content stringlengths 0 129k |
|---|
তবে মনে রাখবেন, মাছ যেন অতিরিক্ত ভাজা বা রান্না করা না হয়; এতে মাছের আসল গুণ হারিয়ে যায় |
৩. টেংরীর স্যুপ: |
টেংরি অর্থাৎ খাসির মাংসের হাড় ফুটিয়ে যেই স্যুপ তৈরী হয়, সেটি যেকোনো হাইপোথাইরোয়েডিজমে আক্রান্ত মানুষের জন্যে খুব উপকারী |
এই সময় প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের জোর কম হয়ে আসে যার ফলে হাড়ের ভঙুরতটা দেখা দেয় |
তাই এই সময় ক্যালসিয়াম যুক্ত খাদ্য খাওয়া খুবই জরুরি |
প্রতিদিন এক বাটি টেংরীর স্যুপের মধ্যে কয়েকটি সবজি ভালো করে ফুটিয়ে সেটি খাওয়ার অভ্যেস করলে উপকার পাওয়া যায় (৩) |
৪. ফল ও সবজি: |
শাক সবজি এবং ফলে রয়েছে নানারকমের মিনারেল, ভিটামিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার |
যদিও কিছু কিছু সবজি এই সময় খাওয়া ঠিক নয়, যেমন-*-ফুলকপি, মিষ্টি আলু, পালংশাক, বাঁধাকপি, মুলো, ইত্যাদি |
এগুলিকে গোইট্রোজেন বলা হয় (৪) |
তবে এগুলি ভালো করে রান্না করলে গোইট্রোজেন উপাদানগুলি মরে যায় |
৫. দুগ্ধ পদার্থ যুক্ত খাদ্য: |
কম ফ্যাট সম্পন্ন দুধ, দই এবং পনিরে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ আয়োডিন এবং সেলেনিয়াম যা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে |
এছাড়া দুগ্ধজাত পদার্থে থাকা এমিনো এসিড লাইরোসিন হাইপোথাইরোয়েডিজমের নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন বিষন্নতা, ক্লান্তি, ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে (৫) |
৬. মুরগির মাংস: |
মুরগির মাংসে রয়েছে প্রয়োজনীয় জিঙ্ক যা হাইপোথাইরয়েডের বিরুধ্যে কাজ করে ও সেটিকে ট্রিওডোথাইরোনিন (3) ও থোরোক্সিনে (4) রূপান্তর করতে সাহায্য করে (৬) |
সপ্তাহে অন্তত ৩ বার ২ টুকরো করে মাংস খাওয়ার অভ্যেস করলে ভালো |
৭. ডিম: |
আয়োডিনের একটি সূত্র হল ডিম যা হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে (৭) |
তবে এক্ষেত্রে ডিমের সাদা অংশটিই খাওয়া উচিৎ এবং কুসুমটি বাদ দেওয়া উচিৎ |
ডিমের কুসুম খেলে কোলেস্টরল বেড়ে যেতে পারে |
৮. শিম শস্য: |
শিম জাতীয় শস্য বা ডাল হল আয়োডিন ও জিঙ্কে ভরপুর (৮) |
প্রতিদিন নিয়ম করে ডাল, বিনস, ছোলা, মটরশুঁটি, ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যেস করা ভালো |
এতে থাইরয়েড গ্রন্থিগুলি থেকে প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণ হয় |
৯. অলিভ অয়েল: |
হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে, সমস্ত রান্না অলিভ ওয়েলে করা ভালো |
অলিভ ওয়েলে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফ্যাট এবং পুষ্টিকর উপাদান যা থাইরয়েড হরমোনগুলিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে (৯) |
অলিভ অয়েল এল ডি এল কোলেস্টরল নামিয়ে ওজন কমাতে ও হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে |
১০. জল: |
জল কোনো খাদ্য না হতে পারে, কিন্তু হাইপোথাইরোয়েডিজমের জন্যে জলের মত ওষুধ আর নেই |
প্রতিদিন নিয়ম করে ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করার অভ্যেস করুন, কারণ শরীরের নানা রকমের বিষাক্ত পদার্থ অনায়াসে দূর করা যায় জলের মাধ্যমে |
এছাড়া থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করতে যেসব অঙ্গগুলি সাহায্য করে সেগুলি জলের সাহায্যে কার্যকরী করা যায় |
হাইপো থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত নয় - |
নিচের এই খাদ্যগুলি হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে একেবারেই খাওয়া উচিত নয় |
বিস্তারিতভাবে জেনে নিন: |
১. কাঁচা অথবা অর্ধেক রান্না করা শাক সবজি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, পালং শাক, ইত্যাদি |
২. গ্লুটেন যুক্ত খাদ্য |
৩. অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাদ্য |
৪. প্যাকেটজাত খাদ্য বা জাঙ্ক ফুড অথবা তেলে ভাজা খাদ্য যেমন আলুর চিপ্স, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ওয়েফার, ইত্যাদি |
এগুলির মধ্যে থাকে উচ্চ সোডিয়াম কিন্তু কোনো আয়োডিন নেই |
এছাড়া এতে কোলেস্টরল বেড়ে যায় |
৯. হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে গ্রিন টি পান করা একেবারেই নিষিদ্ধ কারণ এতে রয়েছে এন্টি থাইরয়েড উপাদান (১০) |
হাইপার থাইরয়েড এর আহার চার্ট - |
কখনও কখনও থাইরয়েড গ্রন্থিগুলি একেবারে উল্টোভাবে কাজ করে, অর্থাৎ অতিরিক্ত পরিমানে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ করে যাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েড |
নিচে আপনার জন্যে রইলো হাইপার থাইরয়েডের আহার চার্ট: |
কখন খাবেন কি কি খাবেন? ক্যালোরি |
ভোরবেলায় (৭:০০ - ৭:৩০) ২ গ্লাস জল ০ |
জলখাবার (৮:১৫ - ৮:৪৫) টমেটো +আপেল +আঙুরের তৈরী স্মুদি এবং দুটি সেদ্ধ ডিম ৩০৭ |
মাঝ সকালে (১০:৩০) ১টি মিডিয়াম সাইজের কাপ ভর্তি কচি গাজর লেবুর রস ও নুনের সাথে মাখিয়ে ৭০ |
দুপুরে (১২:৩০- ১:০০) টুনা/ মুরগির মাংস/ পালং শাকের সাথে মেশানো মাশরুম স্যালাড, টমেটো এবং মুলো ৩৭০ |
বিকেলে (৪:০০) ১ কাপ গ্রিন টি + ৩২ টি পিস্তা বাদাম ৫৭০ |
রাতে (৭:০০ - ৭:৩০) বিনস দিয়ে তৈরী স্যালাড, সবজি দিয়ে তৈরী মাছের ঝোল ২৬৭ |
হাইপার থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত - |
হাইপার থাইরয়ডিজমের ক্ষেত্রে যেই যেই লক্ষণগুলি সবথেকে বেশি করে ফুটে ওঠে সেগুলি হল ওজন অত্যাধিক কমে যাওয়া, উত্তেজনা হওয়া, মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়ম, চোখ ফুলে যাওয়া, খিদে বেড়ে যাওয়া, ঘুমের অভাব ও ত্বকে সারাক্ষণ ঘাম ঘাম ভাব |
এক্ষেত্রে যেসব খাদ্যগুলি সব থেকে বেশি করে খাওয়া উচিত সেগুলি হল: |
১. কাঁচা সবজি ও ফল: |
কাঁচা ও পাতা সমৃদ্ধ সবুজ শাক ও সবজি খেলে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ হওয়াকে আটকানো যায় |
এর জন্যে যেসব সবজিখাওয়া উচিত সেগুলি হল ব্রকোলি, পালং শাক, বাঁধাকপি, গাজর, ফুলকপি, লেটুস, ইত্যাদি |
ফলের মধ্যে খাওয়া উচিত কমলা লেবু, আপেল, টমেটো, আঙ্গুর, কিউই, জাম, ইত্যাদি |
২. ব্রাউন রাইস: |
ব্রাউন রাইস হল উচ্চ গোইট্রোজেনিক সমৃদ্ধ, যাতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল |
প্রতিদিন ১/২ থেকে ১ কাপ ব্রাউন রাইস খাওয়ার অভ্যেস করা ভালো |
৩. প্রোটিন: |
প্রোটিন যেমন মুরগির মাংস, মাছ, মাশরুম, সয়াবিন ও ডাল খাওয়া হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে খুবই জরুরি |
এসব প্রোটিন অনেকটা দেরিতে হজম হওয়ার ফলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে |
৪. গ্রিন টি: |
2 |
হাইপার থাইরয়েড যখন নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয় তখন গ্রিন টি হল একটি অনবদ্য ঔষধীয় পানীয় যার মধ্যে রয়েছে এন্টি থাইরয়েড উপাদান ও ফ্লুরাইড |
প্রতিদিন অন্তত ২ কাপ করে গ্রিন টি পান করার অভ্যেস করুন |
৫. ঔষধিক গাছ: |
কিছু কিছু ঔষধীয় গুণ সমৃদ্ধ পাতা যেমন ধনে পাতা, অরিগ্যানো, তুলসী পাতা, পুদিনা, ইত্যাদি হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে |
তাই এগুলি রোজ খেলে উপকার পাওয়া যায় |
হাইপার থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত নয় - |
হাইপোথাইরোয়েডে ভুগলে যেই সমস্ত খাদ্যগুলি একেবারেই খাওয়া উচিত নয় সেগুলি হল: |
১. অতিরিক্ত আয়োডিন, জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন সামুদ্রিক মাছ, ডিম, নুন, ব্রাজিল বাদাম, ইত্যাদি |
২. কৃত্রিম ভাবে তৈরী মিষ্টি জাতীয় সুইটনার |
৩. দুধ এবং দুগ্ধ পদার্থ যেমন দই, মাখন, পনির, চিজ, ইত্যাদি |
৪. মদ্যপান ত্যাগ করুন এবং যেকোনো বোতলবন্দি পানীয় পর্যন্ত খাওয়া নিষেধ |
৫. প্যাকেটজাত খাদ্য বা জনক ফুড এবং কৃত্রিমভাবে সুগন্ধযুক্ত বা রঙিন খাদ্য |
থাইরয়েড রোগের জন্য আরো কিছু টিপস - |
যদিও থাইরয়েডের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকা একটি বিশাল ভূমিকা নিয়ে থাকে, তবুও খাদ্যের বাইরেও এমন কিছু নিয়মিত অভ্যেস ও জীবনশৈলী মেনে চলতে হবে যা হাইপোথাইরোয়েডিজম এবং হাইপারথাইরোয়েডিজম দুটির ক্ষেত্রেই খুব জরুরি |
জেনে নেওয়া যাক কি কি করা উচিত ও কি কি করা উচিত নয়: |
কি কি করা উচিত: |
বেশি করে জল পান করুন |
জল থাইরয়েডের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয় একটি ওষধির কাজ করে |
জলের সাহায্যে নানারকমের বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বেরিয়ে যায় |
এছাড়া জল মেদ ঝরাতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে |
ডায়েটের দিকে খেয়াল রাখুন |
একজন থাইরয়েডে আক্রান্ত মানুষের ১০০০ ক্যালোরির বেশি খাদ্য খাওয়া একেবারেই উচিত না |
তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সঠিক খাদ্য তালিকা অর্থাৎ ডায়েট চার্ট বেছে নিয়ে নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করুন |
যোগ ব্যয়াম করুন |
থাইরয়েডের ফলে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে ওজন বৃদ্ধি খুব সাধারণ |
নিয়মিত যোগা অথবা ব্যয়াম করা খুবই জরুরি |
এতে শরীর সম্পূর্ণভাবে সচল থাকে ও মেজাজ ভাল থাকে |
ভালো করে ঘুমান |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.