content
stringlengths
0
129k
আর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকেই দেখা যায় যে, এতে দূষণ বিপদমুুক্ত মাত্রায় দূর হবে না, অনেকক্ষেত্রে স্থানান্তরিত হবে মাত্র
তাছাড়া এগুলো ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ও দাম বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে যে তথ্য গোপন করা হচ্ছে, এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবেও তা আর্থিকভাবে খুবই অযৌক্তিক হবে
ভারতের এনটিপিসি খোদ ভারতেই বিদ্যুৎকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা ও দূষণ সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত
দূষণ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য এনটিপিসির বিরুদ্ধে ভারতেই বহু জনবিক্ষোভ তৈরি হয়েছে
সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর ঝাড়খন্ডে তাদের একটি প্রকল্পে প্রতিবাদী গ্রামবাসীর ওপর পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন
এছাড়া এনটিপিসির একাধিক প্রস্তাব ভারতে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও গ্রীন ট্রাইব্যুনাল প্রত্যাখ্যান করেছে
গতমাসে শ্রীলঙ্কা ভারতের এনটিপিসির সাথে তার উপক'লীয় অঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য একইরকম একটি চুক্তি বাতিল করবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে
গত মার্চে ইউনেস্কো টিম বাংলাদেশে এসে সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করে বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি সরকারকে প্রদত্ত রিপোর্টে দেখিয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে
তাঁরা রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ সুন্দরবনের জন্য হুমকিস্বরূপ সব বাণিজ্যিক তৎপরতা বন্ধ করতে বলেছেন
ইউনেস্কো টিম যখন বাংলাদেশ সফর করে তখন তাঁদের পরিকল্পনা ছিলো, দুইপক্ষের কথাই তাঁরা শুনবেন
কিন্তু সরকার নানা বাহানা সৃষ্টি করে আমাদের সাথে কোনো সভা করবার সময় রাখেনি
তারপরও তাঁরা স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ সিদ্ধান্তে এসেছেন
কোম্পানি, ভ'মিগ্রাসী ও বনগ্রাসী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত না হলে, নির্মোহ বিচার বিশ্লেষণ করলে সরকারও যে একই সিদ্ধান্তে আসবে সেটা আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি
ইউনেস্কোর সর্বশেষ রিপোর্টের তাগিদ থেকে পরিষ্কার বার্তা পাওয়া যাচ্ছে যে, সরকার যদি আগের মতোই এসব গুরুতর বিষয় উপেক্ষা করে তাহলে সুন্দরবন 'বিশ্ব ঐতিহ্য' তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবে
বিশ্বজুড়ে বিষয়টি এভাবে উপস্থিত হবে যে, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যারা প্রকৃতিপ্রদত্ত এক অসাধারণ সম্পদ ধরে রাখার যোগ্যতা রাখে না, এদেশের মানুষের সেই সক্ষমতা বা পরিপক্কতা নেই
সুন্দরবিনাশী বিদ্যুৎ প্রকল্প তাই শুধু দেশকে বিপর্যস্ত করবে না, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে কলঙ্কিতও করবে
কাজেই সরকারের উচিৎ হবে একগুঁয়েমী ত্যাগ করে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, বিশেষজ্ঞ মত ও ক্রমবর্ধমান জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবিলম্বে রামপাল চুক্তি বাতিলসহ সুন্দরবনবিনাশী বনগ্রাসী সব তৎপরতা বন্ধ করা
আর সেইসঙ্গে 'সুন্দরবন নীতিমালা' গ্রহণ করে এর বিকাশে সবধরনের উদ্যোগ গ্রহণ
একাজে সরকার যতো বিলম্ব করবে ততোই ক্ষতি বাড়তে থাকবে
একদিকে কালক্ষেপন অন্যদিকে দমনপীড়ন, সরকারের এই ন্যাক্কারজনক ভূমিকা সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনের ন্যায্যতা আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করছে
যুক্তির জোরে, নৈতিক সাহসে এবং সুন্দরবন রক্ষা তথা দেশ রক্ষার দায়বোধ থেকে আন্দোলনের যে স্বতস্ফুর্ত জোয়ার তৈরি হয়েছে তাকে দমনপীড়ন, ভয়ভীতি এবং বিজ্ঞাপনী প্রচার দিয়ে থামানো যাবে না
আমরা সরকারের কাছে আবারও দাবী জানাই অবিলম্বে সারা দেশে আন্দোলনের উপর দমনপীড়ন বন্ধ করুন, দিলীপ রায়কে মুক্তি দিন, জনগণের পক্ষে দাঁড়ান- রামপাল চুক্তি বাতিল করুন-সুন্দরবনকে বাঁচতে দিন
কালক্ষেপন, মিথ্যা প্রচার এবং সুন্দরবন আন্দোলনের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা করে নিজেদের মুখে আর চুনকালি লাগাবেন না
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আশু কর্মসূচি
সরকার যদি সকল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং জনমত সর্বোপরি সুন্দরবন তথা বাংলাদেশের জীবনমরণ প্রশ্ন তুচ্ছ করে এই প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হতেই থাকে তাহলে জনগণের দিক থেকেও প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ কর্মসূচি শুধু অব্যাহত থাকবে না, তা আরও বিস্তৃত হবে
আগামী ২৪-২৬ নভেম্বর 'চলো চলো ঢাকা চলো' কর্মসূচি সামনে রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা ও মুহাররমের পর থেকে বিভিন্ন বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা শুরু হবে
এগুলোর সময়সূচি নিম্নরূপ-
১৩ অক্টোবর: বরিশাল, ১৪ অক্টোবর: সিলেট ও রংপুর, ১৯ অক্টোবর: চট্টগ্রাম ও রাজশাহী, ২১ অক্টোবর: ময়মনসিংহ, ২২ অক্টোবর: খুলনা
এছাড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় সভা সমাবেশ ও পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে
আপনারা জানেন, গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আমরা একটি খোলা চিঠি দিয়েছিলাম
এরপর দেশের ও ইউনেস্কোসহ স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের আরও স্পষ্ট মত প্রকাশিত হয়েছে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলে জনমতের বিস্তার ঘটেছে
তারপরও সরকারের দিক থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি
এই প্রকল্পের প্রধান অংশীদার ভারত
সেকারণে ভারতের সরকারকে লক্ষ্য করে কর্মসুচি নেয়াও আমরা জরুরী মনে করছি
এর পেছনে প্রধানত দুটো কারণ
প্রথমত, এই প্রকল্পের মুখ্য ভূমিকা ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান এনটিসি, ভারতের রাষ্ট্রীয় নির্মাণ কোম্পানী ভেল, ভারতের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক এক্সিম ব্যাংক, ভারতের কয়লা সরাবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোল ইন্ডিয়ার
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে এসব প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে সুন্দরবনের বিনিময়ে
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবন আক্রান্ত হলে ভারতের দিকের সুন্দরবনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে
সুতরাং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পর এবারে বাংলাদেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প বাতিলে উদ্যোগ নেবার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে 'খোলা চিঠি' দেবো
এজন্য আগামী ১৮ অক্টোবর মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হয়ে আমরা মিছিল করে বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্টদূতের কাছে এই চিঠি হস্তান্তরের কর্মসূচি নিয়েছি
গত কয়েক বছরে এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতি ও ক'টনীতিতে প্রভাব অনেক বাড়াতে সক্ষম হয়েছে
এমনকি ইসরাইলের সাথে দীর্ঘকালীন সুসম্পর্কে সাময়িক ছেদ পড়লেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে
অপর দিকে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে এরদোগান একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন রাজনৈতিক প্রতিদ্ব"দ্বীদের কাছ থেকে
তারা প্রপাগান্ডা ও উসকানির ক'টকৌশল গ্রহণ করেছে
রজব তাইয়েব এরদোগানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) কট্টর সেকুলার 'কামালবাদী'দের বিপরীতে অনেক উদার ও নমনীয় ধর্মের ব্যাপারে
তাই ইসলামি রাষ্ট্র গড়ার ঘোষণা না দিলেও একেপি পরিচিত 'ইসলামপন্থী' হিসেবে
এ কারণে দেশের ভেতরে বামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং বাইরে তাদের মুরব্বি দেশগুলো এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে
তুরস্কে মোস্তফা কামালের উগ্র সেকুলার মতাদর্শের প্রভাব এখনো মিডিয়া, ভার্সিটি, বিচারালয়, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিসেবী প্রভৃতি মহলে অনেকটা রয়ে গেছে
সামনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
ইতোমধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী ও তাদের আপনজনদের দুর্নীতির অভিযোগে সরকার বিব্রত হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে
একেপি 'আদর্শিক গুরু' বলে অভিহিত, প্রবাসী ব্যক্তিত্ব ফতহুল্লাহ গুলেন এবং তার শিক্ষা ও মিডিয়া নেটওয়ার্কের সাথে ক্ষমতাসীন মহলের বিরোধের খবর প্রকাশ পেয়েছে
বিরোধী দল পরিস্থিতির সুযোগে একেপি ও এরদোগানের ইমেজ ক্ষুণœ করার কোনো প্রয়াসই বাদ দিচ্ছে না
বিশেষত সামাজিক গণমাধ্যমে জোর প্রচার চলছে, এরদোগান অসহিষ্ণু হয়ে অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে নির্দয় আচরণ করছেন, তার সরকার স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত ইত্যাদি ইত্যাদি
এমনতরো প্রেক্ষাপটে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়ে গেল
যদিও এটা জাতীয় নয় স্থানীয়, তবুও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য সবাই উপলব্ধি করেন বৈকি
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যে মূলত ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান বিরোধী দল বা জোটের লড়াই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না
তুরস্কে দৃশ্যত যতটা প্রতিক'ল অবস্থা দেখা গেছে, তাতে মনে হচ্ছিলN একেপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেশি সাফল্য পাবে না
বাস্তবে আগের সফলতা ধরে রাখায় বিরোধী দলই শুধু নয়, হয়তোবা একেপি নিজেও অবাক হচ্ছে
দেশের রাজধানী আঙ্কারা এবং বৃহত্তম নগরী ইস্তাম্বুলে (এরদোগানের এলাকা) একেপির অটুট ভিত্তি আবার নির্বাচনে প্রমাণিত হলো
তবে তৃতীয় বৃহৎ নগর ইজমির কামালবাদীদের আখড়া হয়ে আছে
৩০ মার্চ তুরস্কের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়
এতে জাতীয়ভাবে গড়ে ৪৩-৪৫ শতাংশ ভোট বাগিয়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন একেপি
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বিগত নির্বাচনী সাফল্যের প্রেক্ষাপটে এটাকে বড় রকমের কৃতিত্ব বলে দলটি মনে করছে
মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে গোঁড়া ও উগ্র সেকুলার দেশ হিসেবে পৌনে এক শতাব্দী পরিচিত তুরস্কে একেপির মতো লিবারেল দল একটানা এক যুগ আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন থাকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকের কাছে বিস্ময়কর হতে পারে
তবে এবার স্থানীয় নির্বাচনের ফল সাক্ষ্য দিচ্ছে, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দলটি শুধু আদর্শের বুলি না কপচিয়ে কাজ করেছে মানুষের জন্য
নিষ্ঠা, দক্ষতা, পরিশ্রমের বলে উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার
স্থানীয় নির্বাচনে দেখা যায় দেশের প্রশাসনিক রাজধানী আঙ্কারা আর অর্থনৈতিক রাজধানী ইস্তাম্বুল মহানগর দু'টিতেই দল হিসেবে একেপি তার প্রথম অবস্থান অটুট রেখেছে
সারা দেশের হিসেবে, প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) ১৫ শতাংশ কম ভোট পেয়েছে একেপির চেয়ে
ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখোমুখি একেপি এবং এর নেতা এরদোগান
বাম- সেকুলার বিরাট গোষ্ঠীর অব্যাহত বিরোধিতার সাথে সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ কিছু সঙ্কট এবং বিশেষ করে দুর্নীতির কিঞ্চিৎ অভিযোগ হয়েছে
তা সত্তে¡ও নির্বাচনে একেপির জনপ্রিয়তা মোটামুটি অক্ষুণœ থাকাকে এরদোগান মনে করছেন, গণতন্ত্রের বিজয় এবং লক্ষ্যহীন ও অনৈতিক রাজনীতির গালে চপেটাঘাত
তুরস্ক শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও বিরাট সমস্যার মোকাবেলা করছে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়া নিয়ে পাশ্চাত্যের আরোপিত অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতার চাপ আছে অনেক আগে থেকেই
সেই সাথে এখন রয়েছে প্রতিবেশী সিরিয়ার তিন বছর চলা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের 'প্রচণ্ড তাপ'
সে দেশের কয়েক লাখ শরণার্থীর বোঝাই শুধু নয়, সীমান্ত উত্তেজনাসমেত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণের বড় দায়ও তুরস্কের ঘাড়ে চেপেছে
এ দিকে আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী সিরীয় যুদ্ধবিমান ভ'পাতিত করার মতো কঠোর পদক্ষেপও তুরস্ককে নিতে হলো এবার
স্থানীয় নির্বাচনে একেপি ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তারা যে এখনো বৃহত্তম দল এবং বিরোধীরা সবাই একজোট হয়েও তাদের হারানো যে সহজ নয়, সেটা এখন স্পষ্ট
সুশাসন ও উন্নয়নই একেপির জনপ্রিয়তার ভিত্তি
এর আগে পরপর একাধিকবার দলটি জাতীয় নির্বাচনে গণরায় পেয়ে দেশ পরিচালনায় যোগ্যতার পরিচয় দেয়া ছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্কের প্রভাব বাড়িয়েছে
এবার নির্বাচনী সাফল্য সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলে এরদোগানের বিজয়ের ইঙ্গিতবাহী
তবে সরকারকে সুশাসন ও সুবিচার কায়েমে পুরোপুরি সৎ ও সতর্ক থাকতে হবে, যেন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আর না ওঠে
আর গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গিয়ে লক্ষ রাখা চাই, যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রবণতা সৃষ্টি না হয়
সঙ্কট আরো ব্যাপক ও গভীর
ইউক্রেন সঙ্কট আরো ব্যাপক, গভীর ও স্থায়ী হতে চলেছে
রাশিয়ার প্রত্যক্ষ আগ্রাসী মনোভাবের বিপরীতে আমেরিকার পরোক্ষ প্রতিরোধের প্রেক্ষাপটে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ হারানোর পর ইউক্রেন তার রুশভাষী পূর্বাঞ্চলও হারিয়ে ফেলার বিরাট আশঙ্কা জেগেছে
আধিপত্য বিস্তারের এই অভাবনীয় রুশ কৌশল দেখে এখন পাশ্চাত্য আবার শঙ্কিত হয়ে ভাবছে, 'ভলগা তীরের ভালুক'টি এত দিনের আধমরা অবস্থা থেকে উঠে আবার তার হামলায় মেতে উঠেছে
তবে এবারে গায়ের জোরের সাথে দুষ্টবুদ্ধি কাজে লাগিয়ে মস্কো দেখাতে চায়, ভালুককে বোকা মনে করা ঠিক নয়
গত বছরের শেষ দিক থেকে চলে আসা ইউক্রেন সঙ্কট সরকার পতনের সাথে সাথে ক্রিমিয়ার বিচ্ছিন্নতা এবং রাশিয়ায় যোগদানের মধ্য দিয়ে জটিলতর হয়ে উঠেছে
রুশ আগ্রাসন ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করে স্নায়ুযুদ্ধকালীন উত্তেজনা ফিরিয়ে এনেছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে
এই সঙ্ঘাতে ইউরোপ সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে
অপর দিকে চীনের সহানুভ'তি রাশিয়ার জন্য
ক্রিমিয়া ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশসহ অনেক রাষ্ট্র নিজ নিজ স্বার্থে 'নিরপেক্ষ' থাকার কৌশলী ভ'মিকা নিয়েছে
এতে মার্কিন ক্ষোভের বিপরীতে রুশ প্রশংসা মিলেছে স্বাভাবিকভাবেই
দুর্ভাগা ইউক্রেনের বেলায় আমরা দেখছি, শত্রæ যখন একের পর এক চক্রান্ত এঁটে বেপরোয়া পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন মিত্ররা কার্যত নিষ্ক্রিয় থেকে বৈঠক ও বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে নিজেদের
হামলার মোকাবেলা নিছক হুঙ্কার নয়
শুধু কথা বলে প্রতিপক্ষের কাজকে ঠেকানো যায় না
অথচ রাশিয়ার 'কুছ পরোয়া নেহি' ভাবগতিকে মার্কিন নেতৃত্বে পাশ্চাত্য যেন তাদের সত্যিই পরোয়া করছে
মস্কো সময় 'নষ্ট' না করে ইউক্রেনকে আরো দুর্বল করা, তথা ইউরোপকে আরো চাপে ফেলার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে
রুশভাষীদের বিচ্ছিন্নতার উন্মাদনা ইউক্রেন ছাড়িয়ে আরেক রাষ্ট্র মালদোভার স্বাধীনতাকেও কাঁপিয়ে তুলছে