং ভরা কোটাল নামে পরিচিত
পূর্ণিমাতে একটি স্থানে চাদের একক মহাকর্ষ শক্তি, অমাবস্যাতে চাঁদ ও সূর্যের যৌথ মহাকর্ষ বল কাজ করায় অমাবস্যার জোয়ারে প্রাবল্য বেশি
8. দিনে দুবার জোয়ার ভাটার কারণ কী?
উত্তর : আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ চঁাদের সামনে আসে সেখানে মুখ্য জোয়ার এবং তার বিপরীত প্রান্তে গৌণ জোয়ার হয়
এই দুই স্থানের সমকোণে অবস্থিত স্থানে ভাটা হয়
পৃথিবীর একবার আবর্তনের মধ্যে অর্থাৎ 24 ঘণ্টায় পৃথিবীর প্রতিটি স্থান একবার করে চাঁদের সামনে আসে
ফলে সেই স্থানে মুখ্য জোয়ার ও প্রতিপাদ স্থানে গৌণ জোয়ার হয়
এই গৌণ জোয়ারের 12 ঘন্টা 26 মিনিট পর প্রতিপাদ স্থানটি চাদের সামনে এলে সেখানে মুখ্য জোয়ার হয় এবং প্রথমে যে স্থানে মুখ্য জোয়ার হয়েছিল সেখানে গৌণ জোয়ার হয়
সুতরাং 24 ঘন্টায় একই স্থানে দিনে দুবার জোয়ার এবং জোয়ারের সমকোণী অবস্থানে ভাটা হয়
ভাঁটাও দিনে দু'বার সংঘটিত হয়
9. অ্যাপােজি ও পেরিজির মধ্যে পার্থক্য লেখাে
উত্তর : অ্যাপােজি ও পেরিজির মধ্যে পার্থক্য
বিষয় অ্যাপােজি পেরিজি
() সংজ্ঞা চাদের পৃথিবী পরিক্রমণ কালে চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব যখন সর্বাধিক থাকে সেই অবস্থানকে অ্যাপােজি বলে
চাদের পৃথিবী পরিক্রমণ কালে চঁাদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম থাকে, সেই অবস্থানকে পেরিজি বলে
() দূরত্ব অ্যাপােজি অবস্থানে চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যেকার দূরত্ব 4,07,000 কিমি. পেরিজি অবস্থানে চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে কার দূরত্ব 3,56,000 কিমি
() দৃশ্যমান অপর নাম এই সময় চাঁদকে ছােটো ও অনুজ্জ্বল দেখায়
এই সময় চঁাদকে অ্যাপােজি অপেক্ষা 12%-14% বড়াে ও 25-30 গুণ বেশি উজ্জ্বল দেখায়
জোয়ারের তীব্রতা অ্যাপােজি অবস্থানে জোয়ার ভাটার তীব্রতা কম হয়
পেরিজি অবস্থান জোয়ারভাটার তীব্রতা বেশি হয়
বারিমন্ডল - রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
1. সমুদ্রস্রোতের প্রভাব লেখাে
অথবা, সমুদ্রস্রোতের গুরুত্ব আলােচনা করাে
উত্তর : সমুদ্রস্রোত জলবায়ু ও মানুষের অর্থনৈতিক কাজকর্মকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে
(1) জলবায়ুর ওপর প্রভাব :
() উয়তার হ্রাসবৃদ্ধিতে : উয় সমুদ্রস্রোত উচ্চঅক্ষাংশীয় অঞ্চলে উয়তা বৃদ্ধি করে
যেমন - উয় উত্তর আটলান্টিক স্রোত নরওয়ের উপকুলীয় অঞ্চলে উয়তা বৃদ্ধি করে
শীতল সমুদ্রস্রোত সংশ্লিষ্ট উপকুলীয় অঞ্চলের উয়তা হ্রাস করে
যেমন - শীতল লাব্রাডার স্রোতের প্রভাবে কানাডার পূর্ব উপকূলের উয়তা হ্রাস পায়
() বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত : উয় উত্তর আটলান্টিক স্রোতের প্রভাবে ইংল্যান্ডের পশ্চিম উপকুলে বৃষ্টিপাত হয়
অন্যদিকে শীতল বেরিং স্রোতের প্রভাবে রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে তুষারপাত হয়
() ঝড়ঝঞা ও কুয়াশা : উয় ও শীতল সমুদ্রস্রোতের মিলন স্থলে কুয়াশা, ঝড়-ঝঞ্চার সৃষ্টি হয়
() মরুভূমির সৃষ্টি : ক্রান্তীয় অঞ্চলে শীতলস্রোত প্রভাবিত মহাদেশগুলির পশ্চিমাংশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কমে গিয়ে উয় মরুভূমি সৃষ্টি করে
যেমন - কালাহারি, সােনেরান, আটাকামা প্রভৃতি মরুভূমি সৃষ্টির অন্যতম কারণ শীতলস্রোত
(2) পরিবহন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব : () সমুদ্রস্রোতের অনুকুলে জাহাজ চলাচলের সুবিধা হয়
() উয় সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের বন্দরগুলিকে বরফযুক্ত রাখে
() শীতল স্রোতের সঙ্গে আগত হিমশৈল জাহাজ চলাচলে বাধা দেয় ও বিপদ সৃষ্টি করে
(3) মাচড়া ও মৎস্য আহরণ : শীতলস্রোতের সঙ্গে আগত বরফ উয়স্রোতের সংস্পর্শে গলে গিয়ে সেই সঙ্গে আসা নুড়ি, বালি, কাদা অধঃক্ষিপ্ত হয়ে অগভীর মগ্নচড়া সৃষ্টি করে
যেখানে প্ল্যাঙ্কটনের প্রাচুর্য থাকায় বিপুল পরিমাণ মৎস্যের সমাবেশ ঘটে ও বাণিজ্যিক মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র তৈরি হয়
যেমন - উত্তর পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরীয় ক্ষেত্র
(4) জীবজগতের ওপর প্রভাব : () স্রোতের মাধ্যমে সমুদ্রজলের উয়তা নিয়ন্ত্রিত হয় যা সামুদ্রিক জীবের বসবাস নিয়ন্ত্রিত হয়
() উম্ন স্রোত সামুদ্রিক জীব, মাছ, প্রবাল, প্ল্যাঙ্কটন বিস্তারের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে
() স্রোতের উর্ধ্বমুখী প্রবাহ বা আবর্তের কারণে লবণতার পরিমাণ নির্ভর করে
() অন্যদিকে এলনিনাের প্রভাবে পেরু চিলি উপকুলে প্ল্যাঙ্কটন ও মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়
2. জোয়ার ভাটা কীভাবে সৃষ্টি হয় চিত্রসহ ব্যাখ্যা করাে
উত্তর : প্রধানত দুটি কারণে পৃথিবীতে জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হয়
যথা-() পৃথিবীর ওপর চঁদ ও সূর্যের মিলিত মহাকর্ষ বলের প্রভাব এবং () পৃথিবীর আবর্তন জনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাব
() পৃথিবীর ওপর চাঁদ ও সূর্যের মিলিত মহাকর্ষ বলের প্রভাব : নিউটনের মহাকর্ষ নিয়ম অনুযায়ী পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য পরস্পর পরস্পরকে আকর্ষণ করে
যে বস্তুর ভর যত বেশি আকর্ষণ বল তার তত বেশি এবং যে বস্তুর দূরত্ব যত বেশি তার আকর্ষণ বল তত কম
পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে 15 কোটি কিমি দূরে অবস্থিত এবং চাঁদ ও 3 লক্ষ 84 হাজার 400 কিমি দূরে অবস্থিত
তাই পৃথিবীর ওপর চাঁদের আকর্ষণ বল (2.2 গুণ) বেশি
প্রধানত চাঁদের আকর্ষণেই সমুদ্রের জল স্ফীত হয়ে জোয়ারের সৃষ্টি করে
জোয়ারের সমকোণস্থ অঞ্চলের জলতল নেমে গিয়ে ভাটার সৃষ্টি করে
সূর্যের চন্দ্রের চেয়ে প্রায় 255 লক্ষ গুণ ভারি হলেও বহু দূরে (প্রায় 391 গুণ) অবস্থিত হওয়ার জন্য সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত প্রবল হয় না
সিজিগি অবস্থানে পৃথিবীর একই স্থানে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণ কার্যকরী হওয়ায় জোয়ার খুব প্রবল হয়
() পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাব : পৃথিবীর আবর্তনজনিত কারণে কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয়, যার প্রভাবে সমুদ্রের জলরাশি বাইরের দিকে বিক্ষিপ্ত হওয়ায় প্রবণতা লাভ করে
এই বল মহাকর্ষ বলের বিপরীতে কাজ করে