content
stringlengths
0
129k
এখন যেমন আশে পাশে চোখ বুলালেই কপোত-কপোতীর দেখা পাওয়া যায়, ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে সেটি ছিল অকল্পনীয়
এমনকী আত্মীয়-আত্মীয়াদের মধ্যে কথা বলাটাও বিশাল সামাজিক অপরাধ বলে গন্য হত
এরকম পরিবেশে মেয়েটির সাথে দেখা করতে ছেলেটির অনেক বেগ পেতে হত
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় পাড়ার প্রায় সবাই যুদ্ধে চলে যাওয়ায় ছেলেটির খুব সুবিধা হল-মনের আনন্দে প্রেম করে বেড়াতে লাগল সে
হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই,কোন রকমের কারণ ছাড়াই মেয়েটি কথা বলা বন্ধ করে দিল ছেলেটির সাথে
ছেলেটির তো মাথা খারাপ অবস্থা- খুব কষ্ট করে একদিন সরাসরি মেয়েটি কি কারণে এমন আচরণ করছে তা জানতে চাইলো
উত্তরে ক্লাস টেনে পড়ুয়া কিশোরী মেয়েটির উচ্চারিত শব্দগুলো ছিলো এরকমঃ "এলাকার প্রতিটা মানুষ আজ দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে যুদ্ধে গেছে আর তুমি ঘরে বসে আমার সাথে প্রেম-ভালোবাসা দেখাচ্ছো? লজ্জা করেনা তোমার? এমন যে কাপুরুষ, তার সাথে প্রেম করার কোন ইচ্ছে আমার নেই
যুদ্ধে যাও- যদি দেশ স্বাধীন হয় তাহলে আমাদের আবার দেখা হবে, নাহলে নয়
মৃদু হেসে একাত্তরের এক সহযোদ্ধার যুদ্ধে আসার গল্প বলছিলেন স্যার
নিজের কথা কিছুতেই বলতে চাননা-তার পরেও বহু পীড়াপীড়ি করে যেটুকু জানতে পারলাম, ১৯৭১ সালে তাঁর বয়েস ছিল ১৮ বছর ৩ মাস
তখন ক্যাডেট কলেজ ছুটি হয়ে গিয়েছিলো, তাঁর বাবা যশোরের মার্শাল ল এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে বহু কষ্টে একটি সার্টিফিকেট যোগাড় করেছিলেন যেটিতে লেখা ছিলো যে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক এবং তাঁকে যেন প্রদেশের যে কোন জায়গায় বিনা বাধায় চলাফেরা করতে দেয়া হয়
পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত অশিক্ষিত এবং বর্বর সেপাইগুলো জায়গায় জায়গায় বাস থামিয়ে অত্যন্ত অপমানজনকভাবে তল্লাশী করছিলো
সার্টিফিকেট দেখিয়েও কোন কাজ হয়নি কেননা সেপাইরা একটা অক্ষরও ইংরেজি পড়তে পারতোনা
বরং ছবিতে ক্যাডেট কলেজের ইউনিফর্ম দেখে এক সেপাই বেয়োনেট চার্জ করার জন্যে স্যারকে খাম্বার সাথে বেঁধে বলে উঠলো- "সালে,তুম তো ফৌজ কা আদমী হো, ভাগে কিঁউ?" সে সময়ে স্যার তীব্রভাবে প্রার্থনা করছিলেন- "আমাকে মেরে ফেলা হোক তাতে আপত্তি নেই কিন্তু বাসে বসা আমার বাবা-মায়ের সামনে যেন না মারে
" এই পরিস্থিতি থেকে তিনি কিভাবে বেঁচে ফিরলেন তা বহু চেষ্টা করেও জানতে পারিনি
তাঁর একটাই কথা- " ."
গ্রামের বাড়ি থেকে মাত্র এগারো পাকিস্তানি রূপি সম্বল করে পালিয়ে যুদ্ধে যোগদান করেন ক্যাডেট কামরুল হাসান ভুইয়া
ক্যাডেট কলেজে বেড়ে ওঠা তৎকালীন ১৮ বছরের এই সদ্য তরুণ ৫ বার পাকিস্তানিদের হাতে এবং ১ বার ভারতীয়দের হাতে প্রহৃত হয়েছিলেন
পদে পদে মৃত্যুর হাতছানিও তাঁকে যুদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি
যুদ্ধে যাবার পথে শহুরে আরামদায়ক পরিবেশ থেকে কর্কশ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন,নিজ চোখে দেখেছেন পাকিস্তানিদের নির্যাতন আর অপমানজনক আচরণ
মুক্তিযুদ্ধের প্রেরনার কথা জিজ্ঞাসা করলে তাই তিনি বলেন-
আমি জানি আমি ক্যাডেট কলেজে পড়েছি যেখানে রাজনৈতিক চেতনার উপস্থিতি ছিল অকল্পনীয়
আমি ছয় দফা কি জানতাম না, ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান কি বুঝতাম না
কিন্তু সেই উত্তাল সময়ে যুদ্ধে যাবার জন্যে এসবের প্রয়োজনও ছিলোনা
আমার নিজের, আমার পরিবারের, আমার দেশের অপমান অনুভব করার মত বোধশক্তি সে সময়ে আমার ছিলো- আর যুদ্ধে যাবার জন্যে ওটুকুই যথেষ্ট
মুক্তিযুদ্ধের সামরিকায়ন নিয়ে কথা হচ্ছিলো স্যারের সাথে
স্যার তাঁর জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা বইটির ভূমিকায় অনেক আগেই বলেছেনঃ
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গে বলতে বা লিখতে গেলে জনগণের ভূমিকা সম্বন্ধে সচরাচর যা বলা হয়, তা হল- বাংলাদেশের কৃষক, জনতা, পেশাজীবী শ্রেনী-গোত্র নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন
তারপর আলোচনার চরিত্র ক্রমাগত সীমিত হয়ে আসে অল্প কিছু রাজনৈতিক নেতা, কিছু সামরিক ব্যক্তিত্ব, কিছু বুদ্ধিজীবী এবং আরও অল্প কিছু নির্বাচিত ব্যক্তির মধ্যে
সাড়ে সাত কোটি জনগণের জন্য বরাদ্দ রইল ওই একটি লাইন, কখনও বা একটি অনুচ্ছেদ বড়জোর......... জনযুদ্ধের এসব গণযোদ্ধা, ঐতিহাসিকদের গ্রহণ-বর্জনের যে ছাঁকনি, তার ভিতর দিয়ে বার বার নিচে পড়ে গেছে
তারা না পেরেছে নিজেদের কথা লিখতে, না পেরেছে ঐতিহাসিকদের কলম বা কথায় উঠে আসতে
অল্পশিক্ষিত, অশিক্ষিত এবং সমাজের নিচুতলার এ যোদ্ধারা স্বাধীনতা উত্তরকালে নিজেরাও তাদের সে লড়াইয়ের কথা কোথাও বলতে পারেনি
এ সুযোগ হরণ করে নিল রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও সামরিক বাহিনীর কিছু মুক্তিযোদ্ধা
কথাবার্তা চলাকালীন তিনি দুঃখ করে বলছিলেনঃ
- "যুদ্ধের আগে যারা বলেছিলো শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশকে শত্রুমুক্ত করবে, যুদ্ধের ময়দানে দেখা গেলো তাদের কাছ থেকে একবিন্দু রক্তও পাওয়া যাচ্ছেনা
আর যারা কথার তুবড়ি ছোটাতে পারেনি, দেখা গেলো তারাই নীরবে দান করে দিয়েছে নিজের জীবন
একথা সত্য যে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের খেতাবসমুহের অধিকাংশই গিয়েছে সামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের নামে
৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের ভেতরে একজনও বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা নন
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীরদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই এ কথা বলা যায়- অসংখ্য গণযোদ্ধার কথা আড়ালেই রয়ে গিয়েছে
এ প্রসংগটি তুলতেই স্যার নিজেই বললেন যে কথাটি সত্য
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন যাঁদের বীরত্ব সর্বোচ্চ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের চাইতে কম নয় কোন অংশেই
তবে কেউ যদি মনে করে যে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই বৈষম্য করা হয়েছে তবে সেটিও পুরোপুরি সঠিক নয়
তিনি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র-১১তম খণ্ড বইটির ৫৩৯ পৃষ্ঠা খুলে জেনারেল ওসমানী কর্তৃক বীরত্ব পদকের জন্যে "সাইটেশন" () বা "উদ্ধৃতি" আহবান করে সব সেক্টর ও সাব-সেক্টর কমান্ডারদের পাঠানো চিঠির অনুলিপি ( ) দেখালেন
সেখানে দেখতে পেলাম কি প্রক্রিয়ায় পদকপ্রাপ্তদের নির্বাচন করা হবে তার বর্ণনা দিয়ে , , ও খেতাবের জন্যে নাম চাওয়া হয়েছে (পরবর্তীতে এই চারটি খেতাবের নাম হয় বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম এবং বীর প্রতীক)
স্যার বললেন- এই বার্তা সেক্টর পেরিয়ে বড়জোর সাবসেক্টর হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত পৌঁছেছে
অসংখ্য যোদ্ধা প্রবল বিক্রমে লড়াই করে শহীদ হয়েছেন যাঁদের নাম সেক্টর বা সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত পৌঁছোয়নি
যুদ্ধের ডামাডোলে সেটি আসলে সম্ভবও ছিলোনা
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা নিঃসন্দেহে মহান বীর তবে শুধু খেতাবপ্রাপ্তদেরকেই বীর হিসেবে ধরে নিলে ভুল হবে
নাম-না-জানা অসংখ্য বীরদের মূল্যায়ন যথাযথভাবে না হওয়াটা অবশ্যই দুঃখজনক তবে এর পেছনে গূঢ় ষড়যন্ত্র ছিলো এমনটি ভাবা অযৌক্তিক
নাম না জানা মুক্তিযোদ্ধারা-যাঁদের অনেকেই হয়তো বীরত্বের স্বীকৃতি পাননি
স্যারের এই ব্যাখ্যা আমার বহুদিনের জমে থাকা একটি প্রশ্নের উত্তর যোগালো
আমার মনে হয় এ প্রশ্নটি অনেকের মধ্যেই জেগেছে- আশা করি এরপর এই প্রশ্নের সম্মুক্ষীন হলে আমরা উপরোক্ত ব্যাখ্যাটি প্রদান করতে পারব
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য
ভারতীয় অফিসারদের অহংকারী উক্তির জবাবে তৎকালীন ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল-সদ্যপ্রয়াত) মইনুল হোসেন চৌধুরি বলেছিলেন-
" 2 - . ".
তাঁর এ কথায় ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের স্বার্থের দিকটি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে
কিন্তু এর পরেও শরনার্থীদের আশ্রয়দান, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং এবং অস্ত্রশস্ত্র প্রদান, ভারতীয় সেনাদের মৃত্যুবরণ, ভারত ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সহায়তা ইত্যাদিকে শুধু স্বার্থের বিচারে মাপলে তা অন্যায় হবে
একাত্তরে ভারতের ভূমিকা (যেখানে আমাদের আরবদেশী "ভাইদের" কীর্তি আমরা সবাই জানি) নিয়ে আমরা যদি নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করি তাহলে প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের এজন্যে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত
তবে এই কৃতজ্ঞ থাকতে গিয়ে বহু বাংলাদেশের নাগরিক এমন বাড়াবাড়ি করে ফেলেন যা দেশের ইতিহাসের প্রতি, জাতিগত গৌরবের প্রতি লজ্জাষ্কর হয়ে পড়ে
পিতার বয়েসি অনেককে বলতে শুনেছি-
"আরে ধুরো, আমাগো দ্যাশ স্বাধীন হইছে ইন্ডিয়ার জন্য- মুক্তিযোদ্ধাগো কি ক্ষ্যামতা ছিলো নাকি পাইক্কাগো লগে পারার?"
শুধু তাই নয়- ২০০৫ সালে ভারত ভ্রমণের সময় আমার বাংলাদেশি পরিচয় শুনে এক ভারতীয় নাগরিকের এ জাতীয় মন্তব্যে তার সাথে হাতাহাতি বেঁধে যাবার উপক্রম হয়েছিলো
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ভারতীয়দের এহেন মনোভাবের কথা স্যারকে বলতেই তিনি বলেছেন-
. 9- , 13 : 4 16 .
এ প্রসঙ্গে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী বলেছেন-
"ডিসেম্বরের আগে ভারতীয় বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি
মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নানান প্রতিকুল অবস্থা সহ্য করে এককভাবে যুদ্ধ করেছে আমাদের বীর মুক্তিবাহিনী এবং ডিসেম্বরে ভারতীয় বাহিনী এবং মুক্তিবাহিনী উভয়ই যৌথ কমান্ডের অধীনে লড়েছে
কাজেই, মুক্তিবাহিনীকে ভারতীয় বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা শুধু অপমানজনকই নয়, এ ধরণের যে কোন মন্তব্য ইতিহাস বিকৃতির সামিল
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের উদ্বোধন করতে জেনারেল অরোরা বাংলাদেশে আসেন
স্যার তখন জেনারেল অরোরাকে জিজ্ঞাসা করেন- "স্যার, আপনি তো যৌথ কমান্ডের অধিনায়ক ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব সম্পর্কে আপনি সুস্পষ্টভাবে কিছু বলেননি কেনো?"
জেনারেল অরোরা বলেছিলেনঃ
-"মুক্তিযোদ্ধারাই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে অন্ধ ও বধির ( ) করে ফেলেছিলো যার ফলে ভারতীয় বাহিনীর পক্ষে তাদেরকে সহজে পরাজিত করা সম্ভব হয়
স্যার তখন তাঁকে বলেন-"এ কথাগুলো শুধু মুখে না বলে আপনি যদি লিখতেন তাহলে অনেক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতোনা
২০০৮ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ়ে এফ আর জ্যাকব ঢাকায় এলে (উপরের ছবিতে সর্বডানে দণ্ডায়মান) তাঁর বইয়ের (সারেন্ডার এ্যাট ঢাকা- বার্থ অফ এ ন্যাশন) ভুলভ্রান্তি দেখিয়ে দিলে তিনি স্যারকে পরবর্তী সংস্করণে সেগুলো শুধরে নেবার কথা দেন
স্যার তখন বলেন- "ইউ মাইট নট লিভ দ্যাট লং" এবং প্রমাণ হিসেবে ভুলযুক্ত পৃষ্ঠায় তাঁর স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন
জেনারেল জ্যাকবের স্বাক্ষরযুক্ত সেই পৃষ্ঠা আমি নিজে দেখে এসেছি এবং পরের পর্বে এটি নিয়ে বিস্তারিত লেখবার আশা রাখি
জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা বইটির ভূমিকায় স্যার এ বিষয়টি নিয়ে লিখেছেনঃ
"মুক্তিবাহিনীর সামগ্রিক অর্জন ও কার্যকরী সহায়তার কারণেই মুখ্যত ভারতীয় বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হয়েছে মাত্র ৮ ডিভিশন সৈন্য দিয়ে পাকিস্তানের ৫টি পদাতিক ডিভিশনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া
অথচ প্রচলিত যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী ৫ ডিভিশন শত্রু সৈন্যের বিপরীতে ভারতীয়দের যুদ্ধে মোতায়েন করার কথা ১৫ ডিভিশন সৈন্য (আক্রমণের ক্ষেত্রে ১:৩ প্রচলিত আনুপাতিক হার অনুযায়ী)
ভারতীয় সেনানায়কেরা কোথাও তাদের বইয়ে লিখলেন না- মুক্তিবাহিনী কিভাবে শত্রুকে "অন্ধ ও বধির" করে ফেলেছিলো... অথচ তারা লিখলেন কী করে ১.৮:১ আনুপাতিক সৈন্যের হারে তারা যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন
পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের একটি বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গী অভিন্ন-বাংলাদেশিদের তারা কেউ প্রশংসা করেননি
পাকিস্তানিরা ভারতীয়দের বেশি আপন মনে করল
কারণ ছিলো, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ না করে ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাইলো
এটা স্বাভাবিক
একটা নিয়মিত বাহিনী অনিয়মিত বাহিনীর (মুক্তিবাহিনী) কাছে আত্মসমর্পণ না করে আরেকটি নিয়মিত বাহিনীর (ভারতীয় বাহিনী) কাছে আত্মসমর্পণ করতে
চাইবে অবশিষ্ট আত্মসম্মানটুকু (?) রক্ষা করতে
কিন্তু যা অস্বাভাবিক তা হল আমাদের মিত্রবাহিনী হয়ে ভারতীয়রা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে আত্মসমর্পণের দলিল সম্পন্ন করল
মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা গৌরব যেন ভারতীয়দের
যেন তাদের গৌরবেই আমরা গৌরবান্বিত হব
একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ ঘটনায় ম্লান হয়ে এল যুদ্ধ বিজয়ের সমূহ অহংকার
এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় স্যার আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ বিষয় তুলে ধরলেন
তিনি বললেন, ভারতীয়দের দিকে আঙ্গুল তোলার আগে আমাদের নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখা উচিত
ভারতীয়রা তাদের গৌরবের কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য- আমরা নিজেরাই আমাদের গৌরবের কথা লিখিনি
ব্রিটিশ প্রকাশক মিঃ জোনাথন স্যারকে প্রশ্ন করেছিলেন-
" , ?"
এ প্রশ্নের সদুত্তর স্যার সেদিন দিতে পারেননি
আমরা চাতকপাখির মত বসে আছি কবে কোন ভারতীয় লেখক বাংলাদেশিদের বীরত্বের প্রশংসা করবে অথচ স্যারের বই থেকে আমরা জানতে পারি-
"মুক্তিযুদ্ধ বলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ও সৈনিকেরা ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর সর্বাত্মক যুদ্ধ ( ) অধ্যয়ন করেন
বাকি যা সামান্য তা- ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ এবং ৮ম এবং পরবর্তীতে ৯ম, ১০ম আর ১১তম ইস্ট বেঙ্গলের তথা এস ফোর্স, কে ফোর্সের যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ
অথচ গণযোদ্ধাদের নিয়েই অপ্রতুল এই ইউনিটগুলোর সৈন্যসংখ্যা পূরণ করা হয়েছিল এবং পরের তিনটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছিলো