content
stringlengths
0
129k
২০০৯-বর্তমান
চেন্নাই উত্তর
চেন্নাই দক্ষিণ
চেন্নাই মধ্য
শ্রীপেরুম্বুদুর
কাঞ্চীপুরম
তিরুবন্নামালাই
ভিল্লুপুরম
কোয়েম্বাটুর
তিরুচিরাপল্লী
পেরাম্বালুর
মায়িলাড়ুতুরাই
রামনাথপুরম
তিরুনেলভেলি
কন্যাকুমারী
চেন্নাই উত্তর
চেন্নাই মধ্য
চেন্নাই দক্ষিণ
শ্রীপেরুম্বুদুর
চেঙ্গলপট্টু
তিরুপট্টুর
তিরুচেঙ্গোডে
গোবিচেট্টিপালয়ম
কোয়েম্বাটুর
পেরিয়াকুলম
তিরুচিরাপল্লী
পেরাম্বালুর
মায়িলাড়ুতুরাই
নাগগপত্তনম
পুদুকোট্টাই
রামানাথপুরম
তিরুনেলভেলি
তিরুচেন্দুর
নাগেরকোয়িল
'://..//.?=তেনকাশী_লোকসভা_কেন্দ্র&=5369553' থেকে আনীত
বিষয়শ্রেণী:
তামিলনাড়ুর লোকসভা কেন্দ্র
এ পৃষ্ঠায় শেষ পরিবর্তন হয়েছিল ০৬:৪৬টার সময়, ২৮ আগস্ট ২০২১ তারিখে
লেখাগুলো ক্রিয়েটিভ কমন্স অ্যাট্রিবিউশন/শেয়ার-আলাইক লাইসেন্সের আওতাভুক্ত; এর সাথে বাড়তি শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে
এই সাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে, আপনি এটি ব্যবহারের শর্তাবলী ও এর গোপনীয়তা নীতির সাথে সম্মত হচ্ছেন
উইকিপিডিয়া®, অলাভজনক সংস্থা উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের একটি নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক
[ সতর্কীকরণঃ এটি সম্ভবত সিসিবির দীর্ঘতম পোস্টগুলোর একটি,তাই পাঠকের সুবিধার্থে এটিকে ৯টি অনুচ্ছেদে ভাগ করে দিলাম
আগ্রহী পাঠক ইচ্ছে করলে এটি এক বসায় পাঠ না করে ধীরে ধীরে দুই-তিনটি অনুচ্ছেদে পড়তে পারেন যাতে ধৈর্যচ্যুতি না ঘটে
আলোচনার ক্ষেত্রেও বিষয় অনুযায়ী অনুচ্ছেদ উল্লেখ করলে সুবিধা হবে
" , , ; , , , . , ."
-
ইতালির স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক গ্যারিবল্ডির উক্তির মতই আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে ক্ষুধা,তৃষ্ণা যুদ্ধ আর মৃত্যুর বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিলো আমাদের স্বাধীনতা
কিন্তু এই চার দশক পর নানারকম সমস্যায় আমরা আজ নিমজ্জিত
সকাল বেলা ট্রাফিক জ্যামে দিনের অর্ধেকটা মাটি হয়, বিভিন্ন অফিসের প্রতিটা ইট ঘুষ খায়, বাংলা ভাষাকে ধর্ষণ করে ডিজুস ভাষা জন্ম নেয় কতিপয় রেডিও জকির মুখে
দারিদ্র্য, অব্যবস্থাপনা, খাদ্য-সংকট, সিডর-সাইক্লোন-আইলা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, লোভ... সমস্যার তালিকায় কি কি যুক্ত করা যায় এই চিন্তা না করে মনে হয় কি বাদ দেয়া যায় (বা আদৌ কিছু বাদ যায় কিনা) সেটাই আজকাল মাথায় ঘুরপাক খায়
প্রতিটি মানুষের এগিয়ে যাবার জন্যে কোন না কোন অনুপ্রেরণার প্রয়োজন পড়ে
ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্যে নানা উৎস থেকে আমরা অনুপ্রেরণা খুঁজি
তবে অন্ধকারের চরম গভীরতায় নিমজ্জিত হতে হতে কখনও কখনও আমাদের এমন কোন উৎস খুঁজতে হয় যার মৃদু আলোকচ্ছ্বটাও তীব্রতম অন্ধকারকে দূরীভূত করতে সক্ষম
আমার মনে হয় আমরা খুব সৌভাগ্যবান একটি জাতি, যাদের সামনে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মত এরকম একটি উৎস
কোন কাজ যখন অসম্ভবপ্রতিম লাগে, আমি দুচোখ বন্ধ করে নিজেকে কল্পনা করতে চেষ্টা করি ১৯৭১ সালে রোহানপুর গ্রামের নাম না জানা সেই কিশোরটির ভূমিকায়, যে বলেছিলো তার মৃত্যু মাতৃভূমির মুক্তিকে ত্বরান্বিত করবে
পাকিস্তানি মেজর "আর" এর নির্দেশে স্টেনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাবার আগে কি বিপুল অবজ্ঞাতেই না সে মৃত্যুর দিকে তাকিয়েছিল!
যখন মনে করি আমার পূর্বপুরুষেরা একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর দানবীয় অপচেষ্টাকে প্রায় খালি হাতেই পিষে ফেলেছিলেন, নিপাট অসম্ভব কাজকেও কেন জানি হাতের নাগালের মধ্যে বলেই মনে হয়
আমি জানি একাত্তরের মুক্তিসেনার অস্ত্রের ঝনঝনানি আমার মত আরো হাজার হাজার বাংলাদেশি মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস, সেটা ক্রিকেট মাঠ থেকে পরীক্ষার হল-সব জায়গাতেই
বাকি সব অবদানের কথা যদি বাদও দেই, শুধুমাত্র এই অনুপ্রেরণার কারণেই মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ আমার কাছে পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে হয়
আমরা নানা সমস্যায় জর্জরিত একটি জাতি
জন্মের পর থেকে একটি দুইটি উপলক্ষ্য ছাড়া সত্যিকার অর্থে দেশের গৌরবে আনন্দে মাতোয়ারা হবার সুযোগ আমরা খুব কমই পেয়েছি
তবে অল্প যে কটি ক্ষেত্র আমাদেরকে আনন্দে মাতোয়ারা হওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে ক্রিকেট তাদের মধ্যে অন্যতম
২০০৫ সালে তৎকালীন বিশ্বসেরা দল অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করবার পর পরীক্ষার প্রস্তুতি ভুলে উল্লাসে মেতে উঠেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে
নিয়তির কি অদ্ভুত খেলা- ঠিক একই সময়ে আরো একজন বিশেষ মানুষ এই উল্লাস উপভোগ করছিলেন
সেই একজনের নাম মেজর (অবঃ) কামরুল হাসান ভূইয়া; প্রাক্তন ক্যাডেট, মুক্তিযোদ্ধা এবং গবেষক
তাঁর একটি বইয়ে এই বিজয়োল্লাসের বর্ণনা অনেকটা এরকম- "একাত্তরে প্রাণ বাজি রেখে যুদ্ধ করার সময় আমাদের কল্পনায় তো ঠিক এরকম একটি জাতি-ই ছিলো, যার সন্তানেরা লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে বিজয়োল্লাসে চিৎকার করে চারদিক মাতিয়ে তুলবে "বাংলাদেশ-বাংলাদেশ" ধ্বনিতে!"
এর পাঁচ বছর পরের কথা
"জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা", "বিজয়ী হলে ফিরব নইলে ফিরবোই না", "পতাকার প্রতি প্রণোদনা" প্রভৃতি অসাধারণ বইয়ের লেখক মেজর কামরুল হাসান ভুইয়ার সাথে আকস্মিকভাবেই দেখা হয়ে গেল ফেব্রুয়ারির বইমেলায়
তাঁর মুক্তিযুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি পোস্ট দেবার কথা বলেছিলাম প্রায় আট মাস আগে
আমাদের ব্যাঘ্রশাবকেরা নিউজিল্যান্ডকে বাংলাওয়াশ করায় পতাকা নিয়ে উচ্ছ্বাস দুচোখ ভরে যখন দেখছি ঠিক তখনই মনে হল, আরে, এখনই তো সময় স্যারের সাথে দেখা করার!
পূর্ব-নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বারিধারা ডিওএইচএস এ স্যারের প্রতিষ্ঠিত "সেন্টার ফর বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ" অফিসে ঠিক সন্ধ্যা ৬ টায় আমি আর জ্যেতি উপস্থিত হলাম স্যারের রুমে
সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যেগে এ প্রতিষ্ঠানটি স্যার গড়ে তুলেছেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের উপরে গবেষণা করার উদ্দেশ্যে
এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত (স্যারের সম্পাদিত) বই স্বাধীনতাঃদ্বিতীয় খণ্ডে তিনি বলেছেন-
"'সেন্টার ফর বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ' মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা ছাপাবে-এই প্রত্যয় নিয়ে তাদের লেখা সংগ্রহ করছে
মুক্তিযোদ্ধারা যেন পরবর্তী প্রজন্ম দ্বারা এই দোষে দুষ্ট আখ্যায়িত না হন যে তারা তাদের যুদ্ধকথা রেখে যাননি
মূলতঃ তিনটি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করার অভিপ্রায়ে গিয়েছিলাম স্যারের কাছে
১) স্যার কিভাবে যুদ্ধে গেলেন এবং সম্মুখ সমরে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
২) ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক পরবর্তীকালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করার ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অভিমত এবং
৩) বিভিন্ন বীরত্ব পদক প্রদানে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রাধান্য অর্থাৎ একটি যুদ্ধে বীরত্বের সামরিকায়ন প্রসঙ্গে
এছাড়াও সিসিবির সদস্যদের উল্লেখ করা অন্যান্য কিছু প্রশ্ন নিয়েও আলোকপাত করার ইচ্ছে ছিল
মূলতঃ এ বিষয়গুলো নিয়েই আমাদের আলোচনা শুরু হল
"আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কোন একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টার ফসল নয়- এটি ছিলো একটি সামষ্টিক যুদ্ধ
যুদ্ধের ময়দানে যে যুবক দণ্ডায়মান তাকে কমান্ডার কখনো জিজ্ঞাসা করেনা সে কোথা থেকে এসেছে, কেন এসেছে
সে যে যুদ্ধ করতে এসেছে এটাই মূল কথা
কাজেই, আমার ব্যক্তিগত ভূমিকা কি ছিলো, আমি কোথায় ছিলাম- ১৯৭১ এর গণযুদ্ধে এর উল্লেখ নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় "
স্যারের লেখা বইগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের অসম্ভব মর্মস্পর্শী বহু উপাখ্যানের খোঁজ পেলেও ১৯৭১ সালে তিনি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন- তাঁর সম্পর্কে এর চাইতে বেশি কিছুই পাওয়া যায়না
একই কলেজের ছাত্র হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধে স্যারের অংশগ্রহণ আমার কাছে কিছুটা অতিপ্রাকৃতিক বলে মনে হয়
আমি একই মাঠে খেলেছি, একই ডাইনিং টেবিলে খাওয়া-দাওয়া করেছি, তারপরেও নিজেকে বার বার প্রশ্ন করি- ১৯৭১ যদি ২০০৩ হত আর স্যারের জায়গায় যদি আমি হতাম, আমি কি পারতাম এভাবে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে? এ কারণে সে সময়ে স্যারের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী দিয়েই আলোচনা শুরু করতে চেয়েছিলাম
আমার এ জিজ্ঞাসার উত্তর তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ জলদগম্ভীর কণ্ঠে দিয়েছিলেন উপরোক্ত বাক্যে
তিনি আরো বলেছিলেন-
" 1971 , , . ' ".
টক-শোয়ের জয়জয়কারের এই যুগে যখন পঙ্কিল কীটও প্রচারের আলোয় সোনালী ঈগল সাজতে চায়, স্বীয় গৌরব লুক্কায়িত রেখে সামগ্রিক অর্জন তুলে ধরতে স্যারের এই প্রচেষ্টা তখন বড় বেমানান লাগে
মনে মনে ভাবি, একাত্তর কি কোন আশ্চর্য পরশপাথর- যার ছোঁয়ায় মানুষের অন্তর খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছিল? স্যারের কাছেই শুনেছি মুক্তিযুদ্ধের সময় চোর, ডাকাত, পকেটমার- যাদের পেশাই ছিলো অন্যের সম্পদ লুণ্ঠন, তারা দলে দলে এসেছিলো দেশের জন্যে নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ, নিজ জীবনকে উৎসর্গ করতে
মুক্তিযুদ্ধের স্পর্শমণি দস্যু রত্নাকরকে করেছে বাল্মিকী, শয়তানকে করেছে সাধক আর কূপমণ্ডুককে করেছে দিগ্বিজয়ী- অথচ গুটিকয় বরাহশাবক রয়ে গেলো বরাহশাবকই
১৯৭১ তো বটেই, এই ২০১০ এ এসেও তাদের বরাহত্ব ঘোঁচেনি, বরং যে কোন নিম্নশ্রেণীর প্রাণীর মতই তারা বংশবিস্তার করে চলেছে সবেগে
একথা ভাবতে ভাবতেই আমার হঠাৎ করুণা হল সেইসব কুলাঙ্গারদের কথা মনে করে- একাত্তরের পরশপাথরের সংস্পর্শে থাকার পরেও যারা পিশাচদের দলেই রয়ে গেলো
( এই কুলাঙ্গারদের উদ্দেশ্য করে সচলায়তনের কার্টুনিস্ট সুজন চৌধুরীর আঁকা এ কার্টুনটি আমার খুব প্রিয়, বেশ "ভালগার" হলেও উপরে সেটি যোগ করে দিলাম
কার কারো কাছে অশালীন মনে হলেও কার্টুনটির বক্তব্য আমার পছন্দ হয়েছে-রাজাকারগোত্রীয় ছাড়া আর কেউ মনে হয় এ বক্তব্যে আহত হবেন না
"আমি জানতে চাইনি, তবুও নারায়নগঞ্জের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ুয়া এক কিশোর বলতে শুরু করল তার যুদ্ধে আসার গল্প
এই ছেলেটি ভালোবাসত তারই পাড়ার ক্লাস টেনের একটি মেয়েকে