content stringlengths 0 129k |
|---|
() নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি-রাজমহল থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশ নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি নামে পরিচিত |
এই সমভূমি উত্তরবঙ্গের সমভূমি (তরাই, তিস্তা, মহানন্দার সমভূমি), রাঢ় সমভূমি ও ব-দ্বীপ সমভূমিতে (পরিণত, মৃতপ্রায় ও সক্রিয়) বিভক্ত |
() ব্রহ্মপুত্র সমভূমি : অসম রাজ্যের প্রায় 56,000 বর্গ কিমি অঞ্চল ব্যাপী ব্রম্মপুত্র ও তার একাধিক উপনদীর পলি সঞ্জয়ে গঠিত এই ব্রম্মপুত্র সমভূমি |
এই অংশের গড় উচ্চতা 50-100 মিটার |
নদীর গতিপথে স্বাভাবিক বাঁধ, বালুচড়া, জলাভূমি, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ প্রভৃতি দেখা যায় |
দশম শ্রেণী ভূগোল | ভারত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক পরিবেশ - সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2] |
1. দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্ববাহিনী কেন? |
উত্তর : গােদাবরী, মহানদী, কৃয়া, কাবেরী প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য নদীগুলি পূর্ববাহিনী |
কারণ - () দক্ষিণ ভারতের ভূমিভাগের ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্বে |
() পশ্চিমদিক থেকে আগত আরবসাগরীয় পাতের চাপ প্রতিরােধ করতে গিয়ে দাক্ষিণাত্য মালভূমি ভূভাগ পশ্চিম থেকে পূর্বে ঢালু হয়ে গিয়েছে |
2. দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্বাহিনী কিন্তু নর্মদা ও তাপ্তী নদী পশ্চিমবাহিনী কেন? |
উত্তর : পূর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত সাতপুরা পর্বতের উত্তর ও দক্ষিণে চ্যুতির ফলে দুটি গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে |
নর্মদা ও তাপ্তী নদী ওই দুটি অবনমিত ভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার জন্য দাক্ষিণাত্য মালভূমির সাধারণ ঢাল নিরপেক্ষ হয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে |
3. জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা বা জলবিভাজিকা উন্নয়ন বলতে কী বােঝাে? |
উত্তর : কোনাে নদী অববাহিকা অঞ্চলের জলবিভাজিকা সামগ্রিক ও বিজ্ঞানসম্মত উন্নয়নই হল জলবিভাজিকা উন্নয়ন বা ব্যবস্থাপনা |
এই উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে কোনাে নদী অববাহিকা অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র, পরিবেশের উপাদান এবং সম্পদের স্থায়ী উন্নয়ন করা সম্ভব হয় |
4. জলসংরক্ষণ কী? এর গুরুত্ব আলােচনা করাে |
উত্তর : ভবিষ্যতে জলসংকট থেকে মুক্তি পেতে জলকে সংরক্ষণ করে রাখাই হল জলসংরক্ষণ |
() দূষণ থেকে জলকে রক্ষা, () জলের সুষম বণ্টন, () ভৌম জলের যথাযথ ব্যবহার, () জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, () জলসেচের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার, () বনভূমির বৃদ্ধির মাধ্যমে জলসংরক্ষণ করা যায় |
5. কী? |
উত্তর : গঙ্গার দূষণ প্রতিরােধে গঙ্গা অ্যাক্সন প্লান () গঠিত হয় |
1985 খ্রিস্টাব্দে "সেন্ট্রাল গঙ্গা অথরিটি' নামে একটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার অধীনে ' পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় |
যেসব শহরগুলি গঙ্গা দূষণের জন্য সর্বাধিক দায়ী সেখানে পরিকল্পনা মাফিক নিকাশি ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি ব্যবস্থা করা হচ্ছে |
6. কী? |
উত্তর : 1948 সালে কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, বিহার সরকারের উদ্যোগে দামােদর পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয় 'দামােদর ভ্যালি কর্পোরেশন |
1955 সালে এর কাজ শেষ হয় |
বন্যা প্রতিরােধ, জলসেচের সুবিধা, কলকাতার নাব্যতা বৃদ্ধি ও অনান্য সমস্যা সমাধানে দামােদর পরিকল্পনা নেওয়া হয় |
ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3] |
1. দক্ষিণ ভারতে পশ্চিমবাহিনী নদী মােহানায় ব-দ্বীপ নেই কেন? |
উত্তর : পশ্চিমবাহিনী নদী মােহনায় ব-দ্বীপ না গড়ে ওঠার কারণগুলি হল - () নদীগুলির দৈর্ঘ্যে ছােটো তাই পলি কম থাকে জলে |
() নদীগুলিতে জলের স্রোত বেশি থাকায় মােহানায় পলি সঞ্চিত হতে পারে না |
() নদীগুলির উপনদীর সংখ্যা কম থাকায় পলি বেশি থাকে না |
() মােহানা অংশে ভূমির ঢাল বেশি থাকায় পলি সঞ্চিত হতে পারে না |
() সর্বোপরি আরব সাগর ও খাম্বত উপসাগর বেশ গভীর তাই তা পলি সঞ্চয়নের ক্ষেত্রে প্রতিকূল |
2. ব্রক্ষ্মপুত্র নদে প্রতিবছর বন্যা হয় কেন? অথবা, অসমে প্রতিবছর বন্যা হয় কেন? |
উত্তর : ব্রম্মপুত্র নদের প্রভাবে অসমে প্রতিবছর বন্যার কারণগুলি হল - () পার্বত্য অঞ্চল থেকে আনা বস্তুর অসমের সমভূমির ওপর সঞ্চিত হয়ে নদীগর্ভ অগভীর করে তােলে, ফলে অতিরিক্ত জল বন্যার কারণ হয় |
() বরফগলা জলে পুষ্ট হওয়ায় এবং বৃষ্টির জলে সমৃদ্ধ হওয়া এই নদে জল খুব বেশি, তাই উপত্যকা অঞ্চলে বর্ষার সময় অধিক জল বহন করতে না পেরে দুকূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে |
3. দক্ষিণ ভারতে জলাশয়ের মাধ্যমে জলসেচ অধিক প্রচলিত কেন? |
উত্তর : এর কারণগুলি হল - () কঠিন ও অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের অবস্থানের জন্য দক্ষিণ ভারতে কূপ খনন করে জলসেচ করা অসুবিধাজনক |
() এখানকার ভূমিভাগ বন্ধুর ও তরঙ্গায়িত হওয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীর উপর বাঁধ দিয়ে জলাশয় তৈরি করা সুবিধাজনক |
() বর্ষার জলে পুষ্ট হওয়ায় সারাবছর জলসেচ সম্ভব হয় না |
4. গঙ্গার উপনদীগুলির পরিচয় দাও |
উত্তর : () মধ্যগতিতে মিলিত হওয়া উপনদী : রামগঙ্গা, গােমতী, ঘর্ঘরা, গণ্ডক, বুড়িগণ্ডক, কোশি হল বামতীরের উপনদী |
যমুনা ও শােন ডানতীরস্থ উপনদী |
() নিম্নগতিতে মিলিত হওয়া উপনদী : বাঁশলই, ব্রাত্মণী, দ্বারকা, ময়ূরাক্ষী, অজয়, দামােদর, রূপনারায়ণ, কংসাবতী ও রসুলপুর হল ডানতীরস্থ উপনদী |
জলঙ্গী, মাথাভাঙ্গা ও চূর্ণী হল গঙ্গার বামতীরস্থ উপনদী |
5. দামােদর পরিকল্পনার () সুবিধাগুলি আলােচনা করাে |
উত্তর : () বন্যারােধ : পশ্চিবঙ্গের দামােদর উপত্যকা অনেকটা অংশ বন্যামুক্ত হয়েছে |
() বিদ্যুৎ উৎপাদন : 4টি বড়াে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং 11টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে |
() জলসেচ : জলসেচ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে ফলে রবি ফসলের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে |
() পরিবহন : দুর্গাপুর থেকে খাল কেটে কলকাতা যুক্ত করা হয়েছে |
() মৃত্তিকা ক্ষয় রােধ সম্ভব হয়েছে |
() মাছ চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে |
() নতুন বনভূমি স্থাপন হয়েছে |
সার্বিকভাবে দামােদর অববাহিকা অঞ্চলের উন্নয়ন সাধন হয়েছে |
রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5] |
1, গঙ্গা নদীর গতিপথের বিবরণ দাও |
উত্তর : তিনটি গতি স্পষ্ট বলে গঙ্গাকে আদর্শ নদী বলে |
গঙ্গা নদীর মােট দৈর্ঘ্য 2510 কিমি, তবে ভারতে প্রবাহ পথ 2071 কিমি |
() উৎস : গঙ্গার উৎস হল উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন হিমালয়ের গােমুখ গুহার গঙ্গোত্রী হিমবাহ |
() প্রবাহ পথ : সর্বপ্রথম গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে ভাগীরথী নামে একটি সংকীর্ণ জলধারা গিরিখাতের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে দেবপ্রয়াগের নিকট অলকানন্দার সঙ্গে মিলিত হয়েছে |
মূলক পিন্ডার, মন্দাকিনি ও ধৌলিগঙ্গার মিলিত প্রবাহই হল অলকানন্দা |
দেব প্রয়াগের পর ভাগীরথী ও অলকানন্দার মিলিত প্রবাহ গঙ্গা নামে পরিচিত |
() গতিপথ : () উচ্চগতি : উৎপত্তি স্থল বা দেবপ্রয়াগ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত গঙ্গার উচ্চগতি |
উৎস থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত গঙ্গার উচ্চগতি হল 280 কিমি |
() মধ্যগতি : হরিদ্বার থেকে বিহারের রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পথ মধ্যগতির অন্তর্গত |
() নিম্নগতি : রাজমহল থেকে মােহানা পর্যন্ত গতিপথ (520 কিমি) হল নিম্নগতি |
মুরশিদাবাদের ভগবানগােলায় গঙ্গা দুটি শাখায় ভাগ হয়ে প্রধান শাখা পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং অপর শাখাটি প্রথমে ভাগীরথী এবং নবদ্বীপের পর হুগলি নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে |
এই অংশে অজয়, দামােদর, ময়ুরাক্ষী প্রভৃতি ভাগীরথী ও হুগলির উপনদী |
ভারতের জলবায়ু |
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2] |
1. মৌসুমি বিস্ফোরণ কী? |
উত্তর : ভারতে গ্রীষ্মকালের শেষদিকে উত্তর পশ্চিমভাগে এক গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় |
এর ফলে ভারতমহাসাগর থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় |
এই বায়ু আরবীয় ও বঙ্গোপসাগরীয় দুটি শাখায় বিভক্ত করে ভারতে প্রবেশ করে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় |
মৌসুমি বায়ুর আগমনজনিত হঠাৎ বৃষ্টিপাতের ঘটনাকে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে |
2. পশ্চিমী ঝঞা কী? |
উত্তর : শীতকালে ভারতে স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু জলীয়বাষ্পহীন থাকায় ভারতে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না |
এই সময় মাঝে মাঝে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ভুত ঘূর্ণবাত ভারতের উত্তর পশ্চিম অংশ দিয়ে প্রবেশ করে |
ফলে উত্তরভারতে ঝড় ঝঞা হয় |
এই পশ্চিমী নিম্নচাপ বিশিষ্ট ঘূর্ণবাত উত্তরভারতে শীতের শান্ত আবহাওয়াকে বিঘ্নিত করে বলে একে পশ্চিমী ঝঞ্চা বলে |
3. আবৃষ্টি বলতে কী বােঝাে? |
উত্তর : দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক, কেরালা ও তামিলনাড়ুতে গ্রীষ্মকালে স্থানীয় নিম্নচাপের প্রভাবে যে, বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ঘটে, তাকে আবৃষ্টি বলে |
এই বৃষ্টিপাতের ফলে দক্ষিণ ভারতে আমের ফলন ভালাে হয় বলে এই বৃষ্টিকে আবৃষ্টি বা বলে |
4. কালবৈশাখী কী? |
উত্তর : গ্রীষ্মকালে প্রখর সূর্যকিরণে স্থলভাগ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে |
এপ্রিল মে মাসে গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অসমের স্থলভাগের উয় বাতাস ও সমুদ্র থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ শীতল বাতাসের সংঘর্ষে ফলে বিকেলে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টি হয়, যা কালবৈশাখী নামে পরিচিত |
5. মৌসুমি বায়ুর বিরতি বা ছেদ বলতে কী বােঝাে? |
উত্তর : মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয় অবস্থায় এই বায়ুর গতিবেগ, গভীরতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত কমে যায় |
এই সময় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত অবিরাম না হয়ে সাময়িক বিরতি দেখা যায় |
বৃষ্টিহীন এই অবস্থাকে মৌসুমী বায়ুর ছেদ বলে |
এই বিরতি 3-10 দিন থাকে |
6. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কাকে বলে? |
উত্তর : জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্রবায়ু পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে যখন পর্বতের বিপরীত ঢালে বা অনুবাত ঢালে এসে পৌঁছায় তখন জলীয়বাষ্পের অভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস পায় |
অনুবাত ঢালে অবস্থিত বৃষ্টিহীন বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল নামে পরিচিত |
উদাহরণ - ভারতের শিলং একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল |
ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3] |
উত্তর : গ্রীষ্মকালে ভারতের উত্তর পশ্চিমে রাজস্থান, গুজরাত, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি স্থানে ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে যে উয় ও শুদ্ধ বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় 'লু' বলে |
এটি অত্যন্ত উম্ন বায়ু (40° - 50°) |
'লু'-র প্রভাবে মানুষ ও গবাদি পশু মারা যায় |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.