content stringlengths 0 129k |
|---|
এছাড়াও সময় পেলে বোটে করে ঘুরে বেড়াতে পারেন নদীতে |
উত্তরার দিয়াবাড়িতে অনেকেই ছুটির দিন কাটাতে যান |
শরতের এ সময় সেখানে গেলে দেখতে পাবেন দিগন্ত বিস্তৃত কাশবন |
সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ফটোসেশনে জন্য দিয়াবাড়ি একটি আদর্শ জায়গা |
প্রায় প্রতিদিনই সেখানে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনোদনপ্রেমীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে |
আর কাশবনের পাশে নদীর তীরের হিমেল বাতাস আলোড়িত করে দর্শনার্থীদের |
মহেরা জমিদার বাড়ি |
ঢাকার অদূরেই এক পর্যটন কেন্দ্র হলো মহেরা জমিদার বাড়ি |
টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় এক ঘোরার স্থান এটি |
আপনি একদিনেই ঘুরে আসতে পারবেন মহেরা জমিদার বাড়ি থেকে |
এটি তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি |
বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্ন রকম পাখি পালন করা হয় |
তিনটি স্থাপনার প্রতিটিতিই অসাধারণ কারুকার্য করা আছে |
এসব কারুকার্য দেখলেই মন ভরে যাবে |
একইসঙ্গে সেখানকার নিস্তবদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ মনে প্রশান্তি আনবে |
নিকলী হাওর |
রাজধানী থেকে একটু দূরে যেতে চাইলে এ সময় ঘুরে আসতে পারেন কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর থেকে |
একদিনেই ঘুরে আসতে পারবেন এই হাওর থেকে |
খোলামেলা পরিবেশে স্নিগ্ধ প্রকৃতির ছোঁয়া পাবেন সেখানে |
ঢাকা থেকে বাইক নিয়েও যেতে পারেন কিশোরগঞ্জ শহরে |
সেখান থেকে নিকলি ঘাট ও পড়ে নৌকা ভাড়া করে ঘুরে দেখুন হাওর |
মনে রাখবেন, বর্ষার শেষ দিকে হাওর ভ্রমনের উপযুক্ত সময় |
বাইক নিয়ে গেলে হাওরের পাশে বাইক রেখে আপনি ঘুরতে পারবেন |
তবে নিকলী হাওর যেতে চাইলে খুব সকালে ঢাকা থেকে রওনা হতে হবে তাহলেই সন্ধ্যার মধ্যে ফিরতে পারবেন |
শালবন বিহার |
শালবন বৌদ্ধবিহার দেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম |
এটি কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতির চমৎকার সব প্রাচীনস্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি |
দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন |
শালবন বিহার যেতে প্রথমে কুমিল্লা শহরে যাবেন |
কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে কোট বাড়িতে শালবন বিহার অবস্থিত |
চাইলে একদিনেই ঘুরে আসতে পারেন শালবন বিহার থেকে |
আর থাকতে চাইলেও কুমিল্লা শহরে পছন্দমমতো হোটেলে কম খরচের মধ্যেই রাত কাটাতে পারবেন |
জেএমএস/জিকেএস |
নারায়ণগঞ্জ |
করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন |
আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময় |
আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে |
আজই পাঠিয়ে দিন - [ ] |
আমরা অনেক সময়ই অভিযোগ করে থাকি, দু'আ করছি কিন্তু দু'আ ক্ববুল হচ্ছে না |
এই অবস্থা আমাদের মাঝে তীব্র হতাশারও সৃষ্টি করে |
কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি যে, আমাদের কোনো কাজই হয়তো বা আমার দু'আ ক্ববুলের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে? আমরা নিজের হাতেই আমাদের দু'আ ক্ববুলের রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছি কি না? |
আসুন নিচের হাদীসটি একটু মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করি: |
রাসূল صلى الله عليه وسلم এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে ব্যক্তি দীর্ঘ সফরে বের হয় এবং তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে ও কাপড় ধূলোবালিতে ময়লা হয়ে আছে |
অতঃপর সে নিজের দুই হাত আকাশের দিকে তুলে ধরে ও বলে, "হে রব, হে রব!" অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, সে হারামভাবে লালিত-পালিত হয়েছে; এ অবস্থায় কেমন করে তার দু'আ কবূল হতে পারে? [মুসলিম, ১০১৫] |
এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, হালাল উপার্জন দু'আ ক্ববুলের অন্যতম প্রধান শর্ত |
এখন আমাদের উপার্জনে কি হারাম কিছু মিশ্রিত আছে? আমরা কি নিজের অজান্তেই ভয়ংকর কোনো গুনাহতে লিপ্ত আছি? |
আজকে আমরা এমনই একটা বিষয় নিয়ে কথা বলব, যেটার মাঝে আমরা হয়তো এতটাই আকণ্ঠ নিমজ্জিত আছি যে, আল্লাহ্র দৃষ্টিতে এটার ভয়াবহতার ব্যাপারে সচেতনই নই |
সেটা হলো রিবা (সুদ) |
এ ব্যাপারে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলছেন, |
হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাকো |
অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না করো, তবে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও |
[সূরাহ আল-বাকারাহ ২:২৭৮-২৭৯] |
অধিকাংশ স্কলারদের মতে, এমন কঠিনতম অভিব্যক্তি কুরআনে আর কোথাও আর কোনো গুনাহের ব্যাপারে বলা হয়নি |
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে - আমরা মুসলিমরা শূকরের মাংস না খাওয়ার ব্যাপারে, মদ্যপান না করার ব্যাপারে যতটা সচেতন, এই ব্যাপারে ঠিক ততটাই বেখেয়াল কেন? |
এটার অনেকগুলো কারণ আছে |
তার মাঝে একটা কারণ হচ্ছে রিবার সংজ্ঞার ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান খুবই অপ্রতুল |
এখন কিসে রিবা হয় সেটা যদি আমরা বুঝতেই না পারি, তাহলে সেটা থেকে বিরত থাকব কীভাবে? বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে আমাদের চেষ্টা থাকবে সুদের সংজ্ঞাটা সহজ ভাষায় বোঝা, এবং মুনাফার সাথে এর পার্থক্যটা তুলে ধরা |
তবে তার আগে একটা বিষয় আমাদের খুব ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে - আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা রিবা নিষিদ্ধ করেছেন মূলত আমাদের অর্থনৈতিক জীবনটাকে সহজ করার জন্য |
তাই আজকে আমরা রিবার সংজ্ঞা বোঝার চেষ্টা করব একদমই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে |
আমরা বোঝার চেষ্টা করব, কখন একটা সমাজে রিবা প্রসারতা লাভ করে |
দৃশ্যপট: ১ |
মনে করুন আপনি খুব বিপদে পড়েছেন, আপনার বেশ কিছু টাকার খুব দরকার |
এখন আপনার লোকালয়ে চেনাজানা একজন ব্যক্তিই আছে, যে টাকা ধার দেবে, শর্ত হচ্ছে সুদের হার হচ্ছে ১০% |
তখন আপনি কী করবেন? আপনার আর কোনো উপায় নেই |
যে ব্যক্তি ১০% সুদে ঋণ দিচ্ছে, আপনি তার কাছেই যাবেন |
দৃশ্যপট: ২ |
এখন আরেকটি দৃশ্য কল্পনা করুন |
এখন আপনার লোকালয়ে ২ জন ব্যক্তি আছে ধার দেওয়ার মতো |
একজন ৮% হারে দিচ্ছে, আরেকজন ১০% |
আপনি নিঃসন্দেহে যে ৮% হারে দিচ্ছে, তার কাছে যাবেন |
টাকা এখন আগেরবারের চেয়ে একটু কম দুষ্প্রাপ্য |
দৃশ্যপট: ৩ |
এবার ভাবুন এমন একটা পরিস্থিতি, যেখানে প্রচুর মানুষ আপনাকে বিনা সুদে ধার দিতে রাজি আছে |
আর কিছু মানুষ আছে, যারা ২-৩% সুদ ছাড়া আপনাকে ধার দেবে না |
তখন কি আপনি রাজি হবেন সুদ দিতে, যেখানে সুদ ছাড়াই আপনি টাকা ধার পাচ্ছেন? নিশ্চয়ই না |
তাহলে আমরা কী বুঝলাম? |
⬛ একটা এলাকায় বা সমাজে টাকা যত দুষ্প্রাপ্য হয়, সুদের হার তত বাড়তে থাকে |
দৃশ্যপট: ৪ |
আসুন এবার একটু অন্যরকম একটা পরিস্থিতি চিন্তা করি |
এই সমাজে টাকার কোনো অভাব নেই, কিন্তু টাকা ইস্যু করার ক্ষমতা বা সমস্ত টাকার নিয়ন্ত্রণ শুধু একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাঝেই সীমাবদ্ধ |
সেক্ষেত্রে তারা যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে সুদ ছাড়া কাউকে টাকা ধার দেওয়া হবে না, তাহলে টাকার পরিমাণ অঢেল থাকা সত্ত্বেও টাকা দুষ্প্রাপ্যই রয়ে যাচ্ছে |
এখান থেকে আমরা শিখলাম: |
⬛ টাকার পরিমাণ অঢেল, এমনকি প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকা সত্ত্বেও যদি সব টাকার নিয়ন্ত্রণ কোনো গ্রুপ বা সিন্ডিকেটের মাঝে কুক্ষিগত থাকে, তাহলেও সেই সমাজে সুদ ছাড়া টাকা পাওয়া অসম্ভব হয়ে যেতে পারে |
তাহলে আমরা বুঝলাম, মূলত টাকার দুষ্প্রাপ্যতাই সুদভিত্তিক লেনদেনকে সম্ভব করে তোলে |
এককথায় যখন টাকার ডিমান্ডের তুলনায় সাপ্লাই কম হয়, তখনই সুদের হার বেড়ে যায় |
যদি সিস্টেমটা এমন হয় যে, সেখানে টাকা ছাড়া কোনো লেনদেন করা সম্ভব না, তবে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয় পড়ে |
কারণ, তাতে টাকার ডিমান্ড আরও বেড়ে যায় |
যাদের কাছে অতিরিক্ত টাকা আছে কিংবা টাকা সাপ্লাইয়ের ক্ষমতা যাদের হাতে, তারা এটার সুযোগ নিয়ে সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারে |
কিন্তু যদি এমন হয় যে কিছুটা হলেও বিনিময়-অর্থনীতি বিদ্যমান (অর্থাৎ মানুষ তার কাছে থাকা টাকা ছাড়া অন্যান্য সম্পদ যেমন: গবাদি পশু বা কৃষিপণ্য এগুলোর বিনিময়ে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি পেতে পারে), তাহলে টাকার ডিমান্ড কমে যায় |
যাদের কাছে টাকা নেই, টাকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী তাদের অবস্থার সুযোগ অতটা নিতে পারে না |
এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয় - যারা সুদ নেয়, তারা কিন্তু কোনো ভ্যালু অ্যাড করে না |
মানে কোনো উপযোগ বৃদ্ধি করে না |
তারা স্রেফ দুটি অবস্থার সুযোগ নেয় |
হয় টাকার সাপ্লাইয়ের চেয়ে ডিমান্ড বেশি, নয়তো টাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে |
এই বিষয়টা আমরা মাথায় রাখব, সুদের সাথে প্রফিটের পার্থক্য বুঝতে আমাদের কাজে লাগবে ইনশা আল্লাহ্ |
এতক্ষণ ধরে আমরা বোঝার চেষ্টা করলাম যে কখন একটা সমাজে সুদ বিরাজ করে |
কিন্তু এটা থেকে কি প্রকারান্তরে আমরা বুঝলাম যে, সুদ কী? |
বিনিময়ের মাধ্যমের (তথা টাকার) ডিমান্ড যদি সাপ্লাইয়ের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত টাকার মালিক/টাকার নিয়ন্ত্রকরা একটি অতিরিক্ত চার্জ আদায় করে থাকে - এটিই সুদ |
সহজ ভাষায় একে আমরা একটা সেতুর টোলের সাথে তুলনা করতে পারি |
টোল না দেওয়া পর্যন্ত যেমন ব্রিজ পার হওয়া যায় না, সুদ না আদায় করা পর্যন্ত টাকার মালিক/নিয়ন্ত্রকরা বাজারে টাকা ছাড়ে না |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.